আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

আমাদের আশার বসতি-

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

দেশ কোথায় থাকে? দেশের সাথে আমাদের যোগাযোগ কিভাবে?

দেশ আমার কাছে কিছু চিহ্ন, কিছু উচ্চারণ, আমার জাতীয় সংগীত, আমার জাতিয় পোশাক আর আমার জাতিয় পশু, এইসব আমিত্ব কিংবা আমরাত্ব দিয়েই দেশের সাথে আমাদের যোগাযোগ। আমাদের নিজস্ব পরিচয় চিহ্ন এইগুলোই। আমাদের দেশের পতাকা, জাতীয় পাখি, জাতীয় পশু , জাতীয় ফল, জাতীয় ফুল, এইসব নিদর্শন আমাদের নিজের দেশের সাথে সংযুক্ত করে।

আমার ছেলে অনেক আগে থেকেই রাস্তায় পতাকা দেখলে কিনে বানলাদেশ বানলাদেশ বলে পতাকা নাড়ায়, মাথায় আমার সোনার বাংলা লেখা ব্যন্ড পড়ে ঘুরে, এইসব তার কাছে উৎসবের প্রতিকৃতি। পতাকার আলাদা কোনো মর্যাদা কিংবা আলাদা কোনো আবেদন তৈরির বয়েস কিংবা বিবেচনা এখনও তার হয় নি।

তার নিজস্ব খেলাঘরের একটা পর্দা হয়তো এই পতাকা, এই পতাকাই সে নানাভাবে নিজের খেলার সামগ্রীর ভেতরে সাজিয়ে রাখে, পতাকার ডাট ভেঙে গেলে সেই কাপড়ের টুকরোটাই সাজিয়ে রাখে,

অনেক দিন পরে বিজয়ের মাস এসেছে, আগামি পরশু থেকেই মাসব্যাপী বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হবে বাংলাদেশের পত্রিকায়, টিভিতে মনোরম, আবেগঘন বিজ্ঞাপন আসবে, আমাদের এই মাসের বাণিজ্যের নাম মুক্তিযুক্ত-

আজ বিকেলে বইয়ের দোকান থেকে বই কিনে ফিরছি, সামনেই ময়লার গাড়ী, বিকট গন্ধ, নাক চাপা দিয়ে পার হওয়ার আগেই ছেলের কান্না শুনলাম, বাবা বাবা পতাকা- পতাকা ময়লা হয়ে গেলো।

ময়া ফেলার ঝুড়িতে একটা পতাকা রাখা, সেই পতাকা ময়লা হয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ ছেলেকে সান্তনা দিয়ে বাসায় নিয়ে আসলাম , আমাদের পতাকা ময়লা হয় নি বাবা, ওটা এখনও পরিস্কার আছে।

দেশকে ভালোবাসতে কোনো পয়সা খরচ হয় না, আমাদের ভেতরে ভালোবাসার কোনো আকুতি নেই, দেশের পতাকা নিয়মিতই লাঞ্ছিত হচ্ছে, অপমানিত হচ্ছে। আমাদের প্রজন্ম এই পতাকার অবমাননা কখনই প্রতিরোধ করতে পারে নি। আমরা মুখ বুজে আমাদের স্বদেশ ধর্ষণকে উপভোগ করেছি।

তবে আমার সন্তানকে দেখে আশাবাদী হয়ে উঠি, আজ যে পতাকা ময়লা হয়ে যাওয়ায় সে বিমর্ষ হয়, সে হয়তো একদিন নিজের সাথে দেশের পরিচয়চিহ্নের যোগাযোগ উপলব্ধি করে নিজের প্রজন্মকে বুঝাতে পারবে,

এই দেশকে ভালোবাসতে কোনো পয়সা লাগে না, আমরা নিজেরাই এখটু ভালোবেসে দেশকে সম্মান করে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করতে পারি।

আমি এখনও আশাবাদী, আমাদের প্রজন্ম পারে নি, তারা তা পারবে, তাদের ভেতরেই আমাদের আশার বসতি।

 

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ৮৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
comment by: সরপ বলেছেন: গালিবাজদের না বলুন।
২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮

লেখক বলেছেন: না বলা ভালো, হ্যাঁ বলতে বলতে আপনার পেছন দিয়ে অনেক কিছুই ঢুকে গেছে, এখন মাঝে মাঝে আপত্তি জানানো ভালো।

পছন্দসই জিনিষ পেছনে ঢুকানোর অভ্যাস করুন

আপাতত না হয় জাতিয়তা বোধ অর্জনের জন্য কাঁঠাল ঢুকিয়ে দেখেন, খারাপ লাগবে না।

২. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫
comment by: নাজমুল হুদা সুমন বলেছেন: valo laglo vai aapnar lekhata
৩. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯
comment by: সরপ বলেছেন: বাকশালিদের গালিই সম্বল আর কিচু বলব না।
৪. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১২
comment by: অরণ্যচারী বলেছেন: পরবর্তী প্রজন্মই আমাদের আশার জায়গা। +
৫. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫
comment by: মনির হাসান বলেছেন: ... ভালো লাগ্লো ... নৈরাশ্যবাদি হয়েও আমি আশাবাদি দলে গান গাই .... " আমাদের পতাকা ময়লা হয় নি বাবা, ওটা এখনও পরিস্কার আছে।"
৬. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
comment by: নাজিল আযামী বলেছেন: আমাদের এই মাসের বাণিজ্যের নাম মুক্তিযুক্ত



খুব চমৎকার ব্বলেছেন।

 

 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৪৪৪