somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুষ্পিতার চার পর্বের লেখা পড়ে

০২ রা মে, ২০১১ রাত ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ মন্তব্য মডারেশনে রাখা সব সময়ই আপত্তিকর, সুতরাং মন্তব্যের বদলে আলাদা করে পোষ্ট লিখতে হলো ]
ভুমিকাঃ বিডিনিউজে জনৈক পুষ্পিতা চার পর্বের একটি লেখা লিখেছেন, প্রারম্ভিক পর্যায়ে সেখানে যুদ্ধাপরাধীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিলো, এর পর সেখানে দালাল আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ এসেছে, পরবর্তী পর্যায়ে এসেছে শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমা এবং এরপর আরও অনেক আলোচনা, সেটার মন্তব্য লিখতে গিয়ে আরও বিস্তারিত লিখতে হলো]

আপনার ব্যপক তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটা পড়লাম, খুব বেশী মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি নি স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে সূচনা পর্বে আপনি যুদ্ধাপরাধীদের সংজ্ঞা দিয়েছেন, চমৎকার সংজ্ঞা নিঃসন্দেহে, তবে ২০০৯ সালের ২৫শে মার্চ যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবনা পাশ হয়েছে সেটা

“মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ”

বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, আমাদের গণমাধ্যম বিষয়টিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে কিংবা পপুলার জার্গনে বিষয়টা যুদ্ধকালীন সময়ের অপরাধ বিবেচিত হচ্ছে বলেই স্বাভাবিক ভাবে এটাকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বলা হচ্ছে, যাই হোক আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা দিয়েই আলোচনা শুরু করতে পারি

“মানবতাবিরোধী অপরাধ”, “শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ” এই বিষয়টা আদতে কি, Crimes against humanity:

murder, extermination, enslavement, deportation, and other inhumane acts committed against civilian populations, before or during the war; or persecutions on political, racial or religious grounds in execution of or in connection with any crime within the jurisdiction of the Tribunal, whether or not in violation of the domestic law of the country where perpetrated.

আমরা বিচারের প্রেক্ষাপট এখনও নির্ধারণ করি নি, শুধু সংজ্ঞা দিয়েই শুরু করেছি,
প্রশ্ন হলো ১৯৭১ সালে এমন কোনো অপরাধ বাংলাদেশের ভূখন্ডে ঘটেছিলো কি না,
সেসবের বিবরণ কোথাও পাওয়া যাবে কি না,
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসরণে এটা ঘটেছিলো কি না,
কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় এটার ব্যপকতা বৃদ্ধি পেয়েছিলো কি না

বাংলাদেশে কি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো
যদি হয়ে থাকে, এটার ব্যপকতা কতটুকু ছিলো
যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা কি কোথাও সাক্ষ্য দিয়েছেন
১৯৭১ সালে বিশ্বের গণমাধ্যমে এবং মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে কি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপাতত আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদের যা জানা প্রয়োজন মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কাউকে দোষারোপ করা হয়েছে কি না। যদি বিশ্বে কোথাও কাউকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় তাদের অপরাধের ধরণ কেমন ছিলো।
জ্যা পিয়েরী বেম্বা গ্মবো [Jean-Pierre Bemba Gombo] কঙ্গোর উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি, তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আটক করা হয়েছে, তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না, কিংবা তিনি কোনো সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন না, তার সশস্ত্র রাজনৈতিক সমর্থকদের নেতা হিসেবে এবং তার উস্কানীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো ১৯৭১ এর বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কি এমন কোনো রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের অস্তিত্ব ছিলো
তাদের নেতৃত্বে ছিলো কারা এবং তাদের দেওয়া বিবৃতি কেমন ছিলো



জার্মেইন ক্যাটাঙ্গা [ Germain Katanga ] কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা সশস্ত্র সংগ্রাম করছে তাদের নেতা। তার বিরুদ্ধে নিরপরাধ বেসমরিক লোকজনকে হত্যা, ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এবং সে অপরাধে তার বিচার শুরু হয়েছে ২০০৯ সালের ২৪শে নভেম্বব।



প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি এমন হত্যা ও ধর্ষণ কিংবা নারীর শ্লীলতাহানি এবং তাদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে


সলেমন মোরেল [ Salomon Morel] একজন সুবিধাবাদী চরিত্র, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অধিকৃত পোলান্ডে নিজেদের ডাকাত দল তৈরি করে আশেপাশের মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন, পরবর্তীতে পোলান্ড মুক্ত হলে তিনি সোভিয়েত রাশিয়ার অনুগ্রহভাজন হয়ে একটি বন্দীশালার দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে আটককৃত বন্দীদের উপরে নির্যাতন চালান এবং তাদের হত্যা করেন।
তিনি যে অপরাধ করেছিলেন ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালে ১৯৯৪ সালে সে অপরাধের দায়ে তার বিচার দাবি করে Poland's Institute of National Remembrance of war crimes and crimes against humanity
তার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে বিচার সমাপ্ত হয় এবং তাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় ১৯৯৫ সালে, ইসরাইলের বাধার মুখে তাকে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হয় নি।
২০০৭ সালে তার মৃত্যু হয়

প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ব্যক্তি কি এমন দস্যুতা এবং আটককৃত বন্দী কিংবা সন্দেহভাজনদের নির্যাতন ও হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন,
তাদের রাজনৈতিক পরিচয় অনুহ্য রেখে তাদের কমান্ডারদের চিহ্নিত করা সম্ভব এখন
পরাজিত পাকিস্তানী জেনারেল এ এ কে নিয়াজী কি বলেছেন এদের বিষয়ে



মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন আরও রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং তাদের সহযোগীগন, বিচার দীর্ঘায়িত হয়েছে, অনেক সময়ই অভিযুক্ত আটোক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া অব্যহত থেকেছে।

অবশ্যই আবুল মনসুর আহমেদ চান নি এদেশে যারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলো কিংবা তাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্ররোচনায় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার করেছিলো তাদের এভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। অলি আহাদও তেমনটা চান নি, আপনি যাদের কথা উদ্ধৃত করেছেন তারাও হয়তো কয়েকটি গুরুতর অপরাধ ব্যতিরকে অন্য সকল চুনোপুটি অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু তারা সরাসরি আক্রান্ত ছিলেন না, আবুল মনসুর আহমেদ তার নিজের বাসায় কাটিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ সময়টাতেই, তার পূত্র মাহফুজ আনাম ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করলেও তিনি এর আঁচে আক্রান্ত হন নি কিংবা নির্যাতিত হন নি।

যারা আক্রান্ত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এবং যাদের উপরে অন্যায়ের প্রতিকার এখনও হয় নি, তারা কি ক্ষমা করেছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সেনাদের কিংবা তাদের এ দেশীয় দোসরদের

রাষ্ট্রপ্রধান, অবৈধ শাসক কি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন সেটা মেনে নেওয়ার দায়িত্ব কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই নাগরিকের। তারা তাদের উপরে সংঘটিত অপরাধের বিচার চাইতেই পারেন, সময়, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনটাই এই বিচারের দাবির বিরুদ্ধে চলে গেলে সেটাকে প্রতিহত করে আক্রান্তের জন্য ন্যায় বিচার দাবী করা সচেতন নাগরিকের কর্তব্য, সেখানে কোনো রাজনৈতি্ক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিষ্পেষণের অভিযোগ উত্থাপন করা আপত্তিকর, কারণ তারা এই রাজণৈতিক দলের কর্মী, নেতা ও সমর্থক হিসেবেই ১৯৭১ এ এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধে লিপ্ত ছিলেন এমনটাই আক্রান্তদের অভিযোগ, সেটার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা নিছক অপরাধী, কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা আদর্শের সৈনিক নন।




১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×