somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুরূপকথা ১

২৪ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেক কাল আগের কথা- তখনও গণতন্ত্রের জন্ম হয় নি- কেবলমাত্র সে ডিমের কুসুমে ভ্রুণ হয়ে লুকিয়ে ছিলো, পালক মেখে এন্ডারসনের রাঝাঁস হয়ে উঠবার অপেক্ষায় ছিলো সে ভ্রুণ।
গণতন্ত্রের ভ্রুণে তা দিচ্ছিলো এক বুড়ো শকুন আর তার চারপাশ ঘিরে বসে ছিলো একদল বেবুন। তখন শীত শেষ হয় হয়। শীতের আমেজ মুছে যায় নি পৃথিবী থেকে। সুর্য্যি মামা কমলা কম্বল খুলে আড়মোড়া ভাঙতো দেরী করে আর এ কারণের মুখ ব্যাজার করে বসে থাকতো ভোর।

মানুষেরা খড় কুটো জ্বেলে ওম পোহাতো আর শিশুরা শিশির কণা দিয়ে ঘুম ধুয়ে ফেলতো চোখ থেকে। স্বপ্ন হিজিবিজি বালিশের উস্কোখুস্কো তুলাতে কিছু স্বপ্নের স্বেদও জমতো-

রোজ মাঝ রাত্তিরে হানা দিতো শকুনের পাল- বুড়ো শকুন ছিলো তাদের রাজা- শকুনেরা রাতজুড়ে এ পাহাড় ও জঙ্গল সে শিমুল মাদার কড়ই গাছের মাথায় সন্ধানী চোখ মেলে চারদিগন্তে তাকিয়ে পাহাড়া দিলো।
বুড়ো শকুন যে শিমুল গাছের গোড়ায় বসেছিলো গণতন্ত্র তা দিতে সেখানে মস্ত বড় একটা সাইনবোর্ড ঝুলানো ছিলো-
এ এলাকার আশে পাশে পঞ্চাশ হাতের ভেতরে কারো অকারণ উঁকিঝুঁকি মারা নিষেধ।
এই শিমুল গাছটাকে কেন্দ্র করেই আশে পাশের আরও গাছের শাখায় প্রহরী শকুনেরা বসে থাকতো, বসে থাকতো না আসলে ওঁত পেতে থাকতো-
দোয়েলের ঘর গেরস্থি ছিলো শিমুল গাছের পাশের জামরুল গাছে- আর চড়ুই কোনো মতে মাথা গুঁজে পড়ে ছিলো পাতার কুটিরে।

বেবুনের দল ছইলো অত্যুৎসাহী, তারা দল বেধে হানা দিলো জামরুল গাছে- দোয়েল প্রাণভয়ে উড়ে পালালো কোনোমতে- গৃহহীন হওয়ার শোকে মুহ্যমান দোয়েল দিনভর লুকিয়ে কাটালো আশের পাশের পাতার আড়ালে- বেবুনের তান্ডব শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা নাবলো- সন্ত্রস্ত দোয়েল ফিরে আসলে তার বাসার খোঁজে- বাসা নেই- জামরুলের এ ডাল ও ডাল লাফিয়ে সে খুঁজছিলো তার হারানো বাসা- এমনই সময় প্রহরী শকুনদের চোখ পড়লো তার উপরে- শিমুলের গোড়ায় আশে পাশে সন্দেহজনক গতিবিধির প্রতিবেদন পাঠানোর পরপরই ডানা মেলে উড়ে আসলো শকুনের দল-

পরদিন সকালে দোয়েলের চিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া গেলো- বুক খুবলে নিয়েছে কেউ-

রোজ ভোরে বেবুনের পাল বুড়ো শকুনের সামনে আসে- রোজ জিজ্ঞাসা করে- আর কত দেরী? কবে ফুটবে গণতন্ত্রের ছানা? এ দিকে শকুনের ডানার অন্ধকারে বনের আলো ঢেকে যায়।
বুড়ো শকুন বলে এত অধৈর্য্য হলে হবে- রোসো বাবা দেখো না কেমন বীজবীজ শব্দ হচ্ছে-

একদিন ডিম ঠুকরে দেখলো সে একগুচ্ছ মালার মতো সাদা বল পড়ে আছে। বেবুনের দল চিৎকার করে উঠলো উল্লাসে- ঐ তো গণতন্ত্র দেখা যায়- শুভ্র মোতির মালার মতো গণতন্ত্র-
বুড়ো শকুন বললো- অপেক্ষার পালা শেষ এবার তোরা গণতন্ত্র বেছে নে- বেবুনের দলের গন্ডগোল লাগলো ভীষণ- অবশেষে কিছু মুক্তো জমা দিয়ে বেবুনের দলকে বুড়ো শকুন বললো বাকিগুলোর জিম্মায় রইলাম আমি-
এই একটা মোতি আমি লাগাবো আমার মুকুটে- অন্যগুলো ডানার আশে পাশে থাকবে-

বেবুনের দল চিৎকার করে বললো- এইতো মহৎ রাজার মতো কথা- কেমন ন্যায় বিচার- গণতন্ত্রকে মাথার মুকুটে তুলে রেখেছেন রাজন্য-
আহা বেশ বেশ বেশ আহা বেশ বেশ বেশ-

কদিন পরে মুক্তোর মতো সাদা বলগুলো ফেটে বের হলো বিষধর সাপের ছানা- তারা তিরতির করে ছুটলো চারপাশে- আর মুকুটে লাগানো ডিম থেকে বেরুনো সাপটা কিছুদিন মুকুট জড়িয়ে ছিলো তবে একদিন সেটাও দংশন করলো বুড়ো শকুনকে আর সে আঘাতে বুড়ো শকুন মরে গেলো-

বেবুনের রাজ্যের হাহাকার পড়লো- আহা সৎ মহান ন্যায়বিচারক বুড়ো শকুন- আমাদের রাজা আর নেই- টার দুঃখে আমরা কাতর- জানো তার ঘর থেকে কিছু ছেঁড়া প্লাস্টিকের ব্যাগ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় নি---
তবে শকুন নিয়মাবদ্ধ- আরও এক শকুন এ অবসরে দলের কতৃত্ব নিলো নিজের হাতে তুলে- মুহ্যমান বেবুনের দলকে বললো পুরোনো রাজাধিরাজ আসলে তোমাদের ঠকিয়েছে- এই দেখো আসলে প্লাস্টিকের ছেড়া টুকরোগুলো বড় একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের অংশ- সেখানে জমা ছিলো আরও অনেকগুলো ব্যাগ সেই ব্যাগগুলোর কোনো হদিশ তোমরা পাও নি- তোমাদের ক্ষতি করেছে আসলে সে- গণতন্ত্রের বদলে বিষধর সাপের ঝাঁপি খুলেছে সে- তবে আমার উপরে বিশ্বাস রাখো আমি তোমাদের প্রকৃত গণতন্ত্র দেবো-

সে শকুন আবারও বড় একটা গোলমতো সাদা জিনিষের উপরে বসে তা দিতে লাগলো- বেবুনের দল আবারও উৎসুক হয়ে ঘিরে ধরলো তাকে-
গত ৫ বছরে আসলে জঙ্গলে প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক- আমরা শুমারি করে দেখেছি- এতে সবার সব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে গণতন্ত্র জন্মানোর প্রয়োজন তা একটু বড় না হলে সবার জন্য সুষম বন্টন হবে কিভাবে?
দিন যায়, মাস যায়- বছর যায়- সাদা মতো গোল জিনিষটার উপরে বসে থাকে শকুন আর বলে রোসো রোসো সোরো হয়ে এলো বলে- গণতন্ত্র নড়ছে- তোমরা বুঝছো না-

বেবুনেরা অস্থির মতি -আশেপাশের প্রতিটা ডালে লাগানো সোডিয়াম বাতির আলোতে উৎসুক তাকিয়ে দেখে কবে জন্মাবে গণতন্ত্রের ছানা-

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা বড় তীব্র হয়ে বাজলো তাদের বুকে- একদিন বেবুনের দল ঠিক করলো আর নয়- এবার আমরা নিজেরাই সব ঠিক করে নিবো- সবার জন্য সমান মাপের স্বপ্নের বরাদ্দ দেবো আমরাই- শকুন মানে না- বেবুন আর শকুনে লড়াই চলে- সবশেষে একদিন বুড়ো শকুনকে রেখেই গা ঢাকা দিলো ব াকি শকুনেরা-
শকুনেরা কৌশলগত পশ্চাতসরণ করলো-

বেবুনেরা সবাই পিঠা ভাগ করতে বসলো-
কোনো ভাবেই সুষম বন্টন হয় না- এটুকু ওটুকু হিসেব মেলাতে মেলাতে দেখা গেলো পিঠা শেষ হয়ে গেছে- শকুনেরা আড়াল থেকে দেখছিলো পিঠা ভাগ পর্ব- তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই দেখে তারা বিদ্রোহ করার আগেই এক বুড়ো ছাগল হাঁক দিয়ে বললো
গত রাতে গণতন্ত্রের ডিম পাওয়া গেছে- ডিমে তা দেওয়ার জন্য শকুন প্রয়োজন-

শকুনের পাল এসে জড়ো হলো- অবশ্য সাপ শকুন আর বেবুনের ভেতরে দহরম মহরম বেড়েছে বিগত সময়ে-
বেবুনের উৎকট উৎসাহে আর শূন ডিমে তা দিতে আগ্রহী নয়- তারা ঠিক করলো ১১ গোদা উল্লুক ঘিরে তাকবে শকুনকে আর শকুন গণতন্ত্রের ডিমে তা দিবে-

( প্রথম পর্ব সমাপ্ত )
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×