somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রের নিরপরাধ পুলিশ

০৫ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্র বিমূর্ত একটি ধারণা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর সদস্য হিসেবে পুলিশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই বিমূর্ত রাষ্ট্রের প্রতিকী উপস্থিতি এবং পুলিশের আচরণে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব দেখে। উর্দিবিহীন পুলিশ দেশের যেকোনো বিচ্ছিন্ন একজন নাগরিক কিন্তু পুলিশের উর্দি তাকে বিশিষ্টতা দিয়েছে, রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যর্থতা দায় বহন করে টহল পুলিশ, সাধারণ নাগরিক তাদেরই সবচেয়ে কাছে থেকে দেখে, আশ্বস্ত হতে চায়, নিরাপত্তা চায়। মানুষের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বোধটুকু কখনই পুলিশ প্রকৃতার্থে প্রদান করতে পারে না জনগণকে। সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়, প্রতিবাদী হয়, আক্রান্ত হলে প্রতিরোধ করে এবং এর সবটুকু ঝাঁঝ লাগে পুলিশের গায়ে।

রাষ্ট্র জন্কল্যানমুখী না হলে রাষ্ট্র জনরোষ নিয়ন্ত্রন করতে চায়, সে জনরোষ নিয়ন্ত্রনে সশস্ত্র সহায়তা দেয় পুলিশ। মরিয়া মানুষ পুলিশপিটিয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কখনও কখনও। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ একইভাবে রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ততার দলিল হিসেবেই সাধারণ মানুষের কাছে যায়, তারা ঘুষের বখরা চায়, মাদক ব্যবসার পূঁজি এবং নিরাপত্তা দেয় পুলিশ, জনগণের বন্ধু না হয়ে পুলিশ নির্যাতনের যন্ত্র হয়ে উঠবার পর থেকে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে আগ্রহী নয় বরং তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে চায়।

কাহারোল বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষও এমনটাই চায়। তারা প্রতিবাদী হয়েছিলো ডাকাতির ঘটনায়। সে ডাকাতি করেছে পুলিশ সদস্যগণ। যদিও তারা উর্দির সম্মান রেখেছে, উর্দিবিহীন সাদা পোশাকে তারা ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে, গ্রামবাসী তাদের আটক করেছে, অন্তরীন করে রেখেছে এবং চেয়েছে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল আচরন করুক, পুলিশের বড় কর্মকর্তাগণ জবাবদিহিতায় আগ্রহী নন তারা পুলিশ দিয়ে জনরোষ দমনের চেষ্টা করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে তারা ডাকাত দলের সদস্য পুলিশদের উদ্ধার করতে আসা অন্যান্য পুলিশদেরও আটক করে রেখেছে।

সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ পুলিশ যখন সাধারণ জনগণকে আরও নিরাপত্তাহীন কওরে, যখন তারা সাধারণ গ্রামবাসী সর্বস্ব হরণ করতে চায় তারা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করবে এটাই স্বাভাবিক। নির্যাতনপ্রবন পুলিশের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, উপেক্ষা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ এক সাথে উগড়ে দিয়েছে কাহারোলের মানুষ।

তারা পুলিশের ভ্যান অগ্নিদদ্ধ করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে টহল পুলিশের গাড়ী, তাদের উপরে গুলি চালানো হলে তারা পালটা প্রতিক্রিয়ায় থানায় হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এসবই ঘটিয়েছে তারা কারণ পুলিশের কর্মকর্তাগণ স্বাভাবিক জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে অভ্যন্ত নন বিধায়। তারা যদি সংঘাতের বদলে সংলাপে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তাহলে এমন অঘটন ঘটতো না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী এবং এই মন্ত্রনালয়ের অন্যান্য ব্যক্তিরা এইসব দায় দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী, লিমনের গুলিবিদ্ধ পায়ে সাথে তারাও তাদের জবাবদিহিতার আগ্রহ ছেঁটে ফেলেছেন, লিমন আহত অবস্থায় নিরপরাধ হয়েও জেলে অন্তরীণ, আর কাহারোলের ডাকাত পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত সাধারণ মরীয়া মানুষ এখন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের আসামী।

সাহারা খাতুন কখনও এইসব দায়িত্ব গ্রহন করতে চান নি, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের বিবৃতি দিয়েছেন, প্রমাণ করতে চেয়েছেন রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র অবনতি হয় নি, আর পত্রিকায় সব সময়ই সরকারবিরোধী সংবাদ ছাপা হয়, সে কারণে দেশজুড়ে ছাত্রলীগের এবং যুবলীগের নেতা কর্মীদের ভেতরে টেন্ডারের বখরা নিয়ে যুদ্ধ, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং খুনের বিষয়গুলো তার চোখে পড়ে না, তার চোখে পড়ে না নির্বাচিত সাংসদ সরকারী কর্মচারী লাঞ্ছনা করছেন, আমাদের সকল নিরাপত্তা বলয় ধ্বসে পচে গলে পড়লেও সরকারী খাতায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে জানান দেয় দেশের সবাই নিরাপদে এবং আনন্দে আছে। রাষ্ট্র চোঙা ফুঁকে বলে দেশের প্রান্তিক দারিদ্র কমেছে, মানুষ ভালোমন্দ খাচ্ছে এবং তারা সুখে আছে।

কাহারোলের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত দল রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র খুঁজে পেয়েছে, কিভাবে এত স্বল্প সময়ে এতগুলো এলাকা গভীর রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছে তদন্ত দল। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ইচ্ছা করেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে, আমরা অতীর প্রেসনোটসগুলোর মতো এবারও হয়তো এমনই ভাষ্য পাবো

একটি চিহ্নিত মহল ইচ্ছাকৃত ভাবেই শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিলো, দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনী তাদের এই চক্রান্তে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন চালানো হয়। এভাবেই দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে এই চিহ্নিত মহল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

কাহারোলের সাধারণ মানুষ জানে কোনটা সত্কারনিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিতে অনিচ্ছুক সরকার আরও বেশী নির্যাতন প্রবণ হয়ে উঠবে এবং স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে থানায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করবে। এই মামলার আসামী হবে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার ব্যক্তি, তাদের হাতে থাকবে বিভিন্ন রকম ধারালো অস্ত্র, তারা অগ্নি সংযোগ করবেন, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিবেন, এবং অবধারিত ভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকবেন।

এইসব অজ্ঞাতনামাদের দলে ঢুকে পড়বে লিমন,আমাদের রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর অসভ্য সদস্যরা এ প্রয়োজনেই এইসব অজ্ঞাতনামা মামলার দলিলগুলো সংরক্ষণ করেন। যখনই পুলিশ কিংবা র‍্যাবের হাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ নির্যাতিত হয় এবং এর বিরুদ্ধে জনরোষ গর্জে উঠে তখন এমন অজ্ঞাতসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামীদের একজন হিসেবে নির্যাতিতকে চিহ্নিত করে দেখানো হয় তার বিরুদ্ধে থানায় অনেক আগে থেকেই অনেকগুলো মামলা ছিলো, নির্যাতিত ব্যক্তি আসলে একজন ভয়ংকর সমাজবিরোধী এবং সাংঘাতিক বড় অপরাধী।

অসংখ্য নির্যাতিত নিরপরাধ মানুষের ক্ষোভ মিশে ছিলো কাহারোল বীরগঞ্জের ঘটনায়, এর আগেও সেখানে ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশ ধরা পড়েছে, সেসব কারণকে নির্মূল করতে হবে , অহেতুক নিজের পিঠ বাঁচানো তদন্ত প্রতিবেদন নয় এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এর বাইরে নির্যাতনপ্রবন রাষ্ট্রের কাছে অন্য কিছুই চাওয়া নেই।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×