somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছুই না

২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনাজপুর সরকারী কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ান্তর ছিলো না আদতে, দিনাজপুর শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে একটা কলেজ, কলেজের পাশেই বিশ্বরোড। বিশাল মাপের ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের একপাশে সাঁওতালদের বসতি, পেছনে শাল বন, তার পাশে সাঁওতালদের চার্চ, একটু সামনে গেলেই সদর উপজেলা, তার সামনে চেহেলগাজী মাজার, সেখানেই বটতলী।
কলেজের ৩টা গেট, আর একটা পকেট গেট। পেছন দিকে কোনো দেয়াল নেই, একটা সায়েন্স বিল্ডিংয়ে যাওয়ার গেট, অন্যটা মেইন গেট, তার পাশের গেট হোস্টেল গেট। হোস্টেল গেটের পাশেই অডিটোরিয়াম, অডিটোরিয়ামের পাশেই পোষ্ট অফিস, পোষ্ট অফিসের পাশে সাইকেল স্ট্যান্ড, তার পাশে ছোটো একটা মাঠ, শিমুল গাছ, এবং একটু আগালেই মুসলিম হোস্টেল। অবশ্য আমি যখন ভর্তি হলাম তখন আলাদা করে মনে হয় না মুসলিম হোস্টেল ছিলো।

প্রিন্সিপালের অফিস সায়েন্স বিল্ডিং গেট আর মেইন গেটের মাঝামাঝি। ৪ কামরার অফিসঘর, মাঝের ঘরে প্রিন্সিপাল, তার পাশে বেতন ঘর, এক পাশে অফিস স্টাফেরা বসে। তার সামনে মজা পুকুর, টিউব ওয়েল একটা, একটা পতাকার স্ট্যান্ড। সামনে বাঁধানো চত্ত্বর। পেছন দিকে কাঁঠাল গাছ, আর এই মাঝের মাঝখানে একই মাপের অনেকগুলো দেয়াল বানানো।
প্রথম দৃষ্টিতে কিছু বুঝবার উপায় নেই এখানে এসে, এসবের কাজ কি। প্রিন্সিপালের অফিসঘরের পেছন দিকে আর্টসবিল্ডিং, আর্টস বিল্ডিংয়ের পেছনে পুরানো লাইব্রেরী, তার পাশে নতুন লাইব্রেরী, আর ঠিক তার পাশেই নতুন একটা বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে।
সায়েন্স বিল্ডিংয়ের পেছন থেকে শুরু করে পেছনের পিটিআইয়ের রাস্তা সম্পূর্ণটাই কলেজের এলাকা। নতুন ভবনের পাশে পুকর, পেছনে শাল বন, শহরের প্রেমিক প্রেমিকাদের প্রেমের অভয়ারণ্য। আর পুকুর আর হিন্দু হোস্টেলের মাঝামাঝি জায়গাটা মাঠ।
এত কিছু দেখা হয়ে গেলো ভর্তির ফর্ম তুলতে এসে। আর্টস বিল্ডিংয়ের সামনে একটা সাদা এপিটাফের মতো বানানো, অজয় স্মরণে কিছু একটা। একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম, ঠিক আগের বছর নবীন বরণের সময় অজয় কর বলে একজন নিহত হয়েছে এখানে। নিরীহ একজন ছাত্র ছিলো, ছাত্রদলের হাতে বেচারা মারা যায়, এবং এইসব ক্ষেত্রে যা হয়, অজয় কর আদর্শিক ভাবে হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের নেতা হয়ে গেছে।

সাদা দেয়ালগুলো একেবারে নতুন বানানো হয়েছে , সেসবের মাজেজা বুঝলাম এরপর পরই, মূলত ব্যানার লেখা, পোষ্টার লাগানো এইসব নিয়ে জটিলতা থেকে যেনো দলীয় সংঘাত না বাঁধে তাই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। ৬টা এমন দেয়াল বানানো আছে, একটা ছাত্রদলের, একটা ছাত্রলীগের, একটা ছাত্রমুক্তি কিংবা ছাত্র ফ্রন্ট, ফ্রিডম পার্টির ছাত্র সংগঠনের দখলে, একটার দখলে আছে ছাত্র শিবির, একটা ছাত্র ইউনিয়ন, এবং অন্যটা সম্ভবত ছাত্র সমাজের দখলে। তবে প্রকাশ্য শিবির কর্মী ছিলো না তখন। মূলত কার্যকর রাজনৈতিক দল হলো ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, এর বাইরে মানিক ভাই আর অন্য একজন সম্ভবত ফ্রিডম পার্টির নেতা। তারা নিয়মিত কলেজ ক্যান্টিনে খাওয়ায় ছাত্রদের।
ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হওয়ার পর যথারীতি ক্লাশও শুরু হয়ে গেলো। আমি বরাবরের মতো ব্যাকবেঞ্চার, শেষের ঠিক আগের বেঞ্চে বসি, আমাদের ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৮৫ জন কিংবা তারও বেশী। রোল ভাগ করার নিয়মটাও অদ্ভুত- ১ থেকে ৫০ এক সেকশন, ৫১ থেকে ১০০ আরেক সেকশন, এইভাবে ৩০০ পর্যন্ত চলেছে, এরপরে প্রথম ২৫ জন এক সেকশনে আর বাকি সবাই পরের সেকশনে, কিংবা এমন কিছু হবে। ৩০০ রোলের পর থেকে সব কিছুই প্যাঁচ খাওয়া।

একটা সাধারণ হিসেব হলো ৪০ থেকে ৫০ সবাই স্কুল জীবনের বন্ধু, ঠিক একই ভাবে ১০২ থেকে ১৪৮ পর্যন্ত সবাই একই স্কুলে ছাত্র, এর ভেতরে বেমানান ভাবে আমি ১০১। বসি ১০২এর সাথে, ওর নাম নাসিম, ১৩৫ যে তার নাম অমিত, ১৪৮ রনি, প্রথম দিকের ঘটনা, তখনও আমি কলেজের কাউকে চিনি না। সুতরাং আমার নিত্যদিনের নিয়ম হলো, প্রতিদিন সকাল নয়টায় ক্লাশে ঢুকি, রুটিন মেনে, এরপর ক্লাশ থেকে বের হয় কলেজের বাইরের দোকানে গিয়ে সিগারেট ধরাই, সিগারেট টানতে টানতে না গ্রাম না শহর অঞ্চলে হাঁটি, অবশ্য এটার চেয়ে নিরাপদ কোনো পন্থা তখন ছিলো না। ছোটো শহরের সবাই কোনো না কোনো ভাবে আমাদের পরিবারকে চিনে। যেকোনো রাস্তায় সিগারেট ধরানো মানেই, সেই সংবাদ সিগারেট শেষ হওয়ার আগেই বাসায় পৌঁছে যাবে।

এমন অসহনীয় পরিস্তিতিতে নিয়মিত কলেজে যাই, কলেজ থেকে আসি, প্রাইভেট পড়বার জন্য যাদের সাথে পরিচয় হয়েছে, তাদের ভেতরে একমাত্র মানিক আমাদের সেকশনে। আর বাকি সবাই সেকশন বি। তবে ওরা সবাই একই স্কুলের সুতরাং সেখানে থেকে অল্প করে বন্ধুতা হয়। কায়দা করে সিগারেট ধরিয়ে বাঁকা হয়ে টানটা দেওয়ার পরপরই লিপন আসলো- ও তুমিই সেই ছেলে?
আমিও ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ, আমিই সেই ছেলে মানে কি?
তুমিই ঢাকা থেকে এসেছো?

অধম আমিই ঢাকাপ্রত্যাগত স্বীকার করে নিলাম।
তুমি ঢাকার কোনো কলেজে ভর্তি হলে না কেনো?

আমার অবশ্য তেমন পছন্দ করবার সুযোগ ছিলো না। নটরডেম কলেজে মার্কের জন্য পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাই নি, আর যে স্কুল এন্ড কলেজে পড়তাম, সেটা হঠাৎ করেই জেলখানা হয়ে গেলো। সুতরাং সেখানে পরে থাকবার কোনো আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। এইসব বলে বুঝানো সম্ভব না বলেই বললাম, না ইচ্ছা করেই চলে আসলাম।

একে একে সবার সাথে পরিচয় হলো, সুনাল, রোমেল, মাহমুদ, বিদ্যুৎ, জালাল, অপু, রনি, তপু, পলাশ, ফরিদ,
এদের অর্ধেক আবার নির্মাণ স্কুল খেলেছে, এবং একই সাথে জেলা লীগ খেলে, সেই সাথে জেলা দলেও খেলে। অর্ধেক ক্রিকেটার। লিপন লিপনের বড় ভাই জেলা দলে খেলে, খেলে তপু আর তপুর বড় ভাই, রোমেল সুনাল দুজনেই নির্মানের খেলোয়ার ছিলো, ওরাও চাচাতো ভাই, সুনাল রোমেলের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই আদতে ক্রিকেটার, রোমেলের বাবাও ক্রিকেটার ছিলো, চাচারাও ক্রিকেটার, বাইশ পরিবারের সদস্যদের নিয়েই চলছে ওদের এলাকার ক্লাব।

সুনালের বড় ভাই কুনাল দা সেও ক্রিকেটার, আমার স্কুল জীবনের নায়ক সোহাগ ভাই, সুমি ভাই এবং তাদের বন্ধু রাসেল ভাইও তখনও এই ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলছে। কুনাল দা তাদেরও বন্ধু মানুষ। এইসব ক্রিকেটারের ভীড় আমি সম্পূর্ণ অপেশাদার একজন বিড়িখোর।
এই পরিচয় থেকেই আরও সবার সাথে পরিচয় হলো, জীবনে সামান্য পরিবর্তন আসলো বলা যায়, এখন আর গ্রামের রাস্তার লুকিয়ে সিগারেট খাই না, বরং কলেজের মাঠে বেশ দাপটের সাথেই সিগারেট টানি, বন্ধুদের সাথে মিছিল করি, আমরা ছাত্র আমরা বল আমরা ছাত্র দল করি, আর ঠিক পাশ দিয়ে মিছিল নিয়ে যায় লিপন তপু, আমরা সবাই মুজিব সেনা,নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা।

মিছিলের মাঝেই হাত নাড়ি, হাসাহাসি করি, মিছিল শেষ হয় কাঁঠাল তলায়, সেখান থেকে একসাথে কলেজের বাইরের ক্যান্টিনে যাই, চা সিগারেট খাই। এই ভাবেই চলছে, কয়েক দিনের ভেতরেই অবশ্য আড্ডাটাই মুল উপলক্ষ্য হয়ে গেলো। কলেজে যাই আড্ডা দিতে। মাঝে মাঝে অবসর থাকলে কিংবা বন্ধুরা না থাকলে যাই ক্লাশে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র, পদার্থ রসায়ন আর গণিত নিতেই হয়, সেই সাথে বাংলা ইংরেজী আর জীব বিজ্ঞান। গণিতের ক্লাশ নেয় কয়েকজন স্যার। আমি তাদের সবাইকে চিনি না। একজনকে চিনলাম ভালো ভাবেই। সেদিন কোনো এক কারণে ঘোর বৃষ্টি, সকাল থেকেই বৃষ্টি, কলেজে কেউই নেই বলতে গেলে। আমার এক বন্ধু প্রেমে পড়েছে, তাকে সঙ্গি দিতে গিয়ে আমিও ক্লাশ রুমে। ক্লাশ রুমে আমি, আমার সেই বন্ধু, এবং সেই সাথে আরও ৪ জন হোস্টেলের ছেলে, আর বোধ হয় মানিক, মেয়েদের অংশে কনক, জুঁই, মৌসুমী, এর বেশী কেউ মনে হয় নেই। সব মিলিয়ে ক্লাশে ৮ থেকে ১০ জন। মোজাম্মেল স্যার, উচ্চতা টেনেটুনে ৫ফুট ৩ হবে, খুব পুরোনো একটা ৮০ সিসি মোটর সাইকেলে চেপে কলেজে আসেন, বয়েস তখন ৫০ এর উপরে, বললেন, আজকে আর পড়াবো না। তোমাদের কথা শুনি।

মেয়েদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম বলো?
বাবার নাম?
মায়ের নাম?
এবং অনেক দিন শিক্ষকতার কারণে তাদের অনেককেই তিনি চিনেন। বাবার পেশা বললেও চিনতে পারেন।
মেয়েদের পালা শেষ। ছেলেদের পালা শুরু হলো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি তাকে সহযোগিতা করবো না।
একটা সময় আমার পালাও আসলো।
তোমার নাম
রাসেল
বাসা কোথায়? বাহাদুর বাজার।
বাহাদুর বাজার থেকে এইখানে কি বাহাদুরি করতে আসছো। বুকের বোতাম খোলা কেনো?
নাহ স্যার। পড়তে আসছি।
বাআর নাম?
বাবার নাম দিয়ে কি করবেন?
তুমি তো খুব বেয়াদ্দপ ছেলে, বাবার নাম বলতে বলেছি বাবার নাম বলো/
পারবো না স্যার।
তুমি জানো আমি কে?
আপনি কে সেইটা দিয়া আমার কি? কলেজে পড়ি আমি, আমার নাম জানলেই আপনার চলে।
ছোটোখাটো মানুষটা হঠাৎ করেই চেয়ার ছেড়ে তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন, উঠে চলে আসলের লেকচার মঞ্চের সামনে, বেঞ্চের উপরে কোনোমতে পাছা ঠেকিয়ে কড়া চোখে আমার দিয়ে তাকিয়ে আছেন। চোখে আগুণ বলা যেতো। তবে আমার বিষয়টা উপভোগ্য লাগছে এই মুহূর্তে।
তুমি জানো আমি কে?
আমি একটিং প্রিন্সিপাল এই কলেজের।
তাহলে কলেজের রেকর্ড থেকে বের করে নেন, সেখানে দেওয়া আছে বাআর নাম।
তুই দুই দিনের ছেলে আমাকে জ্ঞান দিতে চাচ্ছিস।
আমি নিজের হাসি সামলাটে পারলাম না, হেসে ফেললাম। মোজাম্মেল স্যারের চোখ আরও ছোটো হয়ে গেছে। মুখটা টকটকে লাল। ক্লাশে আর কোনো শব্দ নেই, আমার প্রেমিক বন্ধু প্রেম ভুলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

তোমাকে আমি টিসি দিয়ে দিতে পারি, রেড টিসি দিয়ে দিবো বুঝলে ছোকরা।
বন্ধু কানুই দিয়ে গুঁতা মারছে। সম্ভবত ও এইরকম কিছু আশা করে নি। সুতরাং আমাকে নমনীয় হতে হয়।
বাবার নাম কি?
নাম বলবার পর অবধারিত প্রশ্ন কি করে?
পেশা বললাম। তার পর তার চেহারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। তুই ওর ছেলে, তুই জানিস আমি তোর বাপকে পড়াইছি। তুই ওর ছেলে হয়ে আমার সাথে এইরকম করিস?
আমি তখন উল্টা ফাঁপরে। অবশ্য এই বিতর্কে একটাই লাভ হলো, স্যারের ক্লাশ নেওয়ার আগ্রহ শেষ। জলদি ছুটি দিয়ে বাইরে চলে আসবার পরে আর কোনো কথা না বলে সোজা ক্যান্টিনে সিগারেট টানলাম।

এই ব্যাটার আর কোনো ক্লাশই করবো না সিদ্ধান্ত নিয়ে দিব্যি বাং মারা শুরু করলাম। তবে চিরদিন সমান নাহি যায়। একদিন হঠাৎ করেই সকাল বেলা মনে হলো, যাই একটু ক্লাশে ঘুরে আসি, বহুদিন ক্লাশ রুমের ভেতরে ঢুকি না। মাঝে মাঝে ভেতর থেকেও দেখা ভালো। তবে অন্য কারণটা হলো নেহায়েত বাধ্য হয়েই ঢুকতে হলো ক্লাশে। আনন্দের প্রতিমুর্তি হয়েই যাচ্ছিলাম বাইরে, এমন সময় প্রিন্সিপাল সরাসরি সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো, এ্যাঁই ছেলে কই যাও?
টয়লেটে স্যার।
কোন ক্লাশ।
উপরে একটা ক্লাশ হচ্ছে সেটা দেখিয়ে দিলাম।
দিয়ে দিব্যি প্যান্টের চেন খুলতে খুলতে বাথরুমে ঢুকলাম। একটু সময় নিয়ে বাইরে বের হয়ে দেখি বেচারা প্রিন্সিপাল সেখানেই দাঁড়ানো। আমাকে ক্লাশে ঢুকিয়ে দিয়ে তারপর বিদায় হলো।
আমার পরলে একেবারে ক্যাটক্যাটে লাল টি শার্ট, বুকের উপরে সেভেন আপের লোগে, সাথে ফিডো।
আবশ্যিক ভাবেই দৃষ্টিআকর্ষণী পোশাক, এবং এমনই কপাল, মোজাম্মেল স্যার বীজগণিত ক্লাশে।
আমার দিকেই তার নজর পড়লো, সব ধরা খাওয়া পোলাপাইন, যারা বাং করতে গিয়ে প্রিন্সিপালের হাতে ধরা খেয়ছে, সবাই এখন এখানে উপস্থিত। ১৮৫ জনের ভেতেরে প্রায় ১৭০ জন এই ঘরে, গাদাগাদি অবস্থা।
এত মানুষের ভীড়ের ভেতরে থেকে আমার দিকেই নজর পড়লো তার।
হেই ইয়্যু, রেড শার্ট। স্ট্যান্ড আপ।
আমি চারপাশে আগ্রহ নিয়ে তাকাই।
হেই ইয়্যু, রেড শার্ট। দ্যা ওয়ান সিটিং ইন দ্যা সেকেন্ড লাস্ট বেঞ্চ।
আমি আমার চারপাশে দেখি। জালাল, তনুজ, অপু, কেউই লাল শার্ট পড়ে নেই।
এই ছেলে তুমি মাথা নাড়াচ্ছো কেনো চারপাশে, তোমাকেই বলছি।

আমি আমার দিকে আঙ্গুল তাক করে বললাম, স্যার আমাকে ডাকছেন?
তো আর কে আছে লাল শার্ট পড়া।
স্যার একটা শার্ট না গেঞ্জী,
তুমি কি আমার সাথে ফাজলামি করো?
মোটেও না,
এমন সময় অমিত ঢুকলো। সেও হেডুর কাছে ধরা খেয়ে ফেরত এসেছে।
হঠাৎ করেই স্যার হুঙ্কার দিয়ে বললো, আমাকে রাগাবে না কিন্তু, আমি কিন্তু রাগলে বাঘ।

অমিত তখনও ক্লাশে মাঝ খানেই দাঁড়ানো, হঠাৎ করেই লাফ দিয়ে সরে গেলো কয়েক পা। ওরে বাবা ভয় পাইছি।
তখনই বুঝলাম আমাদের সামনে বসে থাকা তপু আর মোসাদ্দেকদের ভেতর থেকে একজন বলেছে হালুম।অমিত ক্লাশের ভেতর দিয়ে হাঁটছে, তার সাথেই প্রবাহিত হচ্ছে হালুম হালুম ডাকটা।




১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×