অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

কখনও জীবন ভুলে থাকার অভিনয়

১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0

আট বছর আগের একদিন- হঠাৎ কি ভুত পেয়েছিলো, পাশে বধুটিকে রেখে সন্তর্পনে সন্তানের প্রিয়মুখ ভুলে যে মানুষটা ঝুলে পড়েছিলো গাছের ডালে- সেই কবিতা পড়ে একদিন খুব করে ভেবেছিলাম, মানুষ কিসের তাড়নার আত্মহত্যা করে?
আত্মহত্যার দৃশ্য তেমন অভুতপূর্ব ছিলো না জীবনে আসলে, প্রাককৈশোরে কিংবা তার আগেই একদিন বেলী খালার বাসায় গেলাম, তার ছোটো ভাই আত্মহত্যা করেছে, ফাঁসি দিয়েছে, সমস্ত বাসাটাই থমথমে, প্রেমের জ্বালা জুড়াতে আত্মহত্যা করেছিলো সুমন মামা। অবশ্য সেই প্রেমিকাও আলুথালু কেঁদেছিলো, অভিসম্পাত দিয়েছিলো কি না তা আমার জানা নেই। সেই বয়েসে প্রেম ভালোবাসা বুঝবার অবসর ছিলো না।

তার লিখে যাওয়া চিরকুট, প্রতিবেশীর কাছে মুখ দেখাতে না পারার লজ্জা আর বাসার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নানীর শোকপ্রকাশ, সব কিছুকে ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছিলো, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মানুষ আত্মহত্যা করে।

বয়ঃসন্ধিকালের অভিমানে কোনো একদিন মনে হলো যদি ঠিক এই মুহূর্তেই মরে যেতে পারতাম, যদি এই মুহূর্তেই কোনো অলৌকিক ঘটনায় জীবনের অবসান হয়, বেশ হবে। আমার অনেক কিছুই দেখবার বাকি ছিলো। জীবন তখনও ঠিকমতো শুরু হয় নি, পিছুটান ছিলো না কোনো, কারো কাছে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলতে পারি নি তখনও, সুতরাং ছেড়ে গেলেও তেমন ক্ষতি হতো না, তবে ভয় ছিলো। আশৈশব জেনে আসা শব্দগুচ্ছের ভয়, আত্মহত্যা মহাপাপ।

আমাকে সুমন মামার মৃত্যু দৃশ্য দেখতে হয় নি, থানা পুলিশ, ইউডি আর পোস্টমর্টেম শব্দগুলোর অর্থ তখন জানা ছিলো না, অটোপসি কি জানা ছিলো না আমার। শুধু জানলাম সিভিল সার্জন অটোপসি রিপোর্ট দিলে দাফন হবে, সন্ধ্যার আগে আগে অটোপসি রিপোর্ট পেয়ে যখন হারিকেন জ্বেলে দাফন হয়ে গেলো, সবার সাথে ফিরে আসলাম বাসায়। তারপর প্রতি বছর একটা দিন সে বাসায় যাওয়া হতো।

বেলী খালার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে সে বাসায় যাওয়া থেমে গেলো। আমি তাদের বাসা এখন আর চিনি না। শুধু মনে আছে, সেখানে অনেকগুলো লিচু গাছ ছিলো, বেলী খালা প্রতি বছর নিয়ে আসতো গাছের লিচু। সেই লিচুর স্বাদও বেলী খালার বিয়ের সাথে অপরিচিত হয়ে গেছে।

তারও বছরখানেক পরে, একদিন সকালে উঠে রাস্তায় নামতে না নামতে শুনলাম কে যেনো আত্মহত্যা করেছে। আমি তাকে চিনি না, তার সাথে আমার কখনও সাক্ষাৎ হয় নি, তবু ফাঁসীর দৃশ্য দেখতে আমিও রাস্তায় নামলাম। অন্য সব মানুষের মিছিলে সামিল হয়ে ডেখলাম কাঁঠাল গাছের ডালে ঝুলছে ১৫ থেকে ১৭ বছরের এক ছেলের লাশ, ভয়ংকর বিকৃত মুখ, জিহ্বা ঝুলে আছে, মুখটা নীল আর গলার চারপাশ ফ্যাকাশে হলুদ। হাত পা সব টানটান, ঝুলছে কিংবা বাতাসে দুলছে।

দৃশ্যটা ভয়ংকর, কিন্তু মানুষ এখানেও গল্প চায়,
কারো সাথে প্রেম ছিলো?
কেউ কি রাগ করেছিলো?
সবার প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিলো না সেখানে, ছেলেটা কোনো চিরকুট লিখে রেখে যায় নি। কেনো হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো ছেলেরা উঠতি বয়েসে তা আমার জানা হয় নি তখনও।

কলেজ থেকে ফিরে একদিন জানলাম আমার এক পরিচিত মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়েটা তখন ক্লাশ সেভেনে পড়তো। খুব অবাক হলেও সেই দৃশ্য আর দেখতে গেলাম না। ফাঁসির দৃশ্য আমাকে তাড়া করুক স্বপ্নের ভেতরে এমনটা আমি চাই না।

সে মৃত্যুর রহস্য অনুদঘাটিত রয়ে গেলো জীবনে।

কোনো গল্প নেই, হঠাৎ করেই পুর্ণচ্ছেদ ঘটে যায় কেনো? পূর্বাপর সবকিছু বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না কেনো? বিজ্ঞ বন্ধু জানালো আসলে সবাই মৃত্যুর ঠিক আগে বুঝতে পারে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো। অবশ্য তার কথাকে মেনে নিতেই হয়, ফাঁসির দড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলো তার বড় ভাই। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক।

কেনো এমন করলি? এটার উত্তরও সে দেয় নি সে সময়। হঠাৎ মনে হলো বেঁচে থেকে আর লাভ কি, মরে গেলেই হয়।
আমার কৌতুহল মিটে না।

মানুষ নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করে সব কথার গুঢ়ার্থ।

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট বিশ্বাসহীনতার কষ্ট। মানুষের স্বাভাবিক বিশ্বাসের জায়গাটা নড়ে গেলে, মরে মানুষ নিজেই ভেতরে ভেতরে মরে যায়। মানুষের মৃত্যু হয় বিশ্বাসের মৃত্যুর সাথে সাথে। নিজের ভেতরটা আতঙ্কে হিম হয়ে আসে, এমন কেউ নেই যাকে বিশ্বাস করা যায়।

একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে দীর্ঘ চর্চায়, দীর্ঘ দিনের অভ্যস্ততায়, সেখানে আশ্বাস থাকে, নিশ্চিত বিশ্বাস থাকে, এইসব মানুষেরা, যাদের বিশ্বাস করা চলে অনায়াসে, স্বার্থ কিংবা লোভ, যেকোনো প্রলোভনে তারা পিঠে ছুড়ি মারবে না। সাময়িক ভ্রম কেটে যায়, বিশ্বাসের ফানুস নিভে গেলে অন্ধকারে এলোমেলো উড়তে থাকে ঘুড়ি। গোত্তা খায় মেঘে। আর কাউকেই বিশ্বাস করা চলে না জীবনে।

হঠাৎ করেই মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে মনে হয় বুকটা ফাঁকা। কোথাও একবিন্দু নির্মল বাতাস নেই, যে বাতাসে শ্বাস নেওয়া যায়, দমবদ্ধ লাগে, ঘেমে নেয়ে উঠে বসি পরিচিত বিছানায়। এপাশ ওপাশ করে ভোরের প্রতীক্ষা করি। ভোর আসে আশ্বাস নিয়ে।

আমি সারাদিন জীবন্মৃত ঘুরি শহরে, চারপাশের ব্যস্ততা আমাকে স্পর্শ্ব করে না। প্রতিটা পথচলতি মানুষের মুখ দেখি আর ভাবি একে বিশ্বাস করা যায়?
যে মানুষটা হাসিমুখে সিগারেট এগিয়ে দিচ্ছে, মামা ভাঙতি নাই পরে দিয়ে যাবেন- সে মানুষটাও বিশ্বাস থেকেই বলছে কথাটা।তাকে কতটুকু বিশ্বাস করা যায়? নিয়মিত খদ্দের হিসেবে যে বিশ্বাস সেটাও দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। তাকে নিজের কথা খুলে বলা যায়? বলা যায়, পৃথিবীতে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না এখন?

যে মহিলা দেখা হলেই অভিমান করে বলে মামারা আপনারা আস আসেন না চা খেতে। ভালো করে কাপ ধুয়ে এক কাপ চা দিয়ে যায়, সেও উপলব্ধি করে আমার ভেতরে কোনো একটা গোলমাল আছে, তবে আমরা কেউই কাউকে জিজ্ঞাসা করি না,
ভালো থাকবেন, বলে সে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় চায়ের কাপ।

তার জন্য কি আমি কিংবা আমরা গুরুত্বপূর্ণ কেউ? আমার ক্ষুব্ধ চেহারা, আমার চিৎকার তার জানা। আমার অক্ষম রাগের মুহূর্তগুলো, আমার অসহায় ক্ষোভ, যখন আমার নিজের শরীরের চামড়া জ্বলতে থাকে, যখন মনে হয় নিহের শরীরটাকে কুচিকুচি করে কেটে খুঁচিয়ে দেখি কোথায় এই যন্ত্রনা।

যন্ত্রনা আদতে তেমন নেই, শুধু একটাই সমস্যা, কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছি না, কারো উপরে নির্ভর করতে পারছি না , কাউকে বলতেও পারছি না এই কষ্টের কথা। পৃথিবীতে কেউ নেই, যাকে বিশ্বাস করা যায়, ধারাবাহিক বিশ্বাস আর আশা ভঙ্গের বেদনা আর ভালো লাগে না। আর মৌখিক আশ্বাস ভালো লাগে না, ভালো লাগে না জ্বি ভুল হয়ে গেছে, আমি দুঃখিত শব্দগুলো।

দুঃখিত শব্দটাও উপহাস উপহার নিয়ে আসে। বলেও বোঝাতে পারি না, অনুশোচনার আন্তরিকতা না থাকলে সেই দুঃখবোধ মৌখিক, যেখানে হৃদয়ের ছোঁয়া নেই, এমন দুঃখপ্রকাশ আমি চাই না। অন্তত একবার দুঃখপ্রকাশের আন্তরিক হলে ভালো লাগতো। নেহায়েত বাণিজ্যিক ফোনালাপের শেষে মানুষ যেমন বলে।আপনার সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। আমি বুঝতে পারছি আপনার সমস্যা হচ্ছে, আর একটু ধৈর্য্য ধরেন।

ধৈর্য্যের বাধ ভাঙে, আর নিয়মিত ভাঙে বিশ্বাস, ভগ্ন বিশ্বাসের সৌধ নিয়ে বসে থাকি অন্ধকারে। এক একটা দিন কাটে। এক একটা দিন কেটে সপ্তাহ, সপ্তাহ গিয়ে মাস, মাস গিয়ে বছর ফুরায়। আর আমার অবিশ্বাস বাড়তে থাকে।

একটা সময় আর এইসব ভালো লাগে না মোটেও। চারপাশের কোনো পরিচিত জন নেই, দীর্ঘপরিচিত কিংবা স্বল্প পরিচিত যাকে বিশ্বাস করা যায়। আমি বুঝি, আমার সব কিছুই উলোটপালোট হয়ে গেছে।

য়ামি সব সময় ভাবতাম মানুষ কেনো আত্মহত্যা করবে? মানুষ কেনো হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে?
মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় কিভাবে?

মানুষের নিজের কিছু বিশ্বাসের জায়গা থাকে, যা মানুষ যত্ন করে বহন করে, মানুষের নিজের বিশ্বাসের উপরে জীবনযাপনের জায়গা থাকে, সেই জীবনযাপনে যা কিছু আছে সব কিছু নিজের বিশ্বাসের পাল্লা দিয়ে মেপে মানুষ বাঁচে। সেই বেঁচে থাকবার কারণ নিজের কাছে নিজের আত্মসম্মান।

মানুষ নিজেই নিজের কাছে নিজের গুরুত্ব তৈরি করে, অনেকগুলো ভারসাম্য তৈরি করে জীবনে, যেখানে নিজেকে স্থাপন করে, এই জায়গাগুলো স্পর্শ্বকাতর। ক্রমাগত আঘাতে যখন এক এক করে এইসব স্থাপনা ভেঙে পড়ে, তখন আর কোনো বাঁচবার আগ্রহ থাকে না।

অনেক দিনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই, কোনো স্পষ্ট কারণ না থাকলেও কেনো আট বছর আগের সেই পুরুষ সব ছেড়ে চলে যায় অন্ধকারে, কেনো সুমন মামা কিংবা নাম না জানা অপরিচিত ছেলেটি জীবনকে অস্বীকার করে চলে গেছে, তা বুঝতে পারি।

প্রতিশোধ কিংবা আক্ষেপ হতে পারে এইসব। কার উপরে প্রতিশোধ নিবো আমি? নিজের বিশ্বাসহীনতার প্রতিশোধ? কিংবা ক্রমশঃ তৈরি হতে থাকা অবিশ্বাসের ফাঁদ, যে ফাঁদ থেকে আমার মুক্তি নেই, সেই ফাঁদকে এড়িয়ে বাঁচা সম্ভব নয়, সুতরাং মৃত্যুই শ্রেয়।

আমিও হঠাৎ করেই উপলব্ধি করি, আদতে বাঁচবার কোনো কারণ নেই পৃথিবীতে। মানুষ বেঁচে থাকে মানুষের বিশ্বাসে, আর আমার কোনো বিশ্বাস নেই, এমন কি নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারি না সময় সময়, স্মৃতিভ্রষ্ট মনে হয় নিজেকে, দোকানীর সামনে বোকা মুখে দাঁড়িয়ে থাকি , ভুলে যাই সওদার দাম দিয়েছিলাম কি না? দিয়ে থাকলে দোকানী ভাঙতি কি ফেরত দিয়েছে? দোকানি হাসিমুখে বলে, মামা পরে দিয়ে যায়েন, সমস্যা নাই, মনে করে দিলেই হবে।
আমি হাতের মুঠোয় ধরে থাকা টাকা দিয়ে চলে আসি, কখনও বলি কি রে ফেরত দিবি না পয়সা?
ঐটা তো কখন দিয়া দিছি , এতক্ষণ কি ঐটার জন্য খাঁড়ায়া ছিলেন, হায়রে।

আমি হাতের মুঠো খুলে দেখি সেখানে জমা আছে ভাঙতি টাকা। আমি নিয়মিত নিজেকে ভুলতে চেষ্টা করি।

কখনও মাঝ রাতে, ঘুম ভেঙে মনে হয়
...................................................................

জীবন ভুলে থাকা নয়, জীবন ভুলে থাকার অভিনয়।

আর নিয়মিত কড়িকাঠে ঝোলানো রশি হাতছানি দেয়। আমি তার দিকে তাকাই, মৃদু হাসি,

নিয়ন্ত্রনহীন এই জীবনে অন্তত একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার এখনও আছে। যেকোনো মুহূর্তে খেলা সাঙ্গ করে আমি ফিরে যেতে পারি।

আমি রশির সম্মোহনে দিনরাত আচ্ছন্ন থাকি। আর বলি, আজ নয় তবে যেকোনো সময় দেখা হবে তোমার আমার, অন্তরঙ্গ আলাপ হবে একান্ত নির্জনে। আজ নয়, তবে যেকোনো সময় খেলা সাঙ্গ করে চলে যাওয়া যায়।


 

প্রকাশ করা হয়েছে: অগভীর ভাবনা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:৫৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৫৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: বাঁচার অনেক কারণ আছে, চীয়ার আপ !! :)
১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৪৯

লেখক বলেছেন: তোর খবরটা পরিস্কার করলি না এখনও।

বৌ কি ঐখানে না এইখানে?

৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:০৪
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: যে কোন মুহুর্তে খেলা সাঙ্গ করার মধ্যে এমন কিছু কুতিত্ব নেই। খেলা একদিন সাঙ্গ হবেই, এর চেয়ে বড় সত্য তো আর কিছু নেই, তাই তার পেছনে অহেতুক শ্রম দিয়ে লাভ কি?
বরং গড়াতেই আনন্দ, কেননা তাতে কষ্ট করতে হয়।

অনেক সময় নিয়ে যে লেখাটা লেখা হল তার পেছনে কত পরিশ্রম, কিন্তু মুছতে হলে শুধু একবার ডিলিট, ব্যস সব শেষ।
তাই মুছে ফেলা কোন কৃতিত্বের কাজ নয়।
৪. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:০৭
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আত্মহত্যা বিষয়টা ঘোরলাগার, আমার মনে হয়। একটা মানুষ নিজেকে ধ্বংস করে দেয়, সজ্ঞানে; অবাক কাণ্ড। তবে আত্মহত্যাকারীদের কাপুরুষ মনে হয়, নিজের কাছে যে মানুষ হেরে যায় তার বাঁচাটা যদি-ও অনর্থক।

সবকিছুর পরে-ও আমি জীবন দেখি, ঘাস দেখি, রোদ দেখি।
৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:০৭
অলস ছেলে বলেছেন: ভূল চিন্তা, সুন্দর লেখা।
৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:২৬
প্রমিত কুমার বলেছেন: ভালো লাগল।আমরা সবাই বেচে থাকি কিছু আশা নিয়ে।আসলে ব্যাস্ত থাকি ভুলে থাকার জন্য যে, আসলেও আমাদের কিছু করার নেই।
নিজের সাথে যুদ্ধ সবাই করে। তবে সব ফেলে চলে গেলে অনেক কিছুই মিস হয়ে যাবে। কি দরকার।নিয়তির হাতেই ছেড়ে দেই।
৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:৩৫
ইষ্টিকুটুম বলেছেন: লেখার ভাষা খুবই সুন্দর!!!

তবে, আমি আত্মহত্যাকে সাপোর্ট করিনা। পৃথিবীতে অনেক কাজ আছে যার মাধ্যমে বেঁচে থাকা যায়। আপনি আপনার কষ্টের জাল থেকে নিজেরে বের করে নিয়ে আসেন।

ভাল থাকবেন।
৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১২
ফাহমিদুল হক বলেছেন: বিশ্বাসভঙ্গ যদি আত্মহত্যার নিয়ামক হয়, তবে গোড়াতেই কারও প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করাটা বেঁচেবর্তে থাকার একটা ফর্মুলা হতে পারে। স্ত্রীর আস্থা-অনাস্থা, সন্তানের অতি-নির্ভরশীলতার অত্যাচার, কিংবা চা-ওয়ালার 'পরে দিয়েন' অনুমোদন -- এসবকিছুই তাদের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু আপনার দিক থেকে নির্মোহ নিরপেক্ষ নিরাবেগ একটা কিছুতে রূপান্তরিত করে ফেলুন, গোড়াতেই। এইটা আমার ফর্মুলা। আপনার জন্যও এরকম কিছু ফর্মুলা কাজে আসতে পারে, তা আপনিই বের করতে পারবেন।

এভাবে কড়িকাঠের রশি বরাবরই দূরে দূরে ঝুলে থাকে।

আপনি ভালো থাকুন।
৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: মানুষের নিজের জীবনের চেয়ে অন্য কিছুরে (প্রেম, যশ, সম্পদ, নিকটজন ইত্যাদি) বেশী মুল্যবান মনে করলে; আর যখন সেই 'অন্যকিছু' হারায় বা হারানোর সম্ভাবনায় নিজ জীবনরে তুচ্ছ মনে হয়। ঘটনা তখনই ঘটে।
আব্দুলাহ আবু সাইদ স্যারের কথাটা মনে ধরছিল।
১০. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৩৮
নুশেরা বলেছেন:
"জীবন ভুলে থাকা নয়, জীবন ভুলে থাকার অভিনয়।"

এই অভিনয় চালিয়ে যাবার চেয়ে দড়ি হাতে নেয়া অনেক সহজ। লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল। ভাল থাকবেন।
১১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪
সাদা কাগজ বলেছেন: অনেক সময় নিয়ে যে লেখাটা লেখা হল তার পেছনে কত পরিশ্রম, কিন্তু মুছতে হলে শুধু একবার ডিলিট, ব্যস সব শেষ।
তাই মুছে ফেলা কোন কৃতিত্বের কাজ নয়।
১৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩১
মনজু মজুমদার বলেছেন: মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট বিশ্বাসহীনতার কষ্ট। মানুষের স্বাভাবিক বিশ্বাসের জায়গাটা নড়ে গেলে, মরে মানুষ নিজেই ভেতরে ভেতরে মরে যায়। মানুষের মৃত্যু হয় বিশ্বাসের মৃত্যুর সাথে সাথে-এই কথাগুলো ভালো লাগলো!

আপনাকে ভীষন ইমোশনাল মনে হচ্ছে!আপনার পোষ্টে আপনাকে চেনা যাচ্ছেনা!
১৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: চৌদ্দজনের কমেন্ট দেখেন, রাসেল। এটাতেও বোঝা যায়, আপনি যে অমোঘ আকর্ষণের কথা বললেন, সেটা কত তীব্র! এত অসংখ্য জীবনের ডাকও সেটাকে থামাতে বা এতটুকু হালকা করতে পারেনা! এটাই মনে হয় বাস্তব। এত উচ্ছলতা, জীবনের উদযাপনের মাঝেও নিরালম্ব হয়ে যাওয়ার ডাক প্রকট। বিশ্বাস হারানোর সম্ভাবনা = ১।

যদিও আমি চাই কড়িকাঠের রশি ধীরে বিলীন হৌক। তবু তার ব্যক্তিত্বহীন অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না কখনো।
বিশ্বাস ফিরে আসুক, এই কামনায়...
১৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৫
জেরী বলেছেন: আপনার জন্য শুভ-কামনা রইলো.....ভাল থাকুন
১৭. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২৪
মেঘলা মানুষ বলেছেন: আমাকে এক টিচার বলেছিলেন:
আত্মহত্যাকে আমরা অন্য নামেও চিনি, জীবন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়া।
১৮. ০৭ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
নীরজন বলেছেন: আত্মহত্যা কি কোন সমাধান হতে পারে???????

জীবন মানেই তো যুদ্ধ আর যুদ্ধে নামলে পিছু হটতে নেই.......


শুভকামনা আপনার জন্য... ... ... ... ...

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৪৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ