আমাদের উত্তরাধুনিকের একাংশ আত্মরতিপরায়ন কিংবা তারা পরস্পরের মুখমেহনে ব্যস্ত।
১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:০০
কবিরাও সঙ্ঘবদ্ধতা শিখেছে এটাই আমাদের পরমপ্রাপ্তি।
----------------------------------------------------------------
আধুনিক কবিতা এবং উত্তরাধুনিক কবিতার ভেতরে তফাত আমি করতে পারবো না, সুতরাং সেসব বাগ্মিতা কিংবা অযথা কপচানি বাদ দিয়েই বলতে চাই এই সময়ের অতিউত্তরাধুনিক কবিতার অনেকগুলো ব্লগসৃষ্টির আগে আমি পড়েছি ফুটপাতে না বিকোনো বইয়ের সারিতে। নীলক্ষেত আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতে, বই মেলার সামনের অস্থায়ী সস্তা বাজারে অনেক উত্তরাধুনিক কবিতার পসরা বসতো, ১০ টাকা ১০ টাকা হেঁকে যেতো দোকানি, সেখানেই হাঁটু গেড়ে বসে মাঝে মাঝে উত্তরাধুনিক কবিতা আস্বাদন করেছি আমি। সুতরাং আমি এইসব বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তি নই। আমি নিতান্ত পাঠক এবং সরলমতি পাঠক।
কবিতা পাঠের জন্য কোনো ব্যকরণ বই কিংবা ইতিহাসের বই আমি খুলতে নারাজ, দুর্বোধ্য কোনো উপমাভারাক্রান্ত কোনো কবিতা আমাকে আকর্ষণ করে না। আমি নিতান্ত গাধাশ্রেণীর পাঠক, আমার পাঠচক্র নেই, নিত্য আলোচনা কিংবা উঠাবসা নেই কবিদের সাথে, আমি আজ অস্তিনে করে কবিতা লুকিয়ে নিয়ে আসলাম, আমার বুক পকেটের ভাঁজে একটি কবিতা ছিলো, এইসব কাব্যালোচনা সভায় আমার নিয়মিত উপস্থিতি নেই। আমি এই চত্ত্বরে একেবারেই বহিরাগত।
কতিপয় বোদ্ধা উজবুকের জন্য কবিতা লিখতে আমি নারাজ, আমি কবিতা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্য মনে করি, মনে করি সাধারণ মানুষ যে ভাষায় বুঝে এবং উপলব্ধি করে সে মাত্রায় না গেলে কোনো কবিতাই লোকপ্রিয়তা পায় না। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হইবার বাঞ্ছা হইলে আমি ঠিক সে রকমই কবিতা লিখতে চাইবো, যা বিদগ্ধ পাঠক নয় সাধারণ মানুষ পড়ে তাদের অনুভুতির বিচ্ছুরণ দেখবে সেখানে।
কবিসঙ্ঘ কিংবা কবিদের রাজনীতি, কবিতার রাজনীতি বিষয়টা প্রকট দেখলাম। কয়েকজন মানুষ নিজেদের পিঠ চুলকাতে চুলকাতে ঘা করে ফেলছে, সেইসব কবিতা বিষয়ে আমার মতামত, যদি মন না টানে তবে পড়বার প্রয়োজন নেই। তবে যদি ভুল করে পড়ে ফেলো, কবিতা বিষয়ে নিজের মতামত অকপট প্রকাশ করে ফেলাই ভালো।
এখানে উত্তরাধুনিক কবিদল সোচ্চার, জীবানানন্দের পঁচা পুঁজ খেয়ে বর্ধিষ্ণু কবিতা কিংবা আরও আগের লোকগানের ফর্মায় লিখা কবিতা কিংবা এইসব কিছুই না হয়ে উঠা কবিতাদের বাজার এখানে, সবাই আহা উঁহু বাহ বাহ বেশ বেশ করে। নিতান্ত নিজস্ব সময়ের কবিতা হয়তো এখনও খুঁজে পাই নি, আমার সীমিত পঠনে এমন কোন কবিতা স্মরণ করতে পারি না, যারা পিঠ চুলকে ঘা করছেন তাদের কবিতা পড়েও আমার তেমন মনে হয় নি যে এমন কোনো কবিতা যা না পড়লে আমার মানবজন্ম বৃথা যেতো।
সময়িক অসস্তি, পেটে গ্যাস হলে চোঁয়া ঢেকুর তুলে ফেলা কিংবা আড়ালে কিংবা প্রকাশ্য মজলিসে বায়ুত্যাগের মতো কবিতা প্রসবে আমার আপত্তির কিছু নেই, সেটা সাধুবাদ জানানোর মতো বিষয় কি না সেটাও আদতে গোত্রপ্রিয়তা ও রাজনীতির গল্প।
একটা ছোটো কৌতুক বলি, এক লোক ভীড় বাসের ভেতরে বসে আছে, হঠাৎ করেই তার মনে হলো পেটে ভীষণ চাপ, বায়ুত্যাগ না করলেই নয়, চমৎকার সুরের খেলা চলছে, সুতরাং সবার চোখ এড়াতে সুরের তালে তালে বায়ুত্যাগ করবার পরে যখন লোকটা নিজের স্টপেজে নামলো, তখন উপলব্ধি করলো বাসের সবাই তার দিকে কেমন অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে। আর ঠিক সে সময়েই তার উপলব্ধি হলো আদতে তার কানে আইপড গোঁজা।
কবিতাকে কবিতা হয়ে উঠতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কবিতা থাকুক কবিতার মতো, কেউ যদি গুটিকয়েক মানুষের জন্য লিখে সে তার বিবেচনা, এমেচারদের জন্য যেসব কবিতা নয়, সেসব কবিতা এমেচারদের বাজারে প্রকাশিত হলে এমেচার কবিতার ভাবার্থ না বুঝে কিছু মন্তব্য করেই ফেলবে, ওরা পাষন্ড ও নারীবিদ্বেষী হতেও পারে, সাধারণ সামাজিক মানুষ নারীবিদ্বেষী, নারীকে হীন ও ইতর জ্ঞান করে।
তবে এখানে দেখলাম কবিতার বাজারে, পিঠ চুলকানি গোত্রে যারা আছেন, তারা ভালো কিংবা মন্দ, হলো কিংবা না হলো, সব বিষয়েই নিজস্ব গোষ্ঠিকে আলিঙ্গন করে চলেন, এবং গোত্রে গোত্রে সংঘাতও আছে। আমি তার চেয়ে দুই পাতা বেশী কবিতা বুঝি, আমি তার চেয়ে আরও ৩ পাতা কবিতা বেশী বুঝি, এই বেশী বুঝদার মানুষগুলোর প্রশংসা দেখে এবং থাবরাথাবরি দেখে আমি আনন্দিত হওয়ার কিছু পাই না।
যতটুকু আলোগোছে থাকা যায়, যতটা অগোত্রভুক্ত থাকা যায়, সব গোত্রপ্রিয়তা কিংবা টোটেমপ্রিয়তা বাদ দিয়ে আমি নিজের মন্তব্যে বলতে চাই- বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কার এবং জীবানাচারের ভেতরে অনেকগুলো সাবসেটের উপস্থিতি চোখে পড়েছে, বলিউডের ধাঁচে এখানের কিছু সংস্কৃতি কর্মীর জীবনযাপন, একপাশে অশ্লীল আপদের মতো বেড়ে উঠা বনিক ও নব্যবনিক সংস্কৃতি ও জীবানাচার, এই দুই পদের মাঝের আধুনাকর্পোরেট জীবনাচার, দায়বদ্ধতাবিহীন ,
এবং এসবের সংকর হলো আধুনিক ও উত্তরাধুনিক কবিদের মিশ্রে জীবনযাপন। সেখানে কবির লৈঙ্গিক পরিচয় হয়তো মুখ্য নয়, তবে কবি হয়ে উঠবার কারণে যেসব সামাজিক সংস্কার ত্যাগ করতে হয়, এবং যেসব লালসাকে পরিশীলিত করতে হয়, সব কিছু মিলিয়ে নারী হলে ভালো কবি না হলেও আলোচিত হওয়া যায়, একেবারে যাচ্ছেতাই লিখেও প্রচুর প্রশংসাধন্য হওয়া যায়। এখানে নারীর কবিতা লিখবার যোগ্যতা নয় বরং তার শাররীক কাঠামো ও তার পার্ফরমেন্স যখম মুখ্য হয়ে উঠে তখন সেখানে কবিতার আলোচনা করা উচিত নয়।
কিংবা সাহসী অকপট হয়ে যাওয়া যায়। প্রশংসা যারা করে তারা কতটুকু কবিতার মানের গরজে এবং কতটুকু নিজের বিভিন্ন কাম ও কামনাকে প্রকাশিত করতে করে সেটাও আমার কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ মনে হয়, আমি যাদের পিঠ থাবরে আসলাম, আমিযাদের পিঠ চুলকে আসলাম, তারাও কৃতজ্ঞতার নাগপাশে বন্দী হয়ে একদিন আমার বাতিল ও জঘন্য কবিতায় সুশোভন বিশেষণ লাগিয়ে আসবে।
আর তখনই মনে হয়, এইসব আত্মরতিপরায়ণ কবিরা, যারা শুধু নিজেদের জন্যই কবিতা লিখে, এবং নিজেরাই নিজেদের পিঠ চুলকে রক্ত বের করে ফেলে তাদের নোটিশবোর্ড লাগানো উচিত কি না?
যারা কবিতা না বুঝেও ভাবে এটাতে বোধ হয় অনেক গভীরতা, তাদের জন্য কিছু বলবার নেই।
একটা কৌতুক বলি পুনরায়-
লাজুক এক কিশোর জীবনে প্রথম বারের মতো ডেটিংয়ে গিয়েছে, এতটাই লাজুক মুখ ফুটে বলতে পারে না চুম্বন দিতে চাই।
বন্ধুরা তাকে যার সাথে ডেটিংয়ে পাঠালো, সে ঘাঘু, এবং উদার।
কয়েকপাত্তর মদের শেষে একান্তে নির্জনে কিশোর সমস্ত লাজুকতা ঝেড়ে বললো, আমার আসলে এখন সংকীর্ণ যোনী চাই গমনের জন্য,
পাশে বসে থাকা মেয়েটাও বললো, আমিও তাই চাই বুঝলে, আমারটা হাইওয়ে হয়ে গেছে।
-----------------------------------------------------------------------------
যার এক ইঞ্চি মাত্র ধন, সেও একদিন হয়তো প্রবল উত্তেজনায় ভেবে বসতে পারে এই ধন দিয়েই সে এভারেস্ট ফুঁড়ে ফেলবে।
সমস্যা হয় তখনই যখন গোত্র প্রিয়তার কারণে তার বন্ধু মানুষেরা তার এই মতকেও সমর্থন করে বলে, একটু সাবধানে লাড়াইয়ো, যদি এভারেস্টের মাথার বরফ খসে যায় তাহলে তুমি চাপা পড়ে মারা যাবে, ড্রিল ইট বাট ডোন্ট শেক ইট মাচ।
প্রকাশ করা হয়েছে: স্যাটায়ার বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আমাদের উত্তরাধুনিকের একাংশ আত্মরতিপরায়ন কিংবা তারা পরস্পরের মুখমেহনে ব্যস্ত।
আপনার ‘আমাদের উত্তরাধুনিকের একাংশ আত্মরতিপরায়ন কিংবা তারা পরস্পরের মুখমেহনে ব্যস্ত’ পড়ে খুব আমোদ পেলাম। ‘কবিরাও সঙ্ঘবদ্ধতা শিখেছে এটাই আমাদের পরমপ্রাপ্তি’ মনে প্রশ্ন জাগছে এইটা কেন বলতেছেন। কোন প্রেক্ষিতে আপনার মনে হলো এইটা আরো একটু যদি খোলাশা করতেন।
”আধুনিক কবিতা এবং উত্তরাধুনিক কবিতার ভেতরে তফাত আমি করতে পারবো না, সুতরাং সেসব বাগ্মিতা কিংবা অযথা কপচানি বাদ দিয়েই বলতে চাই এই সময়ের অতিউত্তরাধুনিক কবিতার অনেকগুলো ব্লগসৃষ্টির আগে আমি পড়েছি ফুটপাতে না বিকোনো বইয়ের সারিতে”
আমি একটু জানতে আগ্রহী আধুনিক কবিতা, উত্তর আধুনিক কবিতা এবং অতিউত্তরাধুনিক কবিতা কোনগুলা, ( আপনি উত্তর দিতে বাধ্য না) কী কী কারণে আপনি এইগুলারে এই তকমা লাগাতে চান, কেন লাগাতে চান এইগুলা এই..ওই....
”কতিপয় বোদ্ধা উজবুকের জন্য কবিতা লিখতে আমি নারাজ, আমি কবিতা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্য মনে করি, মনে করি সাধারণ মানুষ যে ভাষায় বুঝে এবং উপলব্ধি করে সে মাত্রায় না গেলে কোনো কবিতাই লোকপ্রিয়তা পায় না। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হইবার বাঞ্ছা হইলে আমি ঠিক সে রকমই কবিতা লিখতে চাইবো, যা বিদগ্ধ পাঠক নয় সাধারণ মানুষ পড়ে তাদের অনুভুতির বিচ্ছুরণ দেখবে সেখানে”
আপনি যখন বলতেছেন বোদ্ধা উজবুকদের জন্য কবিতা লিখবেন না। বেশ। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কবিতার মানে কী, কী কী কারণে বা বিশিষ্ট রুপের কবিতাকে আপনি সর্বসাধারণের জন্য কবিতা হয় বলে মনে করেন? সাধারণ মানুষ বলতেই বা আপনি কাদেরকে বলতেছেন? ‘সাধারণ মানুষ’ কোন বর্গের তারা? তাদের নিয়ে আগে একটু বলুন...( আমি আপনার অনেক মতামতের সাথে সহমত পোষণ করতেছি বলেই আপনার কাছে এতগুলা প্রশ্ন করতে মন চাইলো)।
”কবিসঙ্ঘ কিংবা কবিদের রাজনীতি, কবিতার রাজনীতি বিষয়টা প্রকট দেখলাম। কয়েকজন মানুষ নিজেদের পিঠ চুলকাতে চুলকাতে ঘা করে ফেলছে, সেইসব কবিতা বিষয়ে আমার মতামত, যদি মন না টানে তবে পড়বার প্রয়োজন নেই। তবে যদি ভুল করে পড়ে ফেলো, কবিতা বিষয়ে নিজের মতামত অকপট প্রকাশ করে ফেলাই ভালো”
কবিদের সংঘতে আপনার দেখা রাজনীতি যদি একটু বিশ্লষণ করেন প্রীতিবোধ করবো। পিঠ চুলকানোর ব্যাপারটায় ব্যাপক মজা পাইলাম।
”কবিতাকে কবিতা হয়ে উঠতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কবিতা থাকুক কবিতার মতো” এই কেমনে কী কিছুই বুঝতে পারতেছি। কবিতা কবিতার মতো হবে এই কথায় কী বোঝায়?
আমি কবিতা চর্চার সাথে জড়িত বলেই যে আপনাকে এতগুলা প্রশ্ন করলাম তা না। আমিও আপনার মতো পাঠক। তাই এতকথা।
ভাল থাকবেন। শুভ নববর্ষ।
লেখক বলেছেন: আলোচনা বিশাল হয়ে যাবে, এরপরও অল্প অল্প করে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে-
সঙ্ঘবদ্ধতার রাজনীতি অনেকটা আমাদের রাজনীতির মতোই, ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক, যেহেতু দলের কর্মীই কাজটা করেছে, সুতরাং আমাদের অন্ধ সমর্থন তার প্রাপ্য।
এমন রাজনীতির ফাঁদে কারোই উত্তরণ সবসময় সম্ভব হয় না। সে জায়গা থেকে দেখলে কবিতাকে যাচাই করবার একটা প্রয়োজন থাকে। আমি খুব কম কবিতা পড়ি, এখানে অনেকের কবিতাই আমি নিয়মিত পড়ে সময় নষ্ট করতে চাই না। এরপরও মাঝে মাঝে হাতে অখন্ড অবসর থাকলে কবিতা পড়ে সময় নষ্ট করতে যাই।
যেহেতু আমি সময় নষ্ট করে কবিতা পড়ছি, সুতরাং আমার সময়ের মূল্য আমিই নির্ধারণ করি। গোষ্ঠীবদ্ধতা যা দেখলাম, তাতে দেখা গেলো, এখানে কবিরাই কবিদের কবিতা পাঠ করে, একদল আছে, তারা বুঝি নাই, ভালো লাগছে, কোথায় যেনো স্পর্শ্ব করে গেলো, এইসব মন্তব্য করে যায় নিয়মিত।
কবিতার পাঠ কবির খাতা থেকে জনারণ্যে আসলেই বদলে যায়, একক অনুভব তখন সঙ্ঘবদ্ধ অনুভবের জবানী। সেখানে পাঠকের নিজস্ব জীবনঅভিজ্ঞতাও থাকে, কবিতার একএকটা দৃশ্য এবং এক একটা শব্দ পাঠকের অভিজ্ঞতাকে আক্রান্ত করে, তাকে ভাবতে শেখায়।
আমি এই জায়গাতে দাঁড়িয়ে বলছি, যখন কেউ এইসব দৃশ্য অভিজ্ঞতাকে নিজের সাথে মেলাতে পারে না, তখন নিজের সাথে বোঝাপড়ার জায়গা থেকে সে নিজেই ধরতে পারে না আদতে কবিতার অন্তর্নিহীত অর্থটা কি।
যেহেতু সে কবি এবং সমর্থক সুতরাং আপনার কবিতা আমি বুঝি নি কিংবা আপনার নিজস্ব এই চিত্রকল্প আমাকে স্পর্শ্ব করতে ব্যর্থ হলো না লিখে তাকে লিখতে বাধ্য করে, আমি যদিও বুঝি নি, তবে মনে হয় ভালো হয়েছে।
লেখক বলেছেন: কবিতাকে আমি কখনই আধুনিক, উত্তরাধুনিক চিরায়ত কিংবা প্রাচীন এমন কোনো ব্রাকেটে বন্দি করতে চাই না। এটা যারা কবিতা লিখছে তাদের নিজস্ব সংজ্ঞায়ন। আমরা আধুনিক কবিতার উত্তরাধিকার বহন করছি, আমাদের নিজস্ব কবিতা আধুনিকতার কাতারে পরে, আমরা উত্তরাধুনিক কবি, এইসব সংজ্ঞা পাঠক হিসেবে আমার দেওয়া না, আমি তাদের সংজ্ঞাকেই সত্য ধারণা করছি। তারা নিজেদের পয়মালকে কি উপাধি দিবেন, সেটা আমি নির্ধারণ করে দেওয়ার কেউ না। তারা যদি বাল ছাল কিছু একটা লিখে বলেন এটা উত্তরদক্ষিণ আধুনিক কবিতা, আমি তাদের কবিতাকে এভাবেই চিহ্নিত করবো। তাদের মাল তারা কিভাবে বাজারজাত করতে চাইছেন সেটা নিয়ে আমার বক্তব্য থাকে না কোনো,
লেখক বলেছেন: আমি হয়তো বাক্যে বুঝাতে পারবো না, জয় গোস্বামীর কবিতার প্রাথমিক পর্যায়, যখন জয় গোস্বামী শুধু লিটলম্যাগের জন্যই লিখতো, যখন জয় লিটল ম্যাগের কবি, তখনকার কবিতার সাথে তার পরবর্তী কবিতার তফাতটা খেয়াল করতে বলবো।
বেনুমাধব কিংবা পাগলী তোমার সঙ্গে কিংবা তার পরের কবিতাগুলোর ভেতরের জয় এবং প্রত্নজীব কবিতার জয়, আলাদা মানুষ। একটাতে অহেতুক দুর্বোধ্যতা আছে, সেটা হয়তো লিটলম্যাগ কবিতার নিজস্ব চাহিদার জায়গা। তারা বিশুদ্ধ সাহিত্য করতে চায়। তারা প্রচলিত সাধারণ মানুষের সাহিত্যকে নীচুজ্ঞান করে হয়তো। সুতরাং এই আরোপিত দুর্বোধ্যতার চর্চা নতুন কিছু নয়।
আমার নিজের শঙ্খ ঘোষ ভালো লাগে না, আমার পছন্দ নীরদ , অরুণ জয়। সেটা তাদের কবিতার সাথে আমার নিজের ভাববার ধরণ মিলে যায় বলেই। আমার ভালো লাগে না মহাদেব সাহা, কিংবা শামসুর রাহমান। এইসব পার্থক্য থাকবেই। মূলত বিষয়টা সেখানেই। আমি গাঁটের পয়সা খরচ করে শামসুর রাহমান কিনবো না, মহাদেব সাহা কিনবো না। কিন্তু আমি যতবার হেলাল হাফিজ পাবো কিনবো।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
”কবিতাকে কবিতা হয়ে উঠতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কবিতা থাকুক কবিতার মতো” এইটা কেমনে কী কিছুই বুঝতে পারতেছি না। কবিতা কবিতার মতো হবে এই কথায় কী বোঝায়? একটু খোলাশা করেন না..
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আমি আরো কিছু পর্যবেক্ষণ রেখেছি। সেগুলার উত্তর উত্তর এখনো পাই নাই। পাইলে আপনার সাথে আরো কথা বলা যাবে। অল্প অল্প করেই আপনি উত্তর দেন।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
কবিতা বিষয়ে আমার নিজস্ব বক্তব্য অনেক বার লিখেছি এখানে, অনেক বার আলোচনায় বলেছি।কবিতা হয়ে উঠবার কোনো শর্ত নেই, কবিতা শেষ পর্যন্ত কবির কলম থেকে উতরে গেলে সেটা পাঠকের নিজস্ব সম্পত্তি। সেইসব শব্দগুচ্ছ যা কবি নিজস্ব অভিজ্ঞতা কিংবা অনুভুতিকে প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছেন, সেসব শব্দ এবং অভিজ্ঞতার সাথে সাধারণ পাঠকের অভিজ্ঞতা এবং অনুভুতি মিলে মিশে গেলেই কবিতাকে আদর করে বরণ করে পাঠক।
আমি যা লিখছি সেটা কবিতা কি অকবিতা সেটা ঠিক করে পাঠক। আমি নিজের অনুভব লিখে যখন আমার নিজের ডাইরীতে টুকে রাখছি, সেটা কবিতা কি না এটা আমার নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা। তবে আমি যখন আর ১০ জনকে সেটা পাঠ করবার সুযোগ দিবো, তখন কবিতা হিসেবে সাধারণ মানুষ যা ভাবে সেটা হয়ে উঠটাই কবিতার অনিবার্য গন্তব্য হয়ে যায়। সেখানে মানুষ ছন্দ চায়, সাধারণ কিছু দৃশ্য আর অনুভব চায়। ছন্দহীনতাকেও হয়তো প্রশ্রয় দেয়। স্টাইল আর ফর্মা বাদ দিলে কবিতার অন্তর্গত ভাবনাই আসলে কবিতা। যা অনুবাদে কিংবা নিরেট গদ্যে পথ হারায় না।
ইন্টারএকটিভ কবিতা হয়তো হয়, কবি নিজে পাঠকের অংশগ্রহনের অবকাশ রাখেন, সেটা উপকারী কি অদরকারী এটা যে যে লিখছে তার তার নিজের বিষয়। আমি আমার নিজের অনুভবের জায়গা থেকে বলছি-
কবিতা হিসেবে কোনোটাই চিহ্নিত করা যায় না যতক্ষণ না অন্য একজন পাঠক এটাকে কবিতা হিসেবে গ্রহন করছে।
বরং মনে হচ্ছে আধুনিক -উত্তোরাধুনিক এগুলো একটা চলমান কাল যা ডিফাইন করা হচ্ছে কবিতার ধোয়াটে ভাবটাকে কিছুটা হলেও মুঠোবন্ধি করতে। নাহলে তো কালের নথি লিখা থাকবেনা।
সাধারণ মানুষ বা আমজনতা শব্দগুলো আমি কবি হিসাবে এবং অন্যত্র ব্যবহার করি না। কে সাধারণ? আর কেইবা অসাধারণ? কবিতার পাঠক একটি বহুবাচক শব্দ। তার মধ্যে রিক্সাচালক থেকে পরমাণু বিজ্ঞানী সবাই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মানুষকে বোঝানোর দায়টা সাবধানে নিলেই ভালো, কারণ মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। সত্যই তা পাপ।
আপনাকে নবর্বষের শুভেচ্ছা
লেখক বলেছেন: কবিতাকে চিহ্নিত করবার কোনো প্রক্রিয়া আসলে কি আছে? উত্তরাধুনিকতার কিছু প্রবনতা আছে, সেই প্রবনতা নতুন কিছু করবার কিংবা নতুন আঙ্গিক খুঁজে নেওয়ার তাড়নায় প্রচলিত কবিতার আঙ্গিক থেকে মুখ ফিরিয়ে পালাগীতি, লোকায়ত উপমা এবং আধুনিক উপকরণের মিলমিশ ঘটানো।
এই প্রবনতা মোটা দাগের প্রবনতা এবং এটা আমি বলছি না অবশ্যপালনীয় প্রবনতা। কবি শেষ পর্যন্ত লিখতে পারেন নিজের অনুভুতিই, নিজস্ব অভিজ্ঞতাকে নিজের দক্ষতায় শব্দের বুননে তুলে ধরতে পারেন। অভিজ্ঞতা তাকে শেখায় শব্দের কারুকার্য্যময় ব্যবহার। হয়তো কিছুটা অভিজ্ঞতাই হয়তো সাধারণের গ্রহনযোগ্য উপমাগুলোকে চিহ্নিত করতে শেখায়। এইসব পাঠ ও শিক্ষা কবিকে আত্মস্থ করতে হয় নিজের বলাটা যদি আরও বেশী মানুষের ভেতরে ছড়িয়ে দিতে চায় তবেই।
আমি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া, কাব্যালংকারদের জন্য কবিতা লিখি, শিক্ষিত ও বিদগ্ধ জনের জন্য কবিতা লিখি, যারা আমার কবিতা বুঝে না, তাদের এটা পড়বার প্রয়োজন নেই- এমন সাবধানবানী দিয়ে কবি যখন কবিতা লিখবার প্রচেষ্টা করবেন তখন সেটা হয়তো কবিতা হবে তবে সাধারণ মানুষকে সচেতন উপেক্ষা করে যাওয়ার যে সচেতন প্রয়াস সেটাও থাকবে কবিতার আঙ্গিকে ও উপমায়। আমি সাধারণ পাঠকের কাতারে দাঁড়িয়ে মিঁউ মিঁউ করে কিংবা গর্জন করে এর প্রতিবাদ করবো।
----------------------------------------------------------------------
স্ট্রিংয়ের ক্ষুদ্রকম্পনে পৃথিবী সৃষ্টি হলো,
তুমি আর এসইউ৩ এসইউ২ উ১
প্রেম, আমার মহাবিশ্ব,
তুমি আমার ২৫৬ মাত্রায় লুকিয়ে থাকা নির্লিপ্তি,
আমি তোমার প্রেমে ফিরে আসি চতুর্মাত্রিকতায়।
------------------------------------------------------------------------
আমি এমনটা চাইলেই লিখতে পারি, আপনি কিছু বুঝলেন?
না বুঝলেও এটা খারিজ করে দেওয়ার সামর্থ্য আপনার যদি না থাকে, যদি আপনার মনে হয় এটা আদতে সাধারণের বোধগম্যতার বাইরে একটা বিশিষ্ঠ শ্রেনীর জার্গন, তাহলেই হয়তো আমার এই কবিতা লেখার অপচেষ্টাটা স্বার্থক হবে।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
রাজনীতি কি শুধু দলের কর্মীদের ভেতরই থাকে? দলের বাইরে যারা থাকে তাদের ভেতর কী এর আঁচড় লাগেনা? সঙঘব্ধতার রাজনীতি কী এত সরল? কবিতাকে যাচাই করার প্রয়োজন কেন পড়ে? এর সাথে কী রাজনীতির সম্পর্ক নাই? ক্ষমতার সম্পর্ক নাই? আপনি কবিতা কম পড়েন, এটা দোষের কিছু নাই, আপনার দেখা ‘গোষ্ঠীবদ্ধতা’র অংশ কারা কারা? ( আমার ভেতর প্রশ্ন আসতেছে এইজন্য আপনারে প্রশ্ন করতেছি, মাইন্ড খাইয়েন না যেন)। আমি বোঝার চেষ্টা করতেছি আপনার কথা। আপনি হয়তো এইখানে কবিতা নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন, আমি দেখি নাই। এইজন্য এইসব নাবালেক প্রশ্নগুলা করতেছি কিছু মনে নেবেন না। ‘কবিতার পাঠ কবির খাতা থেকে জনারণ্যে আসলেই বদলে যায়, একক অনুভব তখন সঙ্ঘবদ্ধ অনুভবের জবানী। সেখানে পাঠকের নিজস্ব জীবনঅভিজ্ঞতাও থাকে, কবিতার একএকটা দৃশ্য এবং এক একটা শব্দ পাঠকের অভিজ্ঞতাকে আক্রান্ত করে, তাকে ভাবতে শেখায়’ আপনার এই সংঘবদ্ধ অনুভব কোন শ্রেণির? একজন রাজমিস্ত্রীর নিজস্ব জীবনঅভিজ্ঞতা যেমন আরএকজন চর্মকারের জীবনঅভিজ্ঞতা থেকে আলাদা, তেমনি শহরে যারা মুঠেমজুরের কাজ করে তাদের থেকে মোবাইলফোন কোম্পানীগুলাতে যারা কাজ করে তাদের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাহলে কবিতা কাদের অভিজ্ঞতার অংশ হবে?
’আমি এই জায়গাতে দাঁড়িয়ে বলছি, যখন কেউ এইসব দৃশ্য অভিজ্ঞতাকে নিজের সাথে মেলাতে পারে না, তখন নিজের সাথে বোঝাপড়ার জায়গা থেকে সে নিজেই ধরতে পারে না আদতে কবিতার অন্তর্নিহীত অর্থটা কি’ এই যদি হয় আপনার কবিতাবোঝাপড়ার জায়গা তাহলে কবিকে কী সব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে না?
লেখক বলেছেন: আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে এটা লিখেছিলাম, আলোচনা সেখান থেকে ভিন্ন খাতে চলে গেছে, তবে আকর্ষণীয় একটা জায়গায় চলে গেছে। সে জন্যই একেবারে আমার জায়গার বাইরে হলেও আলোচনাটা এগিয়ে যাক এমনটাই চাইছি।
কবিদের গোষ্ঠিভিত্তিকতার জায়গাটা আপনি যেখান থেকে দেখছেন, আমি সেখান থেকে দেখছিলাম না। সেটা এখানে আলোচনার পরিধির বাইরে চলে যাবে বলেই আমি সেই জায়গাটুকুর বাইরে গিয়ে আলোচনা করতে চাইছি বর্তমানে।
-------------------------------------------------------------------------
কবিতা যখন কবির অনুভব থেকে জনারণ্যে চলে আসে, তখনই কবিতার কিংবা শব্দের অনুভব বদলে যায়, এই জায়গায় রাজনীতি যেখানে সেটার সাথে কবিদের সঙ্ঘবদ্ধতার রাজনীতির তফাত আছে।
আমি কয়েকদিন আগে হঠাৎ শাহনাজ বেলী একটা গান শুনলাম টিভির ট্রেলারে। গানের বিষয়বস্তু একটু অদ্ভুত, তবে আকর্ষণীয় লেগেছিলো আমার কাছে-
দ্রব্যমূল্য কমার আগে দেশে আইসো না বন্ধু
গানটা একজন প্রবাসীর স্ত্রীর জবানীতে লেখা, প্রবাসী সিঙ্গাপুরে থাকে, তার উপার্জনের টাকা দেশে পাঠাচ্ছে, তবু স্ত্রীর আলমারিতে কোনো টাকা নেই, সুতরাং স্ত্রী তার স্বামীকে বলছে দ্রব্যমূল্য কমার আগে দেশে আইসো না।
আমি যে এই গানটা লিখেছে, তাকেও চিনি না, তার সামাজিক অবস্থানও জানি না। কিন্তু গানটা কিংবা গানের কথা বুঝতে আমার সমস্যা হয় নি। সেটা প্রবাসীর স্ত্রী যে জায়গা থেকে অনুভব করেছে, আমি হয়তো সে জায়গা থেকে অনুভব করি না। আমার কাছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, সামষ্টিক দারিদ্র এইসব সংবেদনের বাইরে নিজস্ব দৈনন্দিন জীবনে চাহিদার কাটছাঁটের জায়গায় চলে গিয়েছে। গোলামী করা সীমিত আয়ের মানুষ হিসেবে আমিও জানি মাসের শেষে আমার তহবিলে যা থাকে তাতে কাউকে আপ্যায়ন করতে গেলে নিজের মনের সাধ মেটানো যাবে না।
এটা আমার নিজস্ব মাপের আপ্যায়নের জায়গা।
---------------------------------------------------------------------------
কবিকে সবার অভিজ্ঞতার নির্যাস নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা কি আছে। মোটা দাগে সবার অনুভুতিই কাছাকাছি রকমের , কিংবা কবিতায় অনবরত যেসব বিষয়ের আনাগোনা, সেইসব অনুভবগুলো কি প্রতিটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণীগোষ্ঠী অনুভব করে না? নিজস্ব শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় হয়তো পরিশীলতার মানে তারতম্য হয়, কিন্তু আমাদের মানবিক অনুভবগুলো সামাজিক শ্রেণী বদলের সাথে সাথে এতটা বদলে যায় না কখনই।
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন:
আপনার এই লেখাটি এই ধরনের (Click This Link) লেখার জন্য অবশ্যই প্রজ্যোজ্য। এবং এই পোষ্টে যে পিঠ চুলকানি খুবই বিশ্রি। এখানে কবিতা তার সমস্ত শৈল্পিক রূয সহ রীতিমত ধর্ষিত। একই ব্যক্তি বিভিন্ন নিকে এসে কবিতা নিয়ে যে মতামত তুলে ধরছে তাতে মনে হচ্ছে কবিতা লিখতে এবং পড়তে হলে মানসিক ভাবে অসুস্থ হওয়া জরুরী।
এবং আপনার পোষ্টের বক্তব্যের সাথে আমার যে আংশিক দ্বিমত তা মুক্তি দার লেখায় এসেছে বলে পুনরাবৃত্তি করছিনা। বিশেষ করে ১০ নম্বর কমেন্টটির উত্তরের অপেক্ষায় আছি।
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন:
রূয= রূপ
রাসেল ( ........) বলেছেন:
মুক্তি মন্ডলের সাথে আলোচনার আগে আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু ঐ পর্যায়েই ছিলো, কতিপয় কবি, যারা পরস্পরের পরিচিত, তারা নিজেদের পিঠচুলকে, পিঠ খাবলে রক্তাক্ত করছে দেখলাম। তাদের প্রত্যেকের দেখলাম মন্তব্য করবার অনুগত পোষা কবিকূল আছে, তারাই বাহবা দিচ্ছে, তারাই আহা উহু করছে।তাদের কবিতা, কবিতা হয় না এমনটা আমি বলছি না, হয়তো হয়, তবে আমি যে কয়টা পড়লাম, তাতে আহা মরি আহা মরি মনে হলো না আমার কাছে। আমি সেই অনুভবের জায়গাটাতে গিয়ে মন্তব্য করে বুঝতে চাই না। কবিকে যদি সবাইকে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝাতে হয় তার ব্যবহৃত শব্দ ও উপমার অর্থ তবে সেটা কবির ব্যর্থতা।
আমি যতটুকু গ্রহন করতে পারবো সজ্জিত শব্দ থেকে, সেটুকুই কবির স্বার্থকতা, তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভব ততটা সরল ভাবেই তার লেখনীতে উঠে এসেছে বলেই আমার মতো অনভিজ্ঞ আমজনতা পাব্লিকও সেটা বুঝে উল্লসিত হচ্ছে।
সেটা যদি আমি সম্পূর্ণ গ্রহন করতে পারি এবং যদি আমার মনে হয় সুখপাঠ্য হয়েছে কবিতা, তাহলে আমি নিজেই আনন্দ নিয়ে কবিকে বাহবা দিতে ছুটবো।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
সম্মিলিত ভাবে সঙ্ঘবদ্ধতার একটা রীতি আছে, একই লিটলম্যাগের লেখকেরা, যারা নিজেরা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কিংবা নিজস্ব আবেগে লিটলম্যাগ ছাপায় এবং নিজেদের অনুভব ও উপলব্ধি লিপিবদ্ধ করতে চায়- এই লিটলম্যাগের পোষা লেখকদের ভেতরেও গোষ্ঠিবদ্ধতার ভুত আছে।'ক' লিটলম্যাগের সাথে 'খ' লিটলম্যাগের বৈরিতা হয়তো সম্পাদকদের নিজস্ব ব্যক্তিগত হিংসা ও দ্বেষ। কিন্তু গোষ্ঠিবদ্ধতার রাজনীতি মেনে 'ক' এর অনুগত লেখককুল এবং 'খ' এর অনুগত লেখককুল পরস্পরের প্রতি যেসব ঘৃণার চর্চা করতে থাকে এবং নিজেদের অংশভুক্ত কবিদের প্রতি যে উদারতা দেখায়, সেসব প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া থাকেই।
আমি লিটলম্যাগের কর্মী ছিলাম না কখনও, তাই কোনো লিটলম্যাগ কর্মী যদি এটাকে ব্যক্তিগত আক্রমন হিসেবে গ্রহন করে তাহলে বিপদ। আমি শেষ বার একটা লিটলম্যাগের সম্পাদকীয় পড়লাম, 'গ' একটি পত্রিকা যা সাহিত্যকে বাজারের পন্য করে তুলেছে, তারা মুড়ি আর কবিতার ভেতরে তফাত করতে পারে না, পাঠক যেনো বাংলাদেশের চলমান কবিতা ও সাহিত্যকে উপলব্ধি করতে পারে তাই এই লিটলম্যাগ প্রকাশের প্রচেষ্টা নেওয়া হলো টাইপ বক্তব্য লেখা।
-----------------------------------------------------------------------
এই যে অহেতুক নিজেদের পছন্দ অপছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এটার প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া- এটা পরবর্তী সংখ্যাগুলোতে হয়তো দেখা যেতো।
কিন্তু পয়সা দিয়ে কিনে মানুষের কুৎসা পড়বার আগ্রহ হয় নি বলে জানা গেলো না আদৌ 'ক' কিংবা 'খ' কিংবা 'গ' কিংবা 'ঘ' আদতে কারা মূল বাংলা সাহিত্যকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
রুবেল শাহ বলেছেন:
আপনি কবি ও কবিতা কে কি ভাবে তুলে ধরতে চাইছেন ................. ?
লেখক বলেছেন: আমি শব্দগুলোর ভেতরে কোনো অর্থ স্থাপন করতে ব্যর্থ হলাম বলা যায়।
আমি কবি ও কবিতাকে কিভাবে তুলে ধরতে চাইছি?
আমি, কবি ও কবিতা, কে কি ভাবে তুলে ধরতে চাইছি?
আমি , কবি ও কবিতা, কে কিভাবে তুলে ধরতে চাইছি?[ কিন্তু আমি কাকে তুলে ধরতে চাইছি?কিংবা কবি ও কবিতা কি আমাকে তুলে ধরবার চেষ্টা করছে?]
তাদের কবিতা, কবিতা হয় না এমনটা আমি বলছি না, হয়তো হয়, তবে আমি যে কয়টা পড়লাম, তাতে আহা মরি আহা মরি মনে হলো না আমার কাছে। আমি সেই অনুভবের জায়গাটাতে গিয়ে মন্তব্য করে বুঝতে চাই না। কবিকে যদি সবাইকে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝাতে হয় তার ব্যবহৃত শব্দ ও উপমার অর্থ তবে সেটা কবির ব্যর্থতা।
আমি যতটুকু গ্রহন করতে পারবো সজ্জিত শব্দ থেকে, সেটুকুই কবির স্বার্থকতা, তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভব ততটা সরল ভাবেই তার লেখনীতে উঠে এসেছে বলেই আমার মতো অনভিজ্ঞ আমজনতা পাব্লিকও সেটা বুঝে উল্লসিত হচ্ছে।
সেটা যদি আমি সম্পূর্ণ গ্রহন করতে পারি এবং যদি আমার মনে হয় সুখপাঠ্য হয়েছে কবিতা, তাহলে আমি নিজেই আনন্দ নিয়ে কবিকে বাহবা দিতে ছুটবো।"
---------------------------------
আপনার এই কথাটা আমার ভালো লাগছে। আমি একমত।
----------------------------------------------------------------------------
"স্ট্রিংয়ের ক্ষুদ্রকম্পনে পৃথিবী সৃষ্টি হলো,
তুমি আর এসইউ৩ এসইউ২ উ১
প্রেম, আমার মহাবিশ্ব,
তুমি আমার ২৫৬ মাত্রায় লুকিয়ে থাকা নির্লিপ্তি,
আমি তোমার প্রেমে ফিরে আসি চতুর্মাত্রিকতায়।"
-----------------------------------------------------------------------------
আমি আপনার এই কবিতাকেও কবিতা হিসেবে মেনে নিলাম। কারন মানুষের কথাই কবিতা। আমি এটা ভাবতে ভালবাসি।
একজন কবির সব কবিতা সব মানুষের জন্য কখনই হয়না। সব পাঠকের জন্য কখনই হয়না বরং এটা ভালো শুনাবে। যে আপনার কবিতার টিউনটা আপনার কথাটা আপনার মেসেজ টা ধরতে পারবে তার জন্যই মনে করবেন কবিতা। তাছারা একজন কবি একজন স্রষ্টা সে যা লিখবে তার কাছে সেটা কবিতা মনে হলো কিনা সেটাই বড় ব্যাপার। খারিজ করবে পাঠক। আর এই খারিজ করাটাকে যে মেনে নিতে পারেন সেই কবি।
আর যারা পারবেন না তাদেরকে আমি কবি বলতে পারবোনা বা পারিনা। ওখানে বোধ করি আপনার পিঠ চুল্কানির ব্যাপারটা চলে আসে।
লেখক বলেছেন: বিশেষায়িত জার্গন কিংবা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর পাঠকই এই বিষয়টা বুঝতে পারবে এমন জায়গা থেকে কবিতা লেখে সম্ভব এমনটা হতে পারে হয়তো।
আমি মুগ্ধ হয়ে ফলিয়ার্স দেখলাম, শুভ্র তুষার দেখলাম, সন্ধ্যা হওয়ার আগে তুষার পড়ছে, সেই তুষারে গায়ে গোধুলীর রং দেখলাম, কমলা আভায় আলোকিত তুষারের দৃশ্য আমাকে মোহিত করলো,
আমি বাংলার বর্ষায় লিখলাম সেই অনুভব- আহা কি চমৎকার দৃশ্যই না ছিলো সেদিন, গোধুলীভাস্কার সেই তুষারপাতের দিনে-
------------------------------------------------------------------------------
কনকনে শীত বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তুমি আমি দিনের শেষ বাসে লাফিয়ে উঠলাম, হয়তো আমাদের কোনো গন্তব্য ছিলো না, তোমার কিংবা আমার বাসার পথে আমরা থামি নি, থেমেছি অন্য কোথাও, বৃষ্টির কারাগারে বন্দি হয়ে পরস্পরের ঠোঁটে উষ্ণতা খুঁজছি তখন,
পথ পেরুবার কিছু নেই, গন্তব্য জানা তবু যাওয়ার উপায় জানা নেই, কোথাও পৌঁছাতে হবে এমন কথা নেই কোনো, এই পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া হয়তো এমনটাই জীবনের মানে।
--------------------------------------------------------------------------
কিন্তু এই পাঠটাই আমি বদলে বললাম এভাবে-
হিমাংকের নীচে নেমে গেলো পারা, শিশিরাংক ছিলো ৩১, সন্ধ্যা তখনও ঘনায় নি, আর বাতাসের জলীয় বাষ্প সব অবলীলায় জুড়ে যাচ্ছিলো পরস্পরের সাথে, একএকটা অনু পরমাণু জুড়ে জুড়ে একটা একটা বৃষ্টির দানা,
মাটিতে নামতে নামতে সেসবের তারল্য নেই কোনো, ফেনা হয়ে যাচ্ছিলো সব আর প্রিজম নয় সেই বৃষ্টির ফেনাতে প্রতিফলিত হচ্ছিলো ৬১২৩ ন্যানোমিটার তরঙ্গ, আমরা তাকে কমলা নামে জানি, কমলা ফেনার মতো তুষার পড়ছিলো সন্ধ্যার আগে আগে।
তুমি শর্করা পুড়িয়ে হাঁটছিলে আর আমি চর্বির স্তুপ হয়ে বসে ছিলাম, এমন সময় হিমাংকের উপরে গেলো পারা আর তুষার বদলে গেলো কনকনের বৃষ্টিতে- পেট্রোল পুড়িয়ে আসছিলো বাস,
-----------------------------------------------------------------------
তফাত কি বুঝা যায় কিছু?
তফাত কবিতা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে
তফাত ভাব বিন্যাসে
তফাত শব্দ খেলায়
সবচেয়ে বড় তফাত একটা ভাঙ্গাগড়ার খেলায় একটা ঝাকি দেয়াতে।
আর মিল সবটাই কবিতা।
যে সংখ্যা এখানে ধারন করেছেন, সেটাকে অনেকেই বলে উত্তোরাধুনিক কবিতার ধারা। কিন্তু আমি তো ভাই আগেই বলেছি ওসব উত্তোরাধুনিক , আধুনিক এই ব্যাপার গুলো জাষ্ট একটা কাল হিসেবে দেখি একটা সময়ের ষ্টাইলকে নথি করে রাখার জন্য। আরো খোলাসা করে বলি-----------------------
ধরুন অনেক অনেক অনেক বছর পর কেউ যদি বলে এই কালের ২০০৯ এর কবিতারা কেমন ছিল তা বের করো। তখন ২০০৯ না যে সেলফে আধুনিক কবিতার ট্যাগ লাগানো থাকবে তখন সেখান থেকে সব বের করে আনবে। আমি এই ব্যাপারটা বাইন্ডিং ছাড়া কিছু বুঝিনা।
আমি যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে---- কবিতা হচ্ছে একজন কবির ষ্টাইলএর কথা বলে। ভাঙ্গার কথা বলে, নতুন কিছু গড়ার কথা বলে।
নীচের কবিতাটা আমি ধরে নেব কবিতা লেখনিতে একটা ভাঙ্গা গড়ার খেলা। যেটা এখন অনেকে মেনে নিবেনা কিন্তু একদিন সেটাও সাবলিল ভাবে গ্রহন করা হবে।
লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু আমার নীচের লেখাটা কিংবা উপরে হাবিজাবি যা লিখলাম সেটাকে কবিতা ভাবি না। এমন কি যদি আমি কখনও কোনো কিছুকে কবিতা হিসেবে উপস্থাপিত করতে চাই, তবে আমি সে দুটোকে কখনই তালিকাভুক্ত করবো না।
সেটা আমার নিজের কাছেই বালছাল , বেহুদা লিখতে হচ্ছিলো বলে লিখলাম, এটা আমার লেখা কোনো কবিতা না, কিংবা এসব আমার লেখা কোনো কবিতার অংশও হতে পারবে না কোনো সময়।
আমার কাছে কবিতা কোনো মেসেজ না, আমি ধর্মবেত্তা না, আমি কাউকে উপদেশ দিতে কিংবা করণীয় সম্পর্কিত কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দিতে কবিতা লিখছি না। কিংবা আমার সময়ের রাজনীতি সেটা সমর্থন করে না। আমার যৌবন কিংবা আমার তারুণ্য আমাকে দ্রোহ শেখায় নি, যে আমার রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমার বসবাস এবং আমার বেড়ে উঠা, সেইসব সময়ের আঁচ আমার কবিতায় হয়তো থাকবে, তবে আমি কবিতাকে নিছক কবিতা হিসেবেই দেখি, নিছক কয়েকটা শব্দ, কয়েকটা পঙক্তি, সেটা শ্লোগান নয় সেটা সমাজ বদলের হাতিয়ার নয়।
সেটা হয়তো আমার কিছু বলবার তাগিদ থেকে আমি লিখে ফেলি, কিন্তু সেই বলাটা কোনোভাবেই সারমন নয়, আমি নিজের অবস্থান থেকে দেখছি ভাবছি, এবং এই দেখা এবং ভাবাটাই আমার বাস্তবতা, কবিতা বিষয়ে আমার অবস্থানও একই রকম জায়গা থেকে তৈরী হচ্ছে।
আমি নিজে কোনটাকে কবিতা বলছি এবং কেনো বলছি সেটা হয়তো আমার নিজের কাছে পরিস্কার, আমার নিক্তিতে কোন ধাঁচের শব্দসজ্জাকে কবিতা বলবো আমি সেটা আমার কাছে স্পষ্ট, কিন্তু অন্যরা যখন কোনো কিছুকে কবিতা বলছে, তারা কি ভেবে এটাকে কবিতা বলছে, সেটাও জানতে আমি আগ্রহী, কারণ শেষ পর্যন্ত কবিতা ও অকবিতা এবং নাকবিতার ভেতরে পার্থক্য খুবই কম।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আমি আপনার কমেন্টগুলা নিয়ে পরে প্রশ্ন তুলবো। আরো কিছু জিজ্ঞাসা ছিল। (কারেন্ট না থাকার কারণে দেরি হলো)। একজন পাঠক যখন বলে আমার ভাল লেগেছে বা মন্দ লেগেছে, এই সে বলতেছে এইটা তার ভাল বা মন্দ লাগলো এইটা কী একজন্ পাঠকের নিজস্ব হতে পারে? তার ভাল লাগা বা মন্দ লাগা তৈরি হচ্ছে কোন ভর কেন্দ্রকে ভর করে? পাঠক যে পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে, যে সংস্কৃতিতে সে বড় হচ্ছে বোধ তৈরি হচ্ছে তার কী তার শ্রেণি অতিক্রম করতে পারে? ‘কবিতাকে আমি কখনই আধুনিক, উত্তরাধুনিক চিরায়ত কিংবা প্রাচীন এমন কোনো ব্রাকেটে বন্দি করতে চাই না’
তাহলে আপনি কিভাবে দেখবেন কবিতাকে? কোন চিহ্নের আবরণে বা কোন ধারণার কফিনে আপনি কবিতা ফিট করবেন? কবিতাকে তাহলে আপনি কিসের সাপেক্ষে বলবেন ভাল বা মন্দ? পাঠকের কী তাহলে কোন এঙ্গেল বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে না? যদি থাকে, তাহলে তা কী তার কবিতা পাঠের পরিসরকে তা কী প্রভাবিত করে না?
এই যে আপনে বললেন ‘বাল-ছাল’ লিখে বলে এইটা ওমক-তমক, এই যে আপনি তুলনা করার পরিসর তৈয়ার করলেন, এইটা কোন প্রেক্ষিতকে আমলে নিয়ে করলেন?
আপনি জয় গোস্বামীর কবিতার কথা বলেছেন, আপনার কাছে তাঁর কবিতার তুলনামূলক কোন আলোচনার লিংক থাকলে জানাইয়েন। বাধিত থাকবো। তাঁর বর্তমান কবিতা আমার কাছে ভাল লাগেনা। এই না-ভাল এখানে আমি শেয়ার করতে চাইনা। কখনো যদি সময় হয় আপনের সাথে আলোচনা করবো।
’আমার নিজের শঙ্খ ঘোষ ভালো লাগে না, আমার পছন্দ নীরদ , অরুণ জয়। সেটা তাদের কবিতার সাথে আমার নিজের ভাববার ধরণ মিলে যায় বলেই। আমার ভালো লাগে না মহাদেব সাহা, কিংবা শামসুর রাহমান। এইসব পার্থক্য থাকবেই। মূলত বিষয়টা সেখানেই। আমি গাঁটের পয়সা খরচ করে শামসুর রাহমান কিনবো না, মহাদেব সাহা কিনবো না। কিন্তু আমি যতবার হেলাল হাফিজ পাবো কিনবো’
এই যে আপনার একজনের টা ভাল লাগছে আর জনেরটা ভাল লাগছে না। আপনার সেটা ভাল না লাগতেই পারে। যেমন শামসুর রাহমান অসংখ পাঠকের প্রিয় কবি। তিনি কবি শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশের। এই যে আপনার সাথে ব্যাপক পাঠকের ফাকার হচ্ছে, এইটা কী কারণে হচ্ছে, শুধু ভাববার ধরণ মিলে যাবার কারণে? নাকি অন্য কোন স্কুলিং এর প্রভাব?
সেই ক্ষেত্রে লাবণ্য প্রভার সাম্প্রতিক কবিতায় যারা বাহবা দিচ্ছে, সেখানে আপনি তাদের দ্বিমত পোষণ করছেন। যারা তাকে বাহবা নিশ্চয় তাদের ভাল লাগছে। ( আমি উদাহরণ হিসেবে তুললাম, এইটারে অন্যভাবে নেবেন না)। আমি আপনার সাথে কথা বলে, মানে প্রশ্ন করে মজা পাচ্ছি।
‘কবিতা হয়ে উঠবার কোনো শর্ত নেই, কবিতা শেষ পর্যন্ত কবির কলম থেকে উতরে গেলে সেটা পাঠকের নিজস্ব সম্পত্তি। সেইসব শব্দগুচ্ছ যা কবি নিজস্ব অভিজ্ঞতা কিংবা অনুভুতিকে প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছেন, সেসব শব্দ এবং অভিজ্ঞতার সাথে সাধারণ পাঠকের অভিজ্ঞতা এবং অনুভুতি মিলে মিশে গেলেই কবিতাকে আদর করে বরণ করে পাঠক’
কবিতা হয়ে ওঠার আসলেই কী কোন শর্ত নেই? এই যে বলতেছেন ‘উতরে’ যাওয়া এইটা আমরা কিভাবে বুঝবো? কোন নিরিখে এইটারে ধরবো? কোন বোধ দিয়ে তাকে আটকাবো? পাঠকের অভিজ্ঞতার সাথে তো একজন কবির অভিজ্ঞার মিল থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে, তাই না? যদি মিল থাকে তো ভাল, না থাকলে ওই কবির কবিতার কী হবে? কোন সামিয়ানার তলে এই কবিতা দাঁড়াবে তাহলে?
’আমি যা লিখছি সেটা কবিতা কি অকবিতা সেটা ঠিক করে পাঠক। আমি নিজের অনুভব লিখে যখন আমার নিজের ডাইরীতে টুকে রাখছি, সেটা কবিতা কি না এটা আমার নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা। তবে আমি যখন আর ১০ জনকে সেটা পাঠ করবার সুযোগ দিবো, তখন কবিতা হিসেবে সাধারণ মানুষ যা ভাবে সেটা হয়ে উঠটাই কবিতার অনিবার্য গন্তব্য হয়ে যায়’
এখানে সাধারণ মানুষ নিয়েই আমার যত গন্ডগোল হচ্ছে। এই সাধারণ মানুষ এরা কারা? জয়ের কবিতা যারা পড়েন, ভাল লাগে যাদের তারা কি সাধারণ মানুষ? একজন কাঠমিস্ত্রী তো জয়ের কবিতা পড়েনা, পড়লে বুঝবে কী না আমার জানা নাই। কিন্তু লালনের গান বা হাসনের গান তো তারা বোঝে। এই সমস্যা গুলারে কিভাবে আমরা দেখবো?
‘কবিতা হিসেবে কোনোটাই চিহ্নিত করা যায় না যতক্ষণ না অন্য একজন পাঠক এটাকে কবিতা হিসেবে গ্রহন করছে’
আমিও এইটারে মান্য করি। কিন্তু এই পাঠকুলকে আমি একই শ্রেণিভূক্ত করতে পারিনা। আসলে সব পাঠকই আসলে একই শ্রেণিভূক্ত হতে পারে? শামসুর রাহমানের পাঠক আর জয়ের পাঠকের মধ্যে পার্থক্য নাই? এই পার্থক্য কিভাবে তৈরি হচ্ছে সেইটা মনে হয় জানার দরকার আছে।
লেখক বলেছেন: আমারও প্রশ্ন কিন্তু এ জায়গাটাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে,
আমি কবিতা লিখি না, আমি পাঠক হিসেবেই কবিতাকে উপভোগ কিংবা ভোগ করি।
আমি কি নিজেকে আমজনতা বলতে পারি? সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি নিজেকে দাবি করতে পারি? আমার নিজের ধারণা আমি এমন কোনো হ্যাডম না যে আমি সাধারণের কাতার থেকে উপরে উঠে গেছি, আমি শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ মানুষ, যে নিজের সময় বেচে জীবিকা নির্বাহ করে, আমি জমিদার নন্দন না, আমার নিজের যা বেচবার আছে আমি সেটা বেচেই খাচ্ছি, ঘুরছি, যেহেতু ঘরে একটা ইন্টারনেট কানেকশন আছে, সুতরাং এখানে আহা উহু করছি, বাকবিতন্ডা করছি,
এই বাকবিতন্ডা করবার জন্য আমার মাসিক একটা অর্থ এখানে বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। এর বাইরে অন্য সব সাধারণের সাথে আমার পার্থক্য নেই।
এরপরও পাঠক এবং পাঠকের ভেতরে রুচির পার্থক্য তৈরি হয়ে যাচ্ছে, মানসিকতার গড়ন কিংবা শব্দ ও দৃশ্যকাব্য যা কবি নির্মাণ করে, সেসবকে আত্মস্ত করবার বিষয় আছে। শামসুর রাহমান জয় গোস্বামীর তুলনায় বড় কবি কিংবা ছোটো কবি সেসব বিতর্ক নেই কোথাও।
আমি উপভোগ্য মনে করি, আমার কাছে এর নিজস্ব ব্যখ্যা আছে। তেমন ভাবেই যারা এসব কবিতাকে উপভোগ্য মনে করে না, তাদেরও নিজস্ব নিক্তি আছে, সেই নিক্তিতে মেপেই তারা এইসব সিদ্ধান্তে আসছে।
আমি কিন্তু কোথাও বলছি না অমুকে কবিশ্রেষ্ঠ, তাকে সবার দাম দিতেই হবে। আমি আমার নিজস্ব পছন্দ এবং অপছন্দকেই সামনে তুলে আনছি, বিবেচনার সময় আমি একজন সাধারণ পাঠক হিসেবেই সামনে আসছি।
অন্য একজন যখন কোনো কবিতাকে ভালো বলছে, সে তার নিক্তিতে মেপেই কথাটা বলছে, এমনটা খুব কমই হয় যে উপভোগের জায়গাটাতে একটা সাধারণ ঐক্য হয়তো রয়েই যায়। যেটা একজন উপভোগ করছে কবিতা হিসেবে জানছে এবং বলছে। ধরেন
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়-
এটাকে হয়তো অনেকে পছন্দ করবে না, কিন্তু এটাকে কেউ বালকবিতা বলে ফেলে দিবে না।
ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাবো-
এমন শ্লোগানধর্মী কবিতা এখন লিখবে না কেউ, কিন্তু সময় বদলালেও এই দ্রোহ কিংবা ক্ষোভকে অস্বীকার করলেও কেউ কি এটাকে অপকবিতা বলবে?
আমি একটা কবিতা পড়েছিলাম সম্ভবত হাসান হাফিজের
হে আমার দেশ নদীমাতৃক শেয়ালে কুকুরে তোকে শেষ করে দিক।
সেটা পাঠক কিভাবে উপলব্ধি করছে, পাঠক কি এই ক্ষোভটাকে উপলব্ধি করতে পারছে? এই ভাবের সঞ্চালনটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা বিষয়টাকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি অল্প, মমতাজের গানে কিংবা শাহনাজ বেলীর গানে কিংবা লোকগীতির গীতিময়তাকে কেউ অস্বীকার করতে পারছে না। আমি তার ভোক্তা নই, কিংবা আমার সীমিত গানের কালেকশনে মমতাজের গান স্থান পায় না কারণ আমি তার গান খুঁজে শুনি না, কিন্তু তার গান শ্রবণঅযোগ্য এমন প্রচারণা আমি চালচ্ছি না। মমতাজের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার অবস্থান আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয় না।
পাঠকরুচির বিষয় হয়তো আছে, তবে আবুল হাসানের কবিতা বিষয়ে আলোচনায় আসি যদি তাহলে কি আমরা এইসব কবিতার স্বাদ আস্বাদন করতে গিয়ে খুব বেশী অসস্তিতে পড়বো?
আমরা বলতে শুধুমাত্র সেই শ্রেণীকেই আমি বলছি, যারা অন্তত শব্দভান্ডারে ন্যুনতম ৩০০০ শব্দ নিয়ে ঘুরে এবং যারা বানান করে নয় বরং অনায়াসে পড়তে পারে তাদের নিয়েই আলোচনা। বানান করে যারা কবিতা পড়বে তাদের আমি সাধারণ জনতা ভাবলেও ঠিক কবিতার পাঠক ভাবি না।
হাইফেন বলেছেন:
গুরু, আপনে তো দেহি চরম বস। খুব ভাল্লাগচে। এইডারে প্রিয়পুস্ট করলাম।@মুক্তিমন্ডল, খুচাডা একেবারে বুকে যাইয়া বিনছে নাকি দাদা?তুমি একলা ক্যান, তুমার দোস্ত আন্দালীভ কুতায়? দুইজনে যে বালছাল লেখ, হম্বিতম্বি দেইহা মনে অয় একজন বুদ্ধদেব, অন্যজন জীবনানন্দ।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
কবিতাকে সূত্রবদ্ধ করার চেষ্টা, চোখের জলে ইলিশ মাছ চাষ-উদ্যোগ সমার্থক।
@ হাইফেন: বুদ্ধদেব এবং জীবনানন্দ, জীবনে চর্মচক্ষে দেখা মিলছেনি?
মুক্তি এবং আন্দালীবের মত দুইখান বাল-ছাল দেখি আপানার লেখনি থেইক্যা। নাইলে ধইরা নিতে হবে, আপানের সব বাল হাওয়ায় উইড়া গেছে আর জিপারের ঘসায় ছর, প্লাস্টিক দিয়া ঢাইক্যা রাখতে হয়, মাছি যাতে না বয়।।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ঘসায় ছর >>>> ছর নাই,
হাইফেন বলেছেন:
@কাকশালিখচড়াইগাঙচিল , বস তুমার নিকখান সোন্দর, মাগার তুমি লুক ভালা না। শুনো বস, আমি সামুতে আইচি পড়তে, ল্যাহা আমার কম্ম না, পারিও না। তয়, যারা লেখবার পারে তারা এইসব বাল-ছাল লেখলে সেইডা আমি কইতেই পারি, তুমি দূরে গিয়া মর।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
হাইফেন আপনি দেখি আপনার নামের মতই আচরণ করতেছেন। আপনাকে আমি এই প্রথম দেখলাম, আগে আপনার সাথে কখনো কোন কথা হয়েছে কী-না মনে পড়ছে না। তার মানে আপনি আমার লেখা জোখা পড়েছেন, আমি 'বালছাল' লিখি এইটা কিভাবে সনাক্ত করলেন? আপনি যে ভাষা ব্যবহার করলেন এইখানে এইটা দিয়ে বোঝা যাচ্ছে আপনে কী জিনিস। আপনাকে গোনায় নেওয়ার কোন পরিসর আমার নেই।
সরি, রাসেল। আপনার এইখানে এই জিনিস নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
সোকাল অ্যাফেয়ারের পর তথাকথিত উত্তরাধুনিকতা একটা ঠাট্টার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। ব্যাঘ্রছাল নিয়ে বসে থাকা অনেক শেয়ালকেই দেখেছি, এবং দেখেছি তাদের চক্রস্বমেহনমাতাল চাটুকারবৃন্দকে... এরা অনেক কিছু বোঝে, কিন্তু কী বোঝে তা জানাতে পারে না কিছুতেই, টার্মসর্বস্ব বুলি আওড়াতে থাকে।অস্কার ওয়াইল্ডের একটা কথা আমার খুব পছন্দের: "অল আর্ট আর কোয়াইট ইউজলেস"।
রাজামশায়ের ন্যাংটো হবার সেই কাহিনীটি দেথতে পারেন:
http://en.wikipedia.org/wiki/Sokal_affair
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
@হাইফেন, আমিতো লুক ভালা না, সেটা প্রমাণিত। কিন্তু ব্যক্তি আক্রমন কেন বস??????
আমি দূরে গিয়া মরুমনে কুনু চিন্তা নাই কিন্তু মুক্তি এবং আন্দালীবের লেখা পড়ি ত আমি, সেটা বাল-ছাল কইলে, মুনায় পার্টি, সাহিত্যের লেখাপরা একেবারে নাই। বিষয়ডা এরুম যে, কবিতা মনে হয় সবাকেই বুঝতেই হইব, সেটা একটা প্রক্রিয়া, অধ্যয়ন, যেমন ইন্টারনেট না চালাইতে জানলে, ব্লগানি যাবে না।
ইন্টারনেট চালানি ত ব্লগানি না, কিন্তু সেটা দরকার, ব্লগানির জন্য।
আমার শেষ কয়টা লাইনের অর্থ উদ্ধার করতে পারলেই হবে। যাইহোক, এই পোস্টা এই প্রকার কথা কইয়া নষ্ট কইরালাভ নাই।
হাইফেন বলেছেন:
@মুক্তি দাদা , আমারে তুমার গুণা লাগবোনা, তুমি তোমার আঙ্গুলই গুণো। তুমার কয়েকখান ল্যহা পড়চি, তহন ভিজিটর আচিলাম, আগেও কইচি ল্যাহা আমার কাম না। আমি পড়ার জন্যেই সামুতে রেজিস্ট্রি করচি।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
@ট্র্যানজিস্টার । অস্কার ওয়াইল্ডের আরেকটা উক্তিও আছে, " শোন, শিল্প-সাহিত্য হেজি-পেজি, কামার-মজুরের জন্য নয়"।
বলাইবাহুল্য কামার-মজুর বলতে, তিনি আক্ষরিক অর্থ বোঝান নি।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল: মূল উদ্ধৃতিটা একটু দেবেন? ওয়াইল্ড আমার অতি প্রিয় একজন লেথক+কবি+ঔপন্যাসিক...
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
@ট্র্যানজিস্টার । তিনি সেটা তার এক বন্ধুকে বলেছিলেন, কোনও একটা চিঠিতে। যখন ওয়াইল্ড ভীষন মঞ্চ সফল নাটকের পরও, সমকামীতা, অশ্লীলতা ইত্যাদির দায়ে অভিযুক্ত হলেন, তখনকার সেই কথা।
ঠিক ঠিক পুরো বিষয়টা জানাতে হলে আমাকে খুঁজে বার করতে হবে সেই বই পাব্লিক লাইব্রেরী থেকে। চেষ্টা করব। তবে ২/৩ দিনের মধ্যে হবে না বোধহয়।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
আচ্ছা। ওয়াইল্ডকে মেয়েলিপনার দায়ে পোলাপান একবার নদীতে চুবিয়েছিল, পড়ে মজা পেয়েছিলাম। সমকামিতার কথা বললেন যখন একটা মজার কথা বলি, হুইটম্যান সমকামী কি-না, অস্কার ওয়াইল্ড ঘুরে আসার পর এটা তাকে জিজ্ঞেস করলে ওয়াইল্ড জবাব দিয়েছিলেন, কথিত আছে, "I have the kiss of Walt Whitman still on my lip"হাহাহাহাহা
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
‘আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে এটা লিখেছিলাম, আলোচনা সেখান থেকে ভিন্ন খাতে চলে গেছে, তবে আকর্ষণীয় একটা জায়গায় চলে গেছে। সে জন্যই একেবারে আমার জায়গার বাইরে হলেও আলোচনাটা এগিয়ে যাক এমনটাই চাইছি’
এটা কোন ব্যাপার না। আলোচনা হচ্ছে সেটা জরুরী, আমার ভাল লাগছে।
’কবিদের গোষ্ঠিভিত্তিকতার জায়গাটা আপনি যেখান থেকে দেখছেন, আমি সেখান থেকে দেখছিলাম না’ আমি কিন্তু কোন গোষ্ঠীর ভরকেন্দ্রে দাঁড়ায়ে আপনের সাথে কথা বলছিনা। আমার এখনো কোন গোষ্ঠী নাই। কালকে হবে কী-না তা জানিনা।
-------------------------------------------------------------------------
’কবিতা যখন কবির অনুভব থেকে জনারণ্যে চলে আসে, তখনই কবিতার কিংবা শব্দের অনুভব বদলে যায়, এই জায়গায় রাজনীতি যেখানে সেটার সাথে কবিদের সঙ্ঘবদ্ধতার রাজনীতির তফাত আছে, তা আছে তফাত। কিন্তু কবির অনুভব যখন জনারণ্যে চলে আসে তখন কী তা শ্রেণি নিরপেক্ষ ভাবে থাকেনা? মমতাজের গান যখন আমরা শুনি তখন কী তা সবার অনুভব রুপে থাকে? তা তো একটা শ্রেণি কে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই না? সেইরকম তো কবিতার ক্ষেত্রেও ঘটে। নাকি ঘটে না? একই দাঁড়ি পাল্লা দিয়ে তা কী পরিমাপ করা সম্ভব?
---------------------------------------------------------------------------
’কবিকে সবার অভিজ্ঞতার নির্যাস নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা কি আছে। মোটা দাগে সবার অনুভুতিই কাছাকাছি রকমের , কিংবা কবিতায় অনবরত যেসব বিষয়ের আনাগোনা, সেইসব অনুভবগুলো কি প্রতিটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণীগোষ্ঠী অনুভব করে না? নিজস্ব শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় হয়তো পরিশীলতার মানে তারতম্য হয়, কিন্তু আমাদের মানবিক অনুভবগুলো সামাজিক শ্রেণী বদলের সাথে সাথে এতটা বদলে যায় না কখনই’
কবিকে সবার অভিজ্ঞতার নির্ষাস নিতে হবে সেটা আমি বলতে চাইনি। আপনার কথার প্রেক্ষিতেই কথাটা বলেছি। সবার অভিজ্ঞাতার যদি না থাকে তাহলে সবার অভিজ্ঞতার অংশও তো হবে না। মোটাদাগে সবার অনুভূতিই কাছাকাছি রকমের- এইটা আসলে আপনি কী ঠিক বললেন? কবিতায় যেসব বিষয়ের আনাগোনা সেইসবের থেকে যে অনুভব আমরা পাই তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিগোষ্ঠী কেন অনুভব করবেনা, করে। কিন্তু একই ভাবে করে না। এক এক গোষ্ঠী একেকভাবে করে। এই জন্য দেখার জায়গা যেমন বদলে যায়, অর্থও একই রকম থাকেনা। উদাহরণ মমতাজের গান। মানবিক অনুভব বলতে আপনি কী কী বোঝাচ্ছেন? সমাজিক শ্রেণি বদল ঘটলে কী কী ঘটতে পারে আমি বড়জোর অনুমান করতে পারি, গবেষণা তথ্য আছে কী কারো জানা ? থাকলে আওয়াজ দিয়েন।
....................
’আমি যতটুকু গ্রহন করতে পারবো সজ্জিত শব্দ থেকে, সেটুকুই কবির স্বার্থকতা, তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভব ততটা সরল ভাবেই তার লেখনীতে উঠে এসেছে বলেই আমার মতো অনভিজ্ঞ আমজনতা পাব্লিকও সেটা বুঝে উল্লসিত হচ্ছে।
সেটা যদি আমি সম্পূর্ণ গ্রহন করতে পারি এবং যদি আমার মনে হয় সুখপাঠ্য হয়েছে কবিতা, তাহলে আমি নিজেই আনন্দ নিয়ে কবিকে বাহবা দিতে ছুটবো’
আপনি তো আম-জনতা না। আম-জনতার হয়ে কথা বলছেন। সমস্যা এখানেই। আম-জনতার সরাসরি অনুভব জানা গেলে ল্যাটা চুকে যেত।
আপনার এখানকার আলোচনা আমার খুব ভাল লাগছে। আমি জানিনা, আপনি বিরক্ত হচ্ছেন কী-না। আপনি একটু দেইখেন এখানে আপনার কিছু শিষ্য ( আপনাকে বস বলে সম্বোধন করছে বলে অনুমান করলাম) যেন আপনার সাথে চলা আলোচনা থামিয়ে না দিতে পারে।
লেখক বলেছেন: আমি কি এমন অপরাধ করলাম যে আম জনতার কাতার থেকে আমার নাম খারিজ হয়ে গেলো?
কবিতার পাঠক আম জনতাই, সেই আম জনতা যারা কবিতা পড়ছে তারা, সবাইকে ঘাড়ে ধরে কবিতা পড়তে বাধ্য করানো যাবে না। সবাই হাতে পায়ে ধরলেই সিনেমা প্যারাডিসো দেখবে না। আমি পাঠক হিসেবে আম জনতার কাতারেই পড়বো সব সময়ই।
সিএনজি ড্রাইভার যদি কবিতা পড়ে সে কার কবিতা বাছাই করবে সেটা আমি নির্ধারণ করে দিবো না, কিংবা আমি কাউকে উপদেশ দিয়ে বলতে পারবো না এর এর কবিতা পড়লে তুমি কবিতা বুঝতে পারবে বাছা।
কবিদের গোষ্ঠীবদ্ধতার জায়গাটা পারস্পরিক পিঠচুলকানির জায়গা। আমি সে অর্থেই এটাকে রাজনৈতিক গোষ্ঠিবদ্ধতা বলছি, সাধারণ্যে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠবার আগে যতটুকু সম্ভব দল ভারি করে নিয়ে নিজেদেরকবিতাগুলোকে প্রমোট করবার জায়গা থেকে একটা রাজনীতি বিদ্যমান। অনুরোধ, উপরোধ, বাক্যব্যয় এবং কুৎসা রটনা- সব মিলিয়ে কবিতা, কবি এবং কাব্যপাঠের ভেতরে একটা নোংরামি বিদ্যমান। সেটা আমার নিজস্ব খামতি হতে পারে হয়তো।
আমি আপনার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি সম্ভবত এ কারণেই যে আমি যে সঙ্ঘবদ্ধ রাজনীতিকে উল্লেখ করেছিলাম, আপনি তার একটা ভিন্ন অর্থ নির্ধারণ করে আলোচনা শুরু করেছেন।
আপনার উপরে আমি কোনো অভিযোগ দাঁড়া করাচ্ছি না যে আপনি এবং আপনার সমমনা সবাই মিলে নিজেরা নিজেদের কবিতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন এবং বলতে চাইছেন অন্য সবাই কিছুই বুঝে না তারা বুঝে না এবং তাদের কবিতা পড়বার অধিকার নেই। যদি আপনার মানসিক অবস্থান এখানে হয় তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন হয়ে যাবে।
কবি নিজের দার্শণিক অবস্থান থেকে হয়তো সমমনা কাউকে কাউকে খুঁজে পাবে। হয়তো তাদের সহচার্য এবং তাদের নিজস্ব আলাপন তাদের কবিতা পাঠ ও কবিতা লেখার ভেতরে একটা সাধারণ ঐক্য তৈরি করবে। কিংবা নির্দিষ্ট একটা ফর্মা হয়তো গড়ে উঠবে, সেই ছাঁচ ও ছাঁট তাদের কবিতার উপরে পলেস্তরার মতো জমা হবে।
কিন্তু এই ছাঁচ ও ছাঁটের ভেতরেও প্রত্যেকের নিজস্ব অভিজ্ঞতার তারতম্য থাকবে, সেই তারতম্যটুকুও উঠে আসবে কবিতাতে।
তুমি মনে হচ্ছে এইখানের ব্যাপার সেপার না বুইঝা রাসেলের পিঠ চুল্কাইতে আইছো
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
আলোচনা সুন্দর হৈতেছিলো, মাঝখান থিকা হাইফ্যান কৈত্যে আইলো?
হাইফেন বলেছেন:
@আমি ও আমরা , বস আমার গোডাউনের খোজ না কইরা নিজের লেখার আপডাউন হিসাব করো, কামে দিব। তুমার ল্যাহা পড়িনাই, তাই কইতে পারতেচি না, তুমি কবি নাকি অন্যকিচু। তয় ঐ দুইজনের বলগে তুমারে দেকচি ।@কাউয়া, বস তুমার কমেন্ট ভালা লাগে। তাই তুমি গাইল দিলেও মাইন্ড করুম না।
আই লাভ ব্লগিং বলেছেন:
আশীফ এন্তাজ রবি বলেছেন:
অনেকখানি একমত । কতখানি একমত আর কত ইঞ্চি ভিন্নমত, সে বাহাসে যেতে মন চাইছে না।ধন্যবাদ।
শেখর সিরাজ আমি বলেছেন:
ভাল লাগলো চালিয়ে যান। আমি ব্লগে নতুন তবে কলম নিয়া খোঁচাখুচিঅভ্যেসটা প্রায় দশ বছরের পুরানো।বোচ্ছেন ভাই কবিতা ভূগোলের নিদিষ্ট কোনও দেশের মানচিএ না।কবিতাকে আপনি কোন কালেই জল
পাত্রের নিদিষ্ট ফ্রেমে বাধতে পারবেন না।কবিতা সময়কালের অনুভতির সূচক মাএ।ব্যক্তির মৃত্যু আছে কিন্তু মানুষের মুত্য নাই।তেমনি কবির মত্যু আছে কবিতার মৃত্যু নাই।কোনটা কবিতা আর কোনটা কবিতা না গোষ্টীবোদ্ধা পাঠক কিংবা আম-জনতা নয়।সেটা নিদিষ্ট নীতি নিধারক সময়। সময় বলে দেবে কোনটা কবিতা আর কোনটা কবিতা না। কবিতা লেখা হয় স্রেফ নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য।পাঠক কিংবা বাজার জাত সেখানে বিবেচ্য বিষয় নয়।
কিংবা একজন কবি যখন কবিতা লিখছে তখন অদৌ তা কবিতা হয়ে উঠছে কিনা?সেখানে এ প্রশ্নের উওর খোঁজবার অবকাশ থাকে না।আপনি যখন সঙ্গমরত তৃপ্তি অনুভব করেন।সে সঙ্গমরত অনুভবের স্বাধ কিন্তু অন্য কেউ পায় না। আর সঙ্গমেই যে আপনি সন্তানের পিতা
হবেন এমনতো নয়।আর একজন কবি র কাছে কবিতা লেখা সঙ্গম করার মতোই আত্মতৃপ্তির খোরাক।না হউক তা কবিতা কিংবা হউক তা সাবলীল অথবা দুবোধ্য জটিল।সঙ্গম করার পর পুএ হবে না কন্যা হবে সসেটা বিবেচ্য বিষয় না।পিতা হওয়াটাই সেখানে মুখ্য বিযয়। কবিতা যযখন বাজারজাত করন হবে তখন সেখানে সব শ্রেনীর পাঠক উপস্থিত থাকবে।কবিতার চটি বই কিনবে কি কিনবে না। কিনার পর পড়ে বুঝবে কিনা এগুললো অনাবশ্যক চিন্তার সারশুন্যতা।আপনার চিন্তা চেতনা জীবন যাপন বিচরন এবং প্রজনন ক্ষেএ নিয়ে নিশ্চয় অন্য কাউকে মাতব্বরী করতে দিবেন না।
আরও বিশদ বিবরনের উদাহরন দৃষ্টান্ত সহকারে একটা লেখা লিখবো।
লেখক বলেছেন: প্রতি সঙ্গমে আমি পিতা নাও হতে পারি, কিন্তু ধরেন আমি সঙ্গম করে যাচ্ছি নিয়মিত কিন্তু ফাঁকতালে অন্য কেউ তওয়া গরম করে সন্তানের বাপ হয়ে গেলো, সেটা একটু কেমন হয়ে যায় না। আপনার মন্তব্যও ঠিক এমনই লাগলো।
আমার চিন্তা চেতনা জীবনযাপন বিচরণে অন্য কাউকে মাতব্বরী করতে দিতেই হয়, আমি যেই পরিবেশে বাস করি সেখানেই এইসব রাজনৈতিক উপাদান বিদ্যমান। সুতরাং আমি চাইলেই রাস্তায় হোগার কাপড় তুলে হাঁটতে পারি না এই খটখটে গরমের দিনেও।
চাইলেই আমি মাঝ রাস্তায় প্যান্টের জিপার খুলে মুততে মুততে হাঁটি না।
আবাল চোদা কথা না বলে বলবার মতো কিছু থাকলে বলেন।
আর যদি আপনার কথা কওনের কিছু না থাকে তাইলে রাস্তায় খাড়ায় কিংবা জঙ্গলে গিয়ে এইসব বিস্তারিত উদাহরণ সহকারে আলাপ চোদান গিয়া।
আমার প্রজনন ক্ষেত্রে আমি অন্য কাউকে মাতব্বরী করতে দিবো না, তবে যারা কবিতা লিখছে এ সময়ে তারা প্রজননক্ষেত্র এবং বর্জ্যনির্গমণ ক্ষেত্রের তফাত করতে পারছে না বলেই ঝামেলা।
ভুল দরজা দিয়া চুদতেছে, সঙ্গমে বাচ্চা হইতেছে না এবং এই সঙ্গমে বাচ্চা হওনের সম্ভবনাও নাই।
পায়ুকামে কেউ পিতা হয় না-
বরং এই ধনের গন্ধে টিকা যাইতেছে না কইয়া এত বাদবিসম্বাদ।
সঠিক জায়গায় মাল ফেলাইতে শিখলে এইসব ঘটে না।
কবিরাও গর্ভবতী কিন্তু এই ভুল দরজায় গুঁতাগুঁতিতে তাদের প্রজননক্ষমতা লোপ পেয়ে ক্রমশ সেটা মেনোপোজে চলে যাইতেছে।
বিহগ বিম্ব বলেছেন:
বুঝছি কৌতুককের এক ইঞ্চি ধনধারী লোককের মতো আপনার-ও হিট খাওয়ার শখ হইছে। আমারে বলেন, আমি আপনারে কয়েক হাজার হিট দিয়ে দিমু (প্রয়োজনে আজ সারাদিন আপনার ব্লগের পেইজলোড দিমু)।
লেখক বলেছেন: তাই
তাইলে শুরু করেন ভাইডি।
এখন কত আছে সেইটার হিসাব দিয়েন।
আমি ঘুমাইতে গেলাম।
ঘুম থেইক্যা উইঠ্যা যেন দেখি কয়েক হাজার হিট বাড়ছে। ঠিক আছে?
বিহগ বিম্ব বলেছেন:
হে হে আগেই টের পাইছিলাম। আমার আর হিট বাড়ানোর কাম করন লাগব না। এইটা Click This Link এবং Click This Link মতো পোস্ট দেন, এক পোস্টেই প্রায় এক হাজার হিট হইয়া যাইব।
(উনার সাথে আপনার অমিল হইলো উনি নারীজাতি বিষয়ক পোস্ট দেন, আর আপনি দেন কবিতার ভাবনা বিষয়ক; তবেই দুইজনেই যথেষ্ট বিনোদনদায়ক।)
নাজনীন খলিল বলেছেন:
আলোচনা উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।তাই অংশগ্রহণের লোভ সামলাতে পারলামনা।তবে নিজেকে আমি 'বোদ্ধা 'ক্যাটাগরিতে ফেলিনা।সবার সব কবিতা বুঝিওনা।তবে না বুঝা অনেক কবিতার মাঝেও কোন কোন কথা আমার আবেগকে স্পর্শ করে গেলে বুঝি এটা একটা ভালো কবিতা।
" আমি কবিতা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্য মনে করি, মনে করি সাধারণ মানুষ যে ভাষায় বুঝে এবং উপলব্ধি করে সে মাত্রায় না গেলে কোনো কবিতাই লোকপ্রিয়তা পায় না। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হইবার বাঞ্ছা হইলে আমি ঠিক সে রকমই কবিতা লিখতে চাইবো, যা বিদগ্ধ পাঠক নয় সাধারণ মানুষ পড়ে তাদের অনুভুতির বিচ্ছুরণ দেখবে সেখানে।"--------এই কথাগুলো আমারও মনের কথা।
একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে এই আলোচনাটা উপভোগ করছি। চলুক।
কবিতায় কি থাকতে হবে সেটা আপনি অনেকাংশই বলে ফেলেছেন (আমার মন্তব্যের) আপনার উত্তরে। আমি তার সাথে অনেক ক্ষেত্রেই একমত।
কবিতার শরীর কেমন হওয়া দরকার সেটা একজন কবি ঠিক করবেন। আর পাঠক কিভাবে নিল বা নিবে সেটা ভাবলে কবিতা হবে না কখনোই। যদি আপনি পাঠকের চিন্তা করে কবিতা লিখেন তাহলে বোধকরি সেখানে কবিতা চর্চাতে একটা ব্যাঘাত ঘটবে এটাই আমি মনে করি। তবুও একটা কবিতাতে শব্দ নির্নয়ের ক্ষেত্রে একটা রস থাকতে হবে। অনেক ভাবনার স্পেস থাকতে হবে। আরো অনেক ব্যাপার আছে সেটা একজন কবি কিভাবে করেন সেটা তার ব্যাপার। তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে মনে হবে কবিতার স্কুলিং করা হচ্ছে। আমি সেই তর্কে যেতে আগ্রহ বোধ করিনা।
কবিতা যুগ যুগ ধরে একটা নদীর মত কুল ভাংতে ভাংতে এখনো বহমান। কবিতার এই নদীর পানিতে ও মিশেছে অনেক রস অনেক চর্চা অনেক তর্ক। বোধকরি এই ব্যাপার গুলো না থাকলে কবিতা হয়না।
আপনি দেখেন কাহ্নপা বা লুইপার আমলের কথা তাদের যে কবিতা লিখার ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহারের প্রচলন ছিল তা আবার পরের জেনারেশনে বদলে গেছে। আবার ছন্দ বা অন্ত্যমিল দিয়ে যেখানে কবিতা আসতো তাও আবার বদলাতে বদলাতে এখন কবিতাতে আমরা অনেকেই ছন্দের ব্যবহার মূলত ছেড়েই দিয়েছি। এই যে বদলের খেলা এটা হচ্ছে একেকটা প্রজন্মের ষ্টাইল। এই বদল গুলো যখন হচ্ছিল তখন কবিদের অনেক কথাই শুন্তে হয়েছিল।আমার কাছে বাংলা আধুনিক কবিতার জনক জীবনান্দ কেই মনে হয়। তখন তিনি যে একটা যুগের সাথে লড়েছেন তখন তাকেও হয়তো শুনতে হয়েছিল বাল ছাল শব্দ গুলো। তবুও বদল টা কিন্তু ঠিকি চলে এলো। তাই বলে উনি কি ছন্দের চর্চা করেন নি? বা জানেন না? একজন কবি আমি তাকেই বল্বো যিনি কবিতার চর্চা করেন, কবিতা নিয়ে অনেক পড়াশুনা করেন -- এবং করতে করতে তিনি নিজেই একটা নতুন ষ্টাইলে আস্ত কবিতা লিখার সাহস অর্জন করতে পারেন।
শুধু কবিতার প্রতি অনুরাগে নিরন্তর পাঠে এক্প্রকার সাময়িক ভাব জাগ্রত হয় আর সেই ভাবের বশে যে কবিতা আসে তা কিছুকাল পরে আটকে যেতে বাধ্য। কেননা ভাব একটা জিনিষ আর ভাবের চর্চা আরেকটা ব্যাপার। আর ভাবের চর্চার দরুন ফ্রি হ্যান্ড কবিতা আসবে। এবং সেটা অবশ্যই অনেক জানাশুনা ও নাড়াচাড়ার ফল। ইদানিং আমি বাংলা ব্যকরণ এর উপর খুব ঝুকে গেছি। তাই বলে আমার কবিতায় এখন হরলাল রায় এর বাংলা ব্যকরণ ঢুকে গেলে আমি সাচ্ছন্দ্য বোধ করবোনা। বরং নিরবে একটা জিনিষ ভাংতে চাই আমি কারন একটা নতুন কিছু গড়ার তাগিদ আছে বলেই। ভাংতে সেই পারে যে গড়বে। আর গড়তে হলে আদি অন্ত জানাটা দরকার। আর তখন যা লিখবেন তা বোধকরি বাল ছাল জাতীয় কিছু হবেনা। তবে অবশ্যই সেখানে তর্ক বা সমালোচনা থাকবে। কারন আপনি ভাংতে যাচ্ছেন। এই ভাংগাটাকে আমি ম্যাসেজ বলেছি। আপনি যে ভাঙ্গার ষ্টাইলটা এটাই এখানে বার্তা।
আপনার উপরের যেটাকে আমি কবিতা বলেছি কারন এটা কবিতার অনেক প্রচলিত চর্চাকে অগ্রাহ্য করে। আমি পাঠক হিসেবে সেটা পড়ে অভিভূত হইনাই কিন্তু একজন কবিতা কর্মী হিসেবে আমি এটাকে খারিজ করতে পারিনাই। কারন আপনার হাতে শেকল পরাবার আমি কে? বরং আমরা পাশাপাশি বসে নতুন ধারার ষ্টাইলের যদি কবিতা থাকে সেটা নিয়ে আলোচনা বা যুক্তিখন্ডন করতে পারি। এতে আলোচনাকারীদের সামনে অনেক দরজা খুলে যায়।
কবিদের একটা গোষ্ঠির কথা বলেছেন এবং আপনি সেটাকে রাজনীতির চোখে দেখেছেন ও। আমি মূলত রাজনীতিকে এড়িয়ে চলি- মাঝে মাঝে মনে হয় এটা রাজার নীতি আমার ধাতে তা সইবেনা। তবে প্রত্যেক মানুষের একটা প্রান্ত বেছে নেয়া দরকার। মাঝখানে বসে থেকে দুপ্রান্তের মুখোশ পরা মানুষ আমার ভালো লাগেনা। তবে অবশ্যই একটা প্রান্ত বেছে নিতে গেলে তার মেধাকে কাজে লাগানো দরকার। তাকে বুঝতে হবে সে কোন বাতাসে পাল উড়াবে। সেইসাথে তার মধ্যে একটা সাহস ও থাকতে হবে যে; সে যেন গলা ফাটিয়ে বলে আমি অমুক প্রান্তের লোক।"
একটা কবিতা নিয়ে আলোচনা করা; নানান যুক্তির কাছে তাকে উপস্থাপন করা, কবিতার চর্চা করা, কবিতার আলাপ করা, চিন্তাকে শেয়ার করার জন্য কবি তার আপন কিছু বন্ধু বেছে নেবেই। নাইলে কবিতার চর্চাতে ব্যাঘাত আসবেই। কারন কবিতো মানুষ; মানুষ কি পরিবার বা সমাজ ছাড়া বাচতে পারে? কবি কি ঘরে বসে আয়নার সামনে তার কবিতা পড়বে? আয়না তাকে কি উত্তর দিবে? তবে হ্যা; এইখানে দেখতে হবে এই গোষ্ঠির চর্চাটা কিভাবে আগাচ্ছে। সেখানে পিঠ চুল্কানি চলছে কিনা। আর এই পিঠ চুল্কানি টা না খারিজ করতে পারলেই বিপদ মানছি আমি। আমার যেই কবি বন্ধুরা আছে; তারা অনেক সময় আমাকে তাদের যুক্তিতে কেটেকুটে নদীতে আমার লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে বহুবার। আমিও তাদের কাটাকুটি করি। এটাই তো দরকার। তাই কবিদের এই গোষ্টিকে আমি স্বাগতম করবই। সেটা যদি কেউ রাজনীতি নিয়ে ভাবে ভাবুক ---অন্তত আমি জানি আমি কেন গোষ্টিবদ্ধ হলাম।
আম-জনতা বা সাধারন জনতার ব্যাপার নিয়ে আমি আগেও বলেছি। তাই আর বলতে চাইনা। তবে একটা ব্যাপার বলতে চাই------
মানুষ সব পাড়ে--সব বুঝতে পারে, মানুষ ভেদে কবিতার লিখার পারদ উঠানামাতে আমি বিশ্বাসী না। একজন চাষী যে এক রত্তি ও লিখাপড়া জানেননা ; সারাদিন কাজ করে এসে রাতে লালনের দেহতত্ত্বের গান শুনেন; বুঝেন ও। লালনের অনেক দেহতত্ত্বের ব্যাপার সেপার আমি নিজেও বুঝিনা, মাথা চরকির মত ঘুরে। যে লালনের গান বুঝে সে কেন কবিতা বুঝতে পারবেনা? এটা হচ্ছে কথা। আসলে কবিতাকে আমরা সেই ভাবে সার্ভ করতে পারছিনা। লালন যত সহজে চলে যাচ্ছে একটা কূড়ের ঘরে কবিতা সেভাবে যাচ্ছেনা। লালনের গানের তত্ত্ব কে বিচার করে দেখুন অনেক আধুনিক কবিতার চাইতে অনেক গরল ; সরল বা সাবলিল না। কিন্তু সেটা সে সাবলিল ভাবে নিচ্ছে কিন্তু কবিতা কেন নিচ্ছেনা। আমার মনে হয় কবিতার শরীর কে বিবেচনায় না ফেলে এটাকে কিভাবে সার্ভ করা যায় মানে কিভাবে ঘরে ঘরে পাঠিয়ে দেয়া যায় ; বা কবিতা পড়ার অভ্যাস টা কিভাবে করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনাটা অনেক দরকার।
এখন এই টুকুই বস। মাত্র অফিসে এলাম। এখন কাজ বাজ করি।
লেখক বলেছেন: যে কৃষক লালনের গান শুনে ভাবাপ্লুত হচ্ছে সে কি লালনের সমগ্র ধারণ করতে পারছে? এই প্রশ্নটা কিন্তু কখনই উত্থাপিত হয় না। এটা ঠিক প্রশ্ন করার জায়গা না, প্রশ্ন করার জায়গা হলো যোগাযোগের জায়গাটা। যেই যোগাযোগের জায়গা থেকে লালনের গান শুনলে নিতান্ত অশিক্ষিত মানুষও একটা ভাববোধের আপ্লুত হচ্ছে, সে যোগাযোগের জায়গাটাতে লালনের শব্দ ব্যবহার কিংবা লালনের নিজস্ব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং তার বাউল জীবনচর্চার যোগাযোগ সামান্য।
কৃষক তার নিজের জায়গা থেকে, নিজের পরিপার্শ্ব থেকেই এই ভাববাদের উপাদান নিজের ভেতরে আত্মস্থ করতে পারছে। হয়তো লালনের গানে যেসব উপমা ও রীতি এবং অনুশাসনের বর্ননা আছে সে সব অনুশাসনের সাথে সাধারণ কৃষকের যেমন দুরত্ব, আমাদেরও ঠিক তেমনই দুরত্ব।
আমরা, মানে যারা কয়েক পাতা বই পড়ে নিজেদের একটু শিক্ষিত মনে করি, মনে করি একটু বুঝদার তাদের সবাই, নিজেরা প্রণত হওয়া, পরিণয় এবং একাত্মতাকে সাধারণ অর্থে গ্রহন করতে নারাজ। কোনো কিছুর সরল অর্থ সরল ভাবে গ্রহনের আগ্রহ আমাদের নেই।
আর আমারে মারিস নে মা, ননি চুরি আর করবো না- এই গানটা শুনে বুঝবার কিছু নেই, কিন্তু চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে গানটার উপমা এবং অন্তর্নিহিত বক্তব্য বুঝতে আমাদের কিছুটা হলেও বাউল রীতির সাথে পরিচয় থাকতে হবে। লালনের সব গানই যে বাউল রীতি ও বাউল জার্গনে পরিপূর্ণ এমন না। সাধারণ কৃষক ভাববাদের জায়গা থেকে যেসব গানের সাথে একাত্মতা বোধ করে সেসব গানের কত অংশ জুড়ে থাকে বাউল জার্গনে পরিপূর্ণ আর আর কতটা অংশ জুড়ে একেবারে সাধারণ জীবনদর্শনের সহজবোধ্য গান এটার পরিসংখ্যান হলে হয়তো বিষয়টা আরও পরিস্কার হতো।
সহজবোধ্যতার মানে আর পরিস্ফুটিত হতো। আমার নিতান্ত সাধারণ মানুষ হিসেবে অনুমাণ, ভজ মানুষের চরণ দুটি নিত্য বস্তু হবে খাঁটি- এই গানের কথায় মানুষের ভজনার যে রুপ উদঘাটিত হয়েছে, সেটা সাধারণ মানুষ পূজা হিসেবে গ্রহন করে না কখনও। জাত গেলো জাত গেলো বলে গানের কথাকেও তারা খুব সরল ভাবেই গ্রহন করতে পারে। সুতরাং সার্বজনীনতার জায়গায় সাধারণ মানুষের বুলি আর জীবনরীতির সাথে পরিচয়টা এবং যোগাযোগটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্য একটা বিষয় হতে পারে সুরের সহজ সঞ্চালন, গীতিময়তা, সরল ও প্রচলিত বাগবিধির ব্যবহার এবং সেই সাথে ভাবের উপস্থিতি যতটা সহজ ভাবে মানুষকে আপ্লুত করে ততটা হয়তো আমাদের নতুন দিনের কবিতা করতে পারছে না, কিংবা বইয়ে ছাপা কবিতা এবং সাধারণের কণ্ঠে গান, এই প্রতিযোগিতার সাধারণের কণ্ঠের গানই জিতে যাচ্ছে। কিংবা হয়তো ভাষার লেখ্য রূপ আসবার আগেই স্মার্তদের জয়জয়কার ছিলো, সেই অভ্যাস এখনও মানুষের রয়ে গেছে, সুতরাং মানুষ এখনও ছন্দোবদ্ধ ভাষার অন্তর্নিহিত সুরকে সহজে আত্মস্থ করতে পারে ।
এইটা কি কবিতা?
আকাশে চাইরটা ফানুস উড়ে
একটা আরেকটারে কয়,
"কিরে দোম নাই ক্যান?"
জওয়াব আসে,
"ত্যাল শ্যাষ মুনে অয়"
আরো উপর থিকা বাকী দুইটা ফানুস একলগে মাথা লাড়ে,
কয়,
"অইতেও পারে, ত্যালের যেই দাম!!"
>> উত্থাপন ১
আপনি বলছেন - “কতিপয় বোদ্ধা উজবুকের জন্য কবিতা লিখতে আমি নারাজ, আমি কবিতা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্য মনে করি, মনে করি সাধারণ মানুষ যে ভাষায় বুঝে এবং উপলব্ধি করে সে মাত্রায় না গেলে কোনো কবিতাই লোকপ্রিয়তা পায় না।“
আপনি কবিতা লেখেন না এইটা আগেই বলছেন, তবে যদি লিখতেন তাইলে সেইটা আপনি কখনোই সো কল্ড ‘বোদ্ধা-উজবুক’দের জন্য লিখতেন না - আপনি এইটাও বলছেন। বিষয়টা আমারো ভালো লাগবে যদি কবিতার মতো একটি বিষয়রে সর্বসাধারণ্যে পাঠ্য হইয়া উঠতে দেখি। কিন্তু সেইটা কতোটা সম্ভব সেই বিষয়ে চিন্তা আসে বইলাই ভাবনা হিসেবে এইটারে আমি এখনো ‘ফ্যান্টাসি’ ক্যাটাগরীতেই রাখি। কবিতা কেন সর্বসাধারণ্যে বা আমজনতায় পঠিত হয়না, সেইটা একটা ভিন্ন ডিসকোর্স হইতে পারে আলোচনার। তবে বাস্তবতা হইলো - কবিতা সর্বসাধারণের জন্য এখনো হইয়া উঠতে পারেনাই। কিন্তু বিষয়ের সাথে আধুনিকতা বা উত্তরাধুনিকতার কোন সংশ্লেষ নাই বইলাই মনে করি।
আপনে পোস্টের কোথাও পরিষ্কার কইরা বলেন নাই - “সর্ব-সাধারণ বা আমজনতা” - এই টার্মটার আওতায় আপনে কাদের-কাদেরকে নিয়া আসলেন। এইটা অবশ্যই এই আলোচনার জন্য জানা প্রয়োজন। আমজনতার মধ্যে তো একজন নিরক্ষরও আছেন। আছেন একজন অভুক্ত লোকও যার কাছে “কবিতা” ধারনাটা কোনই মিনিং বহন করে না। তাই এই বিষয়টায় যথার্থ আলো ফেললে অন্যান্যদের কাছেও বিষয়টা আরো পরিষ্কার হইতো আরকি।
আপনে কবিতায় ব্যক্তিগতভাবে যেইটা দেখতে চান, যে সাধারণে যেমন ভাষা বোঝে সেইভাবেতেই কবিতা রচিত হৌক। সেইরকম চেষ্টাও যে একেবারেই নাই বিষয়টা কিন্তু তা না। সাধারণ মানুষ যেই ভাষা বোঝে এবং উপলব্ধি করে সেইরকম ধারাও তো শিল্প-সাহিত্যে বিরাজমান আছে। যেমন ধরেন - লোকগান, গাঁথা, যাত্রাপালা, রিকশা পেইন্টিং ইত্যাদি প্রভৃতি। তো এইসব বিষয় কিন্তু আপনার কথিত সেই “বোদ্ধা উজবুক” দের লক্ষ্য করে রচিত/অঙ্কিত/পরিবেশিত হয়না। মানে তাদের টার্গেট-অডিয়েন্স টা আসলে উন্মুক্তই। তবুও এই ধারাগুলা যে সবার কাছে পৌছাঁয়ে গেছে, বিষয়টা কিন্তু এমন না। তার মানে কোন একটা শিল্পবস্তু (বা ধরেন সাহিত্যও) যদি সর্বসাধারণের কাছে না পৌছাঁয় বা সর্বসাধারণ যদি সেইটাকে গ্রহন না করে তখন টের পাওয়া যায় যে বিষয়টার সাথে শুধু “উপলব্ধি বা সহজবোধ্যতার বিষয়ই” জড়িত থাকে না। খুব সুক্ষ্ণভাবে হইলেও “রুচি”র বিষয়টাও সেইখানে উপস্থিত থাকে। অর্থাৎ রুচির ভিন্নতাও কিন্তু স্পষ্টভাবে আলাদা করে দিতেছে অডিয়েন্সকে। আপনার উপরোক্ত উত্থাপনে তাই ‘রুচির ভিন্নতার’ বিষয়টারে গোনায় নিতেই পারতেন।
সেইসাথে আরো একটা বিষয়ও চোখে পড়তেছে -আপনি বলছেন যে - “সে মাত্রায় না গেলে কোনো কবিতাই লোকপ্রিয়তা পায় না” - এইটা নিয়েও একপ্রকারের জিজ্ঞাসা তৈরী হয় যে - কোন নির্দিষ্ট কবি কি তার কবিতারে লোকপ্রিয় করবার মোটিভ নিয়া কবিতা লেখেন কিনা। একজন কবির প্রাথমিক কবিতাভাবনায় এইটারে তো আমি অনেক দূরবর্তী বিষয় হিসাবেই দেখি।
আরেকটা প্রশ্ন দিয়া “উত্থাপন১”টা শেষ করি। এইযে ধরেন- আপনি সামহোয়্যারে এই পোষ্টটা দিছেন, এখন এই পোস্টটা কি এইখানের সমস্ত আমব্লগারগো কাছে পাঠ্য বা আলোচ্য হইয়া উঠছে? নাকি সর্বসাধারণের মাঝে “কবিতা বিষয়ে” আপনার এই পোস্ট লোকপ্রিয়তা পাইছে? তাইলে রুচি বা আগ্রহের ভিন্নতা কি এইখানেও জড়িত নাই রাসেল?
>> উত্থাপন২
আপনের উল্লেখিত “উত্তরাধুনিক কবিদল” শব্দবন্ধে দৃষ্টি গেলো। আপনার ওই অংশটাও আলোচনায় সুবিধার জন্য তুলে দেই এইখানে।
আপনি বলছেন - “এখানে উত্তরাধুনিক কবিদল সোচ্চার, জীবানানন্দের পঁচা পুঁজ খেয়ে বর্ধিষ্ণু কবিতা কিংবা আরও আগের লোকগানের ফর্মায় লিখা কবিতা কিংবা এইসব কিছুই না হয়ে উঠা কবিতাদের বাজার এখানে, সবাই আহা উঁহু বাহ বাহ বেশ বেশ করে। নিতান্ত নিজস্ব সময়ের কবিতা হয়তো এখনও খুঁজে পাই নি, আমার সীমিত পঠনে এমন কোন কবিতা স্মরণ করতে পারি না, যারা পিঠ চুলকে ঘা করছেন তাদের কবিতা পড়েও আমার তেমন মনে হয় নি যে এমন কোনো কবিতা যা না পড়লে আমার মানবজন্ম বৃথা যেতো।“
জীবনান্দের নামের সূত্র ধইরা যেইভাবে আপনি তার উত্তরসূরীগো সময়কালের উত্তরাধুনিকতার কথা তুলছেন, তাতে মনে হইলো যে - জীবনদাশরে “আধুনিক” কালের কবি ধইরা নিয়া আপনি তাঁর উত্তরসূরী হিসাবে যারা এখন মার্কেটে আছেন, মানে যারা এখন কবিতা লিখতেছেন তাগোরে আপনি “উত্তরাধুনিককালের”ই কবি হিসাবে ধরছেন (এই পর্যায়ে আমি বিষয়টার ভুল অনুবাদ করলে দয়া কইরা ধরায়ে দিবেন)। অনেকে যেইভাবে “আধুনিক” কবি-জমানার পরের তাবৎ কবিরেই “উত্তরাধুনিক” ভাবেন, আপনেও কি সেই উপায়েই "উত্তরাধুনিক কবিদল" কইলেন কিনা - এই শঙ্কাটা করি।
আমার মনে হয় এইটা মনে রাখা দরকার যে - উত্তরাধুনিক কবিতা তো ক্রনোলজিক্যালী “আধুনিক কবিতা”র পরবর্তী কিংবা কোনো সম্প্রসারিত অবস্থা না। বরংচ’ যেই তত্ত্বগত ভিত্তির উপরে খোদ “আধুনিকতা”টা দাঁড়ায়ে আছে “উত্তরাধুনিকতা ক্রমাগতভাবে তারেই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে, চ্যালেঞ্জ করে। উত্তরাধুনিকতা তো কোন "সময়ের পাটাতন" না, এইটা বরং একটা ধারনা। তাই আপনের কথায় এই সময়ের সব কবিরেই ঢালাও “উত্তরাধুনিক” লেবেল লাগানোর দিকে সহজেই আঙ্গুল তুলে পাল্টা প্রশ্ন করা যায় যে আপনার "উত্তরাধুনিক কবিদল" এরকম চিহ্নিতকরণের পিছনের নির্ণায়কগুলা ছিলো কিকি? কিভাবেই বা তারা এর নেপথ্যে কাজ করছিলো?
আপনি বলছেন এই সময়ের কবিতা আপনার সেইভাবে ভালো লাগেনাই। হ্যাঁ, সেইরকম তো হইতেই পারে। আপনি একধরনের সমালোচনামূলক দৃষ্টি চোখে নিয়া এর দিকে তাকাইছেন -এইটা আমার ভালো লাগলো। নিজেরে হুদাহুদি সন্তুষ্টি প্রদান না কইরা, এইযে - ক্রিটিক্যালি তাকাইলেন. আপনার এই অকপট ভঙ্গীর প্রতি এই আলোচনার সামান্য একজন পার্টিসিপ্যান্ট হিসাবে আমার ভালোলাগাও তৈরী হইলো। তবে রাসেল, এইখানেও আপনে খুব রূঢ়ভাবেই “ঢালাও” হইয়া উঠছেন। আপনের কথা থেকে তো অনেকের কাছে এই মেসেজও পৌছাঁইতে পারে যে - সাম্প্রতিক দশকে, বা বিগতেও, রিমার্কেবল কোনই লেখা তৈরী হয়নাই। এইটাই রূঢ় লাগলো আরকি। তাই আপনারে এইটা বলতে চাই (এবং বলার জন্য কোন উদাহরণ না টাইনাই) যে - সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় প্রচুর চমৎকার নির্দশন তৈরী হইছে, এবং হইয়াও আছে। এইসময়ে ভিন্নভাবে দেখার চোখ নিয়া কবিতাচর্চাকারীগো সংখ্যা ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক দেখি। আপনি তাগোরে যদি একদমই না দেখেন তাইলে আপনারে আরো পাঠের অনুরোধ জানাই কিম্বা ধরেন পাল্টা-এ্যালিগেশন দেওনের আগে আরো একটু জেনেরাস হইতে বলি।
তবে, পিঠ-চুলকাচুলকির যেই সংস্কৃতির কথা বলছেন এইটা নিয়া নিশ্চয়ই চিন্তিত, তবে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক আরকি। আত্মরতির কথা বলছেন; এই সংস্কৃতি তো আগে থিকাই ছিলো, তবে সেই নিমিত্তেই এখন কাউরে কাউরে যেন যূথ বা গোষ্ঠিবদ্ধ হইতে দেখি। এইটা প্রকৃতই দূর্ভাবনার বিষয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে কখনো “গোষ্ঠীবাদ”রে আমি সাপোর্টও করি। এই যে- নিছকই কবিতারে ভালোবাইসা, নিজেগো গাঁটের পয়সা খরচ কইরা, এই সাইবারযুগীয় ডামাডোলের মধ্যেও যারা ছোটকাগজ করতে আসেন, বা সাহিত্যের পেছনে তাগো নিষ্ঠা, সময়, শ্রম, ব্যক্তিগত আবেগ ইত্যাদি ক্ষয় করেন তাগো জন্য কখনো “গোষ্ঠীবাদ” এরো প্রয়োজন আছে। তাই এইটারে শুধু নেতির ভিতর দিয়েই কেনো দেখতে হবে? এই ধারনার বাইরে কি হাঁটা যায় না?
ফুল কোথায় ফুটবে !
লেখক বলেছেন: কবিতা সবার পাঠ্য তালিকায় স্থান পায় নি- এটা আক্ষেপের বিষয় নয়, বরং এটা সামাজিক বাস্তবতা, সেটার কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে ভিন্ন আলোচনায়, এখানে সাধারণ বলতে যারা জনসাধারণ নিরক্ষরকে অন্তর্ভুক্ত করছে তাদের সাথে আলোচনা করা বিড়ম্বনার বিষয়।
বোধ হয় মন্তব্যে এটা অনেক বার পরিস্কার করা হয়েছে এখানে সাধারণ পাঠক, সাধারণ জনতা এমন একটা শ্রেণী যে শ্রেণী অন্তত এই আকালের যুগে, যেখানে কবিতা না হওয়া কবিতা গ্রন্থ ছাপা হচ্ছে বেশী, সে যুগেও কবিতা পড়ছে, এবং কবিতা উপভোগের চেষ্টা করছে, সেইসব অভাগা মানুষদেরই চিহ্নিত করছে।
এখন ধান ভানতে শিবের গীত গাইলে বিপদ-
যে মানুষটার পেটে ভাত নেই, সে কেনো কবিতা পড়ছে না, এটার উত্তর আমার কাছে চাইলে সেটার শোভন উত্তর দেওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।
যে মানুষটা নিরক্ষর, যে কেনো কবিতা পড়ছে না, এটার উত্তরও আমার পক্ষে শোভন ভাবে দেওয়া সম্ভব না।
যে মানুষটা কায়েক্লেশে পেট পিঠ আলাদা রেখে বেঁচে আছে, সে কেনো কবিতা পড়ে না- এইসব আব্দারও আমার কাছে অর্থবহন করে না। আমি বোদ্ধা উজবুক বলতে তাদেরই বুঝাই যাদের কাছে এইসব প্রশ্ন অতীব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যারা জীবনানন্দের পূঁজ ঘেঁটে কবিতা প্রসব করছে, সে কবিতার গায়ে এখনও ছোপ ছোপ পূঁজ লেগে আছে, সেইসব অপোগন্ড কবিদের কথাই বলছি। যারা কবিতাকে আলাদা একটা উপসনার পর্যায়ভুক্ত করে রেখেছে। যারা কবিতাকে শব্দ এবং অনুভুতির বাহন না ভেবে দেবি উপাসনা জাতীয় একটা বিষয় ভাবে এবং যাদের কাছে মনে হয় কবিতা শুধুমাত্র বিদগ্ধ মানুষের মনোরঞ্জনের বিষয়। আমি এইসব মানুষদের জন্য কবিতা লিখি না, লিখবো না।
আর যা লেখা হয়েছিলো জীবনানন্দ বিষয়ে- সেটা পুনরায় একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লে হয়তো সামান্য অর্থ পরিস্কার হবে-
জীবনানন্দ প্রায়শই প্রাসঙ্গিক এবং অনিবার্য ভাবেই অনেক বেশী সমসাময়িক। বিশেষত মানবিক অনুভুতি নিয়ে তার সামান্য স্যাটায়ার এবং তার দীর্ঘ মননশীল কাঁটাছেড়ার পর যা কবিতা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো, সেসব কবিতা, বিশেষত বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, শ্রেষ্ঠ কবিতা, এবং যেসব অপ্রকাশিত কবিতা বর্তমানে অপরিমার্যিত হয়ে প্রকাশিত হচ্ছে, সেসবের অনেকগুলোই।
রুপসী বাংলা কিংবা জীবনানন্দের প্রথম দুটি কবিতার বই সে অর্থে ততটা সমসাময়িক হয়ে উঠে না। যাই হোক, আমাদের সেসব আধুনিক এবং উত্তরাধুনিক কবিরা, যারা এখন কবিতা লিখছেন, যারা জীবনানন্দআসক্ত এবং জীবনানন্দের প্রভাবকে অস্বীকার করতে পারছেন না, তাদের কবিতায় জীবনানন্দের গলিত পূঁজ পাওয়া যায়।
এবং যারা উত্তরাধুনিকতাকে নেহায়েত ফ্যাশান হিসেবে গ্রহন করেছেন, উপলব্ধি করতে ব্যর্থ ঠিক কি কারণে গত ৫০ বছরে মানুষ হঠাৎ করেই তথাকথিত আধুনিক কবিতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে, এবং ঠিক কি কারণে এমটিভি জেনারেশনের কাছে কবিতার আঙ্গিক ও শব্দচয়নে এত বেশী বৈপিরত্ব এবং সাধারণের কাছে পৌঁছানোর আঁকুতি, তাদের কাছে উত্তরাধুনিকতার সাধারণ একটা ফ্রেম বিদ্যমান।
অনুবাদে কিংবা সরাসরি ইংরেজিতে তারা তথাকথিত উত্তরাধুনিক কবিতা সংগ্রহ কিংবা কবিতা সংকলন পড়ে সেটার নির্যাস দিয়ে বাংলা উত্তরাধুনিক যুগ সৃষ্টিতে ব্রতী হয়েছেন, তাদের জন্য আলাদা করে কবিতা হয়ে উঠা কিংবা যেসব উত্তরাধুনিক কবি মৃত তাদের জীবনি অবশ্য পাঠ্য তালিকায় তুলে রাখা উচিত। যদিও এরপরও তারা ঠিক উত্তরাধুনিকতার প্রয়োজন ও এই বিশেষ আঙ্গিকটাকে সঠিক উপলব্ধি করতে পারবেন এ বিষয়ে আমার ঘোরতর সংশয়, তার পরও যদি একজন এই প্রক্রিয়ায় উত্তরাধুনিকতাকে ধারণ করতে পারে, সেটাই হয়তো বড় প্রাপ্তি হতে পারে।
আমাদের সাধারণ অশিক্ষিত গায়েন, পল্লীর অখ্যাত গীতিকবি, তারা আমাদের শাহবাগ, নিউমার্কেট, আর মফঃস্বলের টংয়ের দোকানে সন্ধ্যারাতের গেঁজেলকাব্যাসরের বায়বীয় উল্লাসে রচিত তথাকথিত উত্তরাধুনিক কবিতার চেয়ে ভালো উত্তরাধুনিকতার চর্চা করছে।
কিংবা তাদের কবিতায় যতটা সহজে উত্তরাধুনিকতা উঠে আসছে, সেটা আমাদের তথাকথিত কবিদের চর্চিত কবিতার উঠে আসছে না।
এবং এইসব রীতির বাইরে যারা এখনও কবিতার জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণীভুক্ত শব্দেই কাব্যচর্চা করছে, তারা এখনও আধুনিকতার পর্যায় অতিক্রম করে নি।
যাই হোক, ছাগলও দল বেধে চলে, লেমুরও দল বেধে চলে, ভেড়াও দল বেধে চলে, মানুষও ভুল নায়কের পেছনে সংঘবদ্ধ হয়, সব সংঘবদ্ধতাই উপকারী এমনও না। এরপরও সংঘবদ্ধতার শক্তি আছে, পার্টিজান পলিটিক্সের সংঘবদ্ধতার সাথে ক্ষমতার চর্চা এবং নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি ও প্রতিষ্ঠার দাবি জড়িত, কবিদের সংঘবদ্ধতা যখন নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি ও প্রতিষ্ঠিত হইবার বাসনার সাথে অঙ্গাঙ্গি জড়িয়ে যায়, তখন সেটাকে আমার সুশীল মুখমেহন মনে হয়।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
দারুন লিখেছেন। স্যালুট।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
পোস্টে ব্লগের বিখ্যাত কবি
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অন্য পোস্ট থেকে লিঙ্ক ধরে এলাম !
ভালো লাগতেছে শেষ পর্যন্ত মিস কর্লাম না !
আপনার বক্তব্য খুব কর্কশ হলেও অনেকাংশে সত্য।
তবে উওরাধুনিক কবিদের কাদের কবিতা ফেলবেন এটা আপনার রুচিই বলে দিবে ।
অনেক সময় লো প্রসেসরওলা পাঠকের বুঝতে সমস্যা অনেক কবিতা ;
অনেক সময় এরর মেজেসওলা কবিরা উল্টা পাল্টা লিখে সমস্যা তৈরী করে ।
ঢালাও ভাব সব বিচার করার মানে হয় না ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
এক ইন্চি আর পাচ ইন্চি ধন না ;
ধন দিয়ে এভারেষ্ট ফুটা করার চিন্তাটাই হাস্যকর।
দণ্ডিত পুরুষ বলেছেন:
ভাইজান,আপনার লেখায় হুমায়ুন আজাদীয় একটা ছাপ পাওয়া যায়। ওনি লেখায় ভাষার তীব্রতম প্রয়োগ ঘটাতেন। আপনিও অনেকটা তাই করেন। যেমন তিনি এক জায়গায় লিখেছেন -
হাসান ভাই শেফালিকে জড়িয়ে ধরে,শেফালির ব্লাউজ খুলে ফেলে,দুধে হাত দিয়ে দেখে মাখনের মতো নরম। আমার চোখ তখন সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গেছে,কান বধির হয়ে গেছে; হাসান ভাইয়ের কোনো কথা আমি শুনতে পাচ্ছি না।অন্ধকারের ভেতর কী যেনো আমার চোখের সামনে ধবধব করছে, অন্ধকারের মধ্যে এক অসহ্য কোমলতা আমাকে ঢেকে ফেলেছে।
আপনি লিখেছেন -
ভুল দরজা দিয়া চুদতেছে, সঙ্গমে বাচ্চা হইতেছে না এবং এই সঙ্গমে বাচ্চা হওনের সম্ভবনাও নাই।
পায়ুকামে কেউ পিতা হয় না-
বরং এই ধনের গন্ধে টিকা যাইতেছে না কইয়া এত বাদবিসম্বাদ।
সঠিক জায়গায় মাল ফেলাইতে শিখলে এইসব ঘটে না।
কবিরাও গর্ভবতী কিন্তু এই ভুল দরজায় গুঁতাগুঁতিতে তাদের প্রজননক্ষমতা লোপ পেয়ে ক্রমশ সেটা মেনোপোজে চলে যাইতেছে।
দুজনের মধ্যে দারুণ মিল নাকি অনুকরণ ??
দণ্ডিত পুরুষ বলেছেন:
তবে ভাইজান আপনার লেখার বিষয়বস্তু ভালো লেগেছে।আর হ্যা,পূর্বসুরিদের কাছ থেকে উত্তরসুরিদের লেখায় প্রকট বা প্রচ্ছন্ন ছাপ আসতেই পারে। এতে দোষের কিছু নেই।ধন্যবাদ।
শেখর সিরাজ আমি বলেছেন:
১.আপনি যে প্রথম শ্রেনীর একটা উঁজবুক ।আরে বেকুব।পায়ু সঙ্গম করে কেউ সন্তানের পিতা হতে পারে না।*এটা আজ কালের বালপাকন্না পোলাপাইনও জানে।আমি যে কোন সঙ্গমের কথা বলছি আপনি
না জানলো ও পাঠক ঠিকেই বুইঝা লইবো।
২.আমি নিয়মীত সঙ্গম করে করে যাচ্ছি ।কিন্তু মাঝখানতে ফাঁকতালে তাওয়া গরম কইরা আরেকজন পোলার বাপ হইয়া গেলো ,সেটা জানি
একটু কেমন হইয়া গেলো না।আপনার মন্তব্য ঠিক এমনেই লাগলো।
*সেটা আপনার বউমার পরকীয়া।সেটা আপনার অকাল বীর্যপাতের কুপল।কথায় বলে যে রকম ধানী জমি ঐ রকম তার ফসল।ফাঁকতালে শামসু বাপধনের লেখা গুলির বাপ ঐয়া দেখান।বেশি দুরে গেলাম না।
৩.সব জিনিসেরেই শৈশব কৈশ্যর যৌবন বাধ্যক্ আছে। তাই সাবালত্ব
অর্জন না কইরা চুদতে গেলে প্রথমে ভুল জায়গা দিয়া গুতাগুতি করে তার পর আস্তে আস্তে রাম ঠাব চোদা শিখে। কোন শিশু পৃথিবীতে জম্ম গ্রহন করা মাত্র দৌড়াতে শিখে না।তার জন্য শিশুটিকে সময় দিতে হয়
হোঁচট খাওয়াতে হয়।নজরুল রবীন্দ্রনাথ একদিনে তৈরি হয় নাই।
আমি দশ বছরে মিস্তরী হইছি।আপনি বাবু মরালি ধন।এই টকু করা দেখান।কতিপয় উজবুককে খুশি করার জন্য কেউ কবিতা লেখেনা।আপনি যে কবিতার উওরআধুনিকতার ধোঁয়ার মুখমেহনের তুলশী পাতার , পুষ্টিহীনতার শানে নূযল পেশ করেছেন।তা পাঠকুলের জন্য যদেষ্ট বিভ্রান্তি কর তা মোটেই প্রজনন ক্ষেএ এবং বহি নিগমনের ব্যবধানের জন্য সু-স্পষ্ট নয়।অল্প কথায় কাজ অইলে বেশি
কথার বাঁচালতা দেখিয়ে শব জান্তা শমসের সাজবার দরকার কি?
৪.কবিরাও গর্ভবতী হয়।কিন্তু সব কবিরাই কি প্রসব বেদনার ধারন ক্ষমতা রাখে না রাখতে পারে।দশ বছরে সমসাময়িক কত জনকে দেখলাম চোখের সামনে আঁতুর ঘরে মরে যেতে ।আর তুমি বাবু মরালি ধন দুই কলাম লেইখ্খা নিজরে খুব সব জান্তা পন্ডিত মনে করো।গাঁয়ে
মানে আপনি মোড়ল। তুমি এহনো কবিতার অ টাও ঠিক মতো জানো না।বয়প্রবীন লোকেরা বলে জমিনে আগাছা পর গাছা জম্ম নিলে,জমিনের ফসল ভালো অয় না।তেমনী জমিনের আবাদী ফসলের চাইতে,অনাবদী আগাছা পর গাছার দুর্বলতা আপনার লেখায় অনেক বেশি।অমীমাংসীত এবং অ স্পষ্ট। এক ব্যক্তি হইয়া একাধীক নিক নাম নিয়া বাহবা হয়তো পাওয়া য়ায়। কিন্তু....সেটা আপনি জানেন।পুরা মাইনাস দিলাম। একমত হতে পারলাম না দুঃখিত,ধন্যবাদ
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
বিতর্ক দেখি চলতেছে ।
একটা কথা কই,-- "কবিতায় দূর্বোধ্য শব্দের কপচানির চে' সহজবোধ্য শব্দের গাঁথুনীই শেষ পর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে মনে হয় ।"
এই লিঙ্কের আলোচনাগুলোও এ বিষয়টিকে আরো পরিস্কার করবে ।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
আমি সময় করে আরো কিছু প্রশ্ন আপনাকে করবো পরে। আলোচনাটা বেশ হচ্ছে।
সেই "সর্বসাধারন" হইলো একঅর্থে সমাজের “শিক্ষিত ও স্বচ্ছল শ্রেণী”। বিষয়টা আপনার মন্তব্যে আপনি বলছেন এইভাবে “এই আকালের যুগে, যেখানে কবিতা না হওয়া কবিতা গ্রন্থ ছাপা হচ্ছে বেশী, সে যুগেও কবিতা পড়ছে, এবং কবিতা উপভোগের চেষ্টা করছে, সেইসব অভাগা মানুষদেরই চিহ্নিত করছে।”
এখন আপনার এই বক্তব্য খুঁড়ে দেখলে দুইটা দিক বের হয়।
১. পাঠকের কবিতার দিকে পৌছাঁনোর একটা সিনসিয়ার চেষ্টা আছে, কিন্তু নিরর্থকতার দেয়াল তুলে কবিই পাঠককে কবিতার কাছ থেকে দূরবর্তী করে রাখছেন। আর
২. কবিতার বোধহয় ‘কবিতা’ হয়ে ওঠার একটা বিষয় আছে।
এখন ইস্যু- ১ নিয়া বলতে গেলে ব্যক্তিগত মত -
এখনকার কবিতা সততই একটা নতুন কাব্যভাষা অনুসন্ধান ও নির্মাণের চেষ্টায় রত। নব্বইয়ের পর বাংলা কবিতায় প্রকৃতই একটা বাঁকবদল ধীরেই কাছিয়ে আসতেছে। জীবনদাশের পুঁজ অনেকেই লিখতে চান না বইলাই তারা সম্পূর্ণ নতুন কোন কাব্যভাষা খুঁজতেছেন। এবং তাদের লেখায় বিভিন্নভাবে তারা সেইসব নির্মাণেরও চেষ্টা করতেছেন। কতোটা পারতেছেন সেইটা পরেরে কথা। কিন্তু চেষ্টাটাই অনুপস্থিত সেই এ্যালিগেশন বোধহয় দেয়া যাবেনা। এখন তাদের সেই 'চেষ্টারে' ক্রিটিক্যালি দেখার চেষ্টা থাকাটা নিশ্চয়ই ভালো, তবে একজন কাব্যসচেতন মানুষ হিসাবে তাদের সেইসব প্রচেষ্টারে একদম গোনায় না আনাটা কতোটা ভালো?
আর ইস্যু-২ নিয়া - কোন লেখার “কবিতা” হইয়া ওঠার নির্দিষ্ট বা স্বীকৃত কোন পথ/পন্থা তাইলে আছে? এখন কি সেইসব পন্থা; যার ভিতর দিয়া কবিতা হয়ে উঠবে “কবিতা”?
আপনি জীবনানন্দ নিয়া কিছু কথা বলছেন, সেইখানে যাওয়া যাক। আপনি বলছেন - “রুপসী বাংলা কিংবা জীবনানন্দের প্রথম দুটি কবিতার বই সে অর্থে ততটা সমসাময়িক হয়ে উঠে না।”
তার মানে সমসাময়িক হইয়া ওঠার একটা চেষ্টা খোদ জীবনদাশেরও ছিলো। তাই এখনকার যারা লিখতেছেন তারা এই যে “তিরিশ থেকে নব্বই” এইসবের প্রভাব কাটায়ে যেই নতুন কাব্যভাষা নির্মাণ করতে চান, প্রতিষ্ঠা করতে চান তার পিছনের স্পিরিটটাও বলতে গেলে সেই একই।
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ "ঝরাপালক" এর জীবনানন্দ কিন্তু “জীবনানন্দীয়” আচরণ/প্রকাশে একেবারেই খুব উদ্ভাসিত না। ওইখানে ওনার নজরুলপ্রভাবিত শব্দাবলীর অকাতর প্রয়োগ, বা কখনো রবীন্দ্রনাথ চর্চিত ভাষাভঙ্গীর বাইরে ওনাকে সুষ্পষ্টভাবে আবিস্কার করা যায়নাই। নিজস্ব কাব্যভাষা উনি তখনো সেইভাবে খুঁজে পাননাই আরকি। তবে ‘রূপসী বাংলা’রে কেন আপনার এইরকম মনে হইলো? আপনি নিশ্চয়ই এই তথ্যটা জানেন যে - জীবনানন্দ দাশ “রূপসী বাংলা” গ্রন্থটা তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশ করার সাহস পান নাই। এইটা প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুরও বছর কয়েক পরে। সম্ভবত ৫৭/৫৮ এর দিকে। গ্রন্থটা তিনি যে প্রকাশ করার সময় পাননাই বিষয়টা সেরকমও না, কিন্তু তিনি শুধু বাংলার প্রকৃতি বা নিসর্গ - এই বিষয়টাকে প্রসঙ্গ ধরে নিয়ে রচিত একটা গোটা কাব্যগ্রন্থে কতোটা বিভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারছেন - এই নিয়া শঙ্কায় নিপতিত হইয়া সেইটা প্রকাশের সাহস দেখান নাই। অনেকে আবার বলে যে - তিনি ভয় পাইতেন 'রূপসী বাংলা' প্রকাশের পরে লোকে তারে আবার জসীমউদ্দিন না বলে! এইজন্যেই যতোদিন বাইচা ছিলেন, রূপসী বাংলা তিনি প্রকাশ করেন নাই। কিন্তু উনি ওই গ্রন্থে সমসাময়িক হইতে পারেন নাই - এরকম আপনার কেন মনে হইলো?
এই ভাবনাই জীবনানন্দের নিজেরো ভাবনা ছিলো কিনা তাইলে মিলায়ে দেখতাম। এইটা একটু জানাইয়েন।
-----------------------------------------------
আর আপনার মন্তব্যের শেষ চারটা স্তবক উল্লেখপূর্বক কথা বলি। আপনি বলছেন -
“আমাদের সাধারণ অশিক্ষিত গায়েন, পল্লীর অখ্যাত গীতিকবি, তারা আমাদের শাহবাগ, নিউমার্কেট, আর মফঃস্বলের টংয়ের দোকানে সন্ধ্যারাতের গেঁজেলকাব্যাসরের বায়বীয় উল্লাসে রচিত তথাকথিত উত্তরাধুনিক কবিতার চেয়ে ভালো উত্তরাধুনিকতার চর্চা করছে। কিংবা তাদের কবিতায় যতটা সহজে উত্তরাধুনিকতা উঠে আসছে, সেটা আমাদের তথাকথিত কবিদের চর্চিত কবিতার উঠে আসছে না।”
প্রয়োজনে ‘সর্বসাধারন’ থেকে যেই নিরক্ষর/অশিক্ষিতের নাম প্রয়োজনে বাদ দিছিলেন, এখন প্রয়োজনে আবার তার নামই নিয়া আসলেন। তবে এইখানে আপনার উল্লেখের বিষয়টা বোধহয় ধরতে পারলাম। আপনি বলতে চাইতেছেন যে - কোনও তাত্ত্বিক গ্রাউন্ড ছাড়াই একজন গায়েন তার সৃষ্টিকর্মে উত্তরাধুনিক চিহ্ন নিয়া আসতে পারতেছেন, কেননা বিষয়টা যেন তার ইন্সটিংক্টিভ। অথচ শাহবাগীয়/নিউমার্কেটীয় “কবি” লেবেল বা লিবাস ধারীরা সেইটা পারতেছেন না। কেননা আসলে সেইটা প্রকৃতই তার/তাদের আচরণে গিয়া পৌছাঁয়নাই; শুধু হাবেভাবেই কেবল সেই চিহ্ন বিরাজমান। ফলে তারা ট্রেন্ডি বা হাওয়াপন্থী হয়তো সহজেই হইয়া উঠতে পারে কিন্তু তাদের লেখায় আমরা সেরকম কোন চিহ্ন দেখিনা।
তবে এইখানেও একটা উত্থাপন থাইকা যায় যে - গায়েন এর গান বা ধরেন পল্লীর অখ্যাত গীতিকবির গীতিকবিতায় উত্তরাধুনিক চিহ্ন বিষয়ে যেহেতু আপনি যতোটা জানেন আর আমি জানিনা, তাই গায়েনদের গানে/লিরিকে উত্তরাধুনিক চিহ্ন ধারনের বিষয়টা ঠিক কিরকম - এইটা একটু জানাইতে পারেন। যেহেতু আপনি সেইখানে সেইরকমের চিহ্ন সনাক্ত করতে পারছেন। কোনো উদাহরণ দিয়াও সেইটা আপনি বলতে পারেন।
তবে এইখানে একমত যে- যারা নিজেদের সার্থসিদ্ধি করতে গিয়া, প্রতিষ্ঠার জন্য এবং কবিতার প্রতি কোনরূপ সিনসিয়ারিটি পোষন না কইরা সংঘবদ্ধ হওয়ার পাঁয়তারা করে তখন সেইগুলারে - যূথবদ্ধ আত্মপ্রতারকের দল- বলা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।
লেখক বলেছেন: জীবনানন্দের সমসাময়িক হয়ে উঠবার চেষ্টার কথা আলোচনা করি নি, জীবনানন্দ তার সময়ে সেই ৩০ থেকে ৫০ এ যা লিখে গেছে, সেটা এই বর্তমান সময়েও সমসাময়িক, এবং প্রাসঙ্গিক। মাঝের সময়ের ব্যবধান ৬০ বছরের। ৬০ বছর পরেও কোনো কোনো সময়ে জীবনানন্দকে একেবারে তরতাজা হয়ে উঠতে দেখি- এই সমসাময়িকতা হয়তো আরও কয়েক দশক টিকে থাকবে, আমার অনুমাণ এমনটাই। সেই একই কারণে রুপসী বাংলা কখনই সমসাময়িক হয়ে উঠে না আমার কাছে। সেটা ১৯৩৪ এর বাংলাদেশ, সেখানেই এর সমাধি, আমাদের কল্পনায় হয়তো আদর্শ গ্রামের ছবির মতো কোনো একটা অনুভব বয়ে নিয়ে আসবে, কিন্তু ছবির মতো সুন্দর এর বাইরে কিংবা ভিউকার্ড কিংবা পোস্টকার্ডের বাইরের বাস্তবতায় আমরা সেটাকে মেলাতে যাবো না।
--------------------------------------------------------------------------
উত্তরাধুনিকতা নিয়ে বিবাদের জায়গাটা আলাদা কোথাও হওয়া ভালো।
উত্তরাধুনিকতা আমার কাছে যা, সর্বসাধারণ এবং কবিজনগণের কাছে মনে হয় না সেটা সেই অর্থে নেই-
এলিটিয় ভাবধারা কিংবা প্রথাগত বাগবিধি ব্যবহারের একটা দুর্বলতা হলো এটা গদ্য এবং পদ্য, কবিতা এবং প্রবন্ধের ভাষারীতি ও শব্দ ব্যবহারের ভেতরে প্রভেদ আনতে বাধ্য করে। চমৎকার কাব্যময়তা অনেকের গদ্যে আছে, অনেকর পদ্যের গদ্য চমৎকার, কিন্তু যারা পদ্য কিংবা কবিতা করে, তাদের নিজস্ব ধাঁচের শব্দকাঠামো আছে, কিংবা শব্দকাঠামোর জায়গাটাতে একটা বাছবিচার আছে-
উত্তরাধুনিকতা এই জায়গাটাকে বদলাতে চেয়েছে শিল্পে- কবিতায় যারা উত্তরাধুনিকতার চর্চা করছে, তারা পদ্য এবং গদ্য বলে আলাদা কোনো শব্দভান্ডার রাখে নি, কিন্তু পদ্যে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহারের তীব্র প্রয়াসে অন্য একটা দিক ভুলে গেছে- সেটা হলো উত্তরাধুনিকতার অন্য একটা লক্ষ্য ছিলো বাজারমুখিতা। অর্থ্যাৎ তথাকথিত মধ্যবিত্ত এবং শিল্পের পৃষ্ঠপোষকদের বাজারটা আরও একটু ছড়িয়ে দেওয়া। যেনো নিম্নমধ্যবিত্তরাই শিল্পের ক্রেতা হয়ে উঠে,
এটা বাজার ধরবার খেলা, এই খেলায় অনেকে সেইসব বাজারের প্রয়োজনীয় বাকবিধিকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে। সেসব মানুষ যেসব উপমায় কথা বলছে, যেভাবে শব্দ সাজাচ্ছে, সেই সচেতন প্রয়াসে তারা নিজেদের নতুন কাব্যভাষা নির্মান করেছে। এবং যেহেতু তার ভেতরে কখনও কবিতার ভুত ছিলো, তাই সে একটা নির্দিষ্ট লোকসংস্কৃতির ধাঁচ নিয়ে এসেছে কবিতায়।
সচলায়তনে সবুজ বাঘ নামে একজন লিখে- শাপলু- ওর কবিতায় উত্তরাধুনিকতার এই ধারাটা আছে,
আর লোকসংস্কৃতি কিংবা সাধারণ মানুষের রুচিকে তৃপ্ত করে যেসব শিল্প তা অনেক আগেই আদতে উত্তরাধুনিক ফর্মা মেনেই নিয়েছে। সেই লোকসংস্কৃতির বাজার ধরতে চাওয়া কবি শিল্পীরা সেখানে লড়াই করছে,
কারো কারো শেকড় হয়তো সেখানে, সে সেভাবেই ভাবছে- কিংবা প্রচলিত মধ্যবিত্ত বাজর ধরতে পারবে না এমন আশংকাও কেউ লোকসংস্কৃতির বাজার ধরতে চাইছে-
যে যে কারণেই হোক না কেনো, প্রচলিত কাব্যরীতিকে ভাঙবার চেষ্টা করছে- এ কারণেই কেউ মধ্যবিত্ত পাঠক শ্রেণীকে আকর্ষণ করতে পারছে না- এবং যাদের ভেতরে সেগুণও নেই যে তারা প্রকৃত উত্তরাধুনিক হয়ে সাধারণ মানুষের বাজার ধরতে পারবে, তারা নিজস্ব একটা কুটিল কাব্যভাষা তৈরির চেষ্টা করছে-
সেই চেষ্টার কারণে মধ্যবিত্ত পাঠক , বিশেষত আমি যে শ্রেণীর জায়গায় দাঁড়িয়ে কবিতাকে দেখি- তারাও এটার কাব্যময়তাকে নিতান্ত বাধ্য না হলে স্বীকার করছে না বনরগ বর্জন করছে , এবং তাদের এই মাথা ঘামানোটা যে আদতে বাল ফেলানো নয় এটা নির্ধারণ করবার জন্যও তাদের একটা গোষ্ঠীবদ্ধতা প্রয়োজন হয়ে যায় হয়তো।
------------
এইখানে যাই হোক, বিবাদ তো হইতেছিলো না। 'মতান্তর'রে বিবাদ বইলা অভিহিত করলে তো সমস্যা।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম ।
কুতুব্ বলেছেন:
খাইছে, একেকটা কমেন্টই তো একেকটা পোস্ট হইতে পারে, এত বড়.......
অনিকেত কবি বলেছেন:
মায়ে'রে বাপ লেখা হইছে । বায়ু নির্গতে'র মতো কবিতা থেকে...ড্রিল ইট ডন্ট শেক ইট! অসাধারন! হ্যাট্স অফ!![উপলব্ধি: অতি: সত্বর নাম থেকে কবি ট্যাগটা সরাতে হবে!]
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















'ঠিক সে সময়েই তার উপলব্ধি হলো আদতে তার কানে আইপড গোঁজা।'... হাহাচেপযা...