somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্যান ছেড়ে এসিতে গেলে

০৩ রা মে, ২০০৯ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফ্যান ছেড়ে এসিতে গেলে মানুষের কিছুটা সামাজিক বিবর্তন ঘটে, যার যা প্রাপ্য তার বেশী পেলে তার যে পায়াভারী অবস্থা হয়, নিজস্ব অযোগ্যতাকে আড়াল করতে তখন সেটা অব্যহত রাখবার জন্য একদল তোষামুদে চাপরাশিকে নিজেদের চারপাশে রাখতে হয়, যারা সময়ে অসময়ে এসে বলবে আপনার এসির বাতাস খুব ভালো।

এবং তারা হুদাই ভাদ্রমাসের কুকুরেরমতো জায়গায় বেজায়গায় পাগলামি করে বেড়াবে। এইসব কুকুরদের জন্য একটাই বরাদ্দ শাস্তি- ভ্যানে তুলে খোঁয়ারে রেখে আসা, কিংবা আথালি পাথালি মার-

অনেকের অনেক কাজ আছে , সবাই না কি নিজস্ব জীবনে ব্যস্ত তবু মানুষের হোগায় আঙ্গুল দিতে হলে আঙ্গুলচালনার সময়ের অভাব হয় না কারোই। তারা পায়ুকামি না, কিন্তু মানুষের পুটকি খাউজাইয়া সেই গন্ধ না নিলে রাতে ঘুম হয় না তাদের। এদের যন্ত্রনা কিংবা এদের সংঘবদ্ধ ষন্ডামি মাঝে মাঝে বিরক্তির কারণ হলেও সেটা কতদুর পর্যন্ত যেতে পারে?

-------------

রাইসুর কবিতা আমার ভালো লাগে নি কখনও।

রাইসুর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান , অন্তত আমার কাছে যতটুকু প্রকাশিত, আমার পছন্দ না। তার কবিতা সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন বদলানোর কোনো কারণ ঘটে নি, কিন্তু এইটুকু স্বীকার করতে কুণ্ঠা নেই, রাইসু নিজস্ব একটা কবিতার ধাঁচ তৈরি করেছে। তার কবিতার আঙ্গিক কিংবা শব্দচয়নে সেই নিজস্বতা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক কবিতায় সে বাঁক বদলেছে, হয়তো রাইসু নিজেই নতুন একটা অবস্থানে পৌঁছাতে চাইছে কিংবা রাইসু নতুন ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

তার সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সম্পূর্ণ সময়টাতে তাকে আমার অশোভন মনে হয় নি। তাঁর ভেতরে অনেক অসম্পূর্ণতা আছে, নিজস্ব বিকার আছে, সেসব ব্যক্তিগত বিষয়াদি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয় বিধায় আমি সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না।

সামহোয়্যারে সীমিত লেখালেখির জন্য অনেকের সাথেই আমার ভীষণ রকম বাজে সম্পর্ক, অনেককের সাথে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কারো কারো সাথে সম্পর্কের গভীরতা বেড়েছে, কারো সাথে সম্পর্ক ক্ষীণ হয়েছে, মানুষের জীবনে যেমন ঘটে তেমনই।

আমার অনেক বন্ধুই তাল পাখা থেকে ইলেক্ট্রিক ফ্যান হয়ে এসির যুগে প্রবেশ করেছে, এটাকেই জাতে উঠা বলে কিংবা এটাই হয়তো সামাজিক মানদন্ডে সাধারণকে ছাড়িয়ে যাওয়া। নিজস্ব একটা পরিচিতি ও সামাজিক বলয় তৈরি করা। আমার জীবনযাপনে সেই শৈশবে তালপাখা ছাড়বার পরে এখন ফ্যানে এসেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, সামাজিক উত্তরণ ঘটলো না আমার।

আমি মাঝে মাঝে এসির হাওয়া খেতে খেতে আড্ডা দেই, মাঝে মাঝে এসি বন্ধ করে সিগারেটও ফুঁকি, সেইসব ব্যতিচার বাদ দিলে আমার জীবন একদম সাদামাটা।

ব্লগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই এমন সামাজিক উত্তরণ ও অবনমন ঘটেছে- সচলায়তন তৈরি হওয়ার আগের পর্যায় থেকে আমি সামান্য হলেও বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। বাৎসল্যবোধ এখনও আমাকে আবেগাপ্লুত করে ফেলে এটা স্বীকার করতে দ্বিধা করবো না। তবে সাম্প্রতিক সচলায়তনকে আমার ল্যাজ গিলে ফেলা সাপ মনে হয়। নিজেকে নিজে গ্রাস করে চলা এক অদ্ভুত জন্তুদের সমাবেশ দেখে আশ্চর্য হই না । এমনটাই হওয়ার ছিলো, কিংবা এমনটাই ভবিতব্য-

সচলায়তনে ভালো লেখক নেই এমন না, অন্তত আমি আঙ্গুল গুনে বলতে পারি সেখানে অন্তত ৫ জন লেখক আছে যাদের লেখা বাংলাদেশের যেকোনো লেখকের লেখার চেয়ে ভালো।

সেখানের সামাজিক কেতায় অভ্যস্ত হওয়ার উপদেশ শুনে যারা ফিরে এসেছে, যারা সেখানে মানিয়ে নিতে পারে নি, তাদের সাথে আরও একদল মানুষ আছে যারা এই মানিয়ে নেওয়ার কোনো জায়গাতে নেই, তারা পাঠক, তারা সেখানে নিজস্ব পছন্দের লেখকদের লেখা পড়তে যায়।

অরূপকে আমি পছন্দ করি, তার আবেগ উদ্দীপনার কমতি নেই, কিন্তু মাঝে মাঝে ওর উজুকের মতো আচরণ দেখে আমি লজ্জিত হই , যদিও আমার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের আচরণের দায় নিজেই গ্রহন করে।

ফারুক ওয়াসিফকে যে ভাষায় প্রত্যুত্তর দিয়েছে অরূপ সেটা হয়তো ওর তাৎক্ষণিক আবেগের প্রকাশ কিংবা সেটাই প্রকৃত অরূপ। পৃথিবীতে মানুষের মুখ আর মুখোশের কমতি নেই। সচলায়তনের রীতি মেনেই সদস্যদের ভেতরে এই বিষয়ে যে অস্থিরতা তৈরী হবে, তা পৌঁছাবে কতৃপক্ষ নামক হাস্যকর একটি জায়গায়, সেখানকার মানুষগুলো নিজেরাই নিজেদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে না। তারা হঠাৎ একদিন ঘোষণা দিলো, তাদের সচলায়তনেই যেকোনো লেখার প্রথম কুমারীত্ব হরিত হতে হবে, সেখানে ৭২ ঘন্টা কুমারীযোণী ছিন্ন হওয়ার রক্ত ঝড়বার পরে সেই বিক্ষতযোনী লেখা অন্য সাইটে যেতে পারবে।

তবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই নিয়মটা বলতে বুঝাতো সামহোয়্যার ইন, অর্থ্যাৎ প্রযুক্তিফোরামে ছাপা হতে পারবে , গুরুচন্ডালীতে প্রকাশিত হতে পারবে একযোগে, এমন কি অন্য কোথাও প্রকাশিত লেখা হলেও সেটা প্রকাশিত হওয়া দোষণীয় নয়, কিন্তু সামহোয়্যারে প্রকাশিত হতে পারবে না।

সেটা তাদের প্রতিযোগিতার জায়গা হয়তো। প্রশ্ন হলো অন্য কোথাও প্রকাশিত হলে সেটা ৭২ ঘন্টা সময়ের ব্যবধান মেনে চলে কি না। প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ বিদ্যমান, নীতিগত ভাবে প্রথম আলো এবং সচলায়তনে একই সাথে একটি লেখা থাকা সেই নীতিমালার লঙ্ঘন, কিন্তু দৈনিকে প্রকাশিত লেখার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না এমন অলিখিত নীতিমালাও আছে হয়তো।

এইসব নিয়ে কথা বলবার কিছু নেই- সচলায়তনে আমি যাই না। সপ্তাহে একদিনও যাওয়া হয় না, মাসে দু মাসে হয়তো বিশেষ কোনো লিঙ্ক ধরে যাওয়া হয়, এর বাইরে সচলায়তনে এমন বড় কোনো লেখককে আমি দেখি না, যার লেখা না পড়লে আমার রাতের ঘুম কিংবা দিনের স্বস্তি চলে যাবে। তাদের লেখা পড়তে ভালো লাগে কিন্তু সে ভালো লাগার মাত্রা এতটা না যে আমাকে নিয়মিত সেখানে যেতে হবে।

ভালো লাগা কিংবা খারাপ লাগার চেয়ে পীড়াদায়ক যা মনে হলো, অরূপ ফারুক ওয়াসিফকে যা বলেছে, সেটা চাদরের তলে লুকিয়ে ফেললেও অনেকে সেটা দেখেছে। এখন এই অবমাননার পরেও যদি ফারুক ওয়াসিফকে কোনো ডিসক্লেইমার ছাড়াই সেখানে লেখতে দেখা যায় তাহলে অন্তত যারা এই হেনেস্তা কিংবা অবমাননা দেখেছে তাদের মনে হবে ফারুক ওয়াসিফ নিরাপদ একটি পরিবেশে লিখবার জন্য আত্মঅবমাননা হজম করতে রাজি।

যে অবমাননা প্রকাশ্যে হয়েছে সেটার ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখপ্রকাশও হওয়া উচিত প্রকাশ্যে। অরূপের অন্তত এই পরিণত বয়েসে এইটুকু উপলব্ধি আসা প্রয়োজন, খিয়ন্তি কিংবা ওয়াইন পেটে থাকা কিংবা না থাকা অবস্থায়, যেকোনো সময়েই স্নেহপ্রত্যাশা করা কিংবা বন্ধুত্বের সমর্থন আশা করা উচিত না। যেসব বন্ধু এবং বংশবদ এসবে প্রশ্রয় দেয় তারাও ক্ষতিকারক হয়ে উঠে।

রাইসুকেও একদল মানুষ যুথবদ্ধ হয়ে হেনেস্তা করছে, বিষয়টা ব্যক্তিগত অসুয়া হলেও এমন পোন মারামারি চুতিয়ামি আসলে কাউকেই গুরুত্বপূর্ণ কিংবা হাস্যকর করে তুলে না। রাইসু যে মুহূর্তে বলেছে তার ফ্যানক্লাবে যোগদানের অনুরোধ সম্বলিত লেখাগুলোর মালিকানা তার না, সে মুহূর্ত থেকেই তার পরিচিতজনেরা সেটা জানে, সেখানে একই রকম ন্যুইসেন্স অব্যাহত রাখবার প্রচেষ্টা দলীয় ভাবে যারা করছে তাদের নিজস্ব চুতিয়ামি ছেড়ে পড়াশোনা এবং গবেষণায় মনোযোগ দেওয়া উচিত।
১৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×