ইসলামী বিশারদদের উৎপাতে এমনিই সমস্যাতে থাকি, তবে এই মহান রমজান মাসে তাদের উৎপাত অসহনীয় রকম বেড়ে যায়, ইসলামি চিন্তাবিদদের চিন্তা আমাকে আক্রান্ত করে।
প্রতিবছরই ঢাকাকে রমজানে নতুন রূপে দেখি আর আঁতকে উঠি, প্রিয় ঢাকা দিন দিন ইসলামী বিশ্বের রাজধানী হয়ে যাচ্ছে, এখানে বসবাস করা ২০ লক্ষ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জীবনযাপনের ধারাবাহিকতা আহত হচ্ছে তবে ইসলামী চিন্তাবিদেরা এইসব মুর্তিপূজারীদের নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়, কাফিরদের বাঁচবার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি যাপনের কোনো অধিকার বোধ হয় নেই বাংলাদেশে।
রাস্তা দিয়ে যেই ১০ জন মানুষ হেঁটে যায় তার ১ জন হিন্দু, রাস্তা দিয়ে যেই ১০০ জন মানুষ হেঁটে যায় তার একজন খ্রীষ্টান, এমন কি বাংলাদেশের রাস্তায় হেঁটে যাওয়া প্রতি হাজার মানুষের ভেতরে অন্তত ১২৫ জন মুসলিম নন, তবে সংখ্যাগুরুরা সব সময়ই সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতি চর্চার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পূর্বেও বাংলাদেশে রমজান এসেছে, তবে এমন জঙ্গী রমজান বোধ হয় আসে নি, দিন দিন রমজানের জঙ্গীভাব বাড়ছে, মানুষের অসহিষ্ণুতার নিদর্শন হয়ে উঠছে আমাদের রমজান।
গতকাল গুলশানের রাস্তায় প্রকাশ্যে খাওয়ার জন্য দুই বিদেশী পর্যটককে পিটানো হলো, অবশ্যই জনগণের ধর্মীয় বোধ আক্রান্ত হতে পারে, মানুষ না খেয়ে পড়ে আছে সেখানে দুই বিদেশী রাস্তা দিয়ে খেতে খেতে যাবে এটা কেমন কথা।
বীর মুসলিম বাঙালী দুই পর্যটককে পিটিয়ে হাতের সুখ করেছে, তবে একই সাথে আমাদের ধর্মীয় সহনশীলতার ফাঁপা মুর্তিটি ভেঙে ফেলেছে। আমাদের ধর্মীয় সহনশীলতা কখনই ছিলো না, তবে কাঠমোল্লাদের প্রকোপ কম ছিলো, তারা বিবেচক মানুষদের তুলনায় কম ক্ষমতাশালী ছিলো বলেই তারা উৎপাত করতো না অহেতুক, তবে এখন কাঠমোল্লারাই সংখ্যাগরিষ্ট, তাই তারা যেখানে সেখানে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার উৎপাত করছে।
রমজান আসলে আমার সামান্য সমস্যা হয়ই, সকালে উঠে সিগারেট টানতে টানতে বাইরে যাওয়া যায় না, এই সংস্কৃতি চর্চায় বাধাটা প্রাণে লাগে, অথচ যখন প্রথম ঢাকায় আসলাম তখন এইসব বালের ঝামেলা ছিলো না, দিব্যি রিকশায় সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে যাওয়া যেতে, গত ১৫ বছরে ঢাকা ক্রমশ আরও বেশী ধার্মীক এবং সতী হয়েছে,
গত বছর তার সকালে কিছু হোটেল খোলা পাওয়া যেতো, এবার দেখলাম এলাকার ছোটো ছোটো হোটেল আর চায়ের টং দোকান সকালে বন্ধ, বেশ্যার এক ফালি কাপড়ের আড়ালে রমজানের পবিত্রতা ঢাকা থাকতো টংয়ের দোকানে, মূলত রাস্তার সবাই দেখতো এখানে চা খাচ্ছে শ্রীকেরা, চা খাচ্ছে মধ্যবিত্ত মানুষেরা, তবে ঐ যে, বেশ্যাদের জন আলাদা কারাগার বানানো ঢাকা শহরে টংয়ের দোকানে রমজান মাসে পবিত্র বেশ্যাদের থেকে অপবিত্র বেশ্যাদের আড়াল করবার জন্য একটা সতীচ্ছদ লাগানো থাকে। টংয়ের দোকানের এপাশ থেকে ওপাশে দেখি, কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না। নিজেদের হঠাৎ করেই টানবাজারের বাসার ভাড়াটে মনে হয়। শালার ধর্ম- ধার্মিকের জোরজবরদস্তিতে স্বাভাবিক জীবনে ব্যঘাত ঘটবে নিয়মিত।
মেনে নিতেই হয়, সকালে আর সিগারেটের দোকান খোলা পাই না, খোলা পাই না যে হোটেলে প্রতিদিন সকালে বসে চা আর সিগারেট খাই, নাস্তা করি, সারাদিন অহেতুক ক্ষুধার্ত হয়ে ঘুরি, কোনো শপিং মলে ফুড সেন্টার খুঁজতে গেলে পবিত্র দোকানিরা প্রথম প্রশ্ন করে কেনো রোজা রাখেন নি।
এর উত্তরে অনেক কিছুই বলা যায়, তবে জঙ্গিঅধ্যুষিত ঢাকা শহরে সব উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না, আমার সাথে থাকা বন্ধুদের কয়েকজন ভিন্ন ধর্মের তারাও এই ধর্মীয় আগ্রাসনে আক্রান্ত হয়, আপনারা কেনো রোজা রাখেন না।
মিনমিন করে তারা উত্তর দেয় আমাদের রোজা নাই, আমরা অন্য ধর্মের- তখন তাদের নিশ্চিত চেহারায় একটা আলো ফুটে উঠে, ও বলে তারা জেরা থামায়।
এই অশালীন ও এবং এই অশালীন বোধধারী মানুষের কষে লাথি মারতে ইচ্ছা করে, এখন তো সুসময় যাচ্ছে, ঢাকা শহরের যে পরিবর্তন দেখছি তাতে এর পরে আমরা হিন্দু এই পরিচয়ও বিশ্বাস হবে না তাদের, তখন সবারই প্যান্টের চেন খুলে ধনের আগা দেখে নির্ধারণ করা হবে ধর্মপরিচয়।
ধর্ম শেষ পর্যন্ত লিঙ্গাগ্রে এসে ঝুলছে।
এই ২০ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে ধর্মীয় আগ্রাসনে খাওয়া বাদ দিয়ে ঘুরবে, সবাই রোজা রাখবে অনর্থক? বিবেচনাবোধহীন মানুষদের এসব প্রশ্ন করা অবান্তর, ধনের মাথায় চোখ রেখে ধর্ম পালন করা মানুষদের কথা থাক-
আমাদের বিজ্ঞ মানুষেরাও কম যায় না আসলে।
প্রতি বছর রমজানে আরও একটা উৎপাত থাকে চিকিৎসকদের উৎপাত, ইসলামী ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী চিকিৎসকেরা চমৎকার করে বলে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখলে উপকার হয়।
এ কারণে অবশ্য তাদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে চাইলে তাদের জীবন যাপনের ধরণ বদলাতে হবে, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যায়ামের সময়সূচী বদলাতে হবে, খাওয়ার রুটি বদলাতে হবে, বদলাতে হবে ঔষধ নেওয়া সময়সূচি, তবে ইসলামী বাঞ্চোতদের রোজা রাখাতেই হবে, মরে গেলে যাবে কিন্তু ধর্মকে উপরে রেখেই মরবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে শর্করার পরিমাণ কমে যায়, এই কমে যাওয়ার পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট একটা মাত্রার নীচে চলে যায় তখন রোগী চিকিৎসকের সহায়তা ব্যতীত মৃত্যু বরণ করতে হবে। এ কারণে অবশ্য ইসলামী চিন্তাবিদেরা বলেছেন ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে পারবেন এতে রোজা ভাঙবে না।
অবশ্য রক্তপাতে রোজা ভেঙে যায়, এমন কি রজঃস্রাবের রক্ত ঝড়লেও রোজা ভেঙে যায়, কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগী যখন রক্ত পরীক্ষা করবেন তখন রোজা ভাঙবে না।
এবং অন্য একটা সমস্যা হলো রক্তের শর্করার পরিমাণ হঠাৎ করেই মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া, সে ক্ষেত্রেও এটা প্রাণঘাতী হতে পারে, এইসব পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শে রোজা রাখতে হবে।
শাররীক অসুস্থতায় রোজা রাখা ফরজ নয়, অনেক রকম নিয়মনীতি থাকলেও মানুষের অবস্থা বিবেচনা করে কিছু শিথিল নিয়মও আছে, তবে সুর্য্যের বালি গরম হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ধর্মীয় আকাশে বর্তমানে মোহাম্মদের চেয়েও অধিক ইসলামী চেতনাধারী মানুষেরা বসবাস করে,
এসবের একটা নিদান তারা দিয়েছেন ইসলামী তরিকা অনুসারে-
যদি শর্করার পরিমাণ অধিকা হয়ে যায় কিংবা আশংকাজনমকভাবে কমে যায় তবে তারা রোজা ভেঙে দিতে পারেন, উপদেশটা এমনই, কিন্তু এই রোজা ভাঙলেই হবে না এটা পরবর্তীতে কাজা রোজা রাখতে হবে।
রজঃস্রাব চলাকালীন সময়ে অপবিত্র নারীদের ধর্মপালনে স্পষ্ট বিধিনিষেধ আছে, এবং রমজান মাসের কয়েকটি রোজা এইসব নারীদের কাজা করতে হয়। ডায়াবেটিস রোগীরাও এই তালিকাভুক্ত,
বাঞ্চোত ডাক্টারদের আক্কেল দেখে মুর্ছা যাই, শালার ব্যাটারা যদি রোজা রেখেই তার প্রাণ সংশয় হয়, শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে কাজা রোজার সময় কি এই ঘটনা ঘটবে না?
নাকি রমজানের স্পেশাল ইফেক্ট এই শর্করা কমে যাওয়া। মানুষ পড়ে এত বেশী উজবুক হয় এটা এই ইসলামী উল্লুকদের সংস্পর্শে না আসলে বুঝতাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

