জয় বাংলাদেশ-
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩০
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের প্রধান চরিত্র চট্রগ্রামের পীচ। বাকি সবাই পার্শ্বচরিত্র হয়েই থাকবে এই টেস্টে। প্রথম দুই দিনের খেলা দেখেছি সামান্য, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়ে মেহরাব জুনিয়র আর মুশফিকুরের প্রতিরোধ, আর সাকিবের অসাধারণ বোলিং দেখছি মুগ্ধ হয়ে।
আজকের খেলা দেখা সম্ভব হয় নি, সাকিবের অর্ধশতকের জন্য অভিনন্দন, বিশেষত এই উইকেটে ভেট্টোরি আর প্যাটেলকে খেলে ৭১ রান করা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়।
বাংলাদেশ টসে জিটে ব্যাটিং নিয়েছে, এমন চমৎকার কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না এই উইকেট বিবেচনায় আনলে। আদ্রতাবিহীন, ভঙ্গুর উইকেটে প্রথম দিনের বিকাল থেকেই বল টার্ন করা শুরু করেছে। বল শুধু টার্ন করছে না, মাঝে মাঝেই বল নীচু হয়ে যাচ্ছে।
প্রথম দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে চমৎকার লেগেছে। বাংলাদেশ মোটের উপর খারাপ খেলে নি, নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়েই খেলছে, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে খেলছে। এটাই প্রয়োজন আসলে। সবারই নায়ক হয়ে উঠবার প্রয়োজন নেই, বরং নিজের দুর্বলতাগুলো আড়াল করে, নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো উপলব্ধি করে খেলে যাও।
প্রথম দিনের শেষে ওভার প্রতি রান হয়েছে ২ এর কম। টেস্ট ক্রিকেট অনেক বদলে গেছে এই মাঝের সময়টুকুতে, অন্যসব দলগুলোর খেলোয়ারদের দক্ষতা বেড়েছে, প্রতিভাবান ক্রিকেটার তেমন না থাকলেও পরিশ্রমী ক্রিকেটারের সংখ্যা বেড়েছে, টেকনিক্যালি নিঁখুত থাকবার চেষ্টা এবং নিজের শক্তি উপলব্ধি করে খেলবার প্রবনতা বেড়েছে। আক্রমনাত্মক হয়ে উঠা টেস্ট ক্রিকেট বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রথম দিনের খেলা তেমন আমোদিত করে নি দর্শকদের। তবে অহেতুক শট খেলে উইকেট দিয়ে আসবার কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশের নেই। প্রতিটা উইকেট অর্জন করতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।
পীচে আদ্রতা নেই, ভঙ্গুর এমন পীচে প্রবল গরমে যা হওয়ার কথা তাই হয়েছে। সাধারণ মানের স্পীনাররাও প্রচন্ড প্রতাপে ব্যাটসম্যানের উপরে কতৃত্ব করছে।
এখন পর্যন্ত উইকেট পড়েছে ২৮টি, তার ২৩টি পেয়েছে স্পীনারেরা। এবং আগামি কালের উইকেট দুটোও যদি তেমন ব্যতিক্রম কিছু না ঘটে তবে ভেট্টোরি আর প্যাটেলই পাবে।
নিউজিল্যান্ডের দুর্ভাগ্য বলছি না আমি, টেস্ট ক্রিকেটে ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই আসে, রাজ্জাকের বলে টেইলর এলবিডাব্লিউ হওয়া বলটি যদি ব্যাটের কোনায় না লাগতো তবে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে যেতো, সেই বলটি ব্যাটের কোনায় লেগে প্যাডে লাগলো, টেইলর আউট হয়ে গেলো।
একই ঘটনা ঘটেছে মিলসের ক্ষেত্রে, বেচারা যে বলে বীট হয়েছে, সেই বলটি উইকেট না ছুঁয়ে যাওয়াটাই পরম আশ্চর্যের বিষয়, আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো কোথাও না ছুঁয়ে যাওয়া সেই বলটিতে মিলস কটবিহাইন্ড হয়ে ফেরত আসলো।
এত অঘটনের ভেতরেও ভেট্টোরি অধিনায়কের মতো খেলেছে ৫৫ রানের ইনিংস।
সাকিব দুর্দান্ত বোলিং করেছে, প্রথম থেকেই লেগ আর মিডল স্ট্যাম্পের উপরে ফ্ল্যাট বল করে গেছে। টার্ন তেমন করে নি, বেশীর ভাগই অফ স্ট্যাম্পের পাশ দিয়ে বের হয়েছে, হতাশ করেছে রাজ্জাকের বোলিং। ওয়ান ডে ম্যাচ থেকেই রাজ্জাক ছন্দে নেই। ওর আরও উইকেটের কাছে এসে বল করা উচিত। ওভার দ্যা স্ট্যাম্প কিংবা রাউন্ড দ্যা উইকেট যেভাবেই বল করুক না কেনো বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় যতটা সম্ভব উইকেটের পাশ থেকে ডেলিভারি দেওয়া উচিত ওর।
ব্যক টু দ্যা বেসিক পাঠ নিলে অন্তত এই পীচে তার মানের বোলারের বোলিং ফিগার ১৬ ওভার ৫১ রান এবং একটি বিতর্কিত উইকেট হতো না।
যতটুকু বুঝলাম খেলা দেখে, আগামি কালের ভবিষ্যতবানী করি কিছু,
২৫৮ রানের লীড নিয়ে আগামিকাল খেলা শুরু করবে রাজ্জাক আর মাশরাফি, তবে লীডটা শেষ পর্যন্ত ২৮০ থেকে ২৯০ এর ভেতরে থাকবে। লাঞ্চ ব্রেকের আগেই নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামবে।
নিউজিল্যান্ড মূলত শাহাদাতকে পিটাবে, মাশরাফি এই সময়েই হয়তো ১টা ,২টা উইকেট পাবে, তবে চতুর্থ দিনের নায়ক হবে রাজ্জাক,
আমার মনে হয় বোলিং ফিগার শেষ পর্যন্ত মাশরাফি ২, রাজ্জাক ৪ থেকে ৫, সাকিব৩ আর নাইম উইকেট পেলেও পেতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হবে ২১৫ রানের ভেতরে এবং এর জন্য নিউজিল্যান্ড খুব বেশী হলে ৭০ ওভার খেলবে।
বাংলাদেশ, যদি কোনো অঘটন না ঘটে তবে নিদেনপক্ষে ৬০ রানে জিতবে এই টেস্ট।
ম্যান ওফ দ্যা ম্যাচ সাকিব, ও এই ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েও যেতে পারে।
সোম বার ভাইয়েরা সবাই থালা বাটি নিয়া রাস্তায় নামি পড়েন বিকাল ৪টার পরে। ঢাকা শহর উৎসবের নগরী হয়ে যাবে আগামি কাল বিকাল থেকে।
জয় বাংলাদেশ, চট্রগ্রামের পীচকে ধন্যবাদ জানান।
টিপু বলেছেন:
বাংলাদেশের জয় হোক।
অ্যামাটার বলেছেন:
দেখা যাক...তবে ৩০০+ লীড নিতে পারলে আশাটা আরেকটু জোরালো হয়...জয় বাংলা বাংলার জয়/হবে হবে হবে/হবে নিশ্চয়...
শামীম রিয়াজ বলেছেন:
নোবেলজয়ী বলেছেন: এই ম্যাচ বাংলা হারবে উহা নিশ্চিত আমি কইলাম নিশ্চত জিতবে...বাজী
বন্ধনহীন বলেছেন:
বাংলাদেশ, যদি কোনো অঘটন না ঘটে তবে নিদেনপক্ষে ৬০ রানে জিতবে এই টেস্ট।ফুল-চন্দন পড়ুক আপনার মুখে।

আমি আরেকটু কম ব্যবধানে জিতার স্বপ্ন দেখছি।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
ভাল বিশ্লেষন। তবে পিচ কিন্তু অতটা ফাটেনি যতটা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের জিতা উচিত। রফিকের বড্ড প্রয়োজন ছিল..
প্রিয়তে রাখলাম, যাতে হারিয়ে না যায়।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
জিতলে থালাবাটি বের হবো অবশ্যই.... এই অভাগা দেশে মন ভাল করনের লেইগা এরথিকা ভাল খবর আর কি হৈতে পারে?
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
মুশফিকুর রহিম এর কথা বল্লেন না?দুই ইনিংসেই এই পোলাটা উইকেট আগলে ধরে ছিলো। রান না আসুক, সাপোর্টিং রোলে।
সৌম্য বলেছেন:
একটা জিনিস খেয়াল করছেন? আজকে (থার্ড ডে) ফার্স্ট সেশনের পরে স্পিনাররা কালকের মত (সেকেন্ড ডে) ভয়ঙ্কর না। ক্র্যাক আছে পিচ এ। কিন্তু ফাটল গুলা বড় হয় নাই। টিভিতে যা দেখলাম পীচে জায়গায় জায়গায় কালার চেঞ্জ। মনে হইলো ঐগুলা নরম হই গেছে। ওরাম আর ও ব্রায়ানের কয়েকটা ডেলিভারী অনেক নিচু হইছে। শাহাদাতের স্পীড এগ্রাশন আছে। খালি লাইনে বল ফেলতে পারলেই হলো। স্পিনার রা ইম্পোর্টেন্ট উপমহাদেশে। কিন্তু আমার মনে হইলো ফাস্ট বোলার দের জন্যে কালকে কিছু থাকার চান্স আছে। স্পিনার রা আজকে যা উইকেট পাইছে ( শাকীবের বলে ব্রায়ানের বোল্ড টা ছাড়া) ওগুলো বেশিরভাগ মনে হইছে বলের স্পিড বুঝতে না পারা, টার্ন আর স্পীন দুপুরের পরে অনেক কমে গেছে। চিটাগাং পিচ পুরা ডেড, কোন লাইফ নাই। ফাস্ট বোলার ভাইয়েরা খালি লাইনটা ঠিক রেখে গায়ের জোড়ে বল করেন, উলটা পালটা করার কিছু নাই, বাউন্সার ইউর্কারের চেয়ে থ্রি কোয়ার্টারে এক চ্যানেলে টানা বল করলে দুই একটা বল এমন নিচু হইবো...।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
ভাইজান আপনে বিরাট সাহস নিছেন ।
আপনার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক ।
জেতার অপেক্ষায়....।
নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন:
প্যাটেল তেমন আহামরি কিছু না। আমার কাছে খুবই অর্ডিনারি মনে হয়েছে।আর আপনি তো ভাই ডিটেয়ইলড ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছেন। টাইম মেশিন পেয়েছেন নাকি? হা হা হা হা.............. দেখা যাক কি হয়।
একটা আশাব্যন্জক তথ্য পেলাম। সেটা হল নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি রান চেজ করে জয়ের রেকর্ড ১৬৮!!!!!!!!!!
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
আশায় বুক বান্ধলাম । কাইল সারাদিন খালি খেলা দেখুম
নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন:
ভাই কি হইল? আমরা তো হারু পাট্টি।
লেখক বলেছেন: হ, কথাটা সত্য, তবে হারটা আমার কাছে মানসিক দুর্বলতার কারণে ঘটেছে মনে হয়। আশরাফুল জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে এটাকিং খেলা খেলে নি। এমন কি ১৩৭ ওভারের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজ্জাক আর সাকিব করেছে ৯৫ ওভার, বাকি ৬ বোলার করেছে ৪২ ওভার, মাশরাফি তার সাধ্যমতো করেছে, তবে পীচে তার জন্য কিছুই ছিলো না।
শাহাদাত নির্বোধের মতো বলে করেছে, আর নাইমকে আরও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো আমার মনে হয়। এর বাইরে একজনকে ধারাবাহিক বল করিয়ে যাওয়া কোনো সময়ই ব্যটসম্যানের টেম্পারমেন্টের পরীক্ষা নেওয়া না।
ভুল ছিলো, মানসিক ক্ষমতার ঘাটতি ছিলো, এমন অবস্থা থেকে ম্যাচ না জিতে ফিরে আসাটা আমার কাছে কষ্টদায়ক কিন্তু মেনে নিতে হচ্ছে।
ভেট্টোরি যা করেছে সেটা অসাধারণ, তবে বাংলাদেশ সবসময়ই পরীক্ষিত ব্যটসম্যানদের উপরে চড়াও হতে পারলেও বাংলাদেশের টেস্ট মানেই সাধারণ মানের বোলার ব্যাটসম্যানদের রেকর্ড গড়বার সুযোগ।


















