অগভীর ভাবনা ৫
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৫২
সিগন্যালের একেবারে শেষে পৌঁছানোর সময়ই ট্রাফিক পুলিশ হাত তুলে থামালো। মনটা খচ করে উঠে এমন মুহূর্তগুলোতে। মনে হয় আর একটু আগে পৌঁছালে হয়তো এই দুরাবস্তা হতো না। এখন পাক্কা ৫ মিনিট বসে বসে দেখো, চৌরাস্তার এই পাশ দিয়ে গাড়ী যাবে, ওপাশ দিয়ে গাড়ী যাবে, কিছু গাড়ী বাঁক নিয়ে রাইট টার্ন নিবে, তাদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে একটা সময়ে কোনো এক সাহসী ড্রাইভার আড়াআড়ি ঢুকে যাবে, এই সময়েই অন্য দুই নিশ্চল রাস্তার যানবাহনগুলো একটু একটু করে রাস্তার ভেতরে মাথা ঢুকাবে। রাস্তা সংকীর্ণ হবে, এবং একটা পর্যায়ে বিকট একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে ফলে ট্রাফিক বাধ্য হয়েই সিগন্যাল উঠিয়ে নিবে। এই অনিয়ম পছন্দ হয় না বলেই আমি রিকশাকে বলে সামনে যেয়ো না,
তবে আমার কথা বাকী সবাই শুনে না, তাই আমার রিকশাকে পাশ কাটিয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ায় প্রাইভেট কার, তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায় মোটরসাইকেল, সেই মোটর সাইকেলে সানগ্লাস পড়া ছেলে এবং একটু টাইট জামা পড়া মেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে আছে। তাদের দিকে একটু বেশী মনোযোগী হতে হয়। প্রাইভেটগুলোর ভেতরে অফিস শেষে তেমন সুন্দরী মেয়ে থাকে না।
এদেরই প্রশ্রয় পেয়ে আরও কিছু রিকশা সেখানে মাথা ঢুকায়। তখনই ট্রাফিক পুলিশ কর্মক্ষম হয়ে উঠে, তেড়ে এসে প্রথমেই রিকশাওয়ালাকে একটা বাড়ি দেয় লাঠির, হারামজাদা, চুতমারানি সামনে সান্ধাইছো ক্যান? পিছনে থাকতে মন চায় না, পিছা হারামজাদা শুয়োরের বাচ্চা।
আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটর সাইকেলের পেছনে বসা আঁটোসাটো পোশাকের মেয়েটার চেহারা লাল হয়ে যায়, পরবর্তী টার্গেট তারাই, তবে পুলিশ খরচোখে তাকিয়ে থেকে তাদের কিছু না বলে মনোযোগ দেয় প্রাইভেট কারের ড্রাইভারের দিকে।
ঐ মিয়া গাড়ীতে চড়লে কি হুঁশ থাকে না? নিয়ম মানতে মন চায় না। রাস্তাটা কি কিন্যা নিছেন?
আশে পাশের রিকশাওয়ালাদের ভেতরে গুঞ্জন উঠে, হ মিয়া পারবেন তো খালি রিকশাওয়ালা পিটাইতে। পিটান না দেখি প্রাইভেটের ড্রাইভারগো, সেই সাহস তো নাই, খালি পারেন আমাগোর উপরে বাইড়া বাইড়ি করতে।
সিগন্যালটা ছেড়ে দেয়, আরোহী মহিলা বিরক্ত চোখ পেপার থেকে নামিয়ে ট্রাফিক পুলিশকরে ভস্ম করে দিয়ে চলে যান, মোটর সাইকেল যতটা দ্রুত সম্ভব পার হয়ে যায় রাস্তা। রিকশার ইঞ্জিল নাই তাই টেনে টেনে রাস্তা পার হয়।
অথচ শ্রেণী সচেতনতা না কি নেই বাংলাদেশের শ্রমিকদের। যদিও প্রকৃত মিল শ্রমিক, শিল্পবিপ্লবউত্তর শ্রমিক শ্রেণী বিকশিত হয় নি বাংলাদেশে। প্রাযুক্তিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি বাংলাদেশে, এখানে অধিকাংশ শ্রমিক কায়িক শ্রম বিক্রীতে অভ্যস্ত। এখানে শ্রমিকের চেতনা উন্নয়নের সম্ভাবনা নেই। এরা নিজেরাই সচেতন নয়,
তবে তারা পারস্পরিক সহমর্মিতার পাঠ জীবন থেকেই পড়ে নিয়েছে। রিকশাওয়ালা অন্য রিকশাওয়ালাকে নিজের প্রতিদন্ডী ভাবে না, বরং তারা একটা বৃহৎ শ্রেনীর অংশ এবং তারা যে ক্ষমতা এবং অর্থে নির্যাতিত এই বোধটাও তাদের আছে।
পারবেন তো রিকশাওয়ালাগো পেটে লাত্থি মারতে। আমি বিরক্ত হই। শালার নিয়মিত ভাড়া যা তার চেয়ে বেশী দিচ্ছি কদিন ধরেই, চালের দাম বেড়েছে, আনাজের দাম বেড়েছে, কিন্তু ৮ টাকার ভাড়া ১২ টাকা দেওয়ার পরেও দেখি এই ব্যাটা বাড়তি কথা বলে।
সাম্যবাদের পাঠ প্রয়োজনীয় মনে হয় সময় সময়, তবে যখনই শুনি লড়াই ছাড়া মেহনতি জনতার মুক্তি নাই, তখন আবারও একটু ঝামেলায় পড়ি, কার লড়াই, কার স্বার্থে লড়াই, কে লড়বে? শ্রমিক নিজে খেতে পায় না, তার অধিকার আদায়ে লড়াই করতে হবে এটা সে বুঝে তবে সে বেতনভুক যোদ্ধা হতে পারবে না।
সার্বক্ষণিক বিপ্লবী এবং পেশাদার রাজনৈতিক হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা বাম রাজনীতি কর্মীদের থাকে। পার্টি সামান্য মাসোহারা দেয় কিছু নিবেদিত কর্মীকে। সংখ্যাটা জানা নেই, তবে কয়েকটি বামপন্থী দলে এই মাসোহারা প্রথা আছে। এরা নিবেদিত প্রাণ বিপ্লবী, বিপ্লবের সংগঠক। এরাই লড়াই করবে মেহনতি মানুষের হয়ে।
রাশিয়ার ২ বার বিপ্লব হয়েছিলো ১৯১৭তে। প্রথম বার কিছু মৃদু বামপন্থী ক্ষমতা দখল করলো এবং তাদের হটিয়ে অক্টোবর বিপ্লবে ক্ষমতা দখল করলো কট্টরপন্থী বলশেভিকেরা। এবং একদা আন্দোলনের সহকর্মী সামান্য মতভেদের কারণে গণশত্রু এবং প্রতিবিপ্লবী হয়ে গেলো।
এইসব প্রতিবিপ্লবীদের সাথে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত গৃহযুদ্ধ হয়েছিলো রাশিয়া। কিছু শ্রেণীচ্যুত আলোকিত নিবেদিত প্রাণ বামপন্থী বিপ্লবীরা লড়াই করে মেহনতি জনতার মুক্তি আনবে, তবে লড়াইটা হতে হবে সশস্ত্র লড়াই। রক্তাক্ত বিপ্লবই প্রকৃত বিপ্লব।
বিপ্লব আদতে কোন পন্থায় আসবে এটা নিয়ে নানাবিধ বক্তব্য আছে বিপ্লবীদের ভেতরে। মার্ক্সিস্ট বিপ্লবী, মাওবাদী, লেলিনবাদী, নকশালবাদী, বিভিন্ন তাত্ত্বিকেরা বিভিন্ন জনপদের বিপ্লবের কায়দা উদ্ভাবন এবং এর প্রয়োগ করেছেন।
একটা বিষয় সত্য- একই কায়দায় সব জায়গায় বিপ্লব সম্ভব না, সমাজ পরিস্থিতি সেখানের শ্রমিকদের অগ্রসরতার উপরে নির্ভর করে বিপ্লবের ধরণ। আমাদের মতো সামান্য শিল্প কারখানা সমেত জনপদে শ্রমিকের শ্রম শোষণ এবং উদ্বৃত্ব শ্রমের গল্প বলা যায় না, এখানে বেশীর ভাগ শ্রমিকই স্বনিয়োগপ্রাপ্ত, তারা কোদাল, টুকরি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, আলোচনা করেই নিজের শ্রম বিক্রী করে, যদি এই শ্রম বিক্রী করে সে ঠকে তবে সেটা তার নিজের গাফিলতি।
রিকশাওয়ালাও একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই রিকশা নিয়া বাইরে আসে, এখানে রাস্তায় তার শ্রম শোষণ করবে কে? সে তার পারিশ্রমিক নিজেই নির্ধারণ করছে। তবে বিজ্ঞ বামেরা বলে এখানেও লোকচক্ষুর অন্তরালে শ্রমশোষণ চলে।
মাওবাদী না মার্ক্সবাদী না লেলিনবাদী হয়ে উঠবে বিপ্লবী দলগুলো তা ঠিক ঠাওড় করতে পারে না তাই দল ভাঙতে ভাঙতে পরমাণু দল গড়ে উঠে, তাদের তাত্ত্বিক নেতা জন্মায়, সেই নেতার আদর্শে মুগ্ধ নিবেদিত প্রাণ কর্মীরাও জন্মায়। তারা নেতার ব্যখ্যায় জীবন ও সমাজ বিশ্লেষণ করে।
ষাটের দশকে দক্ষিণ আমেরিকায় হঠাৎ করেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জোয়ার তৈরি হয়। এ জন্য দায়ী এক রোমান্টিক মানুষ, চে গুয়েভারা, বেচারা কতগুলো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে সেটা বোধ হয় তার নিজের জানা নেই। কিউবার ক্যাস্ট্রো এখনও শুনেছি জনপ্রিয়, তবে তার দেশের মানুষ ঠিক এমন জীবন চায় না।
প্রচার মাধ্যমে সত্য কখনই উঠে আসে না, বলিভিয়া, ভেনিজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, চিলি, কোথায় না বিদ্রোহ আর বিপ্লব হয়েছে। মানুষ মানুষের সাথে লড়াই করেছে, বিপ্লব বিপ্লব খেলায় দেশের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে বিপ্লবীরা, কোনো সময় তারা সম্পূর্ণ দেশ দখল করতে পেরেছে। এবং সে সময় তারা স্ট্যালিনবাদে মত্ত, তাই প্রতিবিপ্লবীদের সোভিয়েট স্টাইলেই দমন করেছে কঠোর ভাবে।
মানুষ মরেছে শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে।
তবে চে গুয়েভারা রোমান্টিক তরুনের স্বপ্নের নায়ক হয়ে ঠিকই বেঁচে আছে। আমি চে গুয়েভারাকে পছন্দ করি না তার মানবতাবিরোধী এই ভুমিকার জন্য। আমার এখন মনে হয় তার মানসিক সমস্যা ছিলো, সার্বক্ষণিক উত্তেজনার চাহিদা ছিলো তার জীবনে।
কিছু কিছু মানুষ নেশা করে জীবন ধ্বংস করে, কোনো গঠনমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে না। গুয়েভারা তেমনই এক বিপ্লবের নেশায় মত্ত ছিলো। তার নেশা ছিলো বিপ্লব, কিংবা হত্যা করা। আদর্শের কারণে হত্যা করা কিংবা লড়াই করা হয়তো কারো কারো কাছে বীরত্বের কিংবা মহত্তর কাজ তবে একজন সিরিয়াল কিলারও খুন করার আনন্দে খুন করে। তাকে আমরা খুনী বলেই সম্বোধিত করি, তাকে সামাজিক ক্ষতির কারণ ভাবি।
চে গুয়েভারা গুলি ছুড়ে শ্রেণীশত্রুদের কতল করছে, লড়াই করছে গেরিলা পন্থায়, তার আড্রোনলিন নিঃসরিত হচ্ছে, এই উত্তেজনার নেশাই মানুষকে রেসিং কারের ড্রাইভার বানায়, ফর্মুলা ওয়ানের নিবেদিত প্রাণ দর্শক বানায়। হয়তো যদি পাওয়ার রেসিং কিংবা এনএসএস আর কম্পিউটার থাকতো তবে চে গুয়েভারার কারণে এত প্রাণ এবং এত মানুষের অপচয় হতো না বিশ্বে।
প্রযুক্তি সব সময় খারাপ নয়, মাঝে মাঝে কিছু মানসিক সমস্যার সমাধানও দিয়ে দেয়। ষাটের দশকের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারে নি দক্ষিণ আমেরিকা, সেখানে নানা ধরণের কুটনীতি সমরনীতির প্রয়োগ হয়েছে। সমাজতন্ত্রকে পূঁজিবাদের শত্রু ভেবে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে সমাজতন্ত্রকে দমনের চেষ্টা করেছে। নিজেদের ভেতরে কেজিবির চর, সিআইএ র চর খুঁজেছে দেশগুলো। শ্রেণীশত্রু, প্রতিবিপ্লবী আর বিপ্লবীদের ভেতরে সংঘাত হয়েছে , মানুষ মরেছে।
বিকল্প ধারায় এগিয়েছে মাওবাদ, সেও একটা পর্যায়ে গিয়ে কৃষককে সংগঠিত করে ক্ষমতা দখল করেছে। তবে সব আদর্শিক রাষ্ট্রই একটা পর্যায়ে গিয়ে দমন ও নিপীড়ণের রাষ্ট্রনীতি তৈরি করেছে।
আমাদের মেহনতি জনতার জন্য কোন নীতিতে বিপ্লব প্রয়োজন এটা নিয়ে ভাবতে পারছে না বামপন্থী পকেট দলগুলো, তাদের নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের বাইরে তাদের সমর্থক কয় জন? বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৬ টা বামপন্থী দল আছে, এদের ভেতরে কয়েকটা দলের সবাই পার্টির বিভিন্ন অংশের নেতা। সাধারণ সম্পাদক, আহ্ববায়ক, পাঠাগার সম্পাদক, নারী সম্পাদক, এই পার্টি মেম্বার লিস্টের সবাই সংগঠনের কোনো না কোনো পদে আছে, এবং এর বাইরে আসলে এই দলটার কোনো অস্তিত্ব নেই। একটা দল ছিলো আমাদের সময়ে, সেই দলের তাত্ত্বিক নেতা, সাধারণ সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদক ছিলো এবং পার্টির সদস্য ও কর্মী ছিলো মনে হয় ৩ জন। চমৎকার একটা বামপন্থী দল ছিলো এটা, কোনো লোকালিজম ছিলো না, কোনো পদ দখলের লড়াই ছিলো না, নিরুপদ্রব নেতৃত্ব, ভোট দিয়েও আমি সাধারণ সম্পাদক আমি প্রচার সম্পাদক আমি তাত্ত্বিক নেতা।
তাদের বিভিন্ন বিপ্লবী মন্ত্র শুনে আমি উদ্বুদ্ধ হতে পারি নি। কেউ উদ্বুদ্ধ হয়েছে এমনও দেখি নি, তবে তারা যে বিশাল মাপের নেতা এটা তাদের বেশবাস দেখেই বুঝে যেতো।
গণ জাগরণেই মেহনতি জনতার মুক্তি, বিদ্রোহ জাগতে হবে শ্রমিকের রক্তে, একটা সময় নির্যাতিত জনতা জেগে উঠবেই, তপন ভাইয়ের কথাগুলো ভাববার মতো ছিলো। এবং তার উৎসাহ ছিলো, তোমাদের মতো শিক্ষিত মানুষেরাই আসলে মানুষের কষ্টকে অনুভব করতে পারে, মানুষের জন্য কাজ করবে না তো কার জন্য কাজ করবে।
বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য জীবন দিয়ে দেওয়ার উৎসাহ একটা পর্যায়ে তারুণ্যের থাকে, তারা সমাজ পরিবর্তনের নেশায় যুক্ত হয়ে যায়। এবং এরপরে একটা পর্যায়ে গিয়ে তুমুল ক্যারিয়ারিস্ট বিপ্লব করে, তবে পেশাদার বিপ্লবী হয়ে উঠে না। পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার নেশায় কেউ কেউ অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে। চমৎকার রোমান্টিক সময় কাটে তরুণের।
সেই তরুণদের বিপথে চালিত করে গুয়েভারা। সে মোটর সাইকেলে চড়ে বিপ্লবের হর্ণ বাজাতে বাজাতে যায়। লাশ আর লাশের মিছিল যায় পিছনে পিছনে।
অদ্ভুত আঁধার এক বলেছেন:
হুম বুঝলাম আরেকবার পড়ি।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
নেপালে দেখলাম প্রচন্দ প্রধানমন্ত্রী হয়েছে । মাওবাদী প্রচন্দ তার কপালে সিঁদুর লেপ্টে একাকার করে ফেলেছে । লেখক বলেছেন: দিন বদলাচ্ছে আসলে, সবাই বিপ্লবী ভেক ছেড়ে সামাজিক গণতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্র ক্ষমতার দখল চাইছে। বিশ্বযুদ্ধের কাছাকাছি সময়ের বিপ্লবের ধারণা এখন বদলে গেছে, মাওবাদী গেরিলারা সুন্দর ভোটে জিতে এসেছে ক্ষমতায়,
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
লেখায় " মানবতাবাদী " ভাব সুস্পষ্ট।"ভায়োলেন্স সবক্ষেত্রেই পরিহার্য",এইটা অতিমানবতাবাদ,গান্ধীবাদের সমর্থক।
ফ্রান্জ ফাঁনো তাঁর "Les damnes de la terre" (বাংলায় অনুবাদের নাম সম্ভবত "জগতের লাঞ্চিত") বইয়ে ভায়োলেন্স-এর পক্ষে যে যুক্তি দেখিয়েছেন,তা আমি ব্যাক্তিগতভাবে ঠিক মনে করি।
আমার অবশ্য নিজস্বতা কমই,সবই অন্যদের থেকে ধার করা।
লেখক বলেছেন: বিপ্লবের ফসল কাটে কারা?
লাল ঝান্ডা উড়িয়ে জোতদারের গলা কেটে যেই মাঠ দখল করলাম সেই মাঠের ফসলটা কোথায় গিয়ে জমা হয়?
বিপ্লব-প্রতিবিপ্লব- উণবিপ্লব, উপবিপ্লব, এইসব ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতেই থাকে,
কঠোর নিয়ন্ত্রিত একটা সমাজে মানুষের ভাবনাগুলোও কাঠামোতে আটকে থাকে।
সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর চালচিত্র দেখে এমনটাই মনে হয়।
সবাই রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে খুঁদ কুটো সংগ্রহ করতে চায়-
সোভিয়েতস্কি কৌতুকভের একটা চমৎকার পাঞ্চলাইন আছে
সমাজতন্ত্র কি?
পূঁজিবাদে পৌঁছানোর সবচেয়ে দীর্ঘ রাস্তা।
তবে চমৎকারতম ওয়ান লাইনার ছিলো
টিভিতে বলছে দেশে খাদ্য সংকট নেই, অথচ রেশনে গিয়ে কিছুই পাই না কি করবো?
উত্তর ছিলো আপনার ফ্রীজের সাথে টিভির লাইন লাগিয়ে দিন।
কিউবার পরিস্থিতির কি পরিবর্তন হয়েছে ৫০ বছরের সমাজতন্ত্রে,
তাত্ত্বিক ভাবে চীনকে এখন কেউই সমাজতান্ত্রিক বলছে না, সেখানে বিপ্লবের গুড় খাচ্ছে কারা?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আপনি কি আমাকে ট্যাগিং করেই ফেললেন?যাইহোক আমি ইউটোপিয়ান না।রাজতন্ত্র,সামন্তবাদ,পুজিবাদ কিংবা সমাজতন্ত্র(কেউ কেউ অবশ্য রাষ্ট্রীয় পুজিঁবাদ বলে) প্রত্যেকটার মেরিটস্ -ডিমেরিটস্ আছে।সবগুলোকে নিয়েই চাইলে হাজারটা কৌতুক বানানো যায়;তবু আমাদের এর মধ্যেই থাকা হয় কিংবা থাকতে বাধ্য হয়।
এর বাইরে যেতে চাইলে নতুন মতবাদ আবিষ্কার করতে হবে।
অবশ্য কোন সিস্টেমের ভিতরে থেকে যে তার সমোলোচনা করা যাবেনা,এইটা মনে করিনা।
তবে শুধু মানবতাবাদী মনোভাব শেষ পর্যন্ত আপোষকামী(ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়,সচেতন বা অবচেতন ভাবে),এইটা মনে করি।
লেখক বলেছেন: মানবতাবাদী মনোভাব শেষ পর্যন্ত আপোষকামী হতে পারে, তবে সহিংস বিপ্লবের গ্রহনযোগ্যতা এবং এর চুড়ান্ত ফলাফল নিয়ে সামান্য আপত্তি আছে।
রক্তপাত শান্তি আনতে পারে না। যুদ্ধ করে, সহিংসতায় কখনও শান্তি আসে না, সাম্যবাদী চেতনার লাল রং এ শুধু জোতদারের রক্ত লেগে থাকবে কিংবা জোতদারকে হত্যা করাটাই বিপ্লব, সে শ্রমিককে শোষণ করে শ্রমিকের রক্ত খেয়ে বাঁচে তাই তার রক্তপাত বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয়-
আমি এই প্রয়োজনীয়তা তত্ত্বকে মানি না, সে কারণেই যেকোনো সিরিয়াল কিলারের মতোই চে গুয়েভারাকেও আমার খুনী মনে হয়।
হয়তো অন্য কোনো উপায়ে এই সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব, কোনো রকম বিপ্লব ছাড়াই সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইকোনমি চলছে,
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
কথায় কথায় বাড়ে।তারপরেও আমরা কথা বলতে ভালোবাসি।যাইহোক, আপনি আমাকে একটা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট-এর উদাহরন দেন,যেটা গণতন্ত্রের যে ক্ল্যাসিক্যাল সংজ্ঞ্যা যেটা আব্রাহাম লিংকন দিয়ে গেছেন,সেইটা মেনে চলে।
কিংবা একটা ওয়েলফেয়ার ইকোনমির উহাদরণ দেন,যেইটা কিছুদিন আগে ঔপনেবেশিক লুন্ঠনএবং বর্তমানকালে বহুজাতিক কোম্পানী'র সাথে আঁতাতের বাইরে চলে।
একটা ওয়েলফেয়ার স্টেটের উদাহরণ দেন,যেইটার ক্ষমতা অর্থশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সাথে কেন্দ্রীভুত না।
একটা ওয়েলফেয়ার ইকোনমির উদাহরণ দেন,যেইটা কনজ্যুমারিজম'কে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রোমোট করেনা।
আমি আপনার কথা মেনে সোশ্যাল ডেমেক্রেটের খাতায় নাম লেখাবো।
লেখক বলেছেন: ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক-
রাষ্ট্রের ক্ষমতা অর্থশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, সেটা কম্যুনিস্ট দেশেও যেমন ডিক্ল্যাসড এনলাইটেড মানুষের হাতে গিয়ে জড়ো হয় তেমন ভাবেই সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইকোনমিতেও জড়ো হয়।
কনজ্যুমারিজমের দোষ কোথায়?
ভোগবাদীতা অপরাধ বিবেচিত হলে সেটার বিকল্প কি? ভাববাদীতা? ফরহাদ মজহার আমাদের বিকল্প বৈপ্লবিক নেতা?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
হাহাহাহা...আগেই ভেবেছিলাম এই কটি নর্ডিক দেশের উদাহরণই দিবেন।সাথে যে জার্মানী,ফ্রান্স,ইতালী'কে যুক্ত করেন নি,তাতে যুক্তি তর্কে আপনি যে বুদ্ধিমান সেটা বুঝলাম।সুইডেনের "এরিকসন",নরওয়ের "টেলিনর" ফিনল্যান্ডের "নোকিয়া" এইসব মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী পৃথিবী আগ্রাসীরুপ,কর্পোরেট দূর্নীতি সর্বজন বিদিত।
নিজে এরিকসনে কাজ করেছি;সুতরাং ভালোবেই জানি এরা কি প্রসেসে কাজ পায়।রাজনৈতিক ভাবে দূর্বল,দূর্ণীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্টী’র দূর্বল দেশের উপর কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে,ঘূষের বিনিময়ে কাজ বাগিয়ে নেয়।
অত্যধিক দামী ইকুপমেন্ট গরীব দেশকে কিনতে বাধ্য করায়।
অস্ত্র রপ্তানীতে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ সুইডেন।
আর অস্ত্রব্যবসা কিভাবে করতে হয়,সেইটা আপনার মতো মানবতাবাদী বিজ্ঞ’কে আশা করি বুঝিয়ে দিতে হবেনা।
টেলিনরের এক স্যাম্পল গ্রামীনফোনের কার্যকলাপ আশাকরি ভালোই জানেন।গত দুইদিন আগেও ২৫০কোটি ডলারের জরিমানা খেয়েছে।
ফিনল্যান্ডের নোকিয়া’র অভ্যন্তরের কাহিনী নিয়ে বেশ বড়োসরো উপন্যাসই লেখা হয়েছে।
ডেনমার্কের কথা এতো কিছু বলবো।শুধু জেনে রাখুন ডেনমার্কে রাষ্ট্র অনুমোদিত লিষ্টি আছে।তার বাইরে কেউ নবজাতকের নাম রাখতে পারেনা।এতোটায় প্রবল সেই দেশে ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন আর ফ্রিডম অফ স্পীচ্ !
"ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্" বেছে বেছে এমন সব দেশের উদাহরন দিয়েছেন যাদের লোকসংখ্যা কম,রিসোর্স বেশি।সুতরাং কিছু কর্পোরেটের হাতে পুরো ইকোনমি ধরা-বাধা থাকলেও কিছু কিছু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ারের বিলাশিতা তারা দেখাতে পারে;সব দেশে যেটা রিসোর্স লিমিটেশানের কারনে সম্ভব না।
আর জনগনকে উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে অধিকারের ভিত্তিতে না দানশীলতার ভিত্তিতে কিছু দেওয়া যদি এতটাই উত্তম হয়,শুধু মাত্র যে কোন ভাবে নিজের দেশের লোকজনকে খাইয়ে-পরিয়ে ভালো রাখাটাই বড় হয়,তাইলে ব্রুনাই,কিংডম অফ্ সৌদি আরাবিয়া,ইসরাঈল এরা দোষ করলো কোথায়,এদের ইকোনমি ভালো,নিজের জনগনকে ভালোই পালতে পারে।নাকি এদের গায়ে ধর্মীয় লেবাসই আপনাকে এদের প্রতি বিরুপ করে তোলে।
আফ্রিকাতে লামু নামে একটা জায়গা আছে।ভারত মহাসাগরের উপকূলে।ওইখানে আপনার দৃষ্টিতে নির্দোষ কনজ্যুমারিষ্ট ওয়েষ্টার্ন'রা গায়ে রোদ লাগাতে আসে,তারপর টাকার জোরে জায়গা জমি কিনে বাংলো বানায় লোকালদের তাড়িয়ে দিয়ে।যেহেতু লোকালদের সেই পরিমান অর্থের জোর নাই,তাই টিকতে পারেন কনজ্যুমারিজমের দৌড়ে।সেখান থেকে অনেক লোকালই সহিংস হয়ে উঠছে।দুই আক্রমনের ঘটনাও ঘটছে।
বিবিসিতে দেখানো প্রোগ্রামের নাম ছিলো "কনজ্যুমার ওয়েস্ট ভার্সাস স্পিরিচুয়াল ইসলাম"।তাইলে কি ভোগবাদীতাকে আমি মহৎ একটা ব্যাপার ধরে নিবো।
ভোগবাদীতা অবশ্যই অপরাধ কিন্তু তার বিকল্প ভাববাদীতা এইটা কখনোই বলি নাই,কিংবা বিশ্বাসও করিনা।নাকি আপনার কাছে ভোগবাদীতার বিরোধিতা করাই কি ভাববাদীতা?
"ফরহাদ মজহার বৈপ্লবিক নেতা",এইটা আমাকে ইন্ডিকেট করার মানে কি?
যেকোন আলোচনা থেকে অতি তাড়াতাড়ি কনক্লুশন টানা তো পেটি-বুর্জোয়া মানসিকতার অতীব লক্ষণ।
আরেকটা তথ্য জেনে রাখুন,সারাদিন সুশীলদের গালাগালি করেন।সুশীল'রা কিন্ত রাজনৈতিক মতাদর্শে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট আপনার প্রিয় সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেটের রাজনৈতিক এনটিটি।
যাইহোক আপনার মানবতাবাদী পোষ্ট,কিছুটা বিরোধী বেপরোয়া ভাব,স্ল্যাং-এর ব্যবহার দেখে বেশ আকৃষ্ট হয়েছিলাম কিন্তু শেষ বিচারে আপনি নিও-লিবারেলিজ্ম-এর সমর্থক ছাড়া কিছুই নন।পুরণো মদ নতুন বোতল।
আমি নিজেই পেটি বুর্জোয়া কিনা;তাই খুব তাড়াতাড়িই কনক্লুশনে গেলাম।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
প্রতিষ্ঠানের চরিত্র আধিপত্যবাদী, সেটা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হলেও সেই আধিপত্যবাদী চরিত্র ধারণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না।আবারও এই অগভীর ভাবনার প্রথম পর্বে গিয়ে পড়তে অনুরোধ করবো- ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে দেখতে হবে- ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের উপর চাপিয়ে দেওয়া ভয়ংকর প্রবনতা- বাংলাদেশের সমাজচেতনায় এই প্রবনতা বিদ্যমান।
এখানেও একই পর্যায়েই আলোচনা চলে গেলো শেষ পর্যন্ত-
কথা হচ্ছিলো সোশাল ওয়েলফেয়ার ইকোনমি নিয়ে- মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজের জনগনকে কতটুকু সেবা দেয়? সেখানে কতটুকু সুবিধা আছে একজন নাগরিকের? পরিসর যত বাড়বে আলোচনার ডালপালা ততই ছড়িয়ে যাবে, সুতরাং পরিসর সংক্ষিপ্ত করে আলোচনা করলে আলোচনায় একটা আপাত উপসংহার আনা সম্ভব।
অধিকতর দুর্বল রাষ্ট্রে গিয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়া কিংবা মানুষের লোভকে ব্যবহার করে ব্যবসা বিস্তার দুটোর নৈতিকতা একই রকম হওয়া উচিত না?
বিজ্ঞাপনের মোহে নিজের ব্যবসা বিস্তারকে যদি শোভন পন্থা বলে ধরে নেওয়া হয় তবে সেটা অধিকতর স্বচ্ছল মানুষের পকেটের উদ্বৃত্ব অর্থকে মোহনীয় বিজ্ঞাপনের প্যাকেজে মুড়ে সেই অর্থকে নিজেদের কোম্পানীর তহবিলে নিয়ে আসাটাকেই ব্যবসা বলে।
কনজুমারিজম কিংবা পণ্যবাদিতা বিজ্ঞাপনপ্রসারতার একটা পরিচয়। যদি দেখা যায় মানুষ বিজ্ঞাপনে প্রতারিত হয়ে নিজের কিছু অপরিনত কল্পনাকে পর্দায় দেখে কোনো কিছু কিনতে আগ্রহী হচ্ছে তবে আপনার ভাষ্য মতে সেটা অনৈতিক- এবং আপনার বিপ্লবী সমাধান হবে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া?
দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে ঘুষ দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়াটা যদি ব্যবসা সম্প্রসারণের পন্থা হয় তবে প্রতিষ্ঠান সেই পন্থায় আগাবে- তবে ঘুষ দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার সময় দায়টা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে রাষ্ট্রের উপরে বেশী পড়ে, তাদের আভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই এ ক্ষেত্রে প্রকট।
মিত্তাল গ্রুপ, টাকা গ্রুপ কিংবা চীনের বৃহত্তম স্টীল উৎপাদন প্রতিষ্ঠান- তাদের অফশোর উৎপাদন প্রকল্প- সব খানেই তাদের বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখবার স্বার্থ কাজ করছে।
বাংলাদেশে টেলিনর যা করেছে সেটা টেলিনরের প্ররোচনার চেয়ে গ্রামীণের উদ্যোগই বেশী ছিলো, তারাই আমন্ত্রন দিয়ে এনেছিলো, গ্রামীণের ইউনুস সাহেবই এ ক্ষেত্রে সরকারের সাথে কথা বলে তার ব্যক্তিগত প্রভাবেই সরকারকে বিভ্রান্ত করেছে, টেলিনরকে গালি না দিয়ে মূল গালি দেওয়া উচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারকদের এবং সেই সাথে অবশ্যই গ্রামীণকে।
তথাকথিত মানবতাবাদী হয়ে আমি এখনও সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইকোনমির সমর্থক, অন্তত নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পুরণের কোনো নিশ্চয়তা আমাকে অন্য কোনো রাষ্ট্র কাঠামো প্রদান করে না। চীনের তথাকথিত সমাজতন্ত্র জনগনকে বাধ্য করে এক সন্তান এক দম্পতি নীতি গ্রহনে। তারা কিন্তু কোনো ভাবেই সন্তানের জন্মকে নিরুৎসাহিত করে না। তুমি ট্যাক্স দিয়ে সন্তান নিবে নীতি- প্রথম সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিবে পরের গুলো তোমরা নিজ দায়িত্বে ট্যাক্স দিয়ে পালবে-
এবং পূঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যও ঠিক নাগরিক অধিকার প্রদানে সমর্থ নয়। ইজরাইলও নাগরিকের সকল সুবিধা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেটের মতো পুরণ করে না। সুতরাং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশী সেবাপ্রণেতা ভুমিকা নিয়েছে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইকোনমির দ্বারা চালিত প্রতিষ্ঠানসমুহে।
আমি নিও লিবারেল হয়েও আনন্দিত হয়ে জানাতে চাই সশস্ত্র বিপ্লবকে আমার এখনও অমানবিক বর্বরতা এবং কতিপয় খুনীর আদর্শের মোড়কে খুন করবার স্বাধীনতা এবং খুনের উল্লাস মনে হয়- তাদের মানসিক সমস্যা এমনটাই যে তারা খুন করতে আগ্রহী কিন্তু একটু বৈশ্বিক এবং অন্তঃদেশীয় সমর্থন চায়, সেখানে খুনীকে বিপ্লবী বলে মানুষ মাথায় তুলে নাচে।
একজন সিরিয়াল কিলার এবং ম্যানিয়াক গুয়েভারা তাই বিশ্বজুড়ে মানসিকভাবে নিস্পেষিত বামপন্থীদের আদর্শ হয়ে উঠে। তারাও কোনো না কোনোভাবে এই খুনীকে পূজা করে। আমাদের দক্ষিণের লালুর কি দোষ ছিলো? তার কি শৌর্য্যের অভাব আছে না তার ম্যনিয়াক প্রবনতার অভাব? সেও তো ৫০ জনকে খুন করেছে- দেশের খুনী ঠাকুরকে ধরে পূজা করেন ভাই চে গুয়েভারাকে নিয়ে টানাটানি কেনো?
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ধন্যবাদ আমাকে ব্যাক্তি আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে দেওয়ার।আমি ব্যাক্তি আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য বুঝি না কিন্তু এইটা জানি স্বৈরাচারী ব্যাক্তি আর মুনাফাখোর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুনাফা প্রতিষ্ঠান অধিক ভয়ংকর হতে পারে।তার বর্বর অশিক্ষিত,সৈরাচারী সরকারের চেয়ে হ্যালিবার্টন,লকহীড-মার্টিন,মনসান্টো,শেভ্রণ প্রভৃতি কোম্পানী’র মুলত নটের ঘোড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ অনেক বেশী বিপদজনক।যদিও হ্যালিবার্টন,লকহীড-মার্টিন ইত্যাদি কোম্পানীর কোন বিজ্ঞাপন আপনি দেখে থাকতে পারেন আমি কখনো দেখি নাই।ব্যাক্তি সাদ্দামের অনেক বেশি চিহ্নিত,ঘৃণিত কিন্তু হ্যালিবার্টন,লকহীড -মার্টিন ইত্যাদি কোম্পানী অস্তিত্ব মানুষের কাছে অদৃশ্য।
দৃশ্যমান শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকা কোম্পানীর বিরুদ্ধে নয়।
ব্যাক্তির লিগ্যাসি কে কি ভাবে ব্যবহার করে তার দ্বায়ভার ব্যাক্তির উপর বর্তায় না।বরীন্দনাথ’কে নিয়ে কেউ প্লেবয় ম্যাগাজিনের কাভার বানাইলে,কেউ রবীন্দ্র রান্নার ইশ্কুল চালু করলে তার দ্বায়ভার বরিন্দ্রনাথের উপরে বর্তায় না।
তেমনি চে-গুয়েভারা কে নিয়ে ব্লগের পোলাপান রোমান্টিক লেখা লিখলে কিংবা মার্কিন কোম্পানী চে-গুয়েভারার নামে বিকিনি ব্রা কিংবা শর্টস বিক্রি করলে তার দ্বায়ভার চে-গুয়েভারার উপর পড়েনা।
ব্যাক্তি’কে আমি পুজা করিনা,তবে শ্রদ্ধা করি।ব্যক্তিপুজা আমার স্বভাবে যায়না।ব্যাক্তি পৌরানিক দেবতা নয়,যে সর্বক্ষেত্রে দোষত্রুটি মুক্তহবে।তাই চে গুয়েভারাকে আপনার ভাষায় সিরিয়াল কিলার হলেও আমার চোখে সে লাতিন আমেরিকা,আফ্রিকা সহ অনেক দেশের মানুষের মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণা,তার ভায়োলেন্স স্বত্বেও।
আর জেনারেল বাতিস্তার মতো খুনিকে স্বৈরাচার’কে আপনি ব্লগেই আগুন ঝড়িয়ে টলাতে পারতেন কিনা ভাবতে থাকুন কিন্তু তার বিরুদ্ধে ক্যাষ্ট্রো কিংবা গুয়েভারার সহিংসতা’কে আমি ঠিকই মনে করি।
আর ভায়োলেন্স যদি সর্বক্ষেত্রে পরিতাজ্য হয়,তাইলে সুর্যসেন,ক্ষুদিরাম’কে আমার সন্ত্রাসী বলতে হবে,ফরাসি বিপ্লবকে কিছু
রক্তলোভীর ক্ষমতাদখল বলতে হবে,সিপাহী বিদ্রোহ’কে কিছু উজবুকের মিস্ এডভেঞ্চার বলতে হবে,ফ্রান্জ ফাঁনো যে বই লিখেই মুক্তি সংগ্রামে ভায়োলেন্সের কথা বলছে এবং সেই ভায়োলেন্সের দ্বারাই আলজেরিয়া’কে পরাক্রমশালী ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীন করেছেন এবং নর্থ আফ্রিকার অনেকদেশে স্বাধীনতা আনতে সাহায্য করেছেন,তাকে ম্যানিয়াক বলতে হবে।
“দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে ঘুষ দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়াটা যদি ব্যবসা সম্প্রসারণের পন্থা হয় তবে প্রতিষ্ঠান সেই পন্থায় আগাবে- তবে ঘুষ দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার সময় দায়টা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে রাষ্ট্রের উপরে বেশী পড়ে, তাদের আভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই এ ক্ষেত্রে প্রকট।“
আপনি মনে হয় বিকশিত পুজিবাদ আর অবিকশিত পুজির পার্থক্য ভুলে গেছেন।আপনার সো কলড্ ওয়েল-ফেয়ার স্টেট গুলিতে পুজি বিকশিত আমাদের এইখানে না;আবার বিকশিত পুজি অবিকশিত পুজিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকাশ দমন করে বা করতে চায়।
পতিতালয়ে উইমেন ট্রাফিকিং-য়ে আপনি মিডলম্যান দালাল’ আপনার চোখে যতোই অপরাধী হোক,আমার চোখে মেইন কালপ্রিট ওই পতিতালয়ের মালিক আর কাস্টোমার।আন্তঃরাস্ট্রীয় সিস্টেমে কে কোন পজিসনে সেইটা আশা করি আপনাকে বুঝিয়ে দিতে হবেনা।
“মূল গালি দেওয়া উচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারকদের এবং সেই সাথে অবশ্যই গ্রামীণকে।“
এইক্ষেত্রে সরকার কি করতে পারতো টেলিনরের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় কিছু শেয়ার নিয়ে নিতে পারতো।কিন্তু আপনার নিও-লিবারিলিজম কিন্তু ব্যবসায় রাষ্ট্রিয় অংশদ্বারিত্বের ঘোর বিরোধী।তাছাড়া,আপনি তো জাতীয়তাবাদী চেতনা’কে ঘৃণা করেন।ব্যবসায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহন কিন্তু জাতিয়তাবাদী চেতনারই প্রকাশ।
"ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্" বেছে বেছে এমন সব দেশের উদাহরন দিয়েছেন যাদের লোকসংখ্যা কম,রিসোর্স বেশি।সুতরাং কিছু কর্পোরেটের হাতে পুরো ইকোনমি ধরা-বাধা থাকলেও কিছু কিছু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ারের বিলাশিতা তারা দেখাতে পারে;সব দেশে যেটা রিসোর্স লিমিটেশানের কারনে সম্ভব না।
আপনি কিন্তু আমার এই কথাটা এড়িয়ে গেলেন।
আর দক্ষিনের লালু’র আকাঙ্ক্ষা কে আমি শ্রদ্ধা করি কিন্তু তার আকাঙ্ক্ষার এক্সিকিউশন’কে ঠিক মনে করিনা।"সেই ক্ষেত্রেই ভায়োলেন্স ব্যবহার করতে হবে", “কোণক্ষেত্রেই ভায়োলেন্স ব্যবহার করা যাবেনা” এরমতোই গান্ধীবাদী সরলীকরন।
“রিডিং ফর প্লেজার”-এ পড়েছিলাম “টু বি ইন দ্যা সুইম” একটা ফ্যাশন।আজকের যুগে জানি সবকিছুর প্রতিষ্ঠিত আইকন’কে গালি দেওয়াও” একটা ফ্যাশন।
লেখক বলেছেন: আলোচনা জমে উঠেছে,
তবে আক্রমনটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, অবস্থানটা আরও সরল করা যেতো।
আমি সহিংসতার বিপক্ষে, কতিপয় রোমান্টিক মানুষ বন্দুক হাতে হা রে রে রে করে তেড়ে আসলো, গোলাগুলি করে একটা সরকারের পতন ঘটালো, তবে পরিশেষ মূল ভোগান্তির শিকার সেই জনগণ - দক্ষিণ আমেরিকার জনগণের মুক্তিকামী নেতা চে গুয়েভারা তাদের দুর্দশার কারণ হয়ে থাকলো।
রোমান্টিক সাম্যবাদ, সবার জন্য সুন্দর আগামীর স্বপ্ন ভালো ,তবে প্রমিজড ল্যান্ডের খোজে মরুভুমিতে ইতঃস্তত ভ্রমন আমার বিবেচনায় কোনো স্বপ্ন উদঘাটনের পন্থা নয়।
দীর্ঘ মেয়াদী জন সচেতনতা হয়তো ভিন্ন কোনো মার্গে নিয়ে যেতে পারতো, ক্যাস্ট্রোর কঠোন গোপনীয়তা নীতি, উন্মাদনা তথ্য এবং অধিকার বিষয়ে তার উদাসিনতাও খবরে আসছে, ক্যাস্ট্রোও জনপ্রিয় জরিপে, পুতিনও জরিপে জনপ্রিয়, ন্যাশনালিস্ট হিসেবে তাদের কারোই যোগ্যতা বোধ হয় জরিপকারীদের কাছে কম না।
যীশূ বলেছেন:
চোখ বুলালাম। পড়ে মন দিয়ে পড়তে হবে।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আমার শেষের বক্তব্যটা ব্যাক্তি পর্যায়ে চলে গেছি মেনে নিচ্ছি কিন্তু সমাজে এই ট্রেন্ড যে নাই,এইটা বলি কিভাবে?"আমি সহিংসতার বিপক্ষে, কতিপয় রোমান্টিক মানুষ বন্দুক হাতে হা রে রে রে করে তেড়ে আসলো, গোলাগুলি করে একটা সরকারের পতন ঘটালো"।
পৃথিবীর কোথায় এই রকমটি ঘটলেই ঘটতে পারে।কিন্তু জনভিত্তি(সবক্ষেত্রেই মেজোরিটি'র কথা মিন করিনি)ছাড়া কিছু লোক ক্ষমতা দখল করেছে,এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে।আর যদি ঘটেই থাকে সেইটা যে টিকে নাই বলাই বাহুল্য।পাশের পশ্চিমবংগেই ৭০'দশকের নকশাল আন্দোলন মধ্যবিত্ত,ছাত্র,বুদ্ধিজীবি মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুললেই তা কিন্তু হালে পানি পায়নি ওই জনভিত্তির অভাবেই।
প্রচন্দ'কে এখন যতোই আপোষকামী মনে হোক না কেন,দেবতা বিষ্ণু'র উত্তরাধিকার রাজা জ্ঞ্যানেন্দ্রকে ক্ষমতা থেকে সেই কিন্তু মুক্তি দিয়েছে।পোশাকি পরিচয়ে হলে নেপাল'কে মনার্কী থেকে রিপাবলিকে উত্তরণ ঘটিয়েছে।আর ভায়োলেন্স যে এই ক্ষেত্রে একটা এফেক্টিভ(ভাল কিংবা মন্দ বলছি না) উইপন ছিলো বলাই বাহুল্য।
টেরোরিজ্ম ইজ্ দ্যা লং আউটবার্স্ট অফ্ লং ডিপ্রাইভেশন।মানুষ বেঁচে থাকার জন্য চোর-ডাকাত হয়তে পারে কিন্ত গভীর কোন ডিপ্রাইভেশন ছাড়া রাষ্ট্রের মতে বৃহৎ শক্তির সরাসরি বিরুদ্ধে কেউ সচরাচর দাঁড়ায় না।
বিশ্বের প্রায় পুরো অর্থনীতিই নিয়ন্ত্রণকারি আমেরিকা,ইউরোপের বিভিন্ন স্যাংশন এড়িয়ে, কোন বৃহৎ শক্তির সাহায্য ছাড়াই,অতিসীমিত রিসোর্স সত্বেও কিউবা যেভাবে জনগনের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছে,তার তুলনা এখন পর্যন্ত তো বিরল।কিউবা কোন দেশকে আক্রমনও করেনি,কিংবা কিউবা'র কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী পৃথিবী চুষে বেড়ায় না।
বেশি কথা বলতে ভালো লাগছে না।যদি একটা তথ্য দিয়ে রাখি, ফিদেল ক্যাস্ট্রো শুধু কিউবা নয়,পুরো লাতিন আমেরিকার জনপ্রিয়তম হয়তোবা সারা পৃথিবীর।আপনার কি মনে হয়,এইটা কোন অর্জন নয়। আর পুতিন সম্পর্কে রাশিয়ার আশপাশের লোকজন কি বলে বেশি কষ্ট করতে হবেনা; জর্জিয়া-রাশিয়া যুদ্ধ চলতেছে,টিভি খুললেই শুনতে পাবেন।
তারপরেও পুরো ভেংগে পড়া রাশিয়া সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে আমি কৃতিত্ব দিতেই লজ্জা পাইনা।
ধন্যবাদ।


















