আমার প্রিয় পোস্ট

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

মানুষ শিকার-

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

আপাতত সন্দেহের তীর অনেক দিকেই ছোঁড়া যায়, রক্তের দাগ শুকিয়ে গিয়েছে হয়তো ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসে, হোটেল তাজ আর ওবেরয়ের বাহ্যিক কাঠামোতে লেগে থাকা আগুণের কালচে ছাপও সময়ের সাথে মুছে যাবে, নতুন করে, নতুন সাজে আবার সাজবে এইসব বাণিজ্যিক ভবন। মানুষকে গন্তব্যে যেতেই হয়, ঘরে ফেরা কিংবা ঘর ছাড়া যে কোনো কারণেই হোক মানুষ যাবে ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাসে।

পৃথিবীতে তেমন অদল বলদ ঘটবে না, নিজের নিয়মেই পৃথিবী চলবে, শুধু ৫০০ পরিবার স্মরণ করবে প্রতি নিয়ত মানুষের নৃশংসতার বিভীষিকা। এদের ভেতরে ২০০ জন তাদের অভিজ্ঞতা কখনই বলতে পারবে না, বাকি ৩০০ জন তাবত জীবতকাল বলে বেড়াবে তাদের মমর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা।

তবে সন্দেহের তীর এদিক ওদিক ছোঁড়া হতেই থাকবে, কেউ কাউকে একবিন্দু জমি ছাড়তে নারাজ, মতাদর্শ, অর্থনীতি, রোজকার হিসেব নিকেশ চুকিয়ে ফেলেছে মৃতরা, জীবিতরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ব্যস্ত।

মুম্বাই ৬০ ঘন্টা কার্যত অবরুদ্ধ ছিলো গোয়েন্দা সংস্থার হিসেবে মাত্র ১২ জন উন্মাদের হাতে, ১২ জন উন্মাদ একটা শহরকে ত্রস্ত করে রাখতে পারে, স্বাভাবিক জীবন যাপন প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে পারে, বিভীষিকার মতো ২টা দিন উপহার দিতে পারে একটা মেট্রোপলিটন শহরকে। ১২ জন মানুষের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা একটা জনপদ পুনরায় সস্তি ফিরে পেয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্য হলো এই ১২ জনের কোনো দাবি নেই, চাহিদা নেই, তারা হঠাৎ কোনো এক দিন সকালে উঠে উপলব্ধি করলো তাদের মানুষ শিকার করতে হবে, কোনো আদর্শিক যোগাযোগ থেকে নয়, বরং আচমকা তাদের মনে হলো ধরা যাক দুই একটা ইঁদুর এবার।


তারা জনাকীর্ণ একটি স্টেশনে বন্দুক তুলে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করলো, এরপর তারা ১০টি স্থানে গোলাগুলি করে অনেকগুলো মানুষকে হত্যা করবার পরে ৪টা ভবন দখল করে সেখানের মানুষগুলোকে জিম্মি করে রাখলো ৬০ ঘন্টা।

প্রাথমিক হিসেবে হামলাকারীর সংখ্যা ৪০ থেকে বেড়ে ১০০, ১০০ থেকে বেড়ে ২০০, এবং এরপর আচমকা শেয়ার বাজারের মতো গোত্তা খেয়ে ১২তে এসে স্তব্ধ হলো, এদের ভেতরে ১১ জন নিহত হয়েছে, জীবিত একজন পুলিশের হাতে আটক, সেই বলেছে অবশিষ্ট হামলাকারীদের নাম।

আপাতত নাগরিক সংবাদসংস্থাগুলো এই নিয়ে ব্যস্ত। ব্লগে এই পক্ষ- অন্য পক্ষ বিভাজন। হিন্দু জঙ্গীবাদী হামলা এটা নাকি এটা মুসলীম জঙ্গীবাদ এই নিয়ে বিতর্ক, প্রত্যেকেই অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে সিংহ শিকার করেছেন বলে দাবি করছেন।

ঘটনার অদ্যোপান্ত জানা যাবে না, বিশেষত যখন উপমহাদেশের পুলিশী জেরায় এমন কি হরিণও স্বীকার করে নেয় যে বাঘ মেরে খেয়ে ফেলেছে। সুতরাং আমাদের হাতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যার ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি হামলাকারীর ধর্মীয় পরিচয় কিংবা উদ্দেশ্য কি ছিলো, আমরা এমন কি এও বলতে পারবো না আদৌ যেই ১১ জনকে মারবার কৃতিত্ব দাবী করছে কমান্ডো দল তারা আদৌ সন্ত্রাসী কি না। এমন কি ধৃত একজন বাদ দিলে অন্য কেউ নিহত হয়েছে কি না এটাও আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব হবে না কোনো দিন।

তারা সংখ্যায় যে কয়জনই হোক না কেনো, তাদের ধর্মীর পরিচয় যাই হোক না কেনো, এটা কোনো উদ্দেশ্য পূরণের পন্থা হতে পারে না। সামরিক বিশ্লেষকেরাও অনেক দিকে আঙ্গুল তুলছেন, মুসলিম নিষ্পেষণ, সংখ্যালঘু নিষ্পেষণ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি প্রতিবাদ, তবে যেহেতু এই খুনীগুলো কোনো দাবিদাওয়া না জানিয়েই নির্বিচারের খুন করা শুরু করেছে সুতরাং তাদের পরিচয় আমরা জানবো না, তাদের উদ্দেশ্য আমরা জানবো না।

আমাদের সীমাবদ্ধ তথ্যভান্ডারে হয়তো কখনই পৌঁছাবে না এর বিশদ সংবাদ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা তত্ত্বের বেড়াজালে এই তদন্তের সব সংবাদ হাপিশ হয়ে যাবে।

মানুষের নৃশংসতা আমাকে আশ্চর্য করে। কোনো কারণ ছাড়াই, কোনো বিশাল মাপের অর্জনের লোভ ছাড়াই মাত্র ১২ জন নেশাসক্ত মানুষ একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই মানুষ খুন করতে শহরের রাস্তায় নেমে পড়লো বন্দুক হাতে, আর এই হামলা করবার প্রস্তুতি তারা নিয়েছে অনেক আগে থেকেই, নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে করা এই হামলা আদতে আমাদের নিজেদের মানবীয় মানসিক বিকারের বাইরে আর কি প্রকাশ করলো?


ফুট নোট:

আমার নিজের সন্দেহ, অনেক জঙ্গী কিংবা উন্মাদ এই হামলা চালানোর পরে নির্বিঘ্নে সটকে পড়েছে, তাদের আটক করা সম্ভব হবে না।
আমার নিজের সন্দেহ এটা কোনো উটকো জঙ্গী দলের কাজ নয়, বরং প্রশিক্ষিত সেনাসদস্যদের কাজ,

আমার সন্দেহ এই উন্মাদ মানুষগুলো অনেক দিন ধরেই বসবাস করছে তাজ এ নিয়মিত অতিথি হিসেবেই, তাদের অর্থের কমতি ছিলো না, এমন কি সেই দিন উপস্থিত অতিথীদের তালিকায় এদের নাম থাকবে।

আমার বিশ্বাস নিহত ২০০ মানুষ কখনই জীবিত হবে না, মৃত মানুষের জীবিত হওয়ার অলৌকিক ঘটনাগুলোর সমাপ্তি হয়েছে যীশুর মৃত্যুর সাথেই ।

 

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ১৩৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: আমার নিজের সন্দেহ, অনেক জঙ্গী কিংবা উন্মাদ এই হামলা চালানোর পরে নির্বিঘ্নে সটকে পড়েছে, তাদের আটক করা সম্ভব হবে না।
২. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
comment by: ম্যাকলাভিং বলেছেন:

এই মন্তব্যটি মুছে ফেলা হয়েছে, মন্তব্য করার সময় ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলীর দিকে খেয়াল রাখুন । শর্তাবলী

৩. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
comment by: মনির হাসান বলেছেন: ... মৃতের সংখ্যাটা ... সবাই সবার নিজের ব্যালান্স শিটে বসিয়ে হিসেব করছে ... এরকম পাইকারী .. স্রেফ ব্যাপারীদের জন্মজন্মান্ত পূণ্যের ফল । বছরান্তে কয়জনের ভাগ্যে এরকম ব্যবসা হয় ভেবে দেখেছেন ?

অতএব তারা যা গিলাবে ... গিলে যান ... আর কুরকুরি কিনে এমটিভি দেখুন ... দেখুন স্পিটসভিলায় কি করে দুটি আবাল'কে জোড়া দেয়া যায় ... নইলে সেরা গাধাকে নির্বাচন করুন মোবাইলে মেসেজ দিয়ে ..

কি দরকার বাবা ... পুরান ৬০ ঘন্টার নাটকটি নিয়ে গবেষনা করার ।
৪. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: ছাগলাভিং,গালিগুলা তোমার লাইগাও। মোসাদের পশ্চাদ্দেশ চাইটা অন্যরে ফ্যানাটিক কওয়া তুমারে মানায় না।
৫. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৪
comment by: রাহা বলেছেন: "সবচেয়ে আশ্চর্য হলো এই ১২ জনের কোনো দাবি নেই, চাহিদা নেই, তারা হঠাৎ কোনো এক দিন সকালে উঠে উপলব্ধি করলো তাদের মানুষ শিকার করতে হবে, কোনো আদর্শিক যোগাযোগ থেকে নয়, বরং আচমকা তাদের মনে হলো ধরা যাক দুই একটা ইঁদুর এবার।"........ যেন ঠিক আমাদের জর্জ মিয়ার মতন জবানবন্দি হাজির... আশ্চর্য !!

কিন্তু কেন ??
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: কোনটা?

কোনো আদর্শ যদি এতটা জোড়ালো হয় যে সেটা প্রতিষ্ঠার জন্য নি্বিকার মৃত্যুও কাম্য- তবে সেই সহিংস আদর্শকে প্রতিহত করা প্রয়োজন। যেই আদর্শ মানুষ বুঝে না বরং মতাদর্শের অনুসারীকেই চুড়ান্ত বিবেচনায় নিজের লোক মনে করে সেইসব উন্মাদদের কাছ থেকে নিজেকে দুরে রাখাই ভালো।

এমনটা অনুমান করা হচ্ছে তারা বিশেষ কোনো দাবি দাওয়া পেশ করেছিলো, তবে প্রেস কিংবা গভর্মেন্ট, কেউই এই দাবির সপক্ষে কিছু বলে নি। বিষয়টা সত্য হতে পারে, যে তাদের কোনো দাবি দাওয়া নেই, তারা হঠাৎই একদিন সরিসৃপের মতো জলাভুমি থেকে একে৪৭ নিয়ে জনপদে উঠে এসে গোলাগুলি শুরু করলো, কিংবা এই কাজের জন্য তাদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিলো, যেমনটা ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে- কিন্তু এইসব কেনোর উত্তর আসলে নেই, একটা সাজানো নাটক হলে কেউ একজন প্রায় ২০০ মানুষের জীবনের বিনিময়ে একটা নাট্যাংশ তৈরি করেছে নিজের স্বার্থে।

৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
comment by: অরণ্যচারী বলেছেন: আপনার ফুটনোটগুলো চিন্তার খোরাক যোগায়। +
৭. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০৫
comment by: আহসান সািদক বলেছেন: জোস হইসে ওস্তাদ লেখাটা

 

 


অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১২৪৫৩৩