somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচন -

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুরের পরে দেখা গেলো সোহেল ভাইকে, আমরা অবশ্য সকাল থেকেই এখানে বসে। বছর শেষ হয়ে আসলো, কিছু একটা করা প্রয়োজন, কিন্তু গত কয়েক বছরে ঢাকার বর্ষবরণ মানেই গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি, আতশবাজি নিষিদ্ধ, বাইরে রাত ১২টার হল্লা করা নিষেধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জলকামান আর শটগান নিয়ে পুলিশ টহল, এইসবের ভেতরে রাতে বাইরে যাওয়া মানেই বাসার লোকজনের কাছে বখে যাওয়া হিসেবে পরিচিত হওয়া।

মামা আর এক কাপ চা দিয়েন আমাদের।
এবার বিল দেওয়ার কথা নান্নুর, তবে সবাই পালা করে একবার চায়ের দাম দিবে, তাই কেউ তেমন ফাজলামি করছে না এখনও। আড্ডা গড়াচ্ছে, একটু পরেই সবাই হয়তো বাসায় চলে যাবে দুপুরের খাওয়ার খেতে, হিসাব মতো এটাই শেষ রাউন্ড হওয়ার কথা ছিলো চায়ের, কিন্তু সোহেল ভাইয়ের ঘুমন্ত হেঁটে আসবার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত আড্ডা চলবে, নান্নুর পকেট আজকে মনে হয় বেঁচে গেলো।


কি ভাই স্বপ্ন দেখতেছেন না কি এখন?

কি কইতে চাস খোলাসা কইরা ক?
না আপনেরে দেখলাম ঘুমের ভিতরে হাঁটতেছেন, আবার হাসতেছেন অল্প অল্প, তাই জিগাইলাম আর কি।
হ মামাবাড়ীতে কাজ ছিলো, সারা রাত ঐখানেই ছিলাম।

আমরা গা ঝাড়া দিয়ে বসলাম, সোহেল ভাইয়ের মা একমাত্র কন্যা তার বাবা মায়ের, সেই সোহেল ভাইয়ের মামাবাড়ীর গল্পটার পর্দা না খোলা পর্যন্ত এই রহস্যের সুরাহা হবে না।

মারুফ অবশ্য আগ্রহ চেপে রাখতে পারে না, সোহেল ভাই আপনার মামার জন্ম হইলো কবে? কোনো খবর পাইলাম না মিয়া, একটু মিস্টি খাওয়াইবেন না।

আরে এইবার ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার হইছিলাম, নির্বাচন কমিশনের কাজ বুঝলি না। ঐটাতো সবারই মামাবাড়ী, পেপার টেপার তো পড়বি না জিন্দেগীতে।

হাইকোর্ট ব্যালট ছাপানোর পরে কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচনে বৈধতা দিলো, সব মিলায়া ৬০ লাখ ছাপানো ব্যলট পেপার নষ্ট করতে হইলো। গৌরি সেনের টাকায় ছাপা হইছে ব্যালট, মামা বাড়ী না হইলে এইরকম কিছু ঘটে?

আবার ধর খালেদা জিয়া কইলো নির্বাচন কমিশনকে, জরুরী অবস্থা না উঠাইলে আমরা নির্বাচনে যাবো না। বুইঝা দেখ, জরুরী অবস্থা কি নির্বাচন কমিশন জারী করছিলো? ব্যকতেরই মামাবাড়ী নির্বাচন কমিশন, তাই যখন যা মন চায় আব্দার নিয়া হাজির হয় সেইখানে।

এইবার অল্প খোলাসা হইলো বিষয়টা, কিন্তু তারপরও সারা রাত জাগবার রহস্য পরিস্কার হইলো না, ঢাকা শহরের সব কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা হইছে তাও মাঝ রাতের আগেই, কিন্তু সোহেল ভাই সারারাত সেইখানে থাকবার হেতু কি?

ঢাকা শহরের অবস্থা দেখছিস আজকে?
নান্নু অনেকক্ষণ পরে মুখ খুললো।

নির্বাচনের পরের দিন কি সরকারী ছুটির দিন না কি? আসলে বৃহঃস্পতি বার ভোট হওয়ার দরকার ছিলো, তাহলে মানুষ সারা রাত ফলাফল ঘোষণা দেখে শুক্রবার ঘুমিয়ে ঢাকা শহরে ফিরতে পারতো। কিন্তু এইবার ভোট হইলো ওয়ার্কিং ডে তে। অবশ্য এইটা ছাড়া উপায়ও ছিলো না। ঢাকা শহর এক রাতেই ফাকা হয়ে গেছে, যারা গ্রামের বাসায় গেছিলো ভোট দিতে তারাও এখনও আসে পৌঁছায় নি।

ফলাফল নিয়ে কিছু বলেন সোহেল ভাই।

সকালের পেপার পড়ছিস, সারা দেশে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট উৎসব পালিত হয়েছে। সবাই উৎফুল্ল ছিলো, ভোটের লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও তারা ভোট দিয়েই বাসায় ফিরেছে। অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রেই দুপুরের আগেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়ে ফিরেছে। এইটার কারণটা কি শুনবি?

আমরা সোহেল ভাইয়ের কথা শুনতে সব সময়ই আগ্রহী। সুতরাং আমরা চেহারায় আগ্রহের ভাবফুটিয়ে অপেক্ষা করি।

তোরা ছোটো মানুষ,একটা বড়দের গল্প বলি-

সুস্থ যৌন জীবনের সাথে আনন্দের সম্পর্ক নিয়ে স্টেজ মাতাচ্ছে এক বক্তা। সে আবেগ নিয়ে বলছে পৃথিবীতে ৩ ধরণের মানুষ আছে, এক দল মানুষ ,যারা নিয়মিত সঙ্গম করে, তাদের সব সময়ই হাসিখুশী দেখা যায়, এই যে সামনের সারিতে বসে থাকা ঐ দুইজন ব্যক্তি, আমি বাজী ধরে বলতে পারি ওরা এই সপ্তাহেও ৪ বারের বেশী সঙ্গম করেছে।

সুতরাং তাদের স্টেজে উঠানো হলো। খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো তারা আসলেই সেই সপ্তাহে ৪ বার সঙ্গম করেছে। সুতরাং সমস্ত দর্শকই নড়েচড়ে বসলো।

আর একদল মানুষ আছে যারা সপ্তাহে এক দিন কিংবা দুই দিন সঙ্গম করে, তাদের সারা সপ্তাহ মনমরা দেখা গেলেও তাদের উৎফুল্ল দেখা যায় সপ্তাহের শেষ দিনে, তাদের মেজাজ খিটখিটে না কিন্তু তারা খুব বেশী উচ্ছ্বসিতও নয়।

দর্শক আশা নিয়ে বললো তৃতীয় ধরণের মানুষ কি রকম?

এই দলের মানুষের ছয় মাসে কিংবা বছরে একবার সঙ্গম করে, এদের মেজাজ থাকে খুব চড়া, এরা কারণে অকারণে চিৎকার করে, আপনাদের ভেতরে এমন কেউ আছে, যারা ছয় মাসে একবার সঙ্গম করেন, লজ্জা করবেন না, হাত তুলুন

একজন দর্শক হাত তুললো। তাকে স্টেজে আনা হলো ডেকে।

তার চওড়া হাসি, বিগলিত ভাব দেখে দর্শকও চিন্তিত।

বক্তা কিছুক্ষণ নিরব থেকে বললেন, আপনার ভাবের সাথে কিন্তু যাচ্ছে না আপনার স্বীকারোক্তি।
দর্শক আরও উল্লসিত হয়ে বললো, আজই সেই দিন, আজই সেই দিন।

তো বুঝলি বিষয়টা হইলো, দেশের মানুষ ৫ বছর পর একবার সুযোগ পায় , এইবার সেই সুযোগ আসেছে ৭ বছর পরে।

দেশের জঙ্গীবাদ আর ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে গিয়ে জনগণ গতকাল এক্কেরে বিএনপির পোঁদ মেরেছে।

সেই আনন্দেই আসলে কাজ শেষ হওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশন থেকে বাসায় ফিরে আসি নি, একেবারে ভোর হওয়ার পরে বাসায় এসেছি।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:০১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×