একদা সম্পদাহরণে দস্যুতা স্বীকৃত পন্থা ছিলো, অর্থনীতির পরিসর ছিলো ছোট, ফলে গ্রামভিত্তিক সভ্যতায় বাড়তি সম্পদ উৎপাদনে অসমর্থ গ্রামীণ সমাজের বলিষ্ঠ যুবারা সবাই দল বেঁধে তস্করবৃত্তি করতো, সে সময় থেকেই ডাকাতদের সমাজহিতৈষী ভাববার প্রবনতা শুরু। তস্করতা সমাজের উপকারে আসছে এমন ভাবনা থেকেই ডাকাতেরা নিজেদের দেশপ্রেমিক ও ত্রাতা ভাবা শুরু করেছিলো, পরবর্তীতে তস্করতাই প্রধান জীবিকা হয়ে যায় অনেকের। যেমনটা হয়েছে সোমালিয়ার মানুষদের, তারা চোরাবাজারে বন্দুক খরিদ করে জলদস্যু হয় আর দেশের অর্থনীতিতে বেশ বড় অবদান রাখে, সোমা্লিয়ার বিদেশী অর্থের বড় জোগান হয়ে উঠেছে এই জলসদ্যুতা ।
লুটতরাজ করে সম্পদাহরণের অনেক নিদর্শন পাওয়া যাবে, কিন্তু ডাকাতদের রাষ্ট্রবিরোধী হয়ে উঠবার সময়টুকুও আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে, আমাদের সন্ত্রাসবাদী ঊপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকেও বর্তমানের বিবেচনায় তস্করবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করা যায়, সোমালিয়ার জলসদ্যুরাও দেশপ্রেমিক বিবেচিত হচ্ছে।
আমরা আক্রান্ত, আমাদের জাহাজ আটক করে নিয়ে যাওয়া শত কোটি টাকার বিনিময়ে আমাদের কয়েকটা পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে, সে টাকায় হাসছে সোমালিয়ার শিশুরা, সবাই জিতছে, উপকূলে পসরা সাজিয়ে বসে থাকা রমনী যারা এইসব জলদস্যুদের রসদ জোগায়, সেইসব চোরাকারবারী যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্রান্ডের জিনিষ পত্র বিক্রী করছে জাহাজের আটক ব্যক্তিদের কাছে, সেইসব জলদস্যু যারা কয়েক শত মাইল সমুদ্রে স্পীড বোটে টহল দেয়, আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে ধরে নিয়ে আসে মাছ ধরা জাহাজ আর পণ্যবাহী জাহাজ আর সেসব জাহাজের নাবিকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে তাদের অপরাধী ভাবতে সমস্যা নেই কোনও , কিন্তু তারাও দেশের মানুষের কাছে বেশ বড় বীর, হয়তো তারা সমুদ্রে নিহত হলে বীর প্রতীক উপাধি পায়, পাবে কিংবা সেলুনে যাদের বড় বড় পোষ্টার শোভা পায় আর যাদের বীরত্বের গল্প ঘুরে ফিরে ছেলে বুড়োদের কণ্ঠে, লিটলজন আর ব্ল্যাকিব্ল্যাক যখন দেশপূজ্য বীর হয়ে যায় তখন নিজের দেশের দিকে তাকালে মনে হয় আমরা কি সোমালিয়ার চেয়ে ভালো আছি
আমাদের নির্বাচিত সাংসদদের অপরাধপ্রবনতা, অনুগত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বড়সর তস্কর দল তৈরি করা এবং তাদের দিয়ে বিরুদ্ধমত দমন এবং নির্বাচনে পেশীর জোরে নির্বাচিত দেশপ্রেমিক হয়ে যাওয়ার এই স্বাভাবিক বাস্তবতাগুলো মেনে নিলে বলতে হবে এখানেও লুণ্ঠক পূজিত হয়। আমরা অযথাই বিদেশী ডাকাতদের গালাগালি করি, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে আমাদের জনমত নেই, হুদাই মার্কিন ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বড় বড় বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি গরম করি
একদল কালো পোশাকধারী দস্যু আইনের তোয়াক্কা না করে যখন যাকে ইচ্ছা তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করছে, জখম করছে, তাদের নিয়ে মধ্যবিত্তের চুলকানীর শেষ নেই, তারাই দেশের সন্ত্রাস নির্মূল করছে, তাদের দৃশ্যমান সাফল্য গাঁথা হ্যাকার মীর্জাকে দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা, বাড্ডায় দেশী মদের ঠেকে গিয়ে স্পিরিট জব্দ করা, খাদ্যে ভেজাল অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা করা, এভাবেই রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে র্যাব। সন্ত্রাস কমেছে এমন পরিসংখ্যান কি কেউ দেখাতে পারবে
রাজনৈতিক খুনের পরিমাণ কমে নি, দেশে প্রতিবছর আগে যে পরিমাণ মানুষ খুন হতো, র্যাবের বিভিন্ন দুর্ধর্ষ অভিযানের পর সেই খুনের হারও কমে নি, মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে, এখন গভীর রাতে দরজায় কেউ ধাক্কা দিলে মানুষ চিন্তিত হয়, ভাবে আজ কে এলো দরোজায়, ডাকাত, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার না র্যাব, এরা সবাই বেশ সাহসিকতার সাথে দরজায় লাথি দিতে পারে।
গৃহস্বামী মাঝ রাতে চোখ ডলতে ডলতে দরজায় এসে গান ধরেন, কে তুমি এলে ওগো আমারও দ্বারে,
সন্ত্রাস নির্মুলের জন্য বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে জন্ম নিলেও র্যাব এখন বহুমুখী ভুমিকা পালন করছে, টয়লেট পরিস্কার করা থেকে শুরু কওরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহরের ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করা র্যাবের দায়িত্ব ও কর্ম পরিসর বেশ বড়, মাল্টিটাস্কিং যেকোনো কিছুর দক্ষতাই সময়ের সাথে কমে, র্যাবের দক্ষতা এভাবেই আশংকাজনক কমে গেছে, আগের মতো শার্প শুটারও নেই তাদের, অধিকাংশই তারা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সে কারণেই হয়তো তাদের ধারণা তাদের মতো অন্য সবার বুদ্ধি হাঁটুতে , তারা হাঁটুতে গুলি করে অবাক হচ্ছে, যা শালা এ তো মরলো না মাথায় গুলি লেগেও, আর হাটুতে গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হাসপাতালের বেডে শুয়ে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ করছেন, র্যাবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করছেন, র্যাব ভাবছে গুলিটা মাথায় না লাগলেও কাছ ঘেষে গেছে বলেই লোকটা ঠিকমতো ভাবতে পারছে না, তারা প্রতিবেদন দিচ্ছে ঃ মুলত নামের মিলের জন্যই আমরা তাকে গুলি করেছি, সে ঘটনার শিকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

