শেখ মুজিব ----- আহমেদ শরীফের ডায়েরী থেকে
১১ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১০
আহমেদ শরীফ নন্দিত এবং নিন্দিত তার রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং তার স্পষ্টবাদিতায়। তার ভাষ্যকে প্রামাণ্য ভিত্তিতে গ্রহন করবার কোনো কারণ আছে এমনটা আমার মনে হয় না কখনই, তবে তারা সমাজের যে স্তরে বসবাস এবং ঘোরাফেরা করেছেন, সেই উপস্থিতি সূত্রে গুজব এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তারা হয়তো কিছু তথ্য জানেন যা অন্য নীচ তলার মানুষেরা কখনই জানতে পারে না। সুতরাং এখানে তার যেসব বক্তব্য পেশ করা হবে সেটার প্রামাণ্যতা নিয়ে কোনো বক্তব্য আমার নেই- বরং সেটা আহমেদ শরীফের বরাতেই মেনে নিতে হবে-
আহমেদ শরীফের অগ্রন্থিত ডায়েরী থেকে নেওয়া বক্তব্যগুলোর পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে একটা কালাণুক্রমিক সজ্জ্বা দিয়েছি শুধুমাত্র- এইটুকুই আমার বক্তব্য-
হুজুগে বাঙ্গালী, সুযোগসন্ধানী, সুবিধেবাদী নগদজীবি বাঙালী। চাটুকারিতায় তোয়াজে তোষামদে স্তবে-স্তুতিতে ছোটো- বড়-মাঝারী সব দেবতার পূজারী বাঙালী আবার যথাসময়ে যথাস্থানে যথাপ্রয়োজনে যথাপাত্রে অকৃতজ্ঞ হয়ে বেওয়াফা হয়ে নতুন শক্তির ওফাদারি হচ্ছে বাঙালীর চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য। চিরকাল বাঙালী তাই পর-প্রভাবিত, মেরুদন্ডহীন-অনৃতভাষী, আত্মসম্মানবোধে রিক্ত পরাধীন, ভীত-ভেতো, সরকার ঘেঁষা,সরকারভীরু ও সরকারের পা চাটা। তার বাঘা তেজ নেই, আছে সর্বার্থে ও সর্বাত্মক ভাবে কুকুরেপনা- তবু কুকুরের মতো প্রভুর দুঃখে-বিপদে-আপদে প্রভুর প্রতি অনুরাগ- আনুগত্য, প্রভুর অনুগামিতা তার থাকে না। এক্ষেত্রে সে কুকুরেরও অধম। এটি কুকুরের মহৎগুন কিন্ত তা বাঙালীর নেই। সে আত্মরতিপরয়ান বলেই নিমকহারাম।
শেখ মুজিবর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানোর ফলেই ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ অআওয়ামী লীগ বাঙালী মাত্রই মুজিবের প্রতি সহানুভুতিশীল ও তার সমর্থক হয়ে উঠে। যদিও তখন সব আওয়ামী লীগারই দলছুট হয়ে যায়। বাকি থাকেন শিব রাত্রির সলতের মতো আমিনা বেগম আর আব্দুস সালাম খান। পরে সালাম খানও সরে পড়েন। আমিনা বেগমই ধরে রাখেন আওয়ামী লীগ নামটা। কেন না আওয়ামী লীগ তখন নামসার। এভাবে ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ সাতন্ত্র্যকামী বাঙালীর স্বতোস্ফুর্ত নেতৃত্বে বৃত হয় শেখ মুজিবর রহমান। তখন তিনিই বাঙালীর বল-ভরসার আকর ও ভিত্তি, প্রেরণার, প্রণওদনার, সংগ্রামের প্রবর্তনার উৎস। তাই নির্বাচন কালে দেশশুদ্ধ প্রায় সবাই আওয়ামী লীগপন্থী হয়ে উঠলো। মুজিব হলেন বাঙালীর একছত্র অবিসংবাদিত নেতা ও নায়ক।
নেতাসূলভ গুণের ও ব্যক্তিত্বের অভাব থাকা স্বত্ত্বেও শেখ মুজিবর রহমান অপ্রতিদন্ডী ও অবিসংবাদিত নেতৃপদে বাঙালীমাত্রেরই অন্তরে ও বাইরে স্বীকৃত ছিলেন, এবং অস্থিরচিত্ততা, চেলাপ্রীতি ও সিদ্ধান্তহীনতার জন্য নিন্দিতও।
মুজিববাদী আঁতেলরা এমন বেহায়া চাটুকার যে কোন মিথ্যাভাষণে তাদের কোন লজ্জা-শরম নেই। তাঁরা জানেন মুজিবের পাকিস্তান ভাঙার কোনো স্বপ্ন বা সাধ ছিলো না, তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দীর চেলা এবং মুসলিম লীগার ও হিন্দুবিদ্বেষী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছিলো তাঁকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন। কেননা আগরতলা মামলা তাঁকে অপমানিত , ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ বাঙালীর হিরো বানিয়ে দিয়েছি। শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অবধি প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য দককষাকষি করেছিলেন, যদিও যে লক্ষ্যে ছাত্রনেতাদের পরামর্শে তিনি ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ও মুক্তির সংগ্রামের কথা উচ্চারণ করেছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বপ্রাপ্তি ত্বরাণ্বিত করার লক্ষ্যেই। প্রমাণ তিনি ঐ সভার পরেই দ্রোহী হন নি, ছাত্ররাও ধরে নি অস্ত্র।
তিনি স্বাধীনতা চান নি। তরুণেরা তারুণ্যের আবেগ বশবর্তী হয়ে স্বাধীনতার দাবি ও সঙ্কল্প তাঁকে দিয়ে জোর করে তাঁর মুখে উচ্চারণ করিয়েছিলো তাঁর আপত্তি ও পরিব্যক্ত অনীআ সত্ত্বেও। তাঁর বাড়ীতেও ওরাই স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছিলো তাঁর হাতেই। মানুষের বিশে করে বাঙালীর স্বভাব হচ্ছে হুজুগে তাই তারা কাক-শিয়ালের মতো বুঝে না বুঝে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে মেনে নিলো। সেভাবেই তাঁর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য নিবেদন করলো।
২৫শে মার্চে পাকিস্তান সরকারই বাঙালীকে প্রতারিত করে হত্যাকান্ড চালাতে থাকে। বিপন্ন ও অস্ত্রচ্যুত বাঙালী সেনানীরা, পুলিশেরা এবং ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ তরুণেরা অনন্যপায় হয়ে অস্ত্রধারণ করে, তাদের সাথে জুটে যায় আওয়ামী লীগারেরা, এবং ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ স্বাধীনতাকামী জনগণ গাঁ গঞ্জ থেকে শিক্ষিত- অশিক্ষিত নির্বিশেষে। শেখ মুজিব যে মুক্তি বা স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা-প্রণোদনা প্রবর্তনা দাতা তা কেউ অস্বীকার করে না। যদিও সবটা তাৎক্ষণিক এবং অবস্থায় ও অবস্থানের পরিণাম, পরিকল্পিত নয়, উদ্বিষ্ট ছিলো না বলেই।
শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা এবং জাতির পিতার পরিচিতি নিয়ে ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২ সনে ঢাকায় আসেন ।
শেখ মুজিব কিন্তু তাঁর দলের লোকদের নিয়ন্ত্রণে ও শাসনে অনুগত রাখতে পারলেন না। তাঁর রক্ষীবাহিনীর, তাঁর অনুচর, সহচর, সহযোগীর লুণ্ঠনে, পীড়ন নির্যাতনে, অত্যাচারে, শাসনে- শোষণে দেশে দেখা দিলো দুর্ভিক্ষ, মরল লক্ষাধিক মানুষ।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সনের আগস্ট মাস অবধি মুজিব শাসন হচ্ছে ত্রাসের হত্যার কাড়ার-মারার, জোর-জুলুমের, স্বৈরাচারের, দুর্ভিক্ষের, পীড়ণের, শোষণের, জবরদখল ও জবরদস্তির হৃৎকাঁপানো বীভৎস রূপের।
সম্ভবত শেখ মনিই ভাবিশত্রু তাজউদ্দীনকে মুজিবের প্রতিদন্ডী বলে মুজিবের কান-মন ভারী করে তাঁকে পদচ্যুত করিয়েছিলো। রাজত্বটাও প্রায় পারিবারিক হয়ে উঠেছিলো- সৈয়দ হোসেন, সারনিয়াবাদ, শেখ মনি, কামাল- জামাল তখন সর্বশক্তির আধার কার্যত
এ সুযোগে উচ্চাশী মুশতাক ও অন্যরা হলো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অস্থিরচিত্ত ও অনভিজ্ঞ রাজনৈতিক নীতি আদর্শেও হলেও অস্থির। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতে তাঁর মুক্তিযোদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি উচ্চাশী ক্ষুদ্র দল তাঁকে সপরিবার পরিজনে হত্যা করলো।
।
মুজিবকে যারা হত্যা করলো, তারা গোড়ায় সবাই মুজিবের অনুগতই ছিল।
শেখ মুজিবের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন কিন্তু হত্যা-লুণ্ঠনের বিভীষিকা মুজিবকে গণশত্রুতে পরিণত করেছিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্বার্থে সে সুযোগে তাকে হত্যা করায় সপরিবার।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
বিপজ্জনক পোষ্ট। ++
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
আপনার পোষ্টে প্লাস দিলাম|সবকিছুর পরও বলবো মুজিব সি;হ পুরুষ ছিলেন (যদিও আমি মুজিব ও তার দলের কট্টর সমালোচক)| তার উদারতা কি;বদন্তি সম|
আমাদের উচিত উনাকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়া....
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
লোকটাকে আসলেই অরিজিনাল মনে হয়।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২ বলেছেন:
শেখ মুজিব অবশ্যই ভালো লোক ছিলেন। তবে মানুষ ছিলেন।
আর তার পারিষদবর্গ চোর বাটপার এবং লোভী ছিলো।
দেশী পোলা বলেছেন:
একটা প্রশ্ন জাগে, ১৯৭১ সালে আহমেদ শরীফ কোথায় ছিলেন? কি কি করেছেন? আর ১৪ই ডিসেম্বরের রাতে তাকে আলবদর-রা বাদ দিলো কেন?
লেখক বলেছেন: ঢাকা শহরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ছিলেন।
আলবদর গ্রুপ কেনো তাকে বাদ দিলো এটা মনে হয় যারা এই তালিকা তৈরি করেছিলো তারা ভালো বলতে পারবে।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
তার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, 'ড্যাষি পোঁদা' রেগুলার আক্ষেপ করে, কেন তার বাপে আহমেদ শরীফের নামটা লিস্টে ঢুকায় নাই, 'গন্ডগোলের' টাইমে..
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
@দেশী পোলা:আহমদ শরীফ, মুজিবের সমালোচক আবার আল-বদর লিষ্টে নাম নাই খুব অবাক হইছেন তাই না......??
আল-বদরদের লিষ্টে নাম ছিল কি ছিল না এটা আপনি কিভাবে জানেন...?? লিষ্ট কি আপনার হাতে তৈয়ার হইছে, নাকী আপনি লিষ্ট দেখেছেন......।??
দয়া করে পিয়ালের পোষ্ট একটু পড়ে দেখুন, ভাল তথ্য আছে:
Click This Link
দেশী পোলা বলেছেন:
ছাগফুর, তোর ম্যাৎকার শুনের টায়ার্ড হয়ে গেলাম, তোর বাপ ৭১ এ কি কি বাহাদূরি করেছে সেটা নিয়ে একটা পোস্ট দে, নাকি তুই সারমেয় জারজ, বাপের পরিচয় নাই, তাই সবসময় অন্যের বাপ নিয়া টানাটানি করিস??
দেশী পোলা বলেছেন:
@বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত পিয়ালের লিংকে কিছুই নাই
আর আমার প্রশ্নটা না বুঝে সমালোচনা করছেন, মুজিবের সমালোচক যে কেউ হতে পারে, ওটা হতে আহমদ শরীফ হওয়া লাগে না।
আমার প্রশ্ন হল আহমদ শরীফ বা ফরহাদ মাজহার কেন ৭১ এ বহাল তবীয়তে থাকে, কিন্তু মুনীর চৌধুরীরা মরে যায়? সেটার প্রশ্নের উত্তর আরেকদিন পাব, হয়ত
লেখক বলেছেন: অনেকেই তো বহাল তবিয়তে ছিলো, সেটা গণ্যমান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সবাইকে বাদ দিয়ে ফরহাদ মজহার এবং আহমেদ শরীফকে টানাটানির কারণটা কি?
'লেনিন' বলেছেন:
আহমেদ শরীফ প্রকৃত চেহারাটাই ফুটিয়ে তুলেছেন মুজিবের। সেই সাথে বাঙালিরও।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
@দেশী পোলা:দু:খিত, আমার কঠোর বাক্য বিন্যাসের জন্য| আপনার মনে যে প্রশ্ন জেগেছে তা আমি বুঝি| আমি আপনাকে ভুল বুঝি নাই|
শুধু আহমদ শরীফ,ফরহাদ মজহার নয় শামসুর রহমান সহ অনেকেই বেচে গেছেন, আমরা শুকরিয়া করি তারা বেচে গেছেন, জানে বাচার জন্য যদি কেউ কোন রুপ আপোষ করে থাকে তা ক্ষমার চোখেই দেখবো|
পিয়ালের লি;কে আছে, অনেক বুদ্বিজিবী বিপদে পড়ে অনেক কাজ করেছেন, সে জন্য ঐ লি;কে যেতে বলেছিলাম|
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
আহমেদ শরীফের অনেকগুলা পয়েন্টের সাথে একমত। যদিও আমি সে প্রজন্ম না, তারপরেও যুক্তিযুক্ত মনে হয়।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
অজস্র ধন্যবাদ রাসেল ভাই । প্রিয়তে রাখলাম ।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
জ্ঞানের গভীরতায়,মৌলিক চিন্তায়, মুক্তবুদ্ধির চর্চায় এবং সর্বোপরি মানবতাবাদ প্রচারে নিষ্ঠাবান শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড.আহমদ শরীফ (জন্ম ১৩ ফেব্রু ,১৯২১ ; মৃত্যু ফেব্রু ২৪, ১৯৯৯) বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল জোতিষ্ক দ্রোহ ও প্রথাবিরোধিতা যার মানসের অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য । সমাজের সকল রকম অসঙ্গতি, অন্যায়-অনাচার-বৈষম্য, ধর্মান্ধতা-মতান্ধতা-সাম্প্রদায়িকতা, শোষন-পীড়ন-দুঃশাসন এবং বিদেশী খবরদারী ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রতিবাদ ও দ্রোহের প্রতীক । তাঁর শত্রু-মিত্র সকলের ঐকমত হল , তিনি সাহসী মানুষ ছিলেন । তাঁর এই দ্রোহ আর সাহসের উৎস কি ? তাঁরই ভাষায় :‘ আমার সাহসের উৎস হচেছ হঠকারিতা,অবিমৃশ্যকারিতা ,সংস্কৃত শব্দ। আমি ভেবে চিনতে কোনো কাজ করতে পারিনা। আমি যেটা মনে করি উচিৎ, সেটা উচিৎ।’ (দ্র, দৈনিক সংবাদ,২২ ফেব্রুয়ারী ২০০৬) তাঁর এই স্বীকারুক্তির সাথে দ্বিমত না করেও আমরা বলতে পারি , তাঁর সাহস আর দ্রোহের মুলে ছিল তাঁর নিখাদ মানবপ্রেম এবং দেশপ্রেম । তাঁর জেদীমনার জন্য একদিকে তিনি চিহ্নিত হয়েছেন ‘সাংস্কৃতিক জগতের মাওলানা ভাসানী’, ‘রেনেসাসের প্রতিনিধি ’অন্যদিকে বুদ্ধিজীবিদের বর্ণানায় বিতির্কত আর প্রতিক্রিয়াশীল মোল্লাদের কাছে ‘মুরতাদ ’ ( ২১ অক্টোবর ১৯৯২ তারিখে স্বদেশ চিন্তা সংঘের সেমিনারে ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে মত প্রকাশের জন্য তিনি মোল্লাদের দ্বারা মুরতাদ আখ্যায়িত হন , দেখুন ইনকিলাব ২৪ অক্টোবর ১৯৯২) ।অধ্যাপক আহমদ শরীফ অভিমানী ও জেদী ছিলেন নিঃসন্দেহে তবে সেসাথে ছিলেন নির্মোহ ব্যক্তিত্ব । একালে এমন মানুষ সহজে মেলে না।
সুবিদ্ বলেছেন:
এমন চাঁচাঁছোলা কথন আহমদ শরীফকেই মানায়....অনেক ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে, কিন্তু অনেকে আহমদ শরীফকে যেভাবে তুলাধুনা করতে চাচ্ছেন, তার কোন মানে হয়না......শেখ মুজিবের শাসনামল নিয়ে আসলে নোর্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া আজ খুবই দরকার....
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
সুবিদ্ বলেছেন: "শেখ মুজিবের শাসনামল নিয়ে আসলে নোর্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া আজ খুবই দরকার "একমত ।
চাণক্য বলেছেন:
তা বৎস, কি সিদ্ধান্তে পৌছিলে? মুজিব স্বাধীনতা চায় নাই, নাকি আহমেদ শরীফ রাজাকার ?
লেখক বলেছেন: আমার সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন কি আদৌ আছে?
'লেনিন' বলেছেন:
আহমেদ শরীফও রাজাকার নয়। মুজিবও স্বাধীনতা চেয়েছিল। তবে চাণক্যের পেছেনের লোকটির রাজাকারী মনস্কতা অসম্ভব দেখিনা।
ইরফান আহেমদ বলেছেন:
শেখ মুজিবের শাসনামল নিয়ে আসলে নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া আজ খুবই দরকার....
১ কেন তিনি নিজেকে আজীবন রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করলেন।
২ কেন তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে একটি মাত্র দল তৈরি করে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধীকার হরন করলেন।
২ কেন তিনি দেশের সব পত্রিকা নিষিদ্ধ করে চারটি মাত্র পত্রিকা রেখে বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরন করলেন।
হ্যাঁ যদি আমাদের বিবেক এখনো জাগ্রত থাকে।
রায়হানুল আমিন কল্লোল বলেছেন:
আসলে আহমদ শরীফ বাঙ্গালিদের আরেকটি গুণ(!) এর কথা বলেননি। বাঙ্গালিরা ব্যাক্তিগত পছন্দ করে না এমন কারো বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী কথা শুনলে বা পড়লে অন্তরের ভেতরে এক অদ্ভুত আনন্দ লাভ করে। আর এই জন্য সেই কথার যুক্তি না খুঁজে, বিচার বিশ্লেষণ না করেই সেই রচয়িতা কে বিশ্বের সেরা কাহিনীকার উপাধি দিয়ে বসে থাকেন। তাই এখানে দেখতে পাচ্ছি। আমরা সবাই মনে করি আমরা যে জানি তাই প্রকৃত ইতিহাস। কিন্তু আমরা কি কখনো আমাদের জানার মধ্যেকার অসঙ্গতি খজে বের করার চেষ্টা করেছি?@ ইরফান আহমেদ
একাত্তর পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নূন্যতম শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত নস্যাৎ করার জন্য, কোন গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চক্রান্ত ব্যর্থ করার জন্য তার এই পদক্ষেপ গুলো জরুরী ছিলো। মনে রাখবেন, ওই সময়ের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট কখনোই এক নয়। ধন্যবাদ।
ভাবসাধক বলেছেন:
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: আপনার পোষ্টে প্লাস দিলাম|সবকিছুর পরও বলবো মুজিব সি;হ পুরুষ ছিলেন (যদিও আমি মুজিব ও তার দলের কট্টর সমালোচক)| তার উদারতা কি;বদন্তি সম|
আমাদের উচিত উনাকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়া....
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















