somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলায় পাকিস্তানকে সমর্থন করা কে কিভাবে দেখছেন

০৮ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এমন বাজে ভাবে না হারলে হয়তো বাংলাদেশ বি গ্রুপের চতুর্থ স্থান অধিকার করতো এবং ২৩শে মার্চ ঢাকায় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান বাংলাদেশ খেলা হতো, কিন্তু বাংলাদেশ জঘন্য ভাবে হারায় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রান রেট অনেক বেশী হওয়ায় ২৩শে মার্চ পাকিস্তান দিবসে বাংলাদেশে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলো।

পাকিস্তান বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে সম্ভবত একটা "মোরাল ডিলেমা" ঘটে যেতো, কোন দেশকে সমর্থন করবে বাঙ্গালীরা এটা নিয়ে একটা দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতো , কিন্তু সেই সংশয় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে বাঙ্গালী দর্শকদের মুক্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, তাদের পরাজয়ে পাকিস্তান দিবসে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশীদের সম্পূর্ন সমর্থন পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এমন আন্তরিক সমর্থনের জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেটার এবং তাদের দেশের অনেকেই বাংলাদেশের দর্শকদের অভিবাদন জানিয়েছেন, ধন্যবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন তাদের কখনই মনে হয় নি তারা বিদেশে খেলছেন, বরং তারা এক দিক থেকে বলতে গেলে হোম টিম এডভান্টেজ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের মানুষেরা যদি অন্য কোনো দেশকে সমর্থন করে , ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারত কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা, সেটা কারো চোখেই আপত্তিকর নয়, সেটার সাথে জাতীয়তাবাদী আবেগ জড়িত থাকে না, সেটা ভালো দলকে সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া কিন্তু যদি সেটা পাকিস্তান হয় তাহলে সেখানে রাজনীতি চলে আসে, এই বিষয়টা এক ধরণের দ্বিচারিতা বললেও বলা যায় কিন্তু সেটা নিয়ে আদৌ উদ্বিগ্ন নন এই মুহুর্তে যারা বাংলাদেশী দর্শকদের এই মানসিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

ফুটবলে বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশী মানুষ ব্রাজিল আর্জেন্টিনা এবং ইতালীর সমর্থক, এই বিশাল বিস্তারের কোথাও হয়তো স্পেন পর্তুগাল আছে কিন্তু সেখানে জাপান কিংবা কোরিয়ার উপস্থিতি কম। ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা ওপরাধের পর্যায়ে পরে না এখানে, শৈল্পিক ফুটবলের দোহাই দিয়ে ল্যাটিন ফুটবলকে সমর্থন করা, স্পীডি ফুটবলের কথা বলে ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানীকে সমর্থন করার পেছনে খেলাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় । এবার বিশ্বকাপে আমার পছন্দনীয় ইউ এস এ ফুটবলের লড়াকু ফুটবল আমার ভালো লেগেছে, যদিও সমর্থনের পাল্লাটাতে অনেক দলই ছিলো। সেটা আমার নিজের কার খেলা দেখতে ভালো লাগে সেটার বিবেচনায় তৈরি।

এটার সাথে আমি কোনো রাজনৈতিক কারণ যুক্ত করি না, খেলা এবং রাজনীতির ভেতরে যোগাযোগ খুজতে না চাওয়া আমি বেশ আনন্দ নিয়ে অন্য একটা "মোরাল ডিলেমা" দেখবার অপেক্ষায় ছিলাম। শিবসেনার রাজনৈতিক হুমকি দেওয়ার পর যারা পাকিস্তানকে যেকোনো মূল্যে অপছন্দ করতে আগ্রহী তাদের জবান থেকে আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে বিবৃতির অপেক্ষা করছিলাম , তারা শিব সেনার এই হুমকিকে কিভাবে দেখছেন,সেটা কি সমর্থন যোগ্য, পাকিস্তান বিরোধিতার কারণে তারা কি শিবসেনাকে সমর্থন দিবেন না কি এই সম্পূর্ণ বিষয়টাতে খেলার ভেতরে রাজনীতি টেনে আনবার দায়ে ধর্মান্ধ একটি দলকে অপছন্দ করবেন

তাদের কোনো বিবৃতি চোখে পড়ে নি আমার, হয়তো তার শিবসেনা কিংবা বিজেপির এই হুংকারকে অগ্রহনযোগ্য মনে করেছেন কিংবা তাদের সাথে শিবসেনার মিল খুজে পেয়ে ভারতেও আমাদের একদল বন্ধু আছে ভেবে উৎফুল্ল হয়েছেন। ভারত পাকিস্তানের কাউকেই খেলা দেখতে যাওয়ার অনুমতি দিতে চাইছিলো না, বোমা হামলা এবং রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে এই ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করলে সেটা সমর্থনযোগ্য কিন্ত সেটা গ্রহনযোগ্য হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন, এই একটি ধারণাকে শক্তিশালী হতে দিলে মানুষের শুভবোধের উপরে আস্থাহীনতাকেই প্রকট বৈশিষ্ঠ হিসেবে দেখতে হয়।

পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সমর্থন জানানো নিয়ে একজন সাবেক সচিব ব্যপক গালমন্দ করেছেন জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকে, আজ হাসান ফেরদৌস নিউ ইয়র্ক থেকে শোভন ভাষায় এর নিন্দা জানিয়েছেন প্রথম আলোতে। বাংলাদেশের যুবকেরা বন্দে মাতরম গাইলে সেটা যখন আপত্তিকর বিবেচিত হয় না সেখানে কেউ পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত জানলে কেনো আপত্তিকর হয়ে উঠে জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টা নিয়া যেই আদর্শিক সংকট সেটাকে কে কিভাবে মোকাবেলা করে।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×