somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম--

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একেবারে বাঘে সিংঘে লড়াই হইলো কি বলেন সোহেল ভাই?
কিসের কথা বলিস? ইলেকশন?
আরে না অস্ট্রেলিয়া- সাউথ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচের কথা বলি।
ঐটা আর এমন কি বল। অস্ট্রেলিয়া এখন একটু বেকায়দায় আছে।

আরে ভাই অস্ট্রেলিয়ার যা অবস্থা, একদিন সব টিম অস্ট্রেলিয়াকে বলে কয়ে হারাবে। এই ২০১১ সালের ওয়ার্ল্ড কাপেই দেখবেন বাংলাদেশের কাছে গু হারা হারবে অস্ট্রেলিয়া।

ফালতু দেশপ্রেম ভালো না। উজবুকের মতো কথা বলবি না। তুই কি জানিস অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে?
আরে ভাই জানাজানির কি আছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক কালে সেইরকম দল ছিলো। যেই দেশে যাইতো হোয়াইট ওয়াশ করে আসতো। সেই টিমের এখন কি অবস্থা দেখছেন। লারা একা চেষ্টা করেও রেকর্ড ফেকর্ড করেও হার এড়াইতে পারে না। বুঝলেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার দিন।

অস্ট্রেলিয়ার দিনও শেষ হয়ে আসছে। এরপর শুধু নীচের দিকে যাওয়ার পালা। সবার কাছে হারবে বুঝলেন।

মারুফের দিকে তাকিয়ে সোহেল ভাই যে হাসিটা হাসলেন এমন হাসি সম্ভবত মোহাম্মদ হেসেছিলো তায়েফবাসীদের দেখে। হে অবিশ্বাসী নির্বোধেরা তোমাদের কোনো ধারণাই নেই, তোমরা কি বলছো।

ব্যটা তায়েফবাসী তোকে বললে তুই কি বুঝবি? শুন তাহলে একটা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনের একজন পেশাদার ক্রিকেটার। মানে ওরা ক্রিকেট খেলে জীবনধারণের জন্য। বুঝলি বিষয়টা?

আমি এইপাশ ঐপাশ মাথা নাড়ি।
সোহেল ভাই শার্টের হাতা একটু গুটিয়ে শুরু করেন।
ঐ দেশের জনসংখ্যা কত? এই ধর ৫ কোটি হবে। সেই দেশে পেশাদার ক্রিকেটার আছে ৫ লাখের উপরে, ঐটা আগামী ১০ বছরে ১২ লাখে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে এসিবির।

এসিবি মানে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। মানে কি হইলো?
মানে ক্রিকেট শুধু একটা বিনোদন না অস্ট্রেলিয়ায় সেইটা ওদের জীবিকা। আর এই ক্রিকেটারদের ভেতরে সবচেয়ে বেশী উপার্জন কাদের জানিস? যারা জাতীয় দলে খেলে। বুঝে দেখ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে খেলবার জন্য কি পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়।
এই দলকে বাংলাদেশে হেসে খেলে হারাবে। তোদের এইসব কথা শুনলেই হাসি লাগে।

নান্টু বললো সোহেল ভাই ক্রিকেটারের সংখ্যা দিয়ে কি সব বিচার হয়। এই ধরেন শ্রীলঙ্কা, ঐ দেশে পেশাদার ক্রিকেটার কতজন? হাতে গোনা ৫০০ জনের বেশী হবে না। কিন্তু সেই দেশও তো ভালো করতেছে। করতেছে কি না বলেন?

তোদের খালি উল্টাপাল্টা তর্ক, ব্যাটা শ্রীলঙ্কার মানুষদের নিয়া কথা বলবার আগে বুইঝা শুইনা বলবি, বুঝলি, ঐদেশে গৃহযুদ্ধ চলতেছে ধর ৩০ বছর, কিন্তু ঐ দেশের বাকী সব কাজকি বন্ধ আছে। এশিয়ার ভেতরে সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত মানুষ থাকে শ্রীলঙ্কায়। কুমার সাঙ্গাকারা ক্রিকেট কিটের সাথে দর্শণের বই নিয়ে ঘুরে। আর আমাদের দেশের ক্রিকেটার ক্রিকেট কিটে ভরে নিয়ে আসে মদের বোতল।

ওদের ডিভোশন আর ডেডিকেশন যদি বাংলাদেশের থাকতো তাহলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সেরা ৪ টিমের একটা হয়ে যাইতো।

ওরা যে খেলে সেইটাই নিয়ে থাকে, ঐটাই ওদের কাছে গুরুত্বপূ্র্ণ কাজ, কিন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দেখলে এই বিষয়টা বুঝতে পারবি না। একটা জাতীয় দলের খেলোয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচে ০ রানে আউট হলেও দেখবি গ্যালারী ফিরে ফিচ ফিচ করে হাসতেছে। বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখবি না ওদের ভিতরে।

নাঈম এই সময়ে নাক গলালো কথার ভিতরে, বুঝলেন ভাই অস্ট্রেলিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভালো, ওদের ৫ পর্যায়ের লীগ আছে, কিন্তু ওদের ন্যাচারাল ট্যালেন্ট নাই। ট্রেইন্ড সোলজার আর সহজাত প্রতিভার লড়াইয়ে ট্রেইন্ড সোলজাররা পিছিয়ে থাকে। বই পড়ে কি আর প্রতিভা তৈরি হয়।

আরে রাখ তুই। প্রতিভার কি দেখলি, এই দেশে মানুষ খেলাটাই বুঝে না। দেখ একটা ব্যাটসম্যান ধৈর্য্য ধরে খেলতেছে, একপাশের উইকেট আগলায় রাখছে, অন্য দিকের মানুষ এই জন্য পিটায়া খেলতে পারতেছে, তুই এই খেলোয়ারের কোনো সুনাম শুনবি না, শুনবি এই ব্যাটা ম্যান্দামারা পাব্লিক একটু ব্যট লাড়াচাড়া ব্যাটা, দেইখ্যা মনে হইতাছে এক্কেরে জইম্যা গেছোস বাপধন, একটু নইড়া লাড়াচাড়া দে,

নাইলে দেখবি কেউ একজন আইসা বলবে, ঐ ব্যাটা একটু পা নাড়া, নাইলে শেকড় গজায়া যাইবো।

নাইলে দেখবি কইবো, শালা মাঝে মাঝে একটু দৌড় দে নাইলে ল্যাম্প পোষ্ট মনে হরে কাউয়া হাগবো গায়ের উপরে।
কিন্তু সুনাম শুনবি ঐ ছেলের যে এইসব কিছুই বুঝে না, গিয়া ধুমধাম কয়েকটা ৪ মারলে ঐ হিরো, এই সস্তা বিনোদনের কারণে সব খেলোয়ারই মাইরা খেলতে চায়, বয়েস কম, চোখ ভালো, আন্দাজে মারলেও লাইগ্যা যায়, ওদের ভিতরে প্রতিভা নাই, মনে রাখবি প্রতিভার ১ পার্সেন্ট প্রাকৃতিক বাকি ৯৯ পার্সেন্ট হচ্ছে পরিশ্রম।

তোরা ব্যাটা খেলাটাই বুঝিস না, তোগো সাথে কথা কইয়া পোষায়?

শুন বাংলাদেশে দেখবি প্রতিভা অন্বেষণ চলতেছে দিন রাত।
রিকশাওয়ালা ট্যাক্সি ড্রাইভার, কাজের বুয়া, বাসের হেলপার কেমন গান গাইতে পারে, ছোটো বাচ্চারা কেমন নাচতে পারে, কে কয়টা হিন্দি গান মুখস্ত করতে পারে, এই নিয়ে প্রতিভা যাচাই চলতেছে। সব ক্ষুদে প্রতিভারা টেলিভিশনের সামনে কোমড় নাচাইতাছে। বড় প্রতিভারা পার্সোনা বিউটিফিকেশন একাডেমীর গিনিপিগ। ওগোর মাথার চুলে রং করায়, ওগোরে উদ্ভট পোশাক পড়ায়, এক একটা বান্দরের বাচ্চা হইয়া বাহির হয় পার্সোনা থেইকা। এই হইলো বাংলাদেশের প্রতিভার অবস্থা।

যা কিছু প্রতিভা ছিলো সব বান্দরামির কারণে নাই হইয়া গেছে।

যাউকগা এইসব নিয়া তোগো লগে কথা কইয়া লাভ নাই, তোরা বইসা বইসা স্বপ্ন দেখ বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ারে গু হারা হারাইতাছে।

সোহেল ভাই উঠে যাওয়ার সময় মারুফ থামায়, আরে মিয়া রাগ কইরা কই যান?
তোগো উপর রাগ করুম ক্যান ক দেখি। গরু ছাগলের উপরে মানুষ রাগ করে কখনও দেখছোস এমন ঘটনা।

অপমানটা হজম করে মারুফ বললো তাহলে কই যান।

একটু গুলশানে যাবো, ঐ খানে একটা দোকানে রিয়েল থাই খাওয়া যায়।

রিয়েল থাই মানে কি, একটা থাই পাবলিককে ধরে কাটে কুটে রান্না করে খায়?

আরে না দোকানটা ভালো, থাইল্যান্ডের শেফ, ঐখানে মাঝে মাঝে যাই সুপ খাই। দেশ বিদেশের খাওয়ার স্বাদ নিতে হবে তো।

ইদানিং মনে হয় সোহেল ভাই দেশ বিদেশের কালচার নিয়ে চিন্তা করেন? না কি অন্য কোনো কেস আছে, আমরা ছোটো ভাই, বলে ফেলান।

আরে না আসলে যাই খাওয়ার টানেই। ও ঐখানে একটা সুন্দরী মেয়ে আছে ক্যাস কাউন্টারে বসে, ঐ দিন আমাকে অনেকগুলা জিলাপী পাঠাইছে বুঝলি।

কি মানে কিছু বুঝলাম না,

আরে সোহেল ভাই আপনার তো তীর জায়গামতো লাগছে, কি বলছে বুঝেন নাই।
ভাই যান যান, আপনেরই দিন এখন।
আরে ব্যাটা কি হইছে বল?
ঐ মাইয়া তো আপনার প্রেমের হাবুডুবু অবস্থা বুঝলেন না।
ক্যামনে বুঝলি?
আরে আপনারে আই লাভ ইয়ু বললো এইটাও বুঝেন নাই?

ধুরো ব্যাটা কি বলিস,

সোহেল একটু লজ্জিত ভাবে তাকান।
ঐ যে জিলাপি পাঠাইলো, ঐটাতেই তো লিখছে আই লাভ ইয়ু।

কি বলিস ব্যাটা।

মিয়া আপনে শুধু পইড়াই গেলেন সারা জীবন, কিচ্ছু বুঝলেন না। ঐগুলা আসলে জিলাপী না, ঐগুলা থাইল্যান্ডের এক একটা অক্ষর। ঐ অক্ষর দিয়া লিখছে আই লাভ ইয়ু।

কি যা তা বলিস তোরা?
আপনি থাইল্যান্ডের বর্ণমালা দেখছেন? ঈমানে কন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×