somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চান্দিনার সাংসদ কি একটা ইতর?

১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৪ মাসের কাজকাম দেখে আমি আওয়ামী লীগের উপরে চরম বিরক্ত। তারা নিজেদের নেতা কর্মীদের নিয়ন্ত্রনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয় নি, বরং আওয়ামী লীগের পতাকার নীচে এখন অপরাধী আর টেন্ডারবাজরা পুনর্বাসিত হচ্ছে।

পৌরসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে অন্তত ১ ডজন মন্ত্রি আর সাংসদের বিরুদ্ধে, কিন্তু তাদের দলীয় সদস্যপদ বাতিল কিংবা মন্ত্রীত্ব বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেয় নি আওয়ামী লীগ। অপরাধ এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার নির্বাচনী শপথনামার স্পষ্ট বিপরীত এই অবস্থান। মন্ত্রী লতিফ কিংবা সাংসদ বদি যা করছে সেটা নিজের নির্বাচনী এলাকায় একটা অস্থায়ী সামন্ত রাজ্য নির্মান। সেই সামন্ত রাজ্যের অলিখিত প্রভু এই সাংসদগন।

আসাদুজ্জামান নুর, কবরী, তারানা হালিম, আওয়ামী লীগের সাংসদের তালিকায় অভিনেতাদের কমতি নেই , কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চাটগাইয়্যা লতিফ, শেখ হাসিনার পায়ের পাতা চেটে পরিস্কার করা নেতা এবং কর্মীর সংখ্যা কম নেই আওয়ামী লীগে, তার অনুরোধ এবং উপদেশ মেনে নেওয়ার মতো পীর ভক্তি আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভেতরে আছে, তবে পীরভক্তদের সমস্যা হলো, তারা যখন বিপাকে পরে তখন পীরের শরণ গ্রহন করে কিন্তু মূলত তাদের পীরভক্তির মূল উদ্দেশ্য নিজের পাপাচার অব্যহত রাখা।

চাটগাইয়্যা লতিফকে হাসিনার ডেকে মৃদু কিংবা নির্মম শাসন করা উচিত। সে বোকাচোদা পুলিশকে পিটাবে, আমি সাংসদ তোমরা আমাকে চেনো বলে হুমকি ধামকি দিবে, নিজেকে আইনের উর্ধ্বে মনে করবে এমনটা মোটেও সংগত নয়।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী তথা পুলিশ এবং তার সোর্সদের উৎপাত দেখে নিজের নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হয়েছে। মোহাম্মদপুর বেড়ী বাঁধে ৫জনকে আহত করবার পরে গত কাল ৩জনকে টুলি করা, মাঝে র‌্যাবের নিজস্ব উদ্যোগে ছাত্র খুন করা,

পুলিশের সোর্সকে পুলিশ খুন করে ফেলা, চাঁদা এবং ঘুষ না দেওয়ায় পুলিশের লোকজন একজনকে থানায় ডেকে নিয়ে এসে খুন করা, এইসব গত ১ সপ্তাহে ঘটেছে বাংলাদেশে। এই অরাজক অবস্থার ভেতরেই আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজের বক্তৃতা দিয়েছে, এবং সংসদে সেটার উপরে আলোচনা হচ্ছে-

আজ বিকেলে হঠাৎ করেই সে বাজেট অধিবেশন দেখবার দুর্ভাগ্য হলো। পদলেহন কত রকম এবং কতটা হীনভাবে প্রকাশ করা সম্ভব সেটাই মাত্র ৩০ মিনিট দেখে অস্থির হয়ে গেলাম। শেখ হাসিনার প্রতি আমার একটা অনুরোধ রইলো, প্রতিদিন সকালে অন্তত টয়লেটে যাওয়ার পর তিনি অনুগত সাংসদদের এক একজনকে তার বাসায় নিমন্ত্রন জানাবেন, তারা সকালে চেটে পরিস্কার করে দিলে তিনি প্রাতঃকর্ম সেরে অফিসে যাবেন, এবং চাটার যোগ্যতার উপরে একটা আলাদা নম্বর থাকবে, শেখ হাসিনা নিজেই ঠিক করে দিবেন কি কি চাটতে হবে।

সাংসদগন সবাই নিশ্চিত শেখ হাসিনার সরকারের কারণে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে, মানুষ নিরাপদ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং দৈনিকের প্রথম এবং শেষ পাতায় এইসব নৃশংস কার্যকলাপের সংবাদ ঠাসা। সাংসদদের জন্য মনে হয় আলাদা করে পেপার পত্রিকা ছাপানো হয়, যেখানে শুধু দিন বদল, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর উন্নয়নের স্রোতের ছবি থাকে। কিভাবে সরকারের পদক্ষেপে কি পরিবর্তন হয়ে গেলো সেইসবের বিস্তারিত বিবরণ থাকে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জঘন্য, প্রতারক, অপরাধী এবং তোষমুদে মানুষেরাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব পেয়ে আসছে ।রাজনৈতিক বৈরিতা আদর্শগত নয় মোটেও, সেটা ব্যক্তিগত জিঘাংসা এবং নোংরামির প্রকট প্রকাশ, কার বাবা কাজের মেয়ের সাথে সেক্স করেছে, কার মেয়ে কার ছেলের সাথে প্রেম করেছে এইসব কার্যকলাপ এখন রাজনৈতিক নেতাদের ভোটের সংঘাতের অস্ত্র।

বিছানার সফলতা এবং ব্যর্থতা, সম্ভোগের সম্ভবনা এবং ব্যর্থ সঙ্গমের আক্ষেপ- এইসব বিষয়াদি নিয়ে রাজনীতির মানুষদের উৎকণ্ঠা দেখে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই< বাঙালী বিছানার বাইরে কিছু ভাবতে পারে না।

বিটিভি নিয়মিত সাংসদের বক্তব্যগুলো যদি এডিট করে প্রচার করে তবে সেটার মতো চরম কৌতুক আর কিছু হবে না। এখন বাজেট অধিবেশন বাজেট বিষয়ে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিলো-

কুমিল্লার চান্দিনার নির্বাচিত সাংসদ বক্তৃতা দিচ্ছে, বাজেট বিষয়ে-
এই বাজেটের রন্ধ্রে রন্ধ্রে উন্নয়নের কথা- অর্থমন্ত্রী-..................

যারা এটা শুনেন নি তাদের জীবন বৃথা , একটা মানুষ কতটা অপ্রাসঙ্গিক এবং কতটা অমার্জিত এবং কতটা নির্বোধের মতো কথা বলতে পারে সেটা চান্দিনার সাংসদ দেখিয়েছেন। আজকের দিনের সেরা কৌতুককর মুহূর্ত আসলে সেটাই ছিলো আমার জন্য।

লজ্জিত হয়েছি শেখ হাসিনার মৃদু হাসি দেখে, তার সাথে হয়তো খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বৈরিতা রয়েছে, তবে কেউ যখন কোনো মানুষের নামে অমার্জিত বক্তব্য রাখে, সেটা সংসদে কোনো রকম প্রতিবাদ ছাড়াই লিখিত হয়, তখন সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অমর্যাদাকর।

আসাদুজ্জামান নুর নিজের ভালো মানুষী খোলসটা খুলে পার্টিজান হয়ে উঠেছেন অনেক আগেই, তিনি এখন সুশীল ব্যবসায়ী নন, তিনি আদ্যোপান্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, তাই তাকেও বিব্রত দেখায় না এইসব নোংরামিতে তিনিও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

তার নাম আমি জানি না, কিন্তু আমার ক্ষমতা থাকলে আমি তাকে মানিক মিয়া এভিনিউতে ধনে ইট বেঁধে খাড়া করিয়ে রাখতাম,

এই প্রথম আব্দুল হামিদের জন্য করুণা হলো, বেচারা সারাদিন এই সব নোংরামি দেখে বসে বসে, যদিও স্পীকার হিসেবে এই সময়ে তার ব্যক্তিত্বের অভাব প্রকট ভাবে প্রকাশিত হয়, কিন্তু পার্টিজান পলিটিক্সের নোংরামির কারণে হয়তো হামিদ নিজেও সাহস পান না এইসব নোংরামির বিরোধিতা করার।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩২
১৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×