অন্য সব তরুণের মতো আমাদেরও ধারণা ছিলো মৃত্যু আমাদের কোনোদিনও স্পর্শ্ব করতে পারবে না।
অদ্ভুত এবং হাস্যকর একটা বিশ্বাস বলা যেতে পারে এটাকে, তবুও এটাই ছিলো আমাদের দিনযাপনের উল্লাস। মফস্বলের সীমিত পরিসরে,যেখানে বড় শহরের আড়াল নেই, মোটামুটি সবাই সবার ঠিকুজি জানে, সেইসব দিনে আদতে অন্য এলাকার মানুষেরা এখানে বসতি গড়ে নি তেমন করে, সীমিত সংখ্যক সরকারি চাকুরে বাদ দিলে সবাই বংশপরম্পরায় এখানেই বেড়ে উঠেছে, এখানেই শহরের কাছাকাছি কিংবা শহরের ভেতরেই জমি কিনে বাসা বানিয়ে থিতু হয়েছে, সুতরাং অপরিচিত কিংবা নতুন মানুষ শহরে উপস্থিত হলেই জানা যেতো বিষয়টা।
অর্থনৈতিক তেমন সম্ভবনা গড়ে উঠে নি এখানে, উচ্চাভিলাষী কিছু মানুষ চোরাচালানী করে, এবং সবাই তাদের সংবাদ জানলেও কেউ আদতে কাউকে ঘাটায় না, সেই সময়েই আমাদের জেলা শহরে যত্রতত্র তৈরি হচ্ছে নেশার দোকান।
আমাদের মহল্লায় আমাদের পাশের বাসায়ই ছিলো গাঁজার দোকান, সাধকদের সাধানর বস্তু, হিপ্পি যুগ কেটে গেলেও তার জড়তা তখনও এই শহর ছেড়ে যায় নি, কাঁধ পর্যন্ত বাবরি চুল আর এলেমেলো পোশাকের ছেলেরা, যারা বঙ্গো কিংবা কঙ্গো বাজিয়ে গান গায়, তাদের নিয়মিত আগমন ছিলো এখানে-
দিনে কিংবা রাতে যে কোনো সময়ই তারা এসে পুরিয়া নিয়ে যেতো। এলাকার মানুষেরাও তাদের ঘাটাতো না। যে বাসায় এই গাঁজার দোকান, বলা যায় আমাদের মহল্লাটার সম্পূর্ণটাই তাদের তালুক ছিলো। আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের কাছে জমি কিনেই বসতি গড়েছিলো এখানে, সেটাও দেশবিভাগের অনেক আগের কথা।
সময়ের সাথে তাদের অবস্থা বদলেছে, এখন তাদের সেই রমরমা অবস্থা নেই, মাঝ রাতে হঠাৎ কান্না শুনে বুঝতে পারতাম সৈদী ফেরত দাদার সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া শুরু হয়েছে, সেই মহিলা আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে কাঁদছে,
শালী যা তোকে তালাক দিলাম, এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক-
এলাকার মানুষ সবাই ছুটে এসে তার মুখ বন্ধ করতো, মোস্তফা বাইন তালাক দিস না। একটু সময় নিয়ে ভাব। বৌটা বাপের বাসা যাক, পরে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখ কি করবি।
গোলাম মোস্তফা, সেই বাসার একমাত্র জীবিত ছেলে , সম্ভবত অন্য কোনো ছেলে ছিলো না তাদের, কিংবা তারাও ৭১এ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। কিছুই বলা যায় না, সেই বয়েসে অতীত খোঁড়াখুড়ির স্বভাব ছিলো না আমাদের।
গোলাম মোস্তফার বিবি কসবার বাপের বাড়ী যাওয়ার পরে এলাকা থমথমে থাকতো এক দিন, সবাই কানে কানে ফিসফিস করতো, মোস্তফার কাজটা উচিত হয় নি, এটা ঠিক না, কথায় কথায় বৌকে তালাক দিয়ে দিবে এটা কি?
অবশ্য এইসবের মেয়াদ ছিলো এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ, এরপরেই দেখা যেতো একদিন মাথায় ঘোমটা দিয়ে সে মহিলা মহল্লায় এসে মুরুব্বিদের সালাম দিয়ে পুনরায় সংসার শুরু করতো। ইন্দোনেশিয়া কিংবা মালোয়শিয়া কিংবা বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামে যেমন তালাক হওয়া মাত্রই একটা হিল্লা বিয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়ে যায়, এখানে তেমন হতে পারে নি, কারণ রিয়াজুল দাদা।
ইনিও গোলাম মোস্তফার পরিবারের একজন অভিবাসী, যাকে মহল্লায় এক খন্ড জমি দেওয়া হয়েছিলো, তবে তিনি সারা জীবন দ্বীনের সেবা করে গেলেন, রীতিমতো পেইন ইন এস টাইপ ধার্মিক, ভোর বেলা কারো সাথে দেখা হলে প্রথম প্রশ্ন, বাবু তুমি ফজরের নামজ পড়েছিলো। নামাজটাতো ঠিক মতো পড়তে হবে বুঝলে, এই একটা আমলই তো আল্লাহ আমলে আনবেন।
আস সালামোআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহে ও বরকতাহু- বিশাল এক সালাম দিয়ে সকালটা শুরু হতো তার, তারপর ব্যাঙ্কে গিয়ে বিকেল বেলা ঠিক যখন আমরা স্ট্যাম্প সাজিয়েছি মাঠে- তখন তাকে ফিরতে দেখতাম,
বাবারা আসরের নামাজ পড়েছো।
আমরা যে যার মতো সম্ভাষন করে এড়িয়ে যেতাম প্রশ্নটা, তবে তার অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য ছিলো, তিনি কখনই এইসবকে আমলে আনতেন না, বরং ইসলামের দাওয়াহ দেওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কোনো কমতি ছিলো না। এমন কি তাকে খুশী করবার সবচেয়ে সহজ উপায় ছিলো বলা চাচা গতকাল চার ওয়াক্ত নামাজ পড়েছি মসজিদে গিয়ে।
দোয়া করি আল্লাহ তোমাদের সব ওয়াক্তের নামাজই মসজিদে গিয়ে পড়বার তৌফিক দিক, মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি চলে যেতেন।
সেই পরিবেশে তার ছেলে হঠাৎ একদিন ঘোষণা করলো সে এলাকায় একটা সেবা সংঘ খুলবে। সেই সেবা সংঘের কর্মপরিধি হবে সীমিত, তারা এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে, এখানে কোনো আবর্জনা থাকবে না। রাস্তায় কিংবা ঘরের দরজায় কিংবা মানুষের মনের ভেতরে। অবশ্য এই সব সিম্বলিক ইস্যু নিয়ে তেমন ভাবনা করতে হয় নি। আমরা এলাকার উঠতি কিশোরের যখন এইসব অনুসিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো একটা কমিটি করে ফেললাম, তখনও এটার প্রভাব পড়ে নি এলাকায়।
আমাদের প্রথম কাজ ছিলো বাসায় বাসায় গিয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা, আপনারা নির্দিষ্ট একটা জায়গায় ময়লা ফেলবেন, যেখানে সেখানে ময়লা ছড়িয়ে রাখবেন না। কেউ কেউ বুঝলো, কেউ বুঝলো না, পরের শুক্রবার রীতিমতো সবাই নাটক দেখার আমোদ নিয়ে দেখলো আমরা উঠতি কিশোরেরা সবাই সকাল বেলাই হাতে ঝাড়ু, বালটি আর কোদাল নিয়ে এলাকার সাফসুতারা করছি, গলির মাথা থেকে শুরু করে একেবারে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এলাকাটাই আমাদের কর্মতালিকায়, সে মোতাবেল ড্রেনের ময়লা পরিস্কার করা হলো, একটা খাল খুঁড়ে সেখানে জমানো হলো সেই ড্রেনের ময়লা, গলির মাথায় বড় করে লেখা হলো এখানে প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ।
মাঠের একটা কোনায় বড় একটা গর্ত খুঁড়ে বলা হলো আপনারা আপনাদের ময়লা এখানেই ফেলবেন। ৩ঘন্টা পরে মহল্লাটা দেখতে খুব একটা খারাপ হলো না, অবশ্য একটাই সুবিধা হলো এতে, মহল্লায় অন্তত একটু জোড় দিয়ে বলা গেলো আমরা যেহেতু আপনাদের ময়লাটা পরিস্কার করছি সুতরাং আমাদের একটু সহায়তা করেন। আমদের তাতেই সুবিধা হবে।
পরবর্তী ১ মাসের ভেতরে বিষয়টা সবারই অভ্যাসে চলে আসলো। আনাজের টুকিটাকি কিংবা অন্য যেকোনো ময়লাই তারা এরপর নির্ধারিত জায়গায় ফেলে আসতো। আমাদের পরবর্তী কাজ ছিলো গলির সামনে দাঁড়িয়ে পেশাব করা লোকজনদের নিরত করা।
বাংলাদেশে এখন হয়তো বড় বড় শপিং সেন্টারে আলাদা করে টয়লেটের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু একটা সময়ে এটার কোনো বালাই ছিলো না, আমাদের এলাকায় সেই সময়েই একটা না দুইটা সুপার মার্কেট নামের জিনিষ তৈরি হয়েছিলো, সেখানকার সমস্ত গ্রাহক অবসরে গলির মাথায় দাঁড়িয়ে পেশাব করে যেতো। তারা এমন কি আগাতে আগাতে অনেকদুর এসে এলাকার ড্রেনের উপরেও বসে পড়তো।
আমরা কিশোরেরা তাদের ধাওয়া করতাম, দুর্বলেরা সংঘবদ্ধ ধাওয়া খেয়ে উঠে পালালেও কিছু রীতিমতো ষন্ডাপ্রকৃতির মানুষ ছিলো, যাদের শহরের অন্যরা মাস্তান হিসেবেই জানতো, তাদের সাথে বেয়াদ্দপি করবার সাহস তখনও সঞ্চিত হয় নি আমাদের। অবশ্য সে সময়ে আমাদের মেয়ে সভ্যরা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করতো, ইস কি অসভ্য মানুষটা দেখছিস, এইখানে সবার সামনে বসে মুততেছে, একদম লজ্জা নেই।
জেলা শহর বলেই হয়তো ততটা সাহস ছিলো না। এই কথার পরে কেউ পেশাব থামিয়ে উঠে যেতে পারতো না কিন্তু তারা পরবর্তীতে একটু সাবধানেই কাজটা করতো। এভাবে দেখা গেলো পরের ২ মাসে পেশাবের গন্ধও দুর হয়ে গেলো গলি থেকে।
আমাদের পরবর্তী কাজ ছিলো এলাকা থেকে গাঁজার দোকানটা উচ্ছেদ করা।
আমরা সে বাসায় গিয়ে প্রথমে বললাম- আপনি এবার গাঁজা বিক্রী বন্ধ করে দিবেন, এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়, রাতে ১২টার পরেও মানুষ এসে গাঁজায় জন্য চেচামেচি করে এটা ঠিক না।
গাঁজা না বেচলে আমরা চলবো কিভাবে? এটাই আমাদের উপার্জন, জীবিকা। কথাটা মিথ্যা নয়, তার স্বামী মারা গেছে বছরখানেক হবে, তার দুই ছেলে দুই মেয়ে, সবাই তখনও স্কুলে যায়, এই বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থা করবার মতো সঙ্গতি কিংবা সামর্থ্য আমাদের নেই। তবুও গোঁয়ারের মতো আমরা সবাই বলেছিলাম, সেটা আমরা জানি না, যদি সামনের সপ্তাহ থেকে এটা চলে তবে আমরা পিটিয়ে বের করে দিবো ওদের।
এলাকার মুরুব্বিরা এসে তাল মিলালো, নেশা বেঁচে জীবিকা চালানোর বদলে অন্য কোনো জীবিকা বেছে নাও, মানুষের বাসায় কাজ করো।
সেটাও সফল হলো, তার ছেলে, আমাদের বন্ধু ছিলো, এবং সেও বিষয়টাকে মেনে নিলো কিংবা মেনে নিতে বাধ্য হলো বলা যায়। সুতরাং আমাদের এলাকা একটা সময়ে মাদকমুক্ত হলো। এই গাঁজার ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় তাদের মেয়েদের এলাকার বাসায় কাজ শুরু করতে হলো, সেই মহিলাও এলাকার একটা বাসায় কাজ নিলো। সব মিলিয়ে টানা ২ বছর চালানোর পর আর উৎসাহ পাওয়া গেলো না সেবা সংঘের কাজে। আমরা সে কাজ ছেড়ে নিজেদের জীবনে ফিরে আসলাম।
এই সময়ের ভেতরে তাদের এক মেয়েকে নির্জনে ধর্ষণের চেষ্টা করে এলাকার এক ছেলে ফেরার হলো, আমাদের বন্ধু ছিলো যে ছেলেটা, সেও হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেলো। তারাও একটা সময়ে আমাদের মহল্লা ছেড়ে চলে গেলো।
এইসব কাজের পরে কোনো এক সময় আমি প্রথম ফেন্সীডিলের বোতল খুললাম। তখন আমাদের তরুণ বলা যায়। কলেজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, টেস্ট পরীক্ষা বাকী।
অবশ্য এর পরে বিষয়টা হঠাৎ থাকলো না বরং বেশ নিয়মিত বিরতিতেই বোতল খুলা চলতে থাকলো।
অনেক রকম হুজ্জতি আর সস্তা আচরণ দেখবার দুর্ভাগ্য হয়েছে, বন্ধুদের নেশার কারণে ছ্যাঁচরামি করতে দেখলাম, চুরি করতে দেখলাম, এবং অনেক রকম বিনিময়ের সূত্র দেখলাম।
অন্য যেকোনো তরুনের মতো আমাদেরও ধারণা ছিলো মৃত্যু আমাদের স্পর্শ্ব করতে পারবে না। তবে কথাটা একদম মিথ্যা। আমাদের এক বন্ধু যখন কিডনি এবং অন্যান্য শাররীক সমস্যায় হঠাৎ করেই মরে গেলো, তখন সবাই ধাক্কা খেলো একটা। তবে ততদিনে বাবার কাছে ধরা পরে আমি রীতিমতো সুবোধ বালক, সিগারেট বাদ দিলে অন্য কোনো নেশার পাল্লায় নেই।
বন্ধুরা তখনও চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাক দর্শক। এক বন্ধু এসে বললো, দোস্তো সবাই আমাকে অনেক বার বলছে নেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা, তুই কখনই আমাকে এইসব বলিস না কেনো?
আমি কি বলবো তোদের? নেশা করা কিংবা নেশা ছাড়া একজনের নিজের বিশ্বাসের বিষয়। তুই যেইদিন ঠিক করতে পারবি আমি নেশা করবো না, সেইদিন তুই নিজেই ছেড়ে দিবি, আমি বললে তুই নেশা ছাড়বি না। অযথা কাউকে কোনো কিছুতে বাধ্য করা সম্ভব না, কেউ যদি নিজে না চায় তাহলে তাকে বলে কয়ে নেশা ছাড়ানো যায় না। তুই নেশা করবি কর, নিজের মতো সময়ে বুঝবি বিষয়টা।
খাবি খা, মারা যাবি যা, তবে একটু বুঝেশুনে কর।
সেটা আরও এক যুগ আগের কথা। এখনও সে বন্ধু নেশা ছাড়তে পারে নি। বরং আমি দিন দিন তার খবর পাই আর একটু দুঃখিত হই। এমন দীর্ঘমেয়াদী নিমমৃত্যুর ঘটনা দেখছি, এটা হয়তো একটা বাস্তবতা। সে প্রতিদিন একটু একটু করে মরছে, আপাতত তাকে দেখে আমার মনে হয় সে পরপর ৪ মিনিট একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোসংযোগ করতে পারে না। কথা বলতে বলতে কথার খেই হারিয়ে ফেলে। মাঝে মাঝে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিসের হিসাব করে, কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার পরে ঠিকই সে খুঁজে খুঁজে গাঁজার একটা পুড়িয়া কিংবা ফেন্সিডিলের একটা বোতল খুঁজে নিয়ে ফিলিংসে যায়।
বোতল আর কল্কি ফাটানোর ভেতরেই তার জীবন কাটছে। তার ছোটো মেয়েটার কথা ভাবলে একটু চিন্তিত হই, কিন্তু জগতের সকল প্রাণীর কথা ভেবে কষ্ট পাওয়ার বাইরে আমার কিছু করার নেই। আদতে আমি কাউকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করতে পারি না। কাউকে কোনো কিছুতে বাধ্য করে হয়তো সাময়িক আনন্দ কিংবা সাফল্যের স্বাদ পাওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বিষয়টা কেমন হয় আমি জানি না।
যে মহিলাকে আমরা গাঁজা না বেচতে বাধ্য করেছিলাম, সেই মহিলার মেয়ের ধর্ষণ হয়তো অনিবার্য ছিলো , কিন্তু হয়তো সে সম্ভবনা কমে যেতো অনেকাংশে যদি সে মেয়ে স্কুলে যেতে পারতো এবং ধর্ষিত হওয়ার সময়টাতে তার স্কুলে থাকবারই কথা ছিলো, কিন্তু আমাদের সমাজসংস্কারের পাগলা নেশা তাকে স্কুল ছাড়িয়ে অন্য একটা বাসায় গৃহপরিচারিকা করেছিলো। হয়তো সেটা না ঘটলেও এমন সম্ভবনা তৈরি হতো, বাংলাদেশের সমাজটাতেই এইসব উপকরণ ছড়িয়ে আছে, কিন্তু আমি বলছি সম্ভবনার কথা, হয়তো অন্য রকম কিছু একটা ঘটতে পারতো, অন্য রকম কোনো একটা সম্ভবনা তৈরি হতে পারতো, যদি না আমরা কয়েকজন কিশোর অন্য সব মুরুব্বিদের প্রশ্রয়ে তাদের জীবিকা এবং এলাকা ছাড়া না করতাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


