প্রত্যাশা আর অর্জনের জাবেদা বই খুলে বসলে স্বাধীনতা শব্দটা তেমন কুড়মুড়ে চানাচুড় থাকে না, খোলা মুড়ির মতো মিইয়ে গিয়ে দাঁতের ভাজে আটকে থাকে। জিহ্বা ঘষে ঘষে সে মুড়ির দানা আবার চিবাই, গলা খাঁকরি দিয়ে বলি আজ আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম চল্লিশ বচ্ছর আগে।
জাবেদা খাতার মার্জিনে রাজনৈতিক মন্তব্য লিখে রাখা ইতিহাসবিদগণ এবিসিএনবিসিটাইমস আর টাইমবোমাসমেত ঢুকে গিয়েছেন ইয়্যুটিউবের ওয়েবপেইজে,
ফাদার অফ দ্যা নেশন মিলিটারী জীপে যেতে যেতে ছুমন্তর ছুড়ে দিয়েছিলেন অলৌকিক ইশতেহার, জীপের দরজায় বাজাচ্ছিলেন টরেটক্কা টরেটক্কা,টরে টরে টরে- টেলিগ্রাফের তারে বসা বৃদ্ধ কাক ঠিকই বুঝে নিয়েছিলো কি সংবেদ আর সংবাদ আছে তাতে, সেই টেলিগ্রাফের তার ঠুকর চট্টগ্রামের ছিলিমপুরে পৌঁছে দিয়েছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা।
ছিলিমপুর ওয়্যারলেস স্টেশন সকাল ৬টায় শেখ মুজিবর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সিগন্যাল পেয়েছিলো ঢাকা থেকে, ডাকুয়া সে ওয়্যারলেস সিগন্যাল ছড়িয়ে দেন চারদিকে। সে স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ প্রচারিত হয় ২৬ তারিখ রাত ১০টায়
তা বাবা ছিলিমের বেজায় নেশা, জিয়া মুজিব, হস্তি-ঘোড়া কিংবা নিরেট গর্দভ, কেউ একজন তো বলেছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন, তাতে কার কি আসলো গেলো?
আমার জাবেদা খাতার মার্জিন উপচে যাওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের হিজিবিজিতে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতায় আমার কি কি পাওয়ার কথা ছিলো। কিছু নেই এমন নিমকহারামি করবো না, আমার জন্য নি:শব্দে মরে যাওয়ার স্বাধীনতা এখনও অটুট আছে।
স্বর্গবাসী মহামতি জেএফকে বললেন "কখনও ভাববে না দেশ তোমাকে কি দিলো, সব সময় ভাববে তুমি দেশকে কি দিতে পেরেছো?"
কিঞ্চিৎ কাশি দিয়ে বললাম স্বর্গবাসী জনাবমহাত্মন দেশেরও নেওয়ার ক্যাপাসিটি লাগবে, আমি ঢেলে দিলাম আর উপচে যাওয়া রক্তে ডোবা-ড্রেন সয়লাব হয়ে গেলো, ফাদার অফ দ্যা নেশন প্লেনের পেট খসে মাটিতে পা দিয়ে বললেন ওদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ- ১ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গম্বরের মতো এ সংখ্যাও পবিত্র অবিনশ্বর। সুতরাং একে মাণ্য করে চলো।
আমি তারপর থেকে পরিসংখ্যান আর সংখ্যামিতির টালিখাতায় একবার বাঁ-দিকে যাই আর একবার ডান দিকে। কখনও আমার মাথাগুণে নেতা বলেন ওরা এবার অনেক পেয়েছে- আমার শূণ্যহাত আর কঙ্কালসার দেহের উপরে লাল-সবুজ পতাকা টেনে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন দেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক- আর কেউ নীচ দিয়ে আলো ঢুকিয়ে বলে ওদের সবাই উদলাপাছায় বসে আছে একটুকরো কাফনের কাপড় জুটে নি এদের- ওদের ভাগ্যপরিবর্তনের রাজনীতি করবো আমরা।
এর ভেতরেই স্যুট-টাই-টানটান শার্ট এসে ভাঙা দরজার মাপ নিয়ে বললেন ওদের উন্নতি হবে কিভাবে , ওরা তো এখনও স্যানিটারি টয়লেটে হাগুই করলো না।
এখন আমাদের স্যানিটারি টয়লেটের টিনের দরজার বাইরে এন্টিসেপটিক সাবান
না খেয়ে স্যানিটারি টয়লেটে স্বাস্থ্যসম্মত হাগুর কসরত করে করে কেটে গেলো আমাদের অনেক অনেক দিন,
তারপর সরকার জাগলেন, আমাদের মেয়েদের জন্য নিয়ে এলেন মুখে খাবার জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি আর স্যানিটারি ন্যাপকিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




