বিষয়গুলো বুঝে উঠবার আগেই অনেক কিছু ঘটে যায়, সম্ভবত চলমান সময়ে জীবনযাপন করা এবং সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকবার তাড়না কারো নেই, তবুও বিজ্ঞাপনে সার্বক্ষণিক সংযুক্তির আহ্বান।
এই সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকবার প্রথম ধাপ মনে হয় নিজের মোবাইল নাম্বার কাউকে দিয়ে দেওয়া। যাকে নিজের বাসার নাম্বার দেওয়া হয়, তাকে অন্তত এইটুকু বলে দেওয়া হয়, তুমি আমাকে অন্তত সাধারণ বিবেচনায় ঘুমের সময়ের পরে খুব বেশী প্রয়োজন না হলে ফোন করবে না। সেই ঘুমানরো স্বাভাবিক সময়টা বাংলাদেশে রাত ১০টা। অর্থ্যাৎ পরিচিত যাদের কাছে বাসার ফোন নাম্বার থাকে, তাদের এইটুকু শোভন ভাবে বলা যায়, তুমি রাত ১০টার পর আমাকে ফোন করবে না।
তবে যাকে মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়, তার ক্ষেত্রে বিষয়টা হলো, আমি তোমার কাছে ২৪ ঘন্টা হাজিরা দিতে রাজী। সুতরাং তুমি দিনে রাতে যেকোনো সময়েই আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারো। আমি তোমাকে সেই অধিকার দিলাম।
এই সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকবার প্রতিশ্রুতি মানুষ রাখতে পারে না। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী মিথ্যা সম্ভবত মোবাইল ফোনেই বলা হয়। এবং নিজস্ব আড়াল না থাকাও একটা সমস্যা।
আমি নিজের জীবনে বুঝলাম, কতগুলো বিষয় মানুষ নিজে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না , একটা ভঙ্গুর সম্পর্ক কোনোভাবেই নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। যত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেনো, যতি অনুরোধ করা হোক না কেনো, কোনো ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব নয়।
আর এইসব ভঙ্গুর সম্পর্কে আগুণ হয়ে আসে বন্ধুর সংযুক্ত থাকা।
আমি নিজের নির্জনতা পছন্দ করতাম, এখনও করি, তবে আমি নিশ্চিত ভাবে জানি, ঠাট্টার ছলে লে ফেলা কোনো কথা, কোনো হাস্যকর অভিযোগ, যেটাই হোক না কেনো, কোনো বন্ধুই এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে সেটার দায় নিবে না। যদিও সূচনা থেকে শুরু করে সমাপ্তি পর্যন্ত হয়তো কোনোটাই আমার নিয়ন্ত্রনে ছিলো না। আমার অপরাধ হয়তো ছিলো এমন কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ রাখা, যারা নিজের উৎসাহে এমন স তথ্য প্রদান করে, যার ফলাফল তাদের অজানা, কিংবা তারা যদি জেনেই এইসব তথ্য প্রদান করে তবে বলতে হবে তারা নিজেরা যা করেছে সেটা আমার ভেতর থেকে বাহির পর্যন্ত রক্তাক্ত করেছে।
আমি অনেক দিন ধরেই প্রশ্ন করছিলাম নিজেকে, সেই বন্ধুরা কারা। আজ দুপুরে যখন বুঝলাম সেই বন্ধুটা আদতে কে, আমি নিজে নিজের কাছে প্রশ্ন করছি- কেনো?
আমার জানা মতে আমি তার কোনো ক্ষতি করি না, তার প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করি নি, ব্যক্তিগত মনোমালিন্য হয়তো ছিলো, সেসব আদর্শিক দ্বন্দ্বের বাইরে আমি তার গোপনীয়তা বজায় রেখেছি, বন্ধুর সাথে বন্ধুর যোগাযোগের জায়গা থেকে বলছি, পিঠে ছুড়ি মেরে সেটা তড়িয়ে তড়িয়ে উপভোগ করেছে সে এমন অভিযোগ আমি এই মুহূর্তে করতে পারছি না। তবে আমার ব্যক্তিগত জীবনের যেকোনো তথ্যই আদতে আমাকে না জানিয়ে কোথাও প্রদান করা, সেই মানুষের কাছে ,যার সাথে আমার যোগাযোগের জায়গা আমি নির্ধারণ করি। সেটা করা উচিত কি অনুভিত সেটা নিয়ে আমার নিজের একটা সংশয় আছে।
তবে এই উপলব্ধি একটা সম্পর্ক ভেঙে অর্জন করতে হলো এটাই কষ্টের। একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর জানলাম আদতে এইসব আপাত নির্দোষ তবে রসালো তথ্যগুলো, যেসবের সাথে আমি সরাসরি সম্পর্কিত ছিলাম না, এমন কিছু মানুষের নাম, যাদের সাথে আমার হয়তো পরবর্তীতে কোনোদিনই দেখা হয় নি কিংবা হওয়ার সম্ভবনা নেই, তাদের সাথে আমার সামান্য সময়ের সহাস্য আলাপন, সব কিছুই হয়তো রসিকতা করে বলে ফেলা যায়,
তবে কোনো কোনো ছুড়ির বিষ যখন পরিচিত বন্ধুই সরবরাহ করে তখন আমি বন্ধুর বিশ্বস্ততা নিয়ে চিন্তিত হই না, বরং নিশ্চিত হই আদতে সে আমার কিংবা আমার সাথে যে সম্পর্কিত কারোৈ ভালো বন্ধু নয়।
আমি সেই বন্ধুর সাথে যোগাযোগ রাখবো না, তার সাথে আমার খুব বেশী যোগাযোগও নেই আদতে, এরপরও এই সীমিত যোগাযোগে সে যতটুকু রক্তাক্ত করে গেলো হয়তো অনেকই সেটা পারে নি।
আমি সার্বক্ষণিক সংযুক্তির কথা বলছিলাম। আপাতত এই সার্বক্ষণিক সংযুক্তির বদৌলতেই আদতে বন্ধুর সাথে সীমিত যোগাযোগ এবং এই যোগাযোগের দায়বদ্ধতাহীনতার জায়গাটাও প্রকট। ব্যক্তিগত আলাপ, কথা , এবং চ্যাট কোনোটাই আসলে তেমন বিশ্বস্ত কোনো যোগাযোগ মাধ্যম হতে পারে না। একটা সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরে মনে হচ্ছে অন্তত ডকুমেন্টেড না থাকলে বলা মুশকিল কার কতটুকু প্রাপ্য ছিলো, কোনো তথ্য যাচাই না করে আমার মনে হলো, জনরব আছে যে জাতিয় আবলামি হয়তো হয়েছে।
আমি নিজের মোবাইল বন্ধ করছি আজ থেকে। আমার সাথে সীমিত কিছু মানুষের যোগাযোগ আছে, তাদের অনুরোধ করেছি যেনো আমার সাথে তাদের যোগাযোগ হয় ই মেইল। সেটা আমার নিজের কাছে পরিস্কার থাকবে। আমি অন্তত নিজে জানবো আমি কি প্রসঙ্গে কি বলেছিলাম, আমার কতটুকু দায় ছিলো।
মনটা ভীষণ রকম খারাপ হলেও আদতে এইসব প্রসঙ্গে কিছুই বলা সম্ভব না।
বন্ধুকে শুধু বলতে পারি নেহায়েত ঠাট্টার ছলে বিন্দুমাত্র বিবেচনা না করে যা করেছো তুমি, সেটার জন্য তোমার প্রতি আমার ক্ষোভ নেই। ভুল মানুষই করে। তবে কিছু কিছু ভুল চাইলেও সংশোধন করা যায় না। পরবর্তীতে যখন অন্য কোনো বন্ধুর সাথে এমন একটা জায়গায় পৌঁছাবে এইটুকু মনে রেখো। তোমার নিজের উৎসাহ উদ্দীপনা এবং উপভোগের জায়গাগুলোর অনেকগুলো মানুষকে রক্তাক্ত করে। এইটুকু বিবেচনা রেখো পরবর্তীতে।
আর আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমি তোমার সাথে কোনো পার্থিব যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী নই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


