একটা মেয়ে ছিল, একটা সময় ছিল, যেই সময়টাতে সেই মেয়েটাকে অনেক বেশি চেয়েছি, অনেক অনুনয় বীনয়ের ছিল সেই সময়টা। চাতকের ২ মাসের বাচ্চাটির মত বিছানায় পড়ে থাকা সেল ফোনটির দিকে তাকিয়ে থেকেছি।খুব বেশি আবেগের প্রবনতা নিয়ে কাটিয়েছি গোধুলির ধুসরময় মূহুর্তগুলি আর হঠাতই ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেছি সকালের সূর্যের শৈশব আর শহুরের কাকগুলির কর্কশ প্রভাত ফেরি।
তখন আবেগের প্রবনতা একটু বেশিই ছিল, এখন মনে হলে নিজেই হাঁসি আপন মনে। অনেকটা ভুতের গল্পের মত, ছোট বেলায় ছোট মামা বলত। রাত্রের অন্ধকারে কেউ থাকত না পাশে, আলোচিত বটগাছটির নিচে সে। সে এক ভুতুড়ে পরিবেশ ভয় পাবারই মত। শরীরের রোম গুলি খাড়া হয়ে যেত দুই তালগাছে দুই পাঁ দেওয়া ভূতের গল্প শুনে। আর দিনের বেলায় জোর গলায় বলতাম ভূত বলে আবার কিছু আছে নাকি!
এমনি করেই ভালোবাসাবাসিরও একটা পরিবেশ আছে, সে পরিবেশে মনে হয়...............................কি মনে হয় তা বোঝানো যাবেনা কারন এই মুহুর্তে আমি নিজেই নিজেকে বোঝাতে পারছিনা, এই মুহুর্তে আমি আসলে ভালোবাসার সেই পরিবেশে নেই। শুধু এইটুকু বুঝতে পারছি ভালোবাসা নামক কোন এক দূর্বধ্য অনূভুতি কোন একটা নিদৃষ্ট সময়ে বোধ শক্তিকে ভোতা করে দিতে পারে।
আমার তখনকার সময়গুলি কাটত ভোতা বোধশক্তি নিয়ে। কি দিয়ে বোঝাবো? কিভাবে বোঝাবো? এইভেবে ভেবে সময় গুলি কেটেকুটে রক্তাক্ত।
মেয়েটির ছিল সাধারন নিয়ম, আমি ছুটতাম বলেই হয়ত সে দৌড়াতো।
যাইহোক মেয়েটি একদিন বাসায় এল, যেমনি করে আগেও আসত ঠিক সেমনি করেই। বাসা বলতে আমার একার বাসা। সে এটা করে ওটা করে, খাচার পাখিটিকে তার নাম শেখানোর ব্যার্থ চেষ্টা চালায়, তিন রঙ এর চা বানায়। যেন তার সংসার। দেখে অনেক ভালো লাগল।
তাই সাহস করে বলেই ফেললাম ভালোলাগার কথা গুলি, শুনে সে যেন চাঁদ থেকে পড়ল তার পড়ার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পেলাম। নিজের কাছে নিজেরই লজ্জা লাগলো, না পাওয়ার লজ্জা, উপেক্ষিত হওয়ার লজ্জা।
বিছানায় তিনটা বালিশ তিনদিকে ছড়ানো, বিছানা গুছিয়ে নিল, “ছেলে মানুষের সাদা বিছানার চাদর ব্যবহার করতে হয়না” বলতে বলতে গাঁ এলিয়ে দিল বিছানায়, আমি বালিশ টেনে দিলাম। সে বালিশ নিয়ে আমার কোলে রাখল। আমি নিজের অজান্তেই তার সিঁথিতে বিলি কাটতে লাগলাম। কোথা দিয়ে কি হয়ে যাচ্ছিল কিছুই বুঝতে পারলাম না শুধু বুঝতে পারছিলাম একটি শরীর আরেকটি শরীরকে চাচ্ছে তীব্র রকমের চাওয়া। এরপর
একটা সময় আসল যখন চাওয়ার পুর্নতায় দুজনেই ক্লান্ত, তখন আমার কপালে তার হাত, অস্ফুট স্বরে সে বলল এ কি করলাম! কথায় আর্তনাদের সুর। স্বান্তনার ভাষাগুলি মুখে আসলনা তাই চুপ করেই থাকলাম। আবারো কিছুক্ষন নীরাবতা তার হাত তখনো আমার কপালে, এইবারেও তার স্বর জড়িত, কাপা গলায় বলল চল বিয়ে করে ফেলি।
শত মুহুর্তের সাধনার ধন আমার হাতে। কিন্তু আমি তখন ভাবনার অন্য এক রাস্তা দিয়ে হাটছি।
আমিতো চেয়েছিলাম একটা মনের বিশুদ্ধতম সম্পর্ক, ভুল থেকে শুরু হওয়া কোন সমঝোতার সম্পর্ক নয়। আমি আসলে দ্বিধান্বিত বিয়ের এই স্বিকারোক্তি কি আসলেই কোন সম্পর্কের সংজ্ঞা নাকি শুধুমাত্রই একটা মিমাংসা।
হ্যা, আমি যে সম্পর্কের জন্য চাতক হয়ে ছিলাম তার শেষ পরিনতি অবশ্যই বিয়ে, কিন্তু সূচনা নয়।
এখন আমি না তাকালেও সেলফোনটি ফোনটি বেজে উঠে, আর আমি থাকি একধরনের ঘোরের ভেতরে। একসময় রিংটোন বন্ধ হয়ে যায়। আমার ভেতরে তখন শুরু হয় অপরাধ বোধ, মনে মনে কেবলই ভাবি আমি কি একজন মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করছি? আবার মনে হয় একসময়তো আমিও ছিলাম আসহায় বিভিক্ষ, আমিওতো আনেক নড়েছি অনেক চড়েছি।
ভাবতে ভাবতে আরেকটা সময় আসে যখন ফোনটা আবার বেজে উঠে, এইবার পাপবোধ মুছে ফেলার জন্য রিসিভ করি। কিন্তু শুনতে পাই সেই একই প্রস্তাবনা অথবা প্রশ্ন।
আমি এখন কি উত্তর দেব? কি স্বান্তনা দেব? কাকে দেব? নিজেকে নাকি...............................
এখন শুধু একটা গানই মনে পড়ে,
"যদিও তুমি ধ্রুবতারা তবুও আমি দিশেহারা"
বিদ্রঃ আমার জানালায় মুনিয়া গানটা মেয়েটির অসম্ভব প্রিয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


