অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

ইশ্বর হত্যার কৌশল

২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২১

শেয়ারঃ
0 0 0

আলোচনার শুরুটা মনির হাসানের একটা লেখায়, যার বিষয়বস্তু ছিলো ধর্মের সাম্ভাব্য ভবিষ্যত , আলোচনা অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েছে, অনেক রকম অনুমাণ এসেছে, বিতর্ক হয়েছে এবং সে বিতর্কে যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের সবাই নিজের অবস্থান থেকেই সাম্ভাব্য ভবিষ্যতবানী করেছে।

সেখানে আলোচনার একটা অংশ ছিলো ধর্মের উৎপত্তি এবং বিকাশ। ধর্ম সামাজিক সংস্কৃতির সুসংবদ্ধ রূপ অথবা ধর্ম অলৌকিক কোনো ঐশী অনুপ্রেরণা? ধর্ম কি সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভুত হয়, সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো কেমন থাকে। নাস্তিকের ধর্মকথার অবস্থানটুকু আমার অবস্থানের অনেক কাছাকাছি। কিঞ্চিৎ দ্বিমত আছে হয়তো তবে সেগুলো বাদ দিলে নাস্তিকের ধর্মকথার যৌক্তিক অবস্থানটুকুকে মেনে নিতে হচ্ছে।

সত্য এক এবং অভিন্ন নয়, বরং সত্য সবসময়ই ব্যক্তিনির্ভর একটি প্রপঞ্চ। সত্যের সাথে ব্যক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যক্তি যতটুকু গ্রহন করতে পারে সেটুকুই সে ব্যক্তির জন্য সত্য। আমি গত কয়েকদিন ঠিক ঘুমাতে পারছি না, শরীর ঘুম চাইছে, কিন্তু নির্দিষ্ট একটা সময়েই আমাকে উঠতে হয়, সুতরাং আমি যখন ঘড়ির এলার্ম শুনে সচেতন হই তখনও আমার মস্তিস্ক ঘুমের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে না, খানিকটা সময় লাগে সচেতন হতে।

তবে সেই আধোঘুম এবং আধোজাগরণের সময়টুকুতেও মস্তিস্ক সচল থাকে। ঘুমের অবশিষ্ঠাংশ তখনও মস্তিস্কের নিউরণে লেগে থাকে বলেই গতকাল হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা দৃশ্যের মুখোমুখী হলাম। হঠাৎ করেই আমার ঘরের দেয়াল সরে গেলো অনেক দুরে, অসংখ্য মানুষের আনাগোনা দেখলাম সেখানে। আমি সচেতন এবং অসচেতন, একই সাথে আমি দেয়াল এবং সেই দেয়াল ভেদ করে চলাচল করা মানুষগুলোকে দেখছি, তাদের চেহারা স্পষ্ট হচ্ছে না আমার কাছে।

কিছু সময় পর এই ঘোর কেটে গেলো, আমি পরিপূর্ণ সজাগ হয়ে উঠলাম এবং বিছানা না ছেড়েই ভাবতে বসলাম এটা কি অতিলৌকিক কোনো নিদর্শন, আমার কি এখন স্বপ্নে পাওয়া মহৌষধের বিপনন শুরু করা প্রয়োজন? কিংবা আমার কি এখনও কোনো দরগা শরীফ খুলে দেওয়ানবাগী হুজুরের ব্যবসায় হানা দেওয়া প্রয়োজন? সৌভাগ্যবশত আমি এমন অলৌকিকত্ব বিশ্বাস করি না এবং আমি এটার কার্যকরণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত না হলেও কিঞ্চিৎ পড়াশোনার সুবাদে জানি আমাদের দৃশ্যগুলো বাস্তব নয় মোটেও। আমাদের দৃশ্যমান জগত অনেকটা মস্তিস্কের প্রতিক্রিয়া, সেখানেই যাবতীয় তথ্যগুলো বিশ্লেষিত হয় এবং সেই বিশ্লেষিত তথ্যগুলো যখন আমাদের সচেতন মস্তিস্কে চলে আসে, এইসব ইলেক্ট্রোলাইটস আমাদের যে অনুরণন দেয় আমরা সেটাকেই বাস্তব দৃশ্য হিসেবে প্রত্যক্ষ করি।

মস্তিস্ক বেশ জটিল একটা প্রত্যঙ্গ এবং সেই প্রত্যঙ্গ এত দ্রুত এইসব অনুসিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে আমাদের কিঞ্চিৎ দৃষ্টিভ্রম হলেও সেটা আমাদের ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যলেন্সের কারণে ঘটলো না কি আমাদের দর্শণের উদ্দীপনা তৈরি করে মস্তিস্কের যে অংশ সেখানের কোনো ত্রুটির জন্য ঘটলো এটা নির্ধারণ করা প্রায় দুসাধ্য কোনো রকম পরীক্ষানিরীক্ষা না করে।

আমাদের যাবতীয় রুপ রস গন্ধ স্পর্শ্ব-স্বাদ এবং অন্য সব অনুভবও আসলে এমনই অভিজ্ঞতার আলোকেই নির্মিত হয়। আমাদের প্রতিটা ইন্দ্রিয়ই কিছুটা হলেও মস্তিস্কে তার ছাপ রাখে, আমাদের প্রতিটা গন্ধকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে হয়, আমাদের যেকোনো অনুভব এবং অনুভুতি আসলে পূর্ববর্তি কোনো ক্রিয়ার পুনরূৎপাদন প্রকল্প, কোনো রকম পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে আমাদের নিজস্ব বিশ্লেষণী শক্তি পরাজিত হয়। সেটা সুর কিংবা রূপ কিংবা গন্ধ যাই হোক না কেনো, আমরা যদি সেটাকে কিংবা সেটার জন্য উদ্ভুত মস্তিস্কের সিগন্যালকে সংজ্ঞায়িত না করি তবে সেটা আমাদের অপরিচিত। আমরা গোলাপ আর হাস্নুহেনার গন্ধকে আলাদা করতে পারি, কাঁঠালচাপার গন্ধের সাথে কামিনী ফুলের গন্ধকরে গুলিয়ে ফেলি না, কাছাকাছি যেকোনো উদ্দীপনাই আমাদের এদের সংজ্ঞার সাথে পরিচিত করে দেয়, সুতরাং আমরা তুলনা করি, এবং যেটার তুলনা অধিকতর কাছাকাছি হয় আমরা সেটাকেই নির্দিষ্ট ধরে নেই। স্বাদের ক্ষেত্রেও একই রকম বক্তব্য দেওয়া যাবে, এমন কি আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যেকোনো অনুভবকেই আমরা এমন ভাবেই সংজ্ঞায়িত করেছি আশৈশব, সুতরাং আমাদের ভবিষ্যত অভিজ্ঞতা মূলত এইসব পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে নতুন সংবেদনকে আলাদা করতে শেখার কৌশল। আমরা যতদ্রুত এই কৌশল আয়ত্ব করতে পারি আমরা তত বেশী স্মার্ট।

ধর্মালোচনায় এটার উপস্থিতি আদতে শুধুমাত্র সত্যের অনন্যতার বুঝানোর জন্য, প্রতিটা একক মানুষের মস্তিস্ক একই রকম ভাবে উদ্দীপ্ত হয় না। বরং একই গন্ধে প্রত্যেকের শরীর ভিন্ন ভাবে সাড়া দেয়, তারা প্রত্যেকেই একই উদ্দীপনার মুখোমুখী হচ্ছে এবং আলাদা আলাদা রাসায়নিক উদ্দীপনা পাচ্ছে, এভাবেই মানুষ এবং মানুষের ভেতরে তফাত তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

তাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা এবং সত্য চুড়ান্ত বিবেচনায় ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তির ধারণ ক্ষমতার উপরে নির্ভর করবে সত্যের স্বরূপ। সত্যের একটা মাত্র মুখোশ নেই বরং সত্য বহুরুপী, আমার কাছে যা সত্য সেটা অন্য সবার কাছে সত্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনচর্চা, ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা থেকে আমি যেসবকে অবশ্যপালনীয় ভাবি, যেসবকে বাস্তব মেনে নেই এবং যেসবকে আমার নিয়ন্ত্রনের বাইরের কিছু ধরে নেই সেটা অন্য একজনের সাথে আমার পার্থক্য নির্ধারণ করে এবং একই সাথে সেটাই তার সত্যের সাথে আমার সত্যের পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়। সুতরাং সত্য বিষয় অনপেক্ষ কিছু নয়, ব্যক্তিঅনপেক্ষ কিছু নয়, বরং এইসবের সাথে ব্যক্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনচর্চা জড়িত।

প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির বিশ্লেষণের তথ্য দিয়ে হয়তো কিছুটা আন্দাজ করা যাবে আধুনিক সময়ের সাথে অতীতের পার্থক্য এবং সেই সাথে আমাদের অনুভবের বিবর্তনটুকুও ধারণ করা যাবে। নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান রাখে, তাদের আমরা একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীবদ্ধ করি, এর সাথে একদল মানুষ আছে যারা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সম্পর্কগুলো সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী, তাদের আমরা শ্রেণীবদ্ধ করে বলতে পারি এটা "খ" শ্রেণীর। তৃতীয় একদল মানুষ আছে যাদের অভিজ্ঞতা সফটওয়্যার নির্মাণের, প্রতিটাই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়া এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাই করে একটা সিদ্ধান্ত ও বিশ্লেষণের জায়গা এই তিন শ্রেণীর মানুষের আছে-

এই তিন শ্রেণীর মানুষের বাইরে বিশাল এক ভোক্তা সমাজ রয়েছে, যাদের এতকিছু জানবার প্রয়োজন নেই, ছবি দেখে চিহ্ন দেখে যারা এইসব ব্যবহার করছে নিজের জীবনের প্রয়োজনে। এবং এটার জটিলতা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এই ব্যবহারজীবি মানুষের কাছে যদি এই তথ্যটুকু না থাকে যে পৃথিবীর কোনো কোনো মানুষ এগুলোর কার্যাবলী নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা রাখে তবে তার কাছে এটা অলৌকিক একটা যন্ত্র- কিন্তু এটা নির্ধারিত কিছু নিয়মাবলী দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।
টেলিভিশনের মতো প্রযুক্তিও কোনো কোনো মানুষের কাছে অলৌকিক মনে হতে পারে, রেডিও কিংবা মোবাইল ফোনও অনেকের কাছে অলৌকিক কিছু, কারণ এইসবের কার্যকরণ আমরা নিজস্ব বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্ধারণ করতে পারছি না।

একই ভাবে একজন সফটওয়্যার নির্মাতা শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রে অত্যাধিক অভিজ্ঞ হলেও ম্যাশিন ল্যাঙ্গুয়েজের সহায়তা ছাড়া তার এতসব কার্যক্রম কোনো অর্থই বহন করবে না। কারণ ম্যাশিন শব্দ বুঝে না, শব্দের আড়ালে থাকা নির্দেশনাগুলো যেভাবে কাজ করতে বলবে তারা সেভাবেই কাজ করবে।

শিক্ষাও এমনই একটা ব্যবহার্য বিষয়, সে ব্যবহার্য বিষয় কিভাবে আত্মস্ত করবে সেটা ব্যক্তির নিজের ধারণ ক্ষমতার উপরে নির্ভর করে। একজন নিউরোবিজ্ঞানী জানেন আমাদের চারপাশের জগত আমাদের মস্তিস্কে সে রাসায়নিক উদ্দীপনা নির্মাণ করে আমাদের বিশ্ব সেটুকুই, সেই রাসায়নিক উদ্দীপনার বাইরে বিশ্বের কোনো অস্তিত্ব নেই, আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, আমি স্বপ্নে যেসব অনুভব পাই, সেসব স্বাদ কিংবা স্পর্শ্বে আল্পুত হই সেসব যদি সে বস্তুর উপস্থিতিব্যতিরকেই আমার মস্তিস্ক উৎপাদন করতে পারে তবে আমরা সেই অনুভবটুকু পাবো, সেই দৃশ্যের উপস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত হবো। আমি স্বপ্নে যে নারীকে দেখে প্রবল আশ্লেষে আলিঙ্গন করে তৃপ্ত হচ্ছি সে নারির কোনো শরীরি অস্তিত্ব নেই, সে বসবাস করছে আমার মস্তিস্কের রাসায়নিক কার্যকলাপে, সুতরাং আমার কাছে স্বপ্ন, মস্তিস্ক, জাগরণ এবং অসচেতনতাগুলো মূলত এভাবেই নির্ধারিত হয়ে যায়- আমি সচেতন অবস্থায়, জাগ্রত অবস্থায় এইসব রাসায়নিক কার্যকলাপগুলোকে পরিচিত দৃশ্যের সাথে একিভূত করে নিজের পরিপাশ্বিকের সাথে মিলিয়ে একটা আকার দিতে পারি- হয়তো চাইলে সেসবকে পরিবর্তিত করতে পারি, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই এটা নিশ্চিত করে না আমি জাগ্রত- বরং আমাদের অন্যসবাই একই রকম অবাস্তব হলেও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াগুলোর বিন্দুমাত্র অদল-বদল হবে না।

এরপরও আমি নিজেকে সজাগ এবং অসচেতন পর্যায়ে বিভক্ত করবার মতো একটা পরিস্থিতি নির্ধারণ করেছি, কারণ আমি নিজের অবস্থান থেকে নিজের সুপ্তি এবং জাগ্রত অবস্থাকে আলাদা করবার নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ধরে নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি।

১০০০০ বছর আগের একজন মানুষের কাছে এই তথ্যগুলো অবান্তর, আমাদের প্রাযুক্তিক উন্নতি তখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায় নি যে সে নিজের সুপ্তি এবং জাগ্রত অবস্থা, নিজের মস্তিস্কের রাসায়নিক উদ্দীপনার সাথে দৃশ্য এবং অদৃশ্যকে আলাদা করতে পারবে। সুতরাং তাদের কাছে সকল দৃশ্যই বাস্তব, সকল রাসায়নিক উদ্দীপনাই একই রকম বাস্তব তাদের কাছে, তারা নিজের অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে পারে নি, এবং নিজের বিশ্লেষণী ক্ষমতার চুড়ান্ত ব্যবহার করেও তাদের সে পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই কারণ এইসব তথ্য না থাকলে তারা সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না।

কিন্তু ঠিক এই সময়ে যখন কোনো অলৌকিক দৃশ্য দেখে কোনো নিউরোবিজ্ঞানী পূজা অর্চনা শুরু করেন তখন তাকে কোন শ্রেণীতে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়, তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় জানেন এইসব বাস্তবতা এবং অবাস্তবতার জগতটুকুর তফাত, কিন্তু তিনি এটা স্বীকার করতে চাইছেন না। তার শিক্ষা তাকে প্রতারিত করছে কিংবা তিনি তার অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করে অন্য একটা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।

সেখানেই ব্যবহারউপযোগী শিক্ষা চলে আসছে, শিক্ষার ব্যবহার কে কিভাবে করছে তার উপরে নির্ভর করে , এবং সেটা আমি তুমি সে কিংবা সমাজ নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সুতরাং সমাজে সবাই শিক্ষিত ও প্রযুক্তি নির্ভার হয়ে উঠলেই ধর্মের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে না।

ধর্ম মানুষকে একটা আশ্রয় দেয়, একটা নিরাপত্তার আশ্বাস দেয় এবং একই সাথে জীবনের দুর্বলতা এবং দুঃসহ মুহূর্তগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়- এই অলৌকিক বিশ্বাসটুকুর যথার্থতা কিংবা অযথার্ততা আমাদের যৌক্তিক আলোচনায় নির্ধারণ করা যাবে না। বরং এটা মানসিক অনুভবের জায়গা।

আমাদের মানসিক অনুভব অনেক সময়ই আমাদের মস্তিস্কের রাসায়নিক নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রন করে, এবং সে অনুযায়ী শরীরকে চালিত করে। যে মানুষটি সন্তান হারিয়ে ধর্মের কাছে আশ্রয় খুঁজছে সে তার নিজের দুঃসহ অভিজ্ঞতাকে ভুলতে এমন একটা প্রক্রিয়াকে বেছে নিয়েছে, সেটার হয়তো কোনো যৌক্তিকতা নেই, তার সন্তান বেহেশতে কোনো কোনো নারীর আশ্রয়ে অতি নিরাপদে বেঁচে আছে এবং ভবিষ্যতে মৃত্যুর পরে তার সাথে সে সন্তানের মিলন হবে এই অবান্তর ভাবনাটুকু আমার অবস্থান থেকে যতটা অযৌক্তিক মনে হোক না কেনো, সেটাই তার বাণনচার অবলম্বন এবং কোনো যৌক্তিক আলোচনায় তার এই অনুভুতিকে আহত করা মূলত তাকে হত্যা করববার একটা অপচেষ্টা।

আমাদের সংস্কৃতি আমাদের বেড়ে উঠবার ধরণের উপরে নির্ভরশীল এবং আমাদের শব্দচয়ন এবং আমাদের নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলোও আমরা আমাদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েই নির্দিষ্ট করি, অপ্রকাশিতব্য যে কোনো অনুভবই আমাদের অলৌকিকত্বের আস্বাদ দেয়- কারণ আমরা আমাদের নির্ধারিত শিক্ষায় সেগুলোকে যথাযথ উপস্থাপন করতে পারি না।

একই রকম সংস্কৃতি চর্চার অতীত রয়েছে ১০০০০ বছর আগের মানুষেরও। তারাও তার পরিপার্শ্বকে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোকে নিজের মতো ব্যখ্যা করতে চেয়েছে, সে কাজে তারা কতটুকু সফল হয়েছে সেটা নিয়ে বিতর্ক না করে বরং সেটার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

নিজের অভিজ্ঞতায় তারা যা কিছু জেনেছে তার কিছু অংশ তারা নিয়ন্ত্রন করতে পারতো এবং অধিকারংশই তার নিয়ন্ত্রনের বাইরের জগত, সুতরাং তার নিজের নিয়ন্ত্রন অযোগ্য যেকোনো কিছুই সে আদতে অলৌকিক কোনো সত্ত্বার কাছে সচেতন ভাবেই দায়িত্ব নিয়ে ছেড়ে দিতো এবং নিজের সংক্ষিপ্ত আচরণে সেটাকে নিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা করতো। এভাবেই একটা সমাজবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিলো অতীতে।

যেকোনো গোষ্ঠীবদ্ধতা একটা নির্দিষ্ট অবস্থানের মানুষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে, সমাজের কাঠামো ঠিক করে দেয় ঠিক কোন মানুষগুলো অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশী পক্ষপাতিত্ব পাবে এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় কারা প্রাধান্য পাবে। এই সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় যাদের মতামতের গ্রহনযোগ্যতা বেশী তারাই সমাজে সুবিধাভোগী হয়ে যায় এবং এর বাইরের সবাই পক্ষাপাতিত্ববিহীন সামাজিক জীব হয়ে বেঁচে থাকে, একই সাথে একটা সংকীর্ণ অংশ থাকে যাবতীয় সুবিধাবঞ্চিত, তাদের সিদ্ধান্ত চাওয়া পাওয়া কোনো ভাবেই সমাজকে বদলায় না।

সুবিধাভোগী এবং সুবিধাবঞ্চিতদের ভেতরে শ্রেণীঘৃণা বাড়তে থাকে , বাড়তে থাকে প্রতিযোগিতা এবং অর্থনীতি ক্রমশ প্রসারিত হয়। কোন সমাজের মানুষ কতটুকু ধারণ করতে পারবে তা ঠিক করে মূলত সেই সমাজের সাথে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্য সকল সমাজের সম্পর্ক। তারা যতবেশী সমাজের সংস্পর্শে আসব তাদের সিদ্ধান্ত ও সমাজব্যবস্থা তত বিবর্তিত এবং ততই উন্নত হয়ে উঠবে। তাদের বিশ্লেষণীক্ষমতা বাড়বে, তাদের সিদ্ধান্তগ্রহন এবং তাদের আচরণে এটার প্রভাব পড়বে।

এভাবে একটা সমাগ্রীক নৈতিকতাবোধও জন্ম নিবে কোনো এক পর্যায়ে, এবং সেই নৈতিকতাবোধটুকু চর্চিত হবে, ক্ষমতাচর্চার জন্য ক্ষমতাচর্চার প্রতিরোধ করতে পারে এমন যেকোনো আচরণই নৈতিকতাবিবর্জিত গণ্য হবে, একই সাথে নৈতিকতাবোধটুকু সামাজিক স্থিরতার একটা শর্তও ধারণ করবে কারণ সমাজ স্থির না হলে ক্ষমতার চর্চা এবং অর্থনৈতিক বিকাশ সম্ভব হবে না।


বিকাশের একটা পর্যায়ে সম্ভবত ধর্মের উৎপত্তি এবং সেটা মূলত ক্ষমতাচর্চাকারীদের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে, একই সাথে সুবিধাবঞ্চিতের পরিমাণ বাড়লে তারাও নিজেদের মতো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে এবং সেই বিদ্রোহকে কার্যকর করবার জন্য তাদেরও প্রচলিত সামাজিক নৈতিকতার বাইরে গিয়ে, সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার বাইরে গিয়ে বিকল্প অনুসন্ধান করতে হয়েছে। এই ভাবেই ধর্ম বিবর্তিত হয়েছে, এবং ধারাবাহিক বিবর্তনে সেটা বর্তমানের অবস্থায় পৌঁছেছে।
ক্ষমতার চর্চা এবং সামাজিক পক্ষপাতিত্ববিহীন কোনো একটা আদর্শ সমাজ কল্পনা করা যায়, তেমন কোনো আদর্শ সমাজে হয়তো সামাজিক নৈতিকতাবোধগুলো ভিন্ন ভাবে চর্চিত হবে। সেখানের নতুন বাগবিধিতে হয়তো এইসব অবোধ্য অনুভবের পরিচায়ক কোনো শব্দ থাকবে না। এবং শব্দ না থাকলে এই জাতীয় ভাবনাও থাকবে না। ইশ্বরকে হত্যা করবার সবচেয়ে সহজ এবং সরল প্রকল্প হতে পারে অভিধান থেকে ইশ্বর এবং ইশ্বরের সমার্থক সকল শব্দ মুছে ফেলে একটা বিশাল অঞ্চলের মানুষকে সেই অভিধানের শব্দে দীক্ষিত করা।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অগভীর ভাবনা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫০
মনির হাসান বলেছেন:

বিকাশের একটা পর্যায়ে সম্ভবত ধর্মের উৎপত্তি এবং সেটা মূলত ক্ষমতাচর্চাকারীদের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে ।

এখানে আমার দৃষ্টি'টা ভিন্ন ... "বিকাশের একটা পর্যায়ে সম্ভবত ধর্মের উৎপত্তি এবং সেটা মূলত ক্ষমতাচর্চাকারীদের হাতেই রাজনৈতিক রুপে রুপান্তর, ব্যবহার, চর্চা শুরু হয়।

আদতে উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক ধর্ম'টাই ধর্মের মুল ধারা নয় ... এটা নিয়ে না.ধ. সহ সমচিন্তক যারা আছেন আছে তাদের সাথে তর্কের জায়গাটা ওখানেই ।

এমনকি আপনার পোস্টেও প্রথম দিকে এরকম কিছু ইঙ্গিত পেলাম মনে হলো।
মানুষের প্রকৃতির আনুকল্য পাবার আশায় আধ্যাত্মিক চর্চার (অজ্ঞতা,অসহায়ত্ব থেকে উদ্ভুত) যে ব্যাপার'টা এসেছে ... হোক সেটা যতুই অমুলক ... সেটাকে আমি ধর্মের শেকড় বলেই মানি ... ঊদ্দেশ্যবাজ পুরোহিতশ্রেনী সেটাকে নিজ ব্যাবহারোপযোগী একটা ফর্মেটে দাড় করিয়ে সুবিধা নিতে চেয়েছে ।

আর একটা কথা ... যেটা আমার ভাবনার পেছনে বড় সহায়ক সেটা হচ্ছে ... বিবর্তন শব্দ'টা ...
পেপসোডেন্ট বাজারে আসার পরে মানুষ দাত মাজা শুরু করেছে এমন ভাবার কোন অবকাশ নেই ... মানুষ আগে থেকেই বালু কয়লা নিমের মাজন দিয়ে দাত মাজতে অভ্যস্ত ছিল বলে পেপ্সোডেন্ট বাজারে আসতে পেরেছে ...


পরবর্তিতে আলোচনার ইচ্ছে থাকলো ...
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৭

লেখক বলেছেন: ধর্ম কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম প্রথম থেকে অদ্যাবধি রাজনৈতিক হাতিয়ারই।
স্থানীয় সংস্কৃতি এবং জীবনাচারের সাথে নৈতিকতা এবং বিধি-নিষেধের সংমিশ্রন যা ক্ষমতাচর্চাকে অবারিত করে, সেটাই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের লক্ষ্য-

বিধান এবং ভালোমন্দবোধগুলো এমন ক্ষমতাচর্চার কাঠামো ছাড়া একেবারে অর্থহীন। যা ভালো, সেটা ভালো কারণ সেটাতে কোনো না কোনো পক্ষ উপকৃত হয়, সম্মিলিত সমাজের ধারণা থেকে বউক্তিকেন্দ্রীক ভাবনা আসবার আগেই ধর্মের সূচনা হয়েছে এবং এটার প্রাতিষ্ঠানিকরণ হয়েছে, সুতরাং আমার নিজের অভিমত ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মানুষ প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণ করে এমন ধারণায় গলদ আছে।

৩. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
শয়তান বলেছেন: তাহলে কি ধর্মবোধ হত্যার নিরীখে নতুন ধরনের এক নৈতিকতাবোধের উন্মেষ হবে নিকট ভবিষ্যতে ??
৪. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১২
গোঁপা বলেছেন: আমাদের সংস্কৃতি আমাদের বেড়ে উঠবার ধরণের উপরে নির্ভরশীল এবং আমাদের শব্দচয়ন এবং আমাদের নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলোও আমরা আমাদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েই নির্দিষ্ট করি, অপ্রকাশিতব্য যে কোনো অনুভবই আমাদের অলৌকিকত্বের আস্বাদ দেয়- কারণ আমরা আমাদের নির্ধারিত শিক্ষায় সেগুলোকে যথাযথ উপস্থাপন করতে পারি না।

রাসেল , উপরের বাক্যগুলো আপনার । সম্পূর্ন লেখার উপরে মন্তব্য করবোনা । সে পরিসরও এখানে নেই । তাহলে আরোচনা শুরু করি ।

আমাদের সংস্কৃতি আমাদের বেড়ে উঠবার ধরণের উপর আদৌ নির্ভরশীল নয় । কেন নয় ? এই প্রশ্নে যেতে হলে সংস্কৃতি কি , এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে হবে ।

আমার উত্তরটি জানাচ্ছি : আমার জীবন - যাপনের যাবতীয় ধরনটিই আমার সংস্কৃতি । বাক্যটির আত্মা হচ্ছে আহমদ ছফার ।এখানে কেবল আমার ঢঙে উপস্থাপন করলাম ।
এখন আমাদের বেড়ে উঠবার ধরন থেকে কিন্তু আমি বের হয়ে গেছি । সে কারণেই আমি শব্দটাই ব্যবহার করেছি ।
কারণ আমাদের বেড়ে উঠবার পর্যায়গুলোছিলো ধার্মিক পরিমন্ডলের । যে পরিমন্ডলে এখন আমি আর নেই ।

আমি আর আমার আগের যাপনে নেই , যে যাপনের ভেতর আমার পরিবার এখনও আছে ।

আমি থেকে যে আমাদের সৃষ্টি হবে , সেই আমাদের পরিবার হবে আমারই মতো চিন্তার অধিকারী ।হতে পারে আমার থেকে অগ্রবর্তীও ।

একটি উধাহরন দেই । আমার এক বন্ধু আছে যার বাবা কমিউন্স্টি এবং মানবিকতাবাদি । তার বাবা একই সাথে উন্মুক্ত ও । কেমন ?
একজন কমিউনিস্ট হিসেবে তাকে উত্তর আধুনিকতাবাদের পজিটিভ দিকগুলোর প্রশংসা করতেও কার্পন্য করতে দেখিনি । যে খানে অনেক কমিউনিস্ট কে দেখেছি ,শব্দটির নাম শুনলে আগুনের মতো জলে উঠতে ।

যাই হোক আমার বন্ধুটিকে কিন্ত আমাদের শব্দ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়নি ।

এখন এই আমাদের , আমার কিংবা আমি শব্দের একটি স্তর আছে । যে স্তরে গিয়ে এই সব হয় ,,,


বাকিটা কয়েল জ্বালানোর পরে লিখছি । মশা খুব জ্বালাচ্ছে
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

লেখক বলেছেন: অহেতুক বাকবিস্তার মনে হলো, আমাদের বেড়ে ওঠা শৈশবের সমাপ্ত হয়ে যায় এমন সিদ্ধান্তমুলক কোনো বক্তব্য আমার লেখায় আছে বলে মনে পড়ছে না। সাংস্কৃতিক আদান প্রদান এবং এরসাথে মানিয়ে নেওয়া বড় হয়ে উঠবার একটা প্রক্রিয়া- সমাজে একেবারে অপ্রচলিত এমন কোনো সংস্কৃতি কি ধারণ করা সম্ভব? এমন কোনো তথ্য কি প্রচার করা সম্ভব যার কোনো অস্তিত্ব নেই? কোনো উদাহরণ নেই এমন কোনো দৃষ্টান্ত কি টানা সম্ভবপর কোনো সময়ে? কোনো সভ্যতায় কি এমনটা ঘটেছে?

স্থানীয় বিশ্বাসের সাথে বৈদেশিক বিশ্বাস এসেছে, একটা সমাজ অন্য একটা সমাজের সংস্পর্শ্বে এসেছে এবং সেভাবেই সামাজিক চিন্তাগুলো বিবর্তিত হয়েছে- উত্তরাধুনিকতা কিংবা আধুনিকতা এই শব্দগুলোও কি বাঙ্গালির নিজস্ব শব্দ? বাঙ্গালী আবিস্কার করেছে, একেবারে নতুন অর্থবোধক শব্দ কি আমরা প্রতিনিয়ত নির্মাণ করছি? আমরা পুরোনো শব্দকে একটা নির্দিষ্ট অর্থে প্রয়োগ করছি এবং যখন নতুন কোনো অনুভব যা পূর্ব ভাষায় উপস্থিত ছিলো না, সেসবকে ব্যখ্যা করবার জন্য প্রচলিত শব্দগুলো থেকেই একটা শব্দগুচ্ছ তৈরি করে নিচ্ছি-

আপনার পরিবারকেন্দ্রীক সংস্কৃতি আপনি ধারণ করেন না সত্য কিন্তু এখন এমন একটি সংস্কৃতি ধারণ করেন যা সমাজেই প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্কৃতি- সেটার চর্চা সীমিত পর্যায়ে হলেও আছে।

৫. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৫
গোঁপা বলেছেন: তো যা বলিছিলাম , আমার বন্ধুটির ক্ষেত্রে কিন্তু ‍‌‌‌‍‍‌আমরা" একটা সংস্কৃতি চর্চার ধারা আছে । আর আমার ক্ষেত্রে কেবল আমি নিজেই । এই ভাবে আমার বন্ধুদের আমরা আর আমির পরিমান সমাজে যখন বেশি হবে, রাষ্ট্র , রাজনীতিতে তখন তার প্রভাব পড়তে বাধ্য ।

তাহলে আপনি যে বললেন আমাদের বেড়ে উঠবার ধরনের কথা নিশ্চই সেই ধরনের জায়গা থেকে আপনি এই আলোচনা করছেন না । কারণ আপনার ধরনে এই আলোচনার সুযোগ কি আছে ?

ধরে নিলাম বাক্যটিকে সরলিকৃতের জায়গা থেকে আপনি ব্যবহার করেছেন ।

দ্বিতীয় কথা হলো , আপনি লিখেছেন :আমাদের শব্দচয়ন এবং আমাদের নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলোও আমরা আমাদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েই নির্দিষ্ট করি, এই বাক্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষন করি যদি আপনি কমিউনিস্ট বা অকমিউনিস্ট / আস্তিক বা নাস্তিক যা- ই হোন না কেন । কারন :আমাদের নির্ধারিতসংজ্ঞাগুলো ,আমাদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতাদিয়েই নির্দিষ্ট করি এই বাক্যগুলোই যদি আপনার সিদ্ধান্ত হয় তাহলে এত বাক্য ব্যায়ের দরকার কি । যেহেতু তা নির্দিষ্ট । নিদিষ্ট হলে আপনি তো নতুন সংগা বা অর্থ তৈরী করতে পারছেন না ।

আমাদের শব্দচয়ন এবং আমাদের নির্ধারিত সংজ্ঞাগুলো কে আমি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি এবং এও বলি যে অই নির্দিষ্ট এবং নির্ধারিত সংঙ্গাগুলোই আমাদের ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত করেছে । কেন ?


এটা সকলেই স্বীকার করবে যে , আজকের জমানায় মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জাতী হিসেবে বৃহৎ শক্তিগুলো চিন্হিত করেছে । এবং সেটা পুরোপুরি অমুলকও নয় । কারন , মুসলমানদের বিশ্বাস যে , যেখানেই ইহুদি নাসারা পাও কতল করো । যে জাতি কেবল হত্যা করতেই শিখেছে তাদেরতো সন্ত্রাসী বলাটাই সমীচিন । কিন্ত কেন , কেন এমনটি হয়েছে ?


কারণ মুসলমানরা বরাবর উমাইয়া আব্বাসীয় নির্ধারিত শব্দসংঙ্গাগুলো মেনে চলেছে । যেখানে কতল শব্দের অর্থ করা হয়েছে হত্যাকরা । আদৌ কতল শব্দের অর্থ যা নয় ।

কতল শব্দের অর্থ তাহলে কি ?

কা তে লাম >কতল ।
কা মানে ক্বাফ । ক্বাফশক্তি ।

ক্বাফ দিয়ে আল্লাহর ছয়টি শক্তিশালী নামের গুন প্রকাশিত হয়েছে ।

(এই বিষয়ে যাওয়ার আগে একটা অনুরোধ , আল্রাহ খোদার নাম দেখে না ভরকাইয়া বা আমাকে আস্তিক ভাইবা লেখাটা পড়া বন্ধ কইরেন না । স্রেফ শব্দের বিকৃতিটা খেয়াল করেন ।)

যেমন ক্বাদিরুন কাহহারুন ইত্যাদি ।

তে দিয়ে বুঝায় বিস্তার ।

আর লা দিয়ে না ।
এক কথায় আল্লাহর শক্তিশালী না এর বিস্তার ।

এখন হিসেব করে দেখেন , কোথায় আল্লাহর শক্তিশালী না এর বিস্তার আর কোথায় হত্যা ! কি বিশাল ভুলের মধ্যে আমাদের ডুবে থাকা ।

তাঁর মানে এই খানে অথার্ৎ সমাজের নির্দিষ্ট সংঙ্গা থেকে আমি কিন্তু বের হয়ে এসেছি ।

আপনি লিখেছেন ,অপ্রকাশিতব্য যে কোনো অনুভবই আমাদের অলৌকিকত্বের আস্বাদ দেয়- কারণ আমরা আমাদের নির্ধারিত শিক্ষায় সেগুলোকে যথাযথ উপস্থাপন করতে পারি না ।
প্রকাশিতব্য অনুভব আর অপ্রকাশিত অনুভব বিষয়টা কি ?
অপ্রকাশিত অনুভব > অলৌকিকত্ব > নির্ধারিত শিক্ষা > এই বিষয়গুলো আমার কাছে গুরুত্ব বহন করছেনা এই কারনে যে বাক্যটিতে আপনার ,বস্তু , ভাষা এবং ভাব সম্পর্কিত ধারণার ঘাটতি পেয়েছি ।সে দিকে আপাতত না গিয়ে ভাষা , প্রকাশ বিষয়ে আসি ।

ধরা যাক আপনি একটি ফল খাচ্ছেন । কি ফল ? উত্তর পাওয়া গেল আম ফল ।
আমটি খেতে কেমন লাগছে ? উত্তর পাওয়া গেল মিষ্টি লাগছে ।
এর মানে কি ?
আপনি যে বস্তুটি গ্রহন করছেন , দর্শনের ভাষায় বললে আপনি যে পদার্থটি গ্রহণ করছেন তার সাথে একটি পদ জড়িত । পদহীন কোন পদার্থই আপনি এহ জনমে গ্রহণ করেন নাই । কেবল মাত্র আল্রাহ পদটি ছাড়া । কারণ এই পদের সাথে আপনি কোন পদার্থ পাবেন না । যেমন আপনি আম পদার্থটির সাথে একটি পদ পেয়েছেন ।

এই কারণেই দ্য স্কুল অব গ্রেট নো মনে করে , যে পদের ডাকে পদার্থ গরহাজির সেই পদার্থের আপাত কোন অস্তিত্ব নাই ।

ভাল থাকবেন ভাই । ধন্যবাদ ।

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: যে ফলের কোনো নাম নেই কিন্তু সেটার স্বাদ আমাদের পরিচিত কোনো ফলের মতো, আমরা সে ফলের নাম দেওয়ার পূর্বে সে ফলের স্বাদকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবো? ধরা যাক একটা ফল আছে, গন্ধ কাঁঠালের মতো, স্বাদ কাঁঠালের মতো না, সেটাকে আমি যখন স্বাদের তুল্যতায় বিচার করবো তখন আমার বক্তব্য কি হবে? আমি কিভাবে সেটাকে নির্দিষ্ট করবো? কোনো একটা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হবে

একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমরা একটা শব্দকে একটা নির্দিষ্ট অর্থেই ব্যবহার করি, "কতল" যতই মহার্ঘ এবং চমৎকার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ নিয়েই জন্মাক না কেনো, শেষ পর্যন্ত এটার প্রায়োগিক অর্থ কিন্তু হত্যা- সে অর্থেই এটাকে আমি কিংবা আমরা প্রয়োগ করছি- যখন এই প্রায়োগিক অর্থকে কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা বদলে না দিবে ততক্ষণ এটাকে সে অর্থেই ধারণ করবে মানুষ।

৬. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৯
গোঁপা বলেছেন: সে অর্থেই এটাকে আমি কিংবা আমরা প্রয়োগ করছি- যখন এই প্রায়োগিক অর্থকে কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা বদলে না দিবে ততক্ষণ এটাকে সে অর্থেই ধারণ করবে মানুষ।এগুলো আপনার বাক্য ।

যখন এই প্রায়োগিক অর্থকে কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা বদলে না দিবে , দেয়নি বা দিচ্ছেনা এমনটি কিন্ত নয় । তবে সংখ্যার পরিমানে নগন্য । নতুন সংস্কৃতি যদি আপনি নির্মাণ করতে চান তাহলে আপনাকেও সেই বদলটা ঘটাতে হবে ।

আর শুনুন , ঢাকা কিম্বা আপরাপর শহরে থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মধ্যে শব্দের মূলার্থগত প্রয়োগটাই কিন্তু অনেক বেশি দৃশ্যগোচর হয় ।

আপনি বলেছেন ,শেষ পর্যন্ত এটার প্রায়োগিক অর্থ কিন্তু হত্যা
এই প্রয়োগিক অর্থটি কারা তৈরী করেছে সেটা আমি পূবেই বলেছি ,
আমাদের মূল কাজ হচ্ছে , যে শব্দের নির্দেশে আমার কাজ চালিয়ে যাই , যদি সঠিক ভাবে কাজ চালাতে চাই তাহলে শব্দের মূল উৎপত্তিতে ফিরে যেতে হবে ।
তানা হলে অবস্থা হয়তো আরো ভয়াবহতার দিকে যাবে ।

আমাদের তরুণদের ভেতর একটা প্রবণতা দেখি , তারা অনেক বেশি যুক্তি প্রদর্শন করে কথা বলে , কিন্তু তারা খেয়াল রাখেনা য়ে সেই সমস্ত যুক্তি যদি প্রচলিত বিকৃতিকেই সাহায্য করে তাহলে লাভটা হলো কি ?

ধন্যবাদ ।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন: বিকৃতি কিংবা সুআকৃতি কিন্তু একটা নির্মিত বোধ।
বিকৃতি কিংবা সুআকৃতিও ব্যক্তির নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার নির্মাণ। এবং সেখানেই সমস্যা- আপনি যদি বলেন এটাই সুস্থ সংস্কৃতি- সেটা মানবে কেনো মানুষ? সেসব মানানোর জন্য অতীতে অলৌকিক অস্তিত্বকে আমদানি করবার প্রয়োজনীয়তা ছিলো, এখন কি সেটা সম্ভবপর হবে?

৭. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪
গোঁপা বলেছেন: আর একটা কথা , আমাদের এক শিক্ষক বলতেন , তোমরা একটা বেহেস্তের ফল আকোতো । আমারাও আকতাম ।
স্যার তখন খুটিয়ে খুটিয়ে দেখাতেন , এই অংশটা অমুক ফলের মতো , এই অংশটা অমুক ফলের মতো ।

তার মানে স্যার বলতে চাইতেন যে , তোমার যা কিছু দেখনি , যা তোমাদের অভিঘ্যতাই নেই , তা তোমারা আকতে পারবেনা ।

আরেকটা কথা স্যার কিন্তু ফলটির নাম নির্দেশ করেন নি ।

ধন্যবাদ ।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭

লেখক বলেছেন: বেহেশত বলে একটা অনুভব কিংবা ধারণা কিন্তু আছে, সে ধারণা থেকেই আপনি পরিচিত ফলের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু একটা আঁকতে চেষ্টা করেছেন, আপনি যুক্তি দিতে পারতেন কাঁঠাল কিংবা আম বেহেশতী ফল- কিন্তু আপনি সেটা করেন নি, আপনি ধরেই নিয়েছেন বেহেশত এমন একটা কিছু যার সাথে পৃথিবীর রংরুপগন্ধস্বাদের কোনো মিল নেই, সে কারণেই এত অপচেষ্টা।

৮. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
গোঁপা বলেছেন: আমি কেবল একটা উদাহরণ দিয়েছি ।
বেহস্ত বা দোজখ শব্দকে আমি ম্যাটাফিজিকাল কিছু ভাবিনা ।
ধন্যবাদ ।
৯. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১০
ব্রাইটসেন্ট্রাল বলেছেন: এ দেখি লতুন ফীর শাহেব কেব্লা আইচে!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৭৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ