শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা-
০৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:১০
যখন ছবির হাটে হন্যে হয়ে মানুষ খুঁজছি এবং সন্দেহজনক চোখে মানুষদের দেখছি তার প্রতিক্রিয়ায় আমার দেখা মানুষগগুলোও আমাকে সন্দেহের চোখেই দেখছে। ছবির হাটের গেটের পাশে বসেছে একদঙ্গল মানুষ, সবাই তরুণোত্তর, মুখে নানাবিধ ছাটের দাড়ি আর সেইসাথে মানানসই চুলের ছাট। কিছুক্ষণ বিবেচনা করেই এই দলটাকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিলাম। সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা একটা পদক্ষেপে ওয়ারিদ যতই দাবি করুক না কেনো এমন চুল আর দাড়ির ছাট আসবে না। আমাদের সামাজিক মানুষদের ভেতরে এখনও সামাজিকতা প্রচলিত আছে।
তার পাশে যারা বসে আছে, সব মিলিয়ে ৩ জন, তাদের সন্দেহের তালিকায় রাখা যায়, সাধারণ পোষাক পড়া সাধারণ মানুষ, আরও একটু সামনে গিয়ে তাদের কথায় আড়ি পাতলাম। সাধারণত আমার অভিজ্ঞতায় যতটুকু দেখেছি সামাজিক নেটওয়ার্কের মানুষগুলো খুব দ্রুতই নিজের আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলে। তাই অনেক আজব নামের খোঁজ পাওয়া যায়। আলাপচারিতায় উঠে আছে দস্যু বনহুর, ডিজিটাল বাবা, এইসব কোড ওয়ার্ড শুনলেই সাহস করে প্রশ্নটা করতে পারি আপনারা কি শ্বাশতের জন্যই এখানে এসেছেন।
খানিকক্ষণ আড়ি পেতে বুঝলাম আমার টার্গেট গ্রুপ এটা না। রাস্তা পেরিয়ে পুনরায় চারুকলা গমন। সামনের মানুষগুলোকে অনায়াসে বাদ দিয়ে দিলাম, পোশাক এবং চুলের ছাট। তার পেছনে সাম্ভাব্য কয়েকজনকে দেখে কিছুক্ষণ থামলাম, তারপর থেমে থেমে চললাম আমি, বকুল তলার পাশে এক তরুনী সাইকেল চালানোর কসরত করছে।
আপাতত খোঁজের প্রয়োজন নেই।
সাফল্যজনক উৎক্ষেপনের পরে আমি পুকুর পারে গিয়ে একটু খুঁজে আসলাম। নাহ কোথাও এমন কোনো মানুষের মুখ দেখছি না যাদের খুব দুরের হলেও পরিচিত মনে হয়। চারুকলার সিঁড়ি, ছাদ, ভেতরে বসা মানুষগুলো খুঁজে মনে হলো আর নয় মুখ বুজে খুঁজাখুঁজি। এবার বহিঃশক্তির সহায়তা নিতে হবে।
আমি সামাজিক নেটওয়ার্কের জন্য অপ্রয়োজনীয় মাল। কোনো রকম সামাজিকতার প্রয়োজনীয়তা তেমন অনুভব করি না, এমন কি নতুন বন্ধুর খোঁজও করতে নারাজ। আমার যা আছে আমি তাতেই খুশী। সম্বল বলতে একটা টেলিফোন নম্বর এবং আমার জানা মতে সে খুব আন্তরিক ভাবেই এই প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত। ফোনে তাকে পেলাম, সম্ভবত আসছে এমন একজনের নাম শুনলাম। প্রত্যুতপন্নমতিত্ব। প্রত্যু হয়ে যাওয়া এই মানুষটার চেহারা আবছা স্মরণে আসছে তবে তার কোনো ডিজিটাল যোগাযোগের ঠিকানা আমার নেই।
শরণ গ্রহণ করবার পরে তার মোবাইল নাম্বার শুনলাম। অনেক চেষ্টা করলাম তবে বিধিবাম, আমার দ্বীতিয় কোনো মোবাইল নেই, অন্য সব স্মার্ট বালকেরা এক কানে শুনে অন্য হাতে মোবাইলের নাম্বার টুকে রাখে। আমি এক কানে শুনি আর সেই মোবাইল নীচে নামিয়ে নাম্বার তালিকাবদ্ধ করবার চেষ্টা করি। এবং সেটা সঠিক হয় নি এটাও বুঝলাম। অনুরোধ করলাম এসএমএস করে নাম্বার পাঠানোর জন্য। ফিরতি ডাকে মোবাইল নাম্বার আসলো। দেখলাম মাঝের কয়েকটা নাম্বার ভুল টিপেছিলাম। এইসব ভুল হয়ে যাবে হবেই আমাকে দিয়ে।
যাই হোক অন্ধের ষষ্ঠি পেয়ে ভালো লাগলো। চারুকলার গেট থেকেই ফোন দিলাম টুটুলকে। সে তখন জানালো অনিবার্য কারণবশত আড্ডার ঠিকানা বদল হয়েছে, সেটা হচ্ছে পাবলিক লাইব্রেরীতে। টুকটুক করে হেঁটে পাবলিক লাইব্রেরী। দুজন লম্বা মানুষের সুবিধা হলো অন্য সব মাঝারি মানুষের ভেতরেও তারা অনেক দুর থেকে পরস্পরকে দেখতে পারে। আমিও টুটুলকে দেখলাম।
ভেতরে ঢুকলাম। সেখানে পরিচিত বলতে মেসবাহ য়াযাদ। আর কালপুরুষ। বাকি সবাই অপরিচিত। একজনের নাম শুনলাম লিলিমুস্তফা। জানা তার ভুমিকায় অভিনয় করছে সেটাও জানলাম। তবে লিলি মুস্তফাকে যেহেতু চিনি না তাই সাহস করে কিছু বলতে পারলাম না। কোনো না কোনো ভাবে বিখ্যাত একজনকে না চেনার জন্য কোনো অর্থদন্ড হয় কি না বলা যায় না। ইদানিং দেশের অবস্থা সুবিধার না, যাকে তাকে ফাইন করে দিচ্ছে শালারা।
মিলটনের সাথে পরিচয় হলো, শুনলাম কৌশিকও আছে আশে পাশে। অনেকক্ষণ পর কৌশিক আসলো। তার কন্যা হইবার পর থেকেই তার ভেতরে একটা কন্যাদায়গ্রস্থতা এসেছে। সাম্ভাব্য পাত্র খুঁজছে মনে মনে, অনেকের সাথেই তার এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। সে ছোটোদের এক অনুষ্ঠানে উঁকি দিয়ে আসতে গেছে।
ঘটনা সে রকম না মোটেও, বরং ১০ টাকার টিকেট কেটে জলবিয়োগ করতে গেছে কৌশিক। মূল্যবান জল কোথায় গিয়ে মিশলো কে জানে? তবে যে উদ্দেশ্যে এখানে আসা সেটা তখনও নির্ধারিত হয় নি।
আড্ডাটা যদিও শ্বাশতের জন্য অর্থ সংগ্রহের তবে এখনও ঠিক হয় নি কবে থেকে অর্থ সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। বিভিন্ন জনার বিভিন্ন প্রস্তাব ছিলো। জানার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিলো এ বিষয়ে, শ্বাশতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন এই পোষ্টের বদলে শ্বাশতের জন্য আমরা এমন কোনো একটা পোষ্ট যেখানে সার্বক্ষণিক তথ্য দেওয়া হতে থাকবে কত টাকা সংগ্রহ হলো, কারা কারা এর সাথে যুক্ত- এই পোষ্টে লিখিত থাকবে, ফলে সেই সব অশালীন মানুষেরা মানুষের শুভ উদ্যোগকে কটাক্ষ করে তাদের জন্যও নজির হয়ে থাকবে এটা। জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাকে বলে।
তাৎক্ষণিক ভাবেই নির্বাচিত ক্যাশিয়ার টুটুলের খামে সবার টাকা দেওয়া হলো। এবং এর পরে মূলত শ্বাশত বিষয়ে আর কিছুই করার নেই। যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেসব যদি সঠিক ভাবে পালিত হয় তবে আশা করা যায় আমরা শ্বাশতের জন্য ভালো কিছু করতে পারবো।
আমার জন্য ভালো লাগার বিষয় ছিলো ফইদীর সাথে পরিচিত হতে পারা।
পরবর্তীতে চা খাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্টে গিয়ে অনেক কিছুই খেয়ে ফেললাম, এসবের ছবিও এসেছে। চা পর্ব শেষে যাওয়ার আগে সামাজিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজটা স্থগিত রেখেই রওনা দিলাম, একটা মিলাদের যেতে হবে। যার বাসায় মিলাদ তার বাসাও আমি চিনি না।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
আপনার লেখা প্রথম পাতায় আসছে দেখে ভাল্লাগল। অভিনন্দন।
কালপুরুষ বলেছেন:
বরাবরের মতই ঝরঝরে তকতকে লেখা, নিটোল উপস্থাপন। আর হ্যাঁ, মিলাদ যে বাসায় হওয়ার কথা সেই বাসা কী খুঁজে পাওয়া গেছিল?
কৌশিক বলেছেন:
বাচ্চাদের অনুষ্ঠান যেখানে হচ্ছে সেখানে একটা বাথরুম আছে নিশ্চিত জেনেই গেট দিয়ে ঢুকতে গেলাম। দারোয়ান জিজ্ঞেস করলো, টিকিট?আমি বললাম, বাথরুমে যাবো!
সে বললো, তাও টিকিটি কাটতে হবে!
টিকিট কেটে ঢুকতে যাবো, দেখি আরেকজন দারোয়ান। আমার দিকে তাকিয়ে বলে, অভিভাবক?
আমি বললাম, বাথরুমের জন্য টিকিট নাই বলে অভিভাবকই সই!
দশটাকার মুত্র নিক্ষেপের পরে বেরিয়ে ভাবলাম লাইব্রেরীর অন্যপাশটা দেখে যাই। দেখলাম জায়গাটা নিরিবিলি। এবং দেয়াল ভিজিয়ে এক ভদ্রলোক গান গাচ্ছে।
দশটাকা অহেতুক গচ্ছা গেছে বুঝে আমিও চেইন খুলে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম! যা শালা, পরেরবার তোকেই ভেজাবো!
তুষার ০০৭ বলেছেন:
মিলাদের বাতাসা চিনার দরকার কি, কুটুস কইরা খায়া ফেললেই হয়
সু-শান্ত বলেছেন:
রাসেল ভাই কে দেখে অনেক ভালো লাগছে।
রাহা বলেছেন:
হুম..........
নেমেসিস বলেছেন:
পোস্টটে অনেক ইনফো পাওয়া গেল । ধন্যবাদ আপনাকে ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
ওয়েলকাম বাক !!!!!
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অনেকদিন পর আপনাকে প্রথম পাতায় দেখলাম । ভালো লাগছে ।
ওয়েলকাম ব্যাক ।
স্রেফ কৌতূহল থেকে একটা প্রশ্ন করেই ফেলি,-- 'আপনি মিলাদ পড়েন ?'
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
হ, খুশি হইছি প্রথম পাতায় দেইখ্যা।
প্রতারিত পুরুষ বলেছেন:
বাসা চিনার দরকার কি, খাইতে পারলেই হলো।


















