অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

সংস্কৃতির বিপদ

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯

শেয়ারঃ
0 0 0

আমাদের সংস্কৃতি চর্চাই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের প্রচলিত এবং প্রসারিত ধর্মে কি কি উপাদান থাকবে, মানুষের জন্ম-মৃত্যু এবং সন্তানউৎপাদন প্রক্রিয়া কিংবা সমাজের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া এবং সম্পদের বিলিবন্টন কিভাবে হবে সেটা আমরা ধর্মীয় নীতিতে নির্ধারণ করি। এবং একই সাথে এটাও সত্য বিদ্যমান ভৌগলিক পরিস্থিতিও নির্ধারণ করে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ধরণ কিরকম হবে।

মৃতের সৎকার মৃতের জন্য নয় মোটেও, বরং সেটা জীবিতের প্রয়োজনে, তাকে মাটি চাপা দেওয়া, তাকে পুড়িয়ে ফেলা কিংবা নির্জন কোনো ভাগাড়ে ফেলে আসা এই সব কর্মসূচিই জীবিত মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজনে, কোনো সৎকার প্রক্রিয়াই আসলে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার সুবিধা ও সুযোগের বাইরের কিছু না।

পার্সিয়ানরা নিজের মৃতদেহকে টাওয়ার অফ সাইলেন্সে রেখে আসে, এটার সপক্ষে তাদেরও যুক্তি আছে, মৃতদেহকে বিনস্ট না করে পশুপাখীদের ভক্ষণের জন্য রেখে আসা, আরও ৫০০০ বছর অতীতে গেলে দেখা যাবে এই সংকার প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছে এমন এক সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না।
যেহেতু গোরখোদার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না, সুতরাং এই মৃতদেহ পচে জীবিত মানুষকে অসুস্থ এবং জীবানুআক্রান্ত করবার আগেই তাকে সমাজ থেকে দুরে কোথাও ফেলে আসাটাই মূল সৎকার ছিলো। এই সৎকারের প্রক্রিয়া থেকেই একটা লোকাচারের সূচনা এবং সেটা পরবর্তীতে যখন পার্সিয়ান কিংবা অগ্নিউপাসকেরা ক্ষমতায় আসলো তখন সবার ভেতরে প্রচলিত হলো।

মরুভুমিতে এমন কোনো সুবিধা ছিলো না, কিংবা এত কাঠখড় ছিলো না, সুতরাং সেখানে একমাত্র বিদ্যমান ব্যবস্থা মৃতদেহকে বালির নীচে দাফন করে দেওয়া, সেটাও স্থানীয় সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, সেটাও সেই সংস্কৃতিচর্চাকারী মানুষেরাই নির্ধারণ করেছে, তাদের নিজেদের নিরাপদ রাখবার অন্য কোনো বিকল্প ছিলো না। সেটা আমরা ধর্মসূত্রে ধর্মীয় আচার হিসেবে অনুসরণ করছি,

এখানে কাঠ এবং জলের অভাব ছিলো না, এমন কি কবরখোদারও তেমন সমস্যা নেই, সুতরাং এখানের আদিবাসিরা এই তিন প্রক্রিয়ায় শবদেহের সৎকার করে, আগুণে পুড়ানো এবং ভস্মাবশেষ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ভাবনাগুলো সামাজিক সংস্কৃতিকে মাহত্ব্য দেওয়ার ধারণায় নির্মীত।

যদি এমন প্রমাণিত হয় মৃতভক্ষণ করলে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব কিংবা অমরত্ব পাওয়া সম্ভব এবং যদি এটা বিজ্ঞান প্রমাণ না করেও গণমাধ্যম প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তুমি আমি সমস্ত সমাজ মৃতদের টেবিলে সাজিয়ে খেয়ে ফেলবো কাঁটা চামচ দিয়ে। তখন সেটাই সংস্কৃতি এবং সৎকাররীতি হবে।

এবং এখন যতটাই অবাস্তব এবং ঘৃণ্য মনে হোক না কেনো যদি সমাজের অধিকাংশই এটার চর্চা শুরু করে তবে আমরাও প্রিয়জনের মৃতশবের উপরে ছুড়ির আঁচর টানতে দ্বিধাবোধ করবো না। বরং তখন আমাদের দৈনিকের সাপ্লিমেন্টারিতে আমরা মৃত দেহ রান্না করবার হাজার উপায়ের সন্ধান পাবো, হয়তো মুচমুচে অন্ডকোষ ভাজা, প্রিয়জনের কিডনি কিভাবে পরিবেশন করবেন খাওয়ার টেবিলে- এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যতিব্যস্ত সময় কাটাবে। হয়তো শরীরের কোন অংশ কিভাবে খেলে অতিথিরা আনন্দিত হবে এ নিয়ে টেলিভিশনে টক শো হবে। এটার বাণিজ্যিক দিকটা খতিয়ে দেখে, হয়তো প্রাণ কিংবা রাঁধুনি এসব রান্নার জন্য বিশেষ মসলার প্যাকেটের বন্দোবস্ত করবে।
মানুষের সংস্কৃতি খুব দ্রুতই পরিবর্তিত করা যায়- এবং যেকোনো জিনিষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এর প্রসারকে নিয়ন্ত্রন করে।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অগভীর ভাবনা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৭
বল্টু মিয়া বলেছেন: ালের পোস্ট।ইলাস্টিকের মাইনাস।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮

লেখক বলেছেন: হুমম, নতুন ভাবনা গ্রহনে অনেকের সমস্যা হয়, সবার সব জিনিষ হজম হয় না।

২. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১
বল্টু মিয়া বলেছেন: হেরে ুদনা তর নাস্তিক হওয়া কতদূর।টেকনেক্যালি স্টং না হইতে পারলে কিন্তু ভালো পেমেন্ট পাবিনা।আর তরে কিন্তু গে সাজতে হইবো।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: যা হজম হবে না সেটা নিয়া লাফালাফি না করাই ভালো। লোহা কামড়ে দাঁত ভাঙার মানে হয় না তোমার।

৩. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪২
গোঁপা বলেছেন: এটাও সত্য বিদ্যমান ভৌগলিক পরিস্থিতিও নির্ধারণ করে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ধরণ কিরকম হবে।
এ কথাগুলোতো রুশো তার শোস্যাল কনটাক্ট - এ বলেছেন ।
কিছুদিন পূবেও আমি তার সাথে একমত ছিলাম । কিন্তু এখন নই । কারন :
রুশোর বকতব্যানুযায়ী যদি তাই হতো , তাহলে বাঙলাদেশের আজ এই পরিস্থিতি কেন ?

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বাঙলাদেশের সংঙ্গীতের অবস্থা কি ছিল ?

লালন সাঁই , হাসন রাজা , রবীন্দ্রনাথ , নজরুল ,ফিকির চাঁদ এরাইতো !
কই তাদের গান এবং সেই গানের কথার ভিত্তিতেতো আমাদের পরবর্তী সংস্কৃতি নির্মাণ হয়নি ।
আমাদের পদ্য বা গদ্য সাহিত্যের পূববর্তী ইতিহাসের সাথে , আমাদের খাবার দাবারের অভ্যস্থতার সাথেওতো আমাদের রাজনীতি বা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কোন সম্পর্কনেই ।

যে দেশের ইতিহাসে লেখা হয়েছিল , সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই ,
যে দেশের ফকির বলেগেছেন , সর্বসাধন সিদ্দ হয়তার মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার ।

সেই দেশের মানুষ কিভাবে মানুষ হত্যা করে ,
মানুষকে অবমাননা করে ?
মানবিক মূল্যবোধকে পদদলিত করে ?

তার মানে ঘাপলাটা কোথায় আছে তা আমরা শনাক্ত করতে পারিনি ।
তত্ত্বদিয়ে সব সময়ে বাস্তব পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা যায়না ।

এশিয়টিক সোসাইটির ২০ - ২৫ বছরের গবেষনায় বৃটিশরা ভারতবর্য ২০০ বছর শাসন করলো আর আমরা এমন হতভাগ্য জাতি যে ,
১৯০৫ সাল হইতে আজ পর্যন্ত বাঙালীর পাল্সটাই ধরতে ব্যার্থ হলাম ।

কি আর বলবো , নিজেকে ধিক্কার জানানো ছাড়া ।

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১

লেখক বলেছেন: সাংস্কৃতিক আদান প্রদান আর সাংস্কৃতিক সম্মিলনের তত্ত্বটাও সমান জরুরী। সাংস্কৃতিক অভিন্নতার সুরটা যদি পূর্বে উপলব্ধ হতো তবে পাকিস্তান প্রস্তাবের বদলে অবিভক্ত বাংলার প্রস্তাবনাটাই গৃহীত হতো, ফজলুল হক সে চেষ্টায় সফল হয় নি এটাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা।

৪. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১
তারিক মাহমুদ (তারিক) বলেছেন: একটা গল্পের নাম বলি, 'ছেলেমানুষি' লেখক, ড. মু. জাফর ইকবাল। এই গল্পটা পাওয়া যাবে তার 'গাল্প সমগ্র' গ্রন্থে।


"গোঁপা" উপরে একটা মন্তব্য করেছেণ, এবং কিছু প্রশ্নও। উত্তর দিবেন আশা করি।
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন: বুঝলাম না,

ছেলেমানুষি পড়তে হবে এখন?

৫. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
গোঁপা বলেছেন: @ তারিক ভাই , আপনার মন্তব্যটা আমার কাছে পরিস্কার নয় । দয়া করে স্পষ্ট করে বলেন ।
৬. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০২
গোঁপা বলেছেন: @ রাসেল ভাই , আপনি বলেছেন ,সাংস্কৃতিক আদান প্রদান আর সাংস্কৃতিক সম্মিলনের তত্ত্বটাও সমান জরুরী। সাংস্কৃতিক অভিন্নতার সুরটা যদি পূর্বে উপলব্ধ হতো তবে পাকিস্তান প্রস্তাবের বদলে অবিভক্ত বাংলার প্রস্তাবনাটাই গৃহীত হতো, ফজলুল হক সে চেষ্টায় সফল হয় নি এটাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা ।

আমাকে কি আপনার সাথে সব সময় দ্বিমত করেই যেতে হবে , এমনটা নয় ।

আসলে নির্দিষ্ট করে বললে , বাঙলাদেশ এমন একটি দেশ যে দেশটি কখনই তার সংস্কৃতি আদান এবং প্রদান করতে পারেনি । সব সময়েই বাংলাদেশকে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদীদের আক্রমন ঠেকাতে হয়েছে । এবং আমার মতে সে ব্যার্থ হয়েছে ।

(যদিও আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে অতিশিগ্রই সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে আমাদের নৃ সংশ্লিষ্ট একটি অনুপম সংস্কৃতি সৃজন করতে পারবো ।)

আর সাংসকৃতিক সম্মিলন মানে কি ?
এখানকার নিজস্ব সংসকৃতিই দাড়িয়ে আছে অপরাপর সংস্কৃতির সাথে লড়াইয়ের ফলাফল হিসেবে । অতএব কার বা কিসের সাথে সম্মিলন হবে ?


আর সাংস্কৃতিক অভিন্নতা বলতে কি বুঝায় ?
আপনি যদি ভারতীয় বাংলা তথা কলিকাতার সাথে আমাদের বাঙলাদেশের সংস্কৃতির সম্পর্কটাকে অভিন্ন বলেন তাহলে আমার তাতে আপত্তি আছে ।


আমি অভিন্ন বলতে বাঙলাদেশের সেই সমস্ত লোকায়াত সাংস্কৃতিক চর্চার কথা বলতে চেয়েছি , যেখানকার তত্ত্বের স্তম্ভটি এতই শক্ত যে পশ্চিমা যে কোন দার্শনিকদের উদার মানবিকতার থেকে আমাদের এই পরিমন্ডলটি অত্যন্ত সমৃধ্য । কারন , সেই তত্ত্ব যার শেকড় এই মাটি এবং আবহাওয়ার নিজস্ব উৎপাদন ।


ধন্যবাদ ।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৮

লেখক বলেছেন: "বাংলাদেশ সংস্কৃতি আদান প্রদান করতে পারে নি" এই বাক্যাংশ বুঝলাম না মোটেও। এখানে যেসব অভিবাসী স্থায়ী হয়েছে তারা কি এখানকার সংস্কৃতি গ্রহন করে নি? তারা কি এখানকার কৃষ্টিকে সমৃদ্ধ করে নি?

বাঙ্গালী অধীনস্ত ছিলো অধিকাংশ সময়ই, অধিকৃত ভূখন্ডের বাস্তবতা হলো রাজন্যের কায়দা কেতা তাকে অনুসরণ করতে হয়। সেসব কায়দা কেতার বাইরে আমাদের বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক উপাদান ছড়িয়ে পড়েছে। সাংস্কৃতিক উপাদান ছড়িয়ে দেওয়ায় বাঙ্গালী তেমন বড় ভুমিকা রাখতে পারে নি কারণ বাঙ্গালী বণিক নয়, ক্রেতা। এরা ভোক্তা উৎপাদক কিন্তু বিপনন করছে অন্য কেউ, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাঙ্গালীর হাতে ছিলো না, এরা বাণিজ্যপোত নিয়ে বিশ্বে বাজার খুঁজতে যায় নি।

সাংস্কৃতিক আধিপত্যের জায়গাটা অক্ষুন্ন রাখবার জন্য যা যা করা প্রয়োজন- দেশ দখল, বাজার দখল, বাণিজ্য- এর কোনোটাতেই সিদ্ধহস্ত না হলে পরিণতি এমনই হওয়ার কথা। এরপরও এখানে যারা স্থায়ী বসত গড়েছে তারা কিন্তু এই জল হাওয়ার উপাদানগুলোকে নিজের সাথে মানিয়ে নিয়েছে।

সেই গোড়া থেকে আপনি আমাকে উদাহরণ দিয়ে বলেন বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কোন জায়গা আছে, পোশাক- ভাষা, খাদ্য, সংগীত, গৃহসজ্জ্বা এবং অন্য যেসব কিছু আমাদের জীবনকে জড়িয়ে আছে, খাঁটি বাঙ্গালী অতীত সংস্কৃতি ঠিক কোনটা কোনটা, তাহলে আলোচনার সুবিধা হয়, ঘরও আমার উঠানও আমার, পুকুর আর তালগাছ আমার, এমন বিতর্কে কোথাও পৌঁছানোর উপায় নেই।

বাংলার লোকগীতি এবং এর আধ্যাত্মিকতা নিয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে শুধুমাত্র সেটাকে কেন্দ্র করে আলোচনা আগানো যায়- যে আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে আপনার আবেগ চুঁইয়ে বন্যা হচ্ছে সে আধ্যাত্মিকতার উৎস কোথায়? এটাও কি এক ধরণের সাংস্কৃতিক দাসত্ব নয়? বৌদ্ধ কিংবা মুসলিম কোন ঐতিহ্য আসলে বাংলার মাটিতে জন্মেছে? এই ভাবধারার বাইরে বৈষ্ণবীগণের সর্বজীব প্রেমও কি বাংলাদেশের ভূখন্ডের ভেতরের কিছু?

যার কিছুই থাকে না বলার, সে অন্য কারো মুখের বুলি শুনে আহা উহু করে, আপনার নিজের মনে হয় না এমন কোনো স্পষ্ট অবস্থান আছে, লোকায়ত দর্শণের কোন অংশটুকু এই মাটি এবং আবহাওয়ার নিজস্ব উৎপাদন সেটা পরিস্কার করে বললে আলোচনার সুবিধা হয়।

৭. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৪
গোঁপা বলেছেন: রাসেল ভাই , কূতর্ক আমি পছন্দ করিনা । আমি তাদের সাথেই আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই , যেখান থেকে উভয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসবো এবং সাথে সাথেই কর্মপন্থাটিও ঠিক করে নেয়া ।

আমি কাজের মানুষ । যা শিখি প্রয়োগ করার চেষ্টা করি ।
যাই হোক , কাজের কথায় আসি ।

আপনি একটি বাক্য লিখেছেন যে : আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে আপনার আবেগ চুঁইয়ে বন্যা হচ্ছে সে আধ্যাত্মিকতার উৎস কোথায়?
আচ্ছা ভাই আমার কোন কথার মধ্যে আধ্যাত্নিকতার আবেগ খুজে পেলেন ?
হ্যা আমি কয়েকটি শব্দের কথাই বলেছি , যার উৎপত্তিগত অর্থের সাথে আজকের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর শাব্দিক ব্যবহার ঠিক মিলছেনা ।
এবং আমরা যতো বেশি শব্দের বিকৃত ব্যবহার ঠেকাতে পারবো , মনে করি ততোই মঙ্গল ।

তার পরে আরেকটি বাক্য :বৌদ্ধ কিংবা মুসলিম কোন ঐতিহ্য আসলে বাংলার মাটিতে জন্মেছে? এই ভাবধারার বাইরে বৈষ্ণবীগণের সর্বজীব প্রেমও কি বাংলাদেশের ভূখন্ডের ভেতরের কিছু?

আমি আপনার বক্তব্যের সাথে পুরোমাত্রায় একমত ।

যদিও সেখানে একটু কিন্ত আছে । সেটাই বলি :
না বৌদ্ধ কিংবা মুসলিম কোন অইতিজ্যই বাংলার মাটিতে হয়নি , এটা সত্য । হওয়ার কারণও নয় । ধর্মদুটোর উৎপত্তি ঘটেছে ভারত এবং বর্হিভারতে ।
কিন্তু ধর্ম দুটোর মূল মাহাত্ন্যের বিকাশ কিন্তু এখানেই ঘটেছে ।

দ্বিতীয় কথা বৈষ্নব ধর্মের বিষয়টাও এখানকার নয় । সহমত ।

কিন্ত গৌড়িও বৈষ্নবটা কি ?
বৃহৎ নদীয়া অন্চলেই কিন্তু এই ধর্মটির উৎপত্তি এবং বিকাশ । চৈতণ্যদেব কিন্ত সিলেটেরই মানুষ । সিলেটের আরো একজন গুরুত্বপূর্ন দার্র্শনিক হচ্ছেন মীর সৈয়দ সুলতান । জ্ঞানচৈতিশা যার অনবদ্য দর্শন গ্রন্থ ।

আজ হয়তো নদীয়া অন্চলের একটা অংশ আমরা ভারত বিভাগের ফলে পেয়েছি

যাই হোক চৈতণ্যদেব ছাড়াও যদি আমরা এখানকার একদম নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলি তাহলে আউলচাঁদ , লালন সাঁই , ফিকির চাঁদ , বলাহাড়ি এই চিন্তাধারাগুলো কিন্ত একান্তই আমাদের এই ভূখন্ডের মধ্যেই উৎপত্তি এবং বিকাশ ।
এবং কে না জানে এই ধারাগুলোর ভেতর স্বতন্ত্রভাবেই মানব জীবনের যাবতীয় অনুসঙ্গই বিদ্যমান ।

তবে হ্যাঁ তাদের সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ আলোচনা করতে গেলে আমাদেরকে অবিভক্তভারতবর্ষের পরিমন্ডলেই প্রবেশ করতে হবে ।
কারণ,এখানকার নিজস্ব সংসকৃতিই দাড়িয়ে আছে অপরাপর সংস্কৃতির সাথে লড়াইয়ের ফলাফল হিসেবে ।এছাড়াও ভারতপন্থ বলে একটা ব্যপার আছে ,সে বিষয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে পরে জানাবো ।


আর হ্যাঁ আরেকটি কথা ,বর্তমান ভারতের বাঙলা ভাষাবাসি গৌন দার্র্শনিক পরিমন্ডলের সাথে বর্তমান বাঙলাদেশের ফকিরি , বলাহাড়ি , এবং খানিকটা কর্তাভজাদের মিলতো অবশ্যই আছে ।

আপনি আরো বলেছেন :আপনার নিজের মনে হয় না এমন কোনো স্পষ্ট অবস্থান আছে?

হ্যাঁ আমার নিজের একটা দর্শন এবং দার্র্শনিক অবস্থান আছে । সেটা কি ?
আপাতত না বলি , তবে এতটুকু ধারণা দিতে পারি যে , যতদিন পর্যন্ত ব্যক্তি তার যাবতীয় প্রয়োজনের , এবং তার উৎপাদনের কর্তাসত্ত্বা ফেরত না পাচ্ছে , ততদিন এই অধমের কাজ হচ্ছে সেই হারানো কর্তাসত্ত্বা ফেরত পাবার জন্যে লড়াই - সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ।

ভাল থাকবেন । ধন্যবাদ আপনাকে ।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০২

লেখক বলেছেন: আপনে যেটাকে লোকায়ত দার্শণিকতা কইতাছেন, সেইটাও এক ধাঁচের আধ্যাত্মিকতা। বৌদ্ধ ধর্ম কিংবা ইসলাম ধর্মের মূল মাহত্ব্য বঙ্গদেশে প্রকাশিত হইছে কথাটা শুইনা হাসি চাইপা রাখতে পারলাম না, বঙ্গীয় ইসলামের সাথে অন্য সব দেশের ইসলামের তফাতটা কই? কিংবা বঙ্গীয় বৌদ্ধ ধর্মের সাথে অন্য সব দেশের বৌদ্ধ ধর্মের মূলগত পার্থক্য কোথায়? আপনে একটার পর একটা বাক্য নির্মাণ করতেছেন, সেইসব বাক্যের পেছনে বাকচাতুরতার বাইরে অন্য কোনো ভিত্তি নাই, সেইসব ভিত্তি ছাতা আলোচনা করলে উভয়পক্ষ কখনই একই সিদ্ধান্ত নিয়া আলোচনা শেষ করবে না। আপনেরে যদি কাউরে কনভিন্স করতে হয়, তাহলে সেইভাবে চেষ্টা করেন।

আপনি ব্যক্তিগত জীবন কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী কিংবা আপনি ব্যক্তিগত জীবনে কিভাবে সময় কাটান সেটা আলোচনার বিষয়বস্তু হলে সানন্দে আলোচনা করতাম। আপনি যা শিখেন সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করলে ভালো তবে আপাতত আলোচনা শিখেন।

৮. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৫
গোঁপা বলেছেন: রাসেল ভাই আপনার প্রশ্ন হচ্ছে
বঙ্গীয় ইসলামের সাথে অন্য সব দেশের ইসলামের তফাতটা কই?
তফাতটা সংক্ষেপে বলছি , কিন্ত সেইটা আপনি সহ্য করতে পারবেন তো ?

উত্তরটি হচ্ছে , যেমন , কোরানের একটি সূরার নাম হচ্ছে আর রাহমান ।
সেই সূরার একটি বাক্য হচ্ছে " ফাবিয়াইয়ি আলা ই রব্বি কুমাতু কাজজিবান "
যার অর্থ তামাম দুনিয়া এই ভাবে করে যে : উভয়ে রবের কোন কোন দান অস্বীকার করবে ?[১৬ , পৃ- ৭০১ অনু : হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র) মীনা বুক হাউস ] ।

অনুবাদটি কি ঠিক হয়েছে !
নিশ্চই এই উত্তর পেতে আমি আলেম সমাজের উপর নির্ভরশীল নই ।


যা হোক এই বাক্যটির সঠিক অর্থ এবং দার্শনিক বিকাশ এই বঙেই হয়েছে ্
এবং এখান এখানেই অন্য দেশের সাথে বঙীয় ইসলামের পার্খক্য ।

যেমন , এখানকার একজন দার্শনিক এই বাক্যটির অনুবাদ করেছেন এবং আমার মতে সেই অনুবাদটিই অন্য দেশের সাথে বাঙলাদেশের ইসলামকে আলাদা করেছে ।
যদিও সেই আণাদা ধরণটি এখানকার অধিকাংশ মানুষজন বুঝতে পারেনা ।
কারণ, পাকিস্তান আন্দোলন এবং জামাতের সাথে ইসলামের সবগুলো ধরণকে গুলিয়ে ফেলার দরুন ।

যাই হোক এখানকার একজন দার্শনিক সেই বাক্যটির অনুবাদ করেছেন : সুতরং তোমাদের দুইয়ের কোন আপন "সার্বিক লা " এর সহিত মিথ্যি আরোপ করবে ?

এই "সার্বিক লা " তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই লালন ফকির , মুর্শিদি , এবং মারফতি ধারাগুলোর অস্তিত্ব বর্তমান ।


মনে রাখবেন ইসলাম , আধ্যাত্নিকতা , মারফত , এবং জামাতি ইসলাম ভিন্ন জিনিষ ।
সব কিছুকে এক সাখে গুলিয়ে ফেলা ঠিক না ।

ধন্যবাদ ।
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: এইটা কি শুধু বঙ্গদেশেই হইছে?
এইটা একটু বেশী উচ্চাশা হইয়া গেলো না, একটু খুঁইজা দেখেন, এইসব মারেফতি লাইনের কথা অনেক আগেই চর্চিত হইছে, বঙ্গদেশে লালন ফকির এইটা অনুভব করার আগে ইরানে, ইরাকে, খোদ মদিনায় এইসব নিয়া আলোচনা হইছে,

আর সব সময়ই এইটা খুব ক্ষীণ ধারা ছিলো বলে ক্ষমতায় কিংবা ইতিহাসে এইটা তেমন প্রভাব রাখে নাই।

 

মোট সময় লেগেছে ৩.৯৫৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অনেক অনেক চেষ্টা হয়েছে ব্লগানোর বাংলা করা নিয়ে, আমার এখন ব্লগের নতুন বাংলা করতে ইচ্ছা করলো তাই দিলাম এর নাম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ