বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকাকে যেমন খুশি সাজাও প্রতিযোগিতা চলছে এখন, সৈন্দর্য্যবর্ধন কিংবা দারিদ্রহরণ প্রতিযোগিতা চলছে সম্ভবত, বাংলাদেশের একটা ইমেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি কিংবা অন্য কোনো তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা। তদারক করছে এমন কোনো ভাব ফুটে উঠে নি সম্পূর্ণ বিষয়টাতে, একটা এলেমেলো যেমন তেমন দায়সারা ভাবটাই প্রকট এখানে। । অনলাইন বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিকদের প্রতিরোধের পরও বিসিবি ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা সজ্জ্বার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে নি, সুতরাং ঢাকা শহরের চারপাশে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন ব্যানার শোভা পাচ্ছে, আমার বাসা থেকে বের হয়ে বাম দিকে গেলেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণীর মোড়েই বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের পাশের ফুটপাতে বাংলাদেশের পতাকার পাশে শোভা পাচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ লেখা নিশান।, বাংলাদেশের জাতিয় ধর্ম ইসলাম, আমাদের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম( মোকাররম নামে আমার এক বন্ধু আছে, কিন্তু ও এই মসজিদকে নিজের বাসা বলতে পারে না, ওর বাসা খিলগাঁও) , সরকার ৭২এর ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরতে চেয়েও রাষ্ট্রধর্ম এবং বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিবেদে জড়িত হতে অনাগ্রহী বলেই আমাদের রাষ্ট্রধর্মে কোনো পরিবর্তন আসবে না। শেখ হাসিনা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের পক্ষে নয় কিন্তু অধিকাংশ আওয়ামী সমর্থকবুদ্ধিজীবীগণ ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধী এবং তাদের শত পরামর্শ উপেক্ষা করে যেহেতু আমজনতার ধর্মীয় মূল্যবোধ আক্রান্ত হতে পারে এবং যেহেতু এই ইস্যুতে বিরোধী দল রাজনীতি করতে পারে সে কারণে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ কিংবা রাষ্ট্রধর্ম থেকে ইসলামকে অপসারণের কোনো আগ্রহ নেই প্রধানমন্ত্রী.।
যেহেতু রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলামকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব না সে কারণে সকল ধর্মকেই বিশিষ্ট অবস্থান দিয়ে সকল ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পথে যাত্রা করা সম্ভব। , কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং কলেমা আমাদের কলবে কলবে এই প্রমাণ রাস্তা জুড়ে নিশান লাগিয়ে সবাইকে জানান দেওয়া অনর্থক।।
হোটেল সোনারগাঁও এর সামনে ৭টা রিকশা সাজানো, হঠাৎ করে দেখে চমকে উঠলাম, ঢাকা শহরের অবৈধ রিকশা, সিএনজি এইসবের ভাগার পুরানা এয়ারপোর্ট, সেখানে হাজার হাজার এমন জিনিষ ফেলে রাখা, সেখান থেকে ৭টা রিকশা তুলে এখানে রাখা হয়েছে কেন না কোনো না কোনো শহরসজ্জ্বা পরিকল্পক মনে করেছেন রিকশা আমাদের স্বদেশী সংস্কৃতির অন্যতম অনুসর্গ।
সেই রিকশার পেছনে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, জাতীয় ফল, জাতীয় বৃক্ষ , জাতীয় পাখী এবং জাতীয় পশুর ছবি সাঁটানো, তবে রিকশার উদ্দেশ্য কিন্তু সেইসব জাতীয় পরিচয়চিহ্ন তুলে ধরবার নয়, বরং বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীতে রিকশার পেছনে জাতীয় ফলক সজিয়ে বিশ্ববাসিকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে বিশ্বকাপের মহোৎসবে যোগদানের জন্য
সেখান থেকে একটু দুরেই সুন্দরবন, চিত্রল হরিণ সপরিবারে মধ্যাহ্ন ভোজনে ব্যস্ত, গত সাফ গেমসে সোনার গাঁও মোড়ে দুটো বাঘের মুর্তি বানানো হয়েছিলো, সেটাও বিডিনিউজের বিজ্ঞাপনের দিকে ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, বাংলার বাঘ আর বাংলার বাঘ্রশাবকের শরীরের একটাই অসংগতি, তাদের শরীরের তুলনায় মাথাটা ছোটো, আমাদের আশরাফুলের মতো বাঘের ছানার মাথাও ছোটো, ঘিলু কম, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটে নি বাঘের। মাথামোটা অকৃতজ্ঞ বাঘ আমাদের জাতীয় পশু , তারা বাংলা ভাষার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভারতে অভিবাসী হয়ে যাচ্ছে।
সেখান থেকে রাস্তার দিকে তাকালে দেখা যাবে নৌক, সমস্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় নৌকা ফেলানো, এত এত নুহের কিস্তি সাজানো ঢাকা শহরে, কিন্তু সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য নুহের কিস্তির ব্যবহার কোন উজবুকের মাথা থেকে আসলো সেটা আমার জানা নেই। আমি ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝলাম এটা বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের দেওয়া মেসেজ, আগামী ২০৫০ সালের ভেতরেই বাংলাদেশের বেশ বড় একটা অংশ তলিয়ে যাবে , বৈশ্বিক উষ্ণতাবৃদ্ধির কারণে জলবায়ু তহবিলে বাংলাদেশের বেশ অংকের টাকা পাওনা, সেটা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এই আয়োজন, প্রতিটি রাস্তায় নৌকার সামনে সাল লেখা থাকবে, যদি জলবায়ু তহবিলের অর্থ না পাই ২০৩০ সালে এই রাস্তা পর্যন্ত তলিয়ে যাবে, সেটা গিয়ে ঠেকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে, সেখানে লেখা থাকবে ২০৫০ সালের ভেতরে বাংলাদেশ তলিয়ে যাওয়ার পর গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসবার জন্য মার্সিডিজ বেঞ্জের বদলে প্রধামন্ত্রীকে এই কিস্তি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের নৌবাহিনী তখন হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের পুলিশ আর ট্রাফিকেরা ঢাকা শহরের রাস্তায় নৌকার চলাচল নিয়ন্ত্রন করবেন, লাল বাতি আর সবুজ বাতির সিগন্যাল মেনে নৌকা চলবে শহরে
আর সন্ধ্যার ঢাকার রাস্তা দেখলে মনে হয় হঠাৎ করেই কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি, চারপাশে লাল নীল বাতি সাজানো, আর আরও আশ্চর্য এবং লজ্জাস্কর বিষয় হলো শেরাটন থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তার অনেকাংশ জুড়েই রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টে একজোড়া আলোকিত বীচি ঝুলিয়ে রেখেছে দামাল ছেলেরা। বিদেশী নাগরিকেরা ল্যাম্পপোষ্ট দেখেই বুঝবে আর কিছু না হোক, দিজ বাঙ্গালী গাইজ হ্যাভ বলস, নো ওয়ান্ডার দে লিভ ইন দা মোস্ট ডেন্সলী পপুলেটেড এরিয়া ইন দিস হোল ওয়ার্ল্ড। যদি হার্ণিয়া অপারেশন করে ঢাকা শহরের সমস্ত ল্যাম্পপোষ্ট জুড়ে ঝুলে থাকা এই বড় বড় বীচে ফেলে দেওয়া যেতো তাহলে ঢাকা শহরের সৈন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি পেতো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

