somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদিও তুমি ধ্রুবতারা তবুও আমি দিশেহারা

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা মেয়ে ছিল, একটা সময় ছিল, যেই সময়টাতে সেই মেয়েটাকে অনেক বেশি চেয়েছি, অনেক অনুনয় বীনয়ের ছিল সেই সময়টা। চাতকের ২ মাসের বাচ্চাটির মত বিছানায় পড়ে থাকা সেল ফোনটির দিকে তাকিয়ে থেকেছি।খুব বেশি আবেগের প্রবনতা নিয়ে কাটিয়েছি গোধুলির ধুসরময় মূহুর্তগুলি আর হঠাতই ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেছি সকালের সূর্যের শৈশব আর শহুরের কাকগুলির কর্কশ প্রভাত ফেরি।
তখন আবেগের প্রবনতা একটু বেশিই ছিল, এখন মনে হলে নিজেই হাঁসি আপন মনে। অনেকটা ভুতের গল্পের মত, ছোট বেলায় ছোট মামা বলত। রাত্রের অন্ধকারে কেউ থাকত না পাশে, আলোচিত বটগাছটির নিচে সে। সে এক ভুতুড়ে পরিবেশ ভয় পাবারই মত। শরীরের রোম গুলি খাড়া হয়ে যেত দুই তালগাছে দুই পাঁ দেওয়া ভূতের গল্প শুনে। আর দিনের বেলায় জোর গলায় বলতাম ভূত বলে আবার কিছু আছে নাকি!
এমনি করেই ভালোবাসাবাসিরও একটা পরিবেশ আছে, সে পরিবেশে মনে হয়...............................কি মনে হয় তা বোঝানো যাবেনা কারন এই মুহুর্তে আমি নিজেই নিজেকে বোঝাতে পারছিনা, এই মুহুর্তে আমি আসলে ভালোবাসার সেই পরিবেশে নেই। শুধু এইটুকু বুঝতে পারছি ভালোবাসা নামক কোন এক দূর্বধ্য অনূভুতি কোন একটা নিদৃষ্ট সময়ে বোধ শক্তিকে ভোতা করে দিতে পারে।
আমার তখনকার সময়গুলি কাটত ভোতা বোধশক্তি নিয়ে। কি দিয়ে বোঝাবো? কিভাবে বোঝাবো? এইভেবে ভেবে সময় গুলি কেটেকুটে রক্তাক্ত।
মেয়েটির ছিল সাধারন নিয়ম, আমি ছুটতাম বলেই হয়ত সে দৌড়াতো।
যাইহোক মেয়েটি একদিন বাসায় এল, যেমনি করে আগেও আসত ঠিক সেমনি করেই। বাসা বলতে আমার একার বাসা। সে এটা করে ওটা করে, খাচার পাখিটিকে তার নাম শেখানোর ব্যার্থ চেষ্টা চালায়, তিন রঙ এর চা বানায়। যেন তার সংসার। দেখে অনেক ভালো লাগল।
তাই সাহস করে বলেই ফেললাম ভালোলাগার কথা গুলি, শুনে সে যেন চাঁদ থেকে পড়ল তার পড়ার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পেলাম। নিজের কাছে নিজেরই লজ্জা লাগলো, না পাওয়ার লজ্জা, উপেক্ষিত হওয়ার লজ্জা।
বিছানায় তিনটা বালিশ তিনদিকে ছড়ানো, বিছানা গুছিয়ে নিল, “ছেলে মানুষের সাদা বিছানার চাদর ব্যবহার করতে হয়না” বলতে বলতে গাঁ এলিয়ে দিল বিছানায়, আমি বালিশ টেনে দিলাম। সে বালিশ নিয়ে আমার কোলে রাখল। আমি নিজের অজান্তেই তার সিঁথিতে বিলি কাটতে লাগলাম। কোথা দিয়ে কি হয়ে যাচ্ছিল কিছুই বুঝতে পারলাম না শুধু বুঝতে পারছিলাম একটি শরীর আরেকটি শরীরকে চাচ্ছে তীব্র রকমের চাওয়া। এরপর
একটা সময় আসল যখন চাওয়ার পুর্নতায় দুজনেই ক্লান্ত, তখন আমার কপালে তার হাত, অস্ফুট স্বরে সে বলল এ কি করলাম! কথায় আর্তনাদের সুর। স্বান্তনার ভাষাগুলি মুখে আসলনা তাই চুপ করেই থাকলাম। আবারো কিছুক্ষন নীরাবতা তার হাত তখনো আমার কপালে, এইবারেও তার স্বর জড়িত, কাপা গলায় বলল চল বিয়ে করে ফেলি।
শত মুহুর্তের সাধনার ধন আমার হাতে। কিন্তু আমি তখন ভাবনার অন্য এক রাস্তা দিয়ে হাটছি।
আমিতো চেয়েছিলাম একটা মনের বিশুদ্ধতম সম্পর্ক, ভুল থেকে শুরু হওয়া কোন সমঝোতার সম্পর্ক নয়। আমি আসলে দ্বিধান্বিত বিয়ের এই স্বিকারোক্তি কি আসলেই কোন সম্পর্কের সংজ্ঞা নাকি শুধুমাত্রই একটা মিমাংসা।
হ্যা, আমি যে সম্পর্কের জন্য চাতক হয়ে ছিলাম তার শেষ পরিনতি অবশ্যই বিয়ে, কিন্তু সূচনা নয়।
এখন আমি না তাকালেও সেলফোনটি ফোনটি বেজে উঠে, আর আমি থাকি একধরনের ঘোরের ভেতরে। একসময় রিংটোন বন্ধ হয়ে যায়। আমার ভেতরে তখন শুরু হয় অপরাধ বোধ, মনে মনে কেবলই ভাবি আমি কি একজন মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করছি? আবার মনে হয় একসময়তো আমিও ছিলাম আসহায় বিভিক্ষ, আমিওতো আনেক নড়েছি অনেক চড়েছি।
ভাবতে ভাবতে আরেকটা সময় আসে যখন ফোনটা আবার বেজে উঠে, এইবার পাপবোধ মুছে ফেলার জন্য রিসিভ করি। কিন্তু শুনতে পাই সেই একই প্রস্তাবনা অথবা প্রশ্ন।
আমি এখন কি উত্তর দেব? কি স্বান্তনা দেব? কাকে দেব? নিজেকে নাকি...............................
এখন শুধু একটা গানই মনে পড়ে,
"যদিও তুমি ধ্রুবতারা তবুও আমি দিশেহারা"
বিদ্রঃ আমার জানালায় মুনিয়া গানটা মেয়েটির অসম্ভব প্রিয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৩৮
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×