somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংস্কৃতির বিপদ

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সংস্কৃতি চর্চাই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের প্রচলিত এবং প্রসারিত ধর্মে কি কি উপাদান থাকবে, মানুষের জন্ম-মৃত্যু এবং সন্তানউৎপাদন প্রক্রিয়া কিংবা সমাজের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া এবং সম্পদের বিলিবন্টন কিভাবে হবে সেটা আমরা ধর্মীয় নীতিতে নির্ধারণ করি। এবং একই সাথে এটাও সত্য বিদ্যমান ভৌগলিক পরিস্থিতিও নির্ধারণ করে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ধরণ কিরকম হবে।

মৃতের সৎকার মৃতের জন্য নয় মোটেও, বরং সেটা জীবিতের প্রয়োজনে, তাকে মাটি চাপা দেওয়া, তাকে পুড়িয়ে ফেলা কিংবা নির্জন কোনো ভাগাড়ে ফেলে আসা এই সব কর্মসূচিই জীবিত মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজনে, কোনো সৎকার প্রক্রিয়াই আসলে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার সুবিধা ও সুযোগের বাইরের কিছু না।

পার্সিয়ানরা নিজের মৃতদেহকে টাওয়ার অফ সাইলেন্সে রেখে আসে, এটার সপক্ষে তাদেরও যুক্তি আছে, মৃতদেহকে বিনস্ট না করে পশুপাখীদের ভক্ষণের জন্য রেখে আসা, আরও ৫০০০ বছর অতীতে গেলে দেখা যাবে এই সংকার প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছে এমন এক সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না।
যেহেতু গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না, সুতরাং এই মৃতদেহ পচে জীবিত মানুষকে অসুস্থ এবং জীবানুআক্রান্ত করবার আগেই তাকে সমাজ থেকে দুরে কোথাও ফেলে আসাটাই মূল সৎকার ছিলো। এই সৎকারের প্রক্রিয়া থেকেই একটা লোকাচারের সূচনা এবং সেটা পরবর্তীতে যখন পার্সিয়ান কিংবা অগ্নিউপাসকেরা ক্ষমতায় আসলো তখন সবার ভেতরে প্রচলিত হলো।

মরুভুমিতে এমন কোনো সুবিধা ছিলো না, কিংবা এত কাঠখড় ছিলো না, সুতরাং সেখানে একমাত্র বিদ্যমান ব্যবস্থা মৃতদেহকে বালির নীচে দাফন করে দেওয়া, সেটাও স্থানীয় সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, সেটাও সেই সংস্কৃতিচর্চাকারী মানুষেরাই নির্ধারণ করেছে, তাদের নিজেদের নিরাপদ রাখবার অন্য কোনো বিকল্প ছিলো না। সেটা আমরা ধর্মসূত্রে ধর্মীয় আচার হিসেবে অনুসরণ করছি,

এখানে কাঠ এবং জলের অভাব ছিলো না, এমন কি কবরখোদারও তেমন সমস্যা নেই, সুতরাং এখানের আদিবাসিরা এই তিন প্রক্রিয়ায় শবদেহের সৎকার করে, আগুণে পুড়ানো এবং ভস্মাবশেষ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ভাবনাগুলো সামাজিক সংস্কৃতিকে মাহত্ব্য দেওয়ার ধারণায় নির্মীত।

যদি এমন প্রমাণিত হয় মৃতভক্ষণ করলে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব কিংবা অমরত্ব পাওয়া সম্ভব এবং যদি এটা বিজ্ঞান প্রমাণ না করেও গণমাধ্যম প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তুমি আমি সমস্ত সমাজ মৃতদের টেবিলে সাজিয়ে খেয়ে ফেলবো কাঁটা চামচ দিয়ে। তখন সেটাই সংস্কৃতি এবং সৎকাররীতি হবে।

এবং এখন যতটাই অবাস্তব এবং ঘৃণ্য মনে হোক না কেনো যদি সমাজের অধিকাংশই এটার চর্চা শুরু করে তবে আমরাও প্রিয়জনের মৃতশবের উপরে ছুড়ির আঁচর টানতে দ্বিধাবোধ করবো না। বরং তখন আমাদের দৈনিকের সাপ্লিমেন্টারিতে আমরা মৃত দেহ রান্না করবার হাজার উপায়ের সন্ধান পাবো, হয়তো মুচমুচে অন্ডকোষ ভাজা, প্রিয়জনের কিডনি কিভাবে পরিবেশন করবেন খাওয়ার টেবিলে- এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যতিব্যস্ত সময় কাটাবে। হয়তো শরীরের কোন অংশ কিভাবে খেলে অতিথিরা আনন্দিত হবে এ নিয়ে টেলিভিশনে টক শো হবে। এটার বাণিজ্যিক দিকটা খতিয়ে দেখে, হয়তো প্রাণ কিংবা রাঁধুনি এসব রান্নার জন্য বিশেষ মসলার প্যাকেটের বন্দোবস্ত করবে।
মানুষের সংস্কৃতি খুব দ্রুতই পরিবর্তিত করা যায়- এবং যেকোনো জিনিষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এর প্রসারকে নিয়ন্ত্রন করে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:২৪
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×