somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুনরালোচনা --

০৩ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নচিকেতার সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম, বেচারার এবারের সফরের মর্মবেদনা হলো, তার গান শুনে যখন শ্রোতারা মজা করছিলো, তখন তার মনে হয়েছিলো, তার গান শুনে শ্রোতারা কিছু শিখছে, কিন্তু ঠিক তার পরপরই ডিজের উপস্থিতিতে সেই শ্রোতারাই হ্যাফ প্যান্ট পড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নেচেছে-

তবে তার ভাষ্য মতে ফ্রান্সে এটা হয় না, ফ্রান্সে লোকেরা ভালো একটা বই পড়ে কিংবা ছবি দেখে ব্রথেলে যায় না। তবে ভারতবর্ষে এটা হয়।

নচিকেতা জীবনমুখী গান করে, হয়তো সে গানে সমাজের বৈষম্য কিংবা বিকৃতি তুলে ধরবার প্রয়াস থাকে, তবে শিল্পী শেষ পর্যন্ত বেশ্যাই, তাকেও তার সৃষ্টি বাজারে বেচতে হয়। সেও তার সকল সম্পদসমেত স্টেজে উঠে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করে।

বিনোদন যারা দেয় তারা নিজেদের হয়তো অন্য সব বেশ্যার চেয়ে উন্নত মানের মনে করতে পারে, কিন্তু শেষ বিচারে তারা একজন মানুষমাত্র, কোনো ধর্মীয় গুরু না। নচিকেতার এই ধর্মগুরু ধাঁচের আক্ষেপ দেখে আশ্চর্য হলাম। আরও আশ্চর্য হলাম তার ধারণা দেখে-

ছোট বেলায় যখন কবিতা লিখতাম, তখন একবার সুনীলের কাছে শুনলাম যে কবিতা ভালোবাসে সে খুনী হতে পারে না। শুনে তখন আপ্লুত হয়েছিলাম। নিজেকে একটা তালেবর মনে হয়েছিলো, কিন্তু আদতে আমি সেই হারামি বাচ্চা হারামিই শেষ পর্যন্ত- বাজারে উঠি নি বলে এখনও জানি না আমার শরীর কিংবা মনন কিনবার জন্য কতটা মূল্য দিতে রাজী প্রকাশকেরা। অক্ষতযোণী বালিকাদের বাজারদর ভালো হলেও অপ্রকাশিত লেখক, কবির বাজারদর একদম কম। বোধ হয় অনেক কাল ব্যবহৃত হওয়ার পরে যখন অনেকেই তার প্রশংসা করে তখনই শুধুমাত্র লেখক-কবি ধাঁচের গণিকাদের বাজারদর বাড়ে । তাদের কিনবার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

তবে এই ধারণাটির জন্ম কেনো? কেনো একজন ভোক্তাকে অন্য সবার চেয়ে পৃথক আসনে বসানো। যে লোকটা কবিতার বই কিনছে, কিংবা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মিলানয়তনের টিকেট কিনছে তার সাথে যদু,মধু, রাম, শ্যাম, যারা প্রতি দিন কাঁচা বাজারে গিয়ে আলু, পটল পেঁয়াজ কিনে তাদের তফাত কি?

এই তফাতটাও আরোপিত, আমদের উচ্চমন্যতাই এই ব্যবধান সৃষ্টি করতে চায়। আমি এইসব করি, এইসব কাজে অর্থ ব্যয় করি, সুতরাং আমি একটু উঁচু দরের মানুষ।

এইসব তথাকথিত উঁচু দরের মানুষদের অনেকেই নিয়মিত কলেজের মেয়েদের বিছানায় নিয়ে যাচ্ছে, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কাকুতি মিনতি করছে, তাদের ধরতে হানা দিচ্ছে র‌্যাব, তারা কক্সবাজারে গিয়ে গ্রুপ সেক্স করছে, এবং এইসব মানুষেরাই রুমালে মুখ মুছে চলে যাচ্ছে আল্লারাখার বাজনা শুনতে।

তারা তা করুক তাতে আমার কোন বাল খসলো?
কোনো একটা বাল না খসলেও আমার আশ্চর্য লাগে যখন একই রকম বিবেচনায় মানুষ অনুভব, এবং অভিমতের তফাত বুঝতে পারে না।

সামাজিক সংস্কারের প্রশ্ন জটিল একটা প্রশ্ন, আমি দীর্ঘ সময় ধরে যা চর্চা করে এসেছি, সেই চর্চিত অভ্যাস এবং একই কাঠামোর ভেতরে থেকে উদ্ভুত প্রশ্নহীনতা এবং অভ্যস্ততাকে কাটিয়ে উঠবার প্রয়াস সচারচর থাকে না।

একই রকম একটা সঙ্কোচ দেখলাম একটি লেখায়, নাস্তিক ভাইদের কাছে জনৈক লেখক জানতে চেয়েছেন, তারা ইনসেস্টকে কিভাবে গ্রহন করবে?

বিব্রতকর বিষয়টা হলো লেখক প্রশ্নটা করেছেন সাধারণ ভাবেই- তবে তার আগ্রহের জায়গা হলো, যেহেতু ধর্মীয় কারণেই এখন ইনসেস্ট প্রচলিত নয়, সুতরাং ধর্মের বিরোধিতাকারী নাস্তিকেরা যদি জানতে পারে ইনসেস্ট তেমন বড় কোনো ব্যপার নয় তবে তারা কি এটার চর্চা করবেন?

ইনসেস্ট, কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরে যৌনসম্পর্কের বিষয়টা একটু স্পর্শ্বকাতর, তবে বিষয়টা অপ্রচলিত নয়। আমাদের সামাজিক পরিমন্ডলে হয়তো তেমন ভাবে চর্চিত হয় না, কিন্তু একটু নির্জনতায় হয়তো ঘটেও এমন ঘটনা।

প্রশ্নের সাধারণ উত্তর হলো যদি দু জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ নিজেদের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে সেটাকে আমি অনৈতিক মনে করি কি না? সেটা কি অসভ্যতা, অসামাজিকতা, শোবার ঘরের বিছানায় নগ্ন শুয়ে থাকা মানুষগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের যৌনকৌশল কিংবা রীতি নিয়ে অশোভন কৌতুহল অবাঞ্ছনীয়, এবং এটা এখনও আমি বিশ্বাস করি।

কোনো ক্রমে যদি জানতে পারি তাদের একজন অন্যজনের ঘনিষ্ট পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে তবে একটু অসস্তি বোধ করবো আমি নিজে, কিন্তু সেটাকে অন্যায় ঘোষণা দিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ হবো না।

ব্যক্তিগত জীবনে চর্চা না করেও অনেক কিছুর সমর্থন ও বিরোধিতা করা যায়, এই সমর্থন কিংবা বিরোধিতার জন্য তাকে চর্চা করবার কোনো প্রয়োজন নেই।

একজন মানুষের অনুভব এবং একজন মানুষের নৈব্যাক্তিক অভিমত ভিন্ন ধারার বিষয়। আমি নিজস্ব বিবেচনায় যেসব ঘটনাকে অন্যায় বলছি, সেসব ঘটনা অন্য মানুষদের অন্যায় মনে করতে হবে, এমন জুলুনবাজী অনুচিত হবে, একটা পরিস্থিতিতে, বিদ্যমান আইনের কাঠামোতে, যেসব বিষয় অপরাধ গন্য, সেসব বিষয়ে বিরোধিতা করা যায়, কারণ গণ মানুষের সম্মতি এবং অসম্মতির ধাপ পেড়িয়ে সেসব আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। সেই সামগ্রিক শুভবোধের কিয়দংশকে সম্মান করতেই হয়, এবং সামাজিক প্রচলিত সংস্কারে এটা যেহেতু চর্চিত হয়ে আসছে শুতরাং আমাদের অভ্যস্ততাও এতে বেশী থাকবে।

কিন্তু যখন একেবারে আনকোরা কোনো সমস্যার সামনে পড়ে যাই, যখন একটা পক্ষ অবলম্বন করতে হয়, তখন নিজস্ব চর্চা কিংবা অভিজ্ঞতার অভাবে একটা অবস্থান নিতে হলে পূর্বনির্ধারিত কিছু অনুসিদ্ধান্তকে মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের জের টানতে হয়।

সেই একই সিদ্ধান্তের জের হলো সমকামিতা কিংবা ইনসেস্ট কোনোটাই অপরাধ নয়, যদি সেটা পারস্পরিক সম্মতিতে ঘটে। লাখে কিংবা দশ লাখে একটা ঘটলেও এমন ঘটনার নজির সব দেশেই রয়েছে দেখা যাচ্ছে। অপ্রচলিত হলেও একেবারে অভুতপূর্ব নয় বিষয়টা।

কথা হলো- যদি আমি এটাকে অপরাধ হিসেবে না দেখি, তবে আমি কি এটার চর্চা করবো? এখানে ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা, আমি এটা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো কি করবো না, এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে আসলে আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু ধর্ম মানা করেছে তাই এটা করতেই হবে এমন উদ্ভট তত্ত্বে সম্ভবত কারোই বিশ্বাস নেই।

চুরি করা খারাপ, ডাকাতি কিংবা রাহাজানি, অন্য মানুষের অধিকার হরণ এইসব অপরাধ, ধর্মীয় কেতাবেও এমন কথা লেখা আছে বলে এসবের বিরোধিতা করবার মতো মানুষ কম। প্রশ্নের জায়গা হতে পারে চুরির শাস্তি হাত কেটে ফেলা কিংবা ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে এটাকে বিবেচনা করা এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটা শাস্তি নির্ধারণ করা কোনটা আমার কাছে উপযুক্ত মনে হবে- এই বিষয়ে আমার অভিমত থাকতে পারে-

অভিমত এবং অনুভবের পার্থক্য না বুঝেই যারা এমন সব উদ্ভট তর্ক উত্থাপন করে তাদের বিষয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব থাকলেও আজ নচিকেতার বয়ান শুনে বুঝলাম, আদতে সবাই নিজেকে এক একজন ক্ষুদ্র ধর্মগুরু ভাবে , সে তার নিজস্ব অবস্থান এবং অনুসিদ্ধান্তগুলোকে সবার ভেতরেই বাস্তবায়িত হতে দেখতে চায়।

সুতরাং ফ্রান্সের লোকেরা ভালো বই পড়ে কিংবা ছবি দেখে ব্রথেলে না গেলেও, অন্য কোনো কারণে ব্রথেলে গেলে সেটা বৈধ হয়ে যায়।

পতিতাবৃত্তির প্রকোপ যেহেতু কমে নি কখনই, সেহেতু বলা যায়, মানুষের ব্যপক চাহিদা এই একটা জায়গায়, মানুষ নিজের যৌনচাহিদা পুরণের বাস্তবসম্মত এবং সস্তা উপায় না পেলে বিকল্প সস্তা উপায় হিসেবে গণিকালয়ে যায়, বেশ্যাসম্ভোগ করে, এবং এই বিকল্প সস্তা উপায় আছে বলেই এখনও ইনসেস্ট শুরু হচ্ছে না, কিন্তু যদি কখনও এই সস্তা উপায়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়, তবে আস্তিক-নাস্তিক, কোনো দাগ কিংবা সীমারেখা না রেখেই মানুষ এইসব সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে। এটা আমার অনুসিদ্ধান্ত।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×