বাঙালীর লাজ ভাঙতে সোচ্চার বিজ্ঞাপননির্মাতারা। বাঁচতে হলে জানতে হবে, এইডস কি জানুন, নিরাপদ শাররীক সম্পর্ক এবং সাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাত্রা এত বেশী, কাকরাইলের সামনে বিশাল ব্যানার দেখে আমার ছেলে আমাকে বললো " বাঁচতে হলে জানতে হবে।"
যদিও শাররীক সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত হওয়ার বয়েস তার হয় নি, তবে অল্পবুদ্ধি বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়াজীবিদের আড় ভাঙবার জন্য যেকোনো প্রক্রিয়াই পছন্দনীয়।
শিশুপীড়ণ এবং যৌননীপিড়নের জায়গা থেকে আমি আক্রান্ত বোধ করি না, অন্তত আমার নিজের যে রকম দ্বিধা বা জড়তা নেই। উপযুক্ত বয়েসে উপযুক্ত বিষয়াদি জানা প্রয়োজন, যৌনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য দিন রাত টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন কোনোভাবে কি যৌন সচেতনতা বাড়ায়?
এইসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের একটা নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া উচিত ছিলো, দুপুরের খবরের ফাঁকে ফাঁকে প্রচারিত হওয়ার বিজ্ঞাপন এটা না, লোকজন আইন করে সিগারেটের বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছে , শিশুদের কোমল মনে না কি এটার বিরূপ প্রভাব পড়ে। সারাদিন সেই ছেলেটা গান শুনছে, বাঁচতে হলে জানতে হবে, নিরাপদ শাররীক সম্পর্ক গড়ে তুলুন, কথা বলুন, লজ্জা করবেন না, কন্ডোম ব্যবহার করুন। এইসব জ্ঞানের কথা শিখে তার কি লাভ সেটা আমার জানা নেই।
আমি বড় জোড় বলতে পারি, যারা এই বিজ্ঞাপন প্রচারসূচি তৈরি করেছে এবং যারা এই সম্পূর্ন সচেতনতামূলক প্রক্রিয়াটার সাথে যুক্ত, তাদের সচেতনতার জন্য নেড়ী কুত্তাকে হিরো কন্ডোম পড়িয়ে ,সেটাকে দিয়ে তাদের গণ ধর্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা আমার অভিমত।
শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে, নারী নির্যাতন করবেন না, শিশুরা নারীকে অবমাননা করতে শিখবে- এটাও সমাজ সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, কোনো একটা বৈদেশিক সংস্থা বাংলাদেশে নতুন মূল্যবোধ নির্মাণ করতে চাইছে, এনজিওমালিক পয়সা পেলে নিজের বৌয়ের গুদে ছাড়পোকার চাষাবাদ করে সবাইকে সে কাজে উদ্বুদ্ধ করার বিজ্ঞাপন দিবে, এইসব চামাড়ের জাতের কথা বলে লাভ নেই, সেটা ইউনুসের ভাই হোক আর মইন উ আহমেদের ভাই, সব শালারই একই সমস্যা পয়সা দেখলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়, স্বাভাবিক বিবেচনা কাজ করে না।
বাংলাদেশের পুরুষদের পুরুষতান্ত্রিকতা এমনই তারা নিজেরা কন্ডোম ব্যবহার করতে চায় না, কন্ডোম নিলে নাকি সুখ পাওয়া যায় না, তাদের এই দাবির সাথে সম্মতি জানিয়ে দামি কন্ডোম বাজারে এসেছে, ফিনফিনে কন্ডোন, পড়লে মনেই হবে না কন্ডোম পড়ে আছেন, সেইসব বিজ্ঞাপনও পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। গান্ধিবাদী কন্ডোমের গল্প অনেকের শোনা, সেটা পুনরায় বলবার কোনো অর্থ নেই, কন্ডোম নিয়ে একেবারে আনকোরা একটা জোকস পড়ে হাসতে হাসতে উল্টে পড়লাম-
গ্রাম থেকে শহরে এসেছে কাজের মহিলা, গৃহকর্তীর ঘর পরিস্কার করতে গিয়ে দেখলো বিছানার উপরে ব্যবহৃত কন্ডোম পড়ে আছে। কৌতুহলী হয়ে গৃহকর্তীকে জিজ্ঞাসা করলো- খালাম্মা এটা কি?
গৃহকর্তী বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বললেন, তোমাদের গ্রামে কেউ 'কাম' করে না?
কাজের মহিলা লাজুক হেসে বললো, তা তো করেই খালাম্মা, কিন্তু এমন করে করে না যে ধনের চামড়া খুলে পড়বে।
এনজিও বিদেশী পয়সায় বিজ্ঞাপন বানিয়ে নিয়মিত প্রচার করলেও অন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে বাংলাদেশে অবহেলিত সেটা নিয়ে সম্পূর্ন উদাসীন। যাদের ইন্টারনেট এক্সেস আছে, তাদের সবাইও হয়তো অবগত নন, শিশুদের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশ ও শিক্ষা বিষয়ক অনেকগুলো ওয়েব সাইট আছে, গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের জন্য প্রতিটা শিশুপন্যনির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চমৎকার কিছু টিপস আছে তাদের ওয়েব সাইটে।
কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে এমন কোনো পুস্তক নেই, সাস্থ্যসচেতনতামূলক কোনো পুস্তক নেই বাংলাদেশে, গর্ভবতী মায়েরা ঐতিহাসিক ভাবে নিজেদের মা , নানী ও শ্বাশুরীর কাছে এইসব শিক্ষা পেয়ে থাকে, যার কিছু অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কার, কিছু অভিজ্ঞতার আলোকে সঠিক , বৈজ্ঞানিক, গবেষনালব্ধ ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত গর্ভবতী ও শিশুসাস্থ্যের উপরে কোনো পুস্তক বাংলাদেশে নেই।
এই দেশে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এইডস বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়, প্রতিটা চ্যানেলে, কিন্তু এমন ৬০০ পাতার একটা বইয়ের ১০০০ কপি ছাপানো সম্ভব মাত্র ২ দিনের বিজ্ঞাপনের টাকা অপাত্রে ব্যয় না করেই।
পরিবার পরিকল্পনা বিষয়টা অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করা নয় শুধু, বরং পরিবার পরিকল্পনা নিজের পছন্দমতো নিজের পরিবার সৃজনের প্রচেষ্টা।
অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করবার জন্য কন্ডোম ব্যবহার করবেন, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল, না কি লাইগেশন করবেন, না কি ভ্যসেকটমি, অনেক রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় আছে।
আপনার লুঙ্গি পড়বার অভ্যাস থাকলে ভ্যাসেকটমি করবার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন- একটা সময় পর্যন্ত ভ্যাসেকটমি করলে লুঙ্গি উপহার দেওয়ার চল ছিলো, ঠিক তেমন ভাবেই লাইগেশন করালে পাওয়া যেতো শাড়ী।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বাইরে কিছু খরুচে পদ্ধতি আছে যা একই কাজ করে, তবে কোনো কন্ট্রাসেপটিভ পিল কিংবা কন্ডোম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয় না। তবে সব ক্ষেত্রেই সাফল্যের হার শত ভাগ নয়, এত সাবধানতা সত্ত্বেও ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
কন্ট্রাসেপটিভ পিল ৯৭% নিরাপদ, সাস্থ্যঝুঁকি আছে, ব্যবহার করলে জরায়ুতে চর্বি জমে, জরায়ুতে জমা চর্বি গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সহায়ক নয়, যাদের ওজন স্বাভাবিকের ৩০ শতাংশ বেশী, তারা গর্ভধারণ করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, স্বাভাবিক দম্পতি, যাদের অন্য কোনো সমস্যা নেই, তাদেরও শতকরা ২০ শতাংশ কোনো এক অজানা কারণে কখনই চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়া গর্ভধারণ করতে পারছেন না।
প্রথম সন্তান হওয়ার আগে নিয়মিত কন্ট্রাসেপটিভ পিল ব্যবহার করা গর্ভধারণে সাফল্যের হার কমিয়ে দেয়। সুতরাং রয়ে সয়ে, প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জন্মনিরোধক বড়ি ব্যবহার করুন, সারাদিন গুণগুণ করুন এই মায়া বড়ি খেয়ে- কিন্তু সাবধানে, যখন দেখবেন শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়ছে, তলপেট ভারি হয়ে যাচ্ছে, সম্ভবত আপনি নিজের গর্ভধারণে জটিলতা সৃষ্টি করছেন নিজের অতিরিক্ত সাবধানতায়।
যারা এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন নি তারা নিজের পরিবারের কলেবর বৃদ্ধি করবেন তাদের জন্য পরবর্তী অংশগুলো পড়বার কোনো প্রয়োজন নেই। এটা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের কথা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



