somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই-

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিয়াল ভাইয়ের জন্য উৎসর্গ করা হয় না কোনো লেখাই- মানুষটাকে আমি পছন্দ করি, তবে তার হঠকারিতাকে মাঝে মাঝে সমর্থন করতে পারি না।

কাপুরুষ লড়াইয়ের ময়দানে থাকে না, তারা কেঁচোর মতো মাটিটে মুখ লুকিয়ে বাঁচে, শক্তিশালী মানুষেরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে লড়াই করে, আর বীরের উঠে দাঁড়ায় অন্য সব মানুষদের জন্য। তাদের রক্ষার জন্যই বীরেরা লড়াই করে।
স্ট্রং ম্যান পিয়ালের জন্য-

---------------------------------------------------------------------------
যৌনতা সম্পর্কে অলিখিত একটা ট্যাবু আছে বাংলাদেশে। অদ্ভুত যৌনতার সংকট নিয়ে বসবাস করে বাংলাদেশের মানুষেরা, বিশেষত রক্ষণশীল বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত। অদ্ভুত সংকোচে ভাবে হয়তো সিঙ্গেল সেক্স এডুকেশন উঠতি বয়েসের ছেলে মেয়েদের জন্য ভালো- তাহলে ছেলে কিংবা মেয়ে বখে যাবে না। স্কুল কলেজের গন্ডী পার হলে অবশ্য বাংলাদেশে শুধুমাত্র জামায়াত পরিচালিত ইউনিভার্সিটি বাদ দিলে অন্য কোনো ইউনিভার্সিটিতে সিঙ্গেল সেক্স এডুকেশনের ব্যবস্থা নেই।

তাই এইসব অদ্ভুত এবং উদ্ভট মানসিক বিকার নিয়ে বেরে ওঠা ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে আসে। বাঙালী যৌনতার মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে একটা সিদ্ধান্তই গ্রহন করে, সহপাঠী মেয়েদের শরীরময় যোনী। মেয়েদের শরীরে স্পর্শ্ব লাগা মাত্রই যোনীছেদন হয়ে যায়, কিংবা সংগম সমাপ্ত হয়। ছেলেরা যেমন সংকোচে থাকে তেমন শরীরময় যোনীকল্পনা করে ঘুরে বেড়ানো মেয়ের সংখ্যাও কম নয়। এদের শরীরে স্পর্শ্ব করা মাত্রই এদের সতীচ্ছদ ছিন্ন হয়। অদ্ভুত এই স্পর্শ্ববিষয়ক জটিলতা।

অভিশপ্ত ইন্দ্রের শরীর জুড়ে সহস্র যোনী জন্মেছিলো। তবে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের যৌনতাবিষয়ক ট্যাবুরক কারণেই অধিকাংশ মধ্যবিত্ত রক্ষণশীলদের চেতনা ও শরীর জুড়ে সাপের মতো কিলবিল করছে যোনী। তাদের চেতনার আকাশেও ভগাঙ্গুকসমেত একটি যোনী ঝুলে থাকে। যোনীতেই সূর্যোদয়, যোনীতেই সূর্যাস্ত যায়।

প্রথম আলোর বিজ্ঞাপনের কল্যানেই নারীকে বিচ্ছিন্ন ও পরাশ্রয়ী চিহ্নিতকারী বাসের নির্ধারিত নারী আসনে নারীর অধিস্থানের অধিকার আদায় করা হচ্ছে। সংরক্ষিত নারী আসন এবং নারী অধিকার সংরক্ষণের নামে এই বিচ্ছিন্নতাকেও প্রথম আলো পরিবর্তনের আমেজে ঢেকেছে। নারীকে সমাজে সবার সমান আসন না দিয়ে কিছুটা আলাদা করে পুরুষের স্পর্শ্ব থেকে বাঁচিয়ে রাখবার সুশীলিয় উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হওয়ার পরে হয়তো বাসের অন্যান্য সীটেও নারীদের বসবার অধিকার অর্জিত হবে। কালো মানুষেরাও অনেক দিন বাসের পেছনের সংরক্ষিত আসনে বসে যাতায়ত করতো। নারীরা কালোদের তুলনায় এগিয়ে আছে। তারা বসে ড্রাইভারের পাশের ৫টি আসনে।

হয়তো এভাবেই একদিন চেতনার অদৃশ্য ইরেজারে মেয়েদের শরীরের অদৃশ্য যোনীগুলো মুছে যাবে, সেই দিনের প্রত্যাশাই করতে হবে আমাদের। বর্তমানের সংলাপে এসেছে পিয়ালের একটি আহ্বান, যৌবনজ্বালা ফোরাম থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি যৌবন জ্বালা ফোরাম থেকে এসেছে এটাতে অনেকেই শংকিত , যৌবনজ্বালা ফোরামের একটা অংশ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। সেখানে দেশি-বিদেশী মেয়েদের ন্যাংটা ছবি দেখা যায়, চটি পাওয়া যায়, নিজদের সঙ্গমদৃশ্য ধারণ করে এমন মানুষও এখানে আসে, তারাও কিছু ভিডিও আপলোড করে, অন্যরা ধার করা ভিডিও আপলোড করে এখানে। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের যৌনতার প্রতি স্বাভাবিক একটা চাহিদা থাকাটা অসুস্থ কোনো আচরণ নয়, বরং সুস্থ স্বাভাবিক একটা মানুষের যৌন তাড়না না থাকাটাই অস্বাভাবিক।

যৌবনজ্বালার প্রাপ্ত বয়স্ক কনটেন্টের জন্য এত বেশী স্পর্শ্বকাতর হয়ে উঠবার কারণ আমি খুঁজে পাই না। প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে বাল পেকে তামার তার হয়ে গেলেও অনেকে প্রাপ্ত মনস্ক হয়ে উঠে না। এইসব না বেড়ে উঠা মানুষদের কাছে যোনী অতল গহ্বর, সেখানে সাপ বিচ্ছু রয়েছে। যেনার ভয়ে কাতর মানুষেরা অন্ধকারে গোলাম রসুলের তরিকায় সঙ্গম করে না কি আল্লা রসুলের পন্থায় সঙ্গম করে সেটা জানা যাবে না কোনো দিন।

কয়েক দিন আগে এক হাদিসে পড়লাম, বৌ থাকার সুবিধা, তুমি যদি পরনারী দেখে কামার্ত হয়ে যাও তবে নিজের বৌয়ের কাছে গিয়ে তোমার কামতাড়না চরিতার্থ করো। মুহাম্মদের জবানিতে এই আহ্বান আমার আপত্তিকর মনে হয়। অন্য কোনো মানুষকে দেখে যৌনতাড়িত বোধ করা কিংবা কামার্ত হয়ে যাওয়াটা ঠিক যেনার সমতুল্য হয়ে উঠতে পারে না এই বিবেচনায়।

সামহোয়্যার ইনের নিয়মিত পাঠক ৩৫০০ এমনটাই দেখলাম তাদের ব্যানারে- যৌবনজ্বালার নিয়মিত পাঠক অন্তত ৫ হাজার। সামহোয়্যারের এই ৩৫০০ পাঠকের ভেতরে সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠা পাঠকের সংখ্যা হয়তো ২০০০। বাকি ১৫০০ রাজাকারমনস্কদের ছানাপোনা।

যদি যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের দাবিতে ৫০০০ মানুষকে সামিল করা যায়, তবে সমস্যা কোথায়। ইউজার বেস বিবেচনা করলে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করার উৎকৃষ্ট অবস্থান যৌবনজ্বালা। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশী যে ফোরামে মানুষ যায় সেটা যৌবনজ্বালা। এটা নিয়ে স্পর্শ্বকাতর হয়ে উঠবার কিছু নেই।

তবে এখানে যেভাবে বিকারগ্রস্থ মানুষেরা পোষ্টের পরে পোষ্ট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ কলুষিত হয়ে গেলো দাবি করছে, তাদের চেতনার ভেতরে অন্ধকার একটা যোনী রয়েছে, সেই যোনীর সংকীর্ণ কিনার দিয়ে হাটতে গিয়ে তারা পিছলে পড়েছে ভেতরে। এখন হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে।

তারা সেখানে খাবি খাক, আমরা বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আনা পিটিশনে সাক্ষর করি। যেকোনো এক জায়গা থেকেই শুরু করা যেতো, প্রথম আলোর ওয়েব সাইটেও এটা করবার সাহস দেখাতে পারতো পরিবর্তনকামী প্রথম আলো কর্পোরেট সংস্থা। তারা সেটা করবার সাহস দেখায় নি, কিন্তু যৌবনজ্বালার এডমিন সেটা করবার সাহস দেখিয়েছে। সেখান থেকেই শুরু হোক, হয়তো তাদের অনুকরণ করেই একদিন স্বাধীনতার সপক্ষের বলে দাবি করা পত্রিকাগুলোও নিজেদের সাইটে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অন লাইন পিটিশনে সাক্ষরের ব্যবস্থা করবে।

অবশ্যই বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।
১৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×