বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে স্পষ্ট বলা আছে যদি কোনো নারী কিংবা শিশু যৌনলাঞ্ছিত হয় তবে তার নাম ও পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না-
খোমেনী ইসলামের লেখাটি এই আইনের স্পষ্ট বরখেলাপ এবং সেটি রাজনৈতিক নোংরামির উদাহরণ। এরপরও কেনো একজন খোমেনী ইসলামের বিরুদ্ধে ব্লগের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে না-
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মোদাচ্ছের চরিত্রহীণ ও যৌন হয়রানিকারী, হাসিনার কাছে তার শাস্তি দাবি করছি
Click This Link
এই লেখাটির অভিনবত্ব এবং বক্তব্য বিষয়ে কিছু না বলে পারা গেলো না,
প্রথমতঃ শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মোদাচ্ছেরের বিচার কেনো শেখ হাসিনাকে করতে হবে? শেখ হাসিনা কোনো আদালত, শেখ হাসিনা কোনো সম্রাজ্ঞী, যার মুখের কথায় আইনের কেতাব বদলে যায়?
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন আইন যথেষ্ট কঠোর এবং এই আইনের অপব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশী। তবে এই যৌনলাঞ্ছনা বিরোধী নীতিমালায় অনেক বিষয়াদি আছে যেসব পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত এমন বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে অপরাধ।
এমন কি কেউ যদি এমন মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে এবং যেটা যদি ব্যক্তিগত অবমাননা চিহ্নিত হয় তবে যেই অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি ভোগ করতে হবে অভিযোগকারি কিংবা অভিযোগকারিনীকে-
এরপরেও যদি অভিযুক্ত মনে করেন তার মানসম্মান হানী হয়েছে তবে তিনি আরও শাস্তির জন্য মামলা করতে পারেন।
আমি লাঞ্ছিত হয়েছি- এই বাক্যটিই সমাজের ভেতরে পৌরুষ এবং সামাজিক নারীর ভেতরে মিশ্র আবেগ তৈরি করবার জন্য যথেষ্ট।
কোনো নারী নির্যাতিত হয়েছে কিংবা যৌনলাঞ্ছিত হয়েছে এই সংবাদ পড়ে আমাদের সংবেদন আদতে কি মর্ষকামী হয়ে উঠে? আমরা নিজের পৌরুষ এবং নারীত্বের জায়গা থেকে বিষয়টাকে যাচাই করতে শুরু করি না কি আমাদের নৈতিকতা বোধ থেকে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করি?
পৌরুষ সম্পর্কিত ধারণা থেকে উদ্ভুত পুরুষ নারীর রক্ষক সুতরাং নারীকে রক্ষা করা এবং যৌন লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ রাখবার দায় বোধ করা পুরুষরাও মাঝে মাঝে শেয়াল হয়ে উঠে, যাদের কাছে মুর্গি বর্গা দেওয়া নিরাপদ বিবেচিত হতে পারে না।
নারী নিজস্ব অভিজ্ঞতা কিংবা ভীতি থেকেও যৌন নির্যাতিতের পক্ষে একটা অবস্থান গ্রহন করে, মূলত বিষয়টা চরম স্পর্শ্বকাতর একটা বিষয়- এই মূহূর্তে আমার অবস্থান কিংবা উপলব্ধি আমি যদি বলি তাতে উপমা আহমেদ, খোমেনি ইসলামের ভাষ্যমতে যে "লাঞ্ছিত" মেয়েটির খালা, সে লাঞ্ছিত বোধ করেছে, নম্রতা বিষয়টাকে কিভাবে গ্রহন করেছে এই বিষয়টা এখানে অনুপস্থিত- যৌন লাঞ্ছনা কিংবা যৌনতাড়নার জায়গা থেকে বিবেচনা করলেও তাৎক্ষণিক উপলব্ধির বিষয়টাও চলে আসে,
অনেক কিছুই ধরে নিতে হবে আলোচনার খাতিরে- মেনে নিতে হবে নম্রতা যৌন লাঞ্ছিত বোধ করেছে- ধরে নিতে হবে মোদাচ্ছের নিজের কামনা চরিতার্থ করবার জন্যই এই তথাকথিত মুখচুম্বন করেছে-
তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টা যেহেতু আবেগঘন , সুতরাং আমার অবস্থান এখানে বিতর্কিত হলেও আমার নিজের বক্তব্য এটা খোমেনী ইসলামের নিজস্ব ইতরামি, তার বক্তব্য- শেখ হাসিনাকে মোদাচ্ছেরের কর্মের দায়ভার নিতে হবে-
কেনো নিতে হবে এটাই আমার কাছে স্পষ্ট নয় আদতে- শেখ হাসিনা মোদাচ্ছেরকে এই কাজ করতে উৎসাহিত করেছে কিংবা কোনোভাবে অনুপ্রাণিত করেছে?
-
দ্বীতিয়ত: বিষয়টার অন্য দিকটা, এইখানে উপমা আহমেদ যে কাজটা করলো, সেটা কি বাংলাদেশের নারী নির্যাতন বিরোধী নীতিমালার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে- নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনের জন্য ২০০৩ সালে যেই নীতিমালা প্রণীত হয়েছে সেখানে স্পষ্ট বলা আছে নির্যাতিতের নাম কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না- আমার জানা মতে সামহোয়্যার ইন ব্লগ একটি উন্মুক্ত গণমাধ্যম-
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী কোনো লেখা এখানে রাখা হবে না, এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালার বরখেলাপ করা এই দুইটি লেখা এখনও কেনো মুছে ফেলা হয় নি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


