ব্রাজিল আর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলার ফলাফলে দেখাবে শেষ মুহূর্তের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে ১-০ গোলে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার চমৎকার প্রতিরোধ এবং পাল্টা আক্রমনের কোনো বর্ননা থাকবে না এই স্কোর লাইনে।
আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলোর মুল অস্ত্র তাদের গতি এবং তাদের পরিশ্রমী খেলা, এর সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রাজিলিয়ান কোচের ছোটো ছোটো পাসে মাঝ মাঠে বল ধরে রেখে খেলার কৌশল, দক্ষিণ আফ্রিকা আজকে জিতে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিলো না।
এমন কি ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ব্রাজিলের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বলের দখল কিংবা আক্রমন কোনোটাতেই পিছিয়ে ছিলো না তারা। বরং দক্ষিণ আফ্রিকার গতির কাছে অসহায় লেগেছে ব্রাজিলকে। লুই ফ্যাবিয়ানো, কিংবা রবিনহোর খেলা আজকে ভালো লাগে নি মোটেও।
কাকাকেও সামান্য জায়গা ছাড় দেয় নি দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ। মাঝ মাঠের পরিশ্রমী ফুটবল এবং একজন ভালো ফিনিশারের অভাব, এ কারণেই সম্ভবত ভালো দল হয়েও আজ সেমিফাইনালে জিততে পারলো না দক্ষিণ আফ্রিকা।
খেলা মূলত সীমাবদ্ধ ছিলো মাঝ মাঠেই, উভয় দলই আক্রমনে উঠেছে, এবং পাল্টা আক্রমনে গিয়েছে কিন্তু ব্রাজিল দম আর গতির কাছে মাঝ মাঠে হেরে গেলেও কেনো যেনো তারা গোল না খেয়েই টিকে আছে, হুলিও সিজারের দক্ষতা এবং লুসিয়োর উল্টা পাল্টা বল ক্লিয়ারিং যখন শুরু হলো তখন ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস তলানিতে।
দক্ষিণ আফ্রিকা যদি ঠিক ৭৫ মিনিটের পর রক্ষণাত্মক হয়ে গোল শূন্য ভাবে ৯০ মিনিট খেলা শেষ করবার চেষ্টা না করতো তবে আজকে জয়ী দলের নাম হতো দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে তাদের কোচকে ধন্যবাদ, পরিশ্রমী, গতিশীল এবং অক্লান্ত আফ্রিকানদের পায়ে তুলে দিয়েছেন সাম্বার ছন্দ, তাই পায়ের কারুকাজে আসলে পিছিয়ে নেই দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রিয় দল জিতেছে, তাই আনন্দিত, তবে প্রথম রাউন্ডের খেলায় যেভাবে সবাইকে গুড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলো ব্রাজিল, আজ ততটা দাপটের সাথে খেলতে পারলো না, বরং শেষের দিকে প্রায় মরিয়া হয়ে উঠা খেলোয়ারেরা ব্রাজিলের প্রথাগত দলীয় নৈপুন্যের কোনো তোয়াক্কা না করেই নিজের পায়ে বেশী বল রাখতে চেয়েছে, প্রচুর ভুল পাস দিয়েছে এবং আক্রমন নষ্ট করেছে।
এবং এমন খেলা খেললে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জিততে কষ্ট হবে ব্রাজিলের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



