somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপুদের জন্য ভাইয়ারা সম্পর্কিত পোষ্ট

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাই শুধু বলে ছেলেদের কি করতে হবে। মেয়েদেরও যে কিছু করার আছে সেটা কেউ বলেনা।
অনেক অনেক পোষ্ট দেখেছি, “কিভাবে মেয়েদের seduce করবেন” এই টাইপের। ব্যাপারটা যেন এমন যে, আপনারা শুধু মাত্রই seduced হওয়ার জন্য বসে আছেন, আপনাদের কাজ হচ্ছে পুতুলের মতন বসে থাকা। যে সর্বচ্চ দাম হাকাবে তার হয়ে যাওয়া। ঠিক যেন একটা শিশুকে ঘিরে অনেকগুলি মুখ, যে মুখটি সবচেয়ে মজার, শিশুটিকে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে হবে। যদি তাই হয় তবে ব্যাপারটা ঠিকই আছে। ;) পারিপ্বার্স্বিক অবস্থার ভিত্তিতে আমাদের দেশের মেয়েদের, ছেলেদের’কে seduce করার কোন প্রয়োজনই হয়না, কারন সে না চাইতেই তার চারিপাশে অনেক অনেক প্রতিযোগী।
কিন্তু তারপরেও কথা আছে যেহেতু “দিন বদলাইছে” সেহেতু আপনারা (আপুরা) এখন অনেক আত্যপ্রত্যয়ী, স্বতন্ত্র এবং আধুনিক মনা। আমি উপলব্ধি করলাম আপনাদের জন্যও কিছু টিপস দরকার ;) যাতে করে যগ্য পুরুষটি খুজে পেতে অথবা যগ্য পুরুষটির কাছে যগ্য হওয়াটা আপনাদের কাছে সহজ মনে হয়, যাতে করে আপনিও পারতে পারেন। 
তিনটি প্রধান কারনে আপনাদের জন্য এ পোষ্ট।
আপনি যদি পুতুল হোন অথবা পুতুলের মত হতে পছন্দ করেন তবে............
প্রথমত, মুল্যায়ীত হতে হলে আপনাকে একটি আকর্ষনীয় পুতুল হতে হবে কারন সব পুতুল আকর্ষনক্ষম নয়। (এখানে আকর্ষনীয় বলতে সাময়ীক, শারীরিক, পোষাকি আকর্ষনকে বোঝানো হচ্ছেনা। বরঞ্চ আত্নিক আচরনগত ইমপ্লিসিট আকর্ষনকে বোঝানো হচ্ছে যার ব্যাপ্তিকাল দীর্ঘ থেকে অনন্ত)
দ্বিতীয়ত, এখন যারা আকর্ষিত হবে যারা আপনাকে চাইবে তাদের মধ্য থেকে যগ্য একজনকে পছন্দ করতে হবে এবং তার আকর্ষনকে ধরে রাখতে হবে। আর অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা সবসময়ই কঠিন।
আপনি যদি পুতুল না হোন এবং নিজস্বতা ও স্বক্রিয়তায় বিশ্বাষ করেন অথবা নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে তা অধিকারে আনতে চান তবে............
তৃতীয়ত, আপনাকে স্বতন্ত্র হতে হবে পছন্দের মানুষটির পছন্দকে জানতে হবে, আপনি কি চান তা তার মতন করে তাকে জানাতে হবে।
তাহলে শুরু করে যাক...............
পজটিভলি আকর্ষনকে চীরস্থায়ী করতে হবে। আমরা রামধনু পছন্দ করি আবার চাঁদও, একটা একটু জাকজমক, সুন্দর এবং ক্ষনস্থায়ী আর একটা সহজ, সুন্দর এবং চীরস্থায়ী। এখানে চাঁদের মতন হওয়াটাই শ্রেও। এমন না যে একই চাদের আলো দেখতে দেখতে সবাই একঘেয়ে হয়ে গেছে, এই রুপালী আলো সবসময়ই সবাইকে টানে। পারিপার্স্বিক অবস্থা এবং বয়সকে প্রাধান্য দিয়ে ড্রেসড আপ হতে হবে। মনে রাখবেন খুব জাকজমক কিছু একটার পরে সিমপ্লিসিটি খুবই খারাপ লাগে। অর্থাৎ এমন যেন না হয় যে শপিং এ যেয়ে একজনকে চোখ ধাধিয়ে দিলেন আর নিজের ড্রয়িং রুমে চোখ বাকিয়ে দিলেন। তার মানে আবার এইনা যে, সিরিয়ালের মেয়েদের মতন নিজের ঘরেও পুতুল সেজে বসে থাকবেন। তার মানে এই যে, কোথাওই পুতুল সাজা যাবেনা। পোষাক অবশ্যই অন্যের রুচিতে পরতে হয় তারপরেও নিজের স্বাচ্ছন্দের এর একটা ব্যাপার আছে। এমন কিছু না পরাই ভাল যা নিয়ে আপনি সন্দিহান যা আপনার কনফিডেন্সকে কমিয়ে দেবে অথবা আপনাকে আড়ষ্ঠ এবং দ্বিধান্বিত করবে
.......................................
পছন্দের ব্যাপারে কিছু কমন জিনিষ আছে যেমন সব নারীই চায় তার পুরুষটি হবে নেতৃত্ব স্থানীয়, টাকা ওয়ালা এবং যত্নশীল।
সবই ঠিক আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বালিকার প্রেমের পদ্ম নিতে চারিদিকে ছলা-কলা ছল ছল করছে। যে যা নয় সে তাই হয়ে সামনে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। আপনাকে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যেমন,
আপনার পছন্দের ছেলেটিকে অবশ্যই সামাজিক হতে হবে, সমাজের অন্যন্যদের সাথে তার আচরন তার স্বভাব চরিত্রের সঠিক নির্দেশনা দেবে। অর্থাৎ সে আপনাকে কেমন ভাবে ট্রিট করে সেটার চেয়ে সে অন্যন্যদের কিভাবে দেখে, অন্যন্যদের সাথে তার কম্যুনিকেশন কেমন সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। অনেক ছেলেই আছে সম্পর্কের প্রথম বয়সে অনেক কেয়ারিং কিন্তু কিছুদিন পরেই তার ভেতরে একধরনের এ্যাপাথিনেস চলে আসে। এরা আসলে মৌলিকভাবে যত্নশিল না, শুধু মাত্র দেখানোর স্বার্থে কিছুদিনের জন্য এরা রুপ বদলায়। পরিকল্পিত আচরনের মাধ্যমে তার মৌলিকতা বের করে আনুন। তার খুব কাছের মানুষের সাথে তার আচরন খেয়াল করুন।
আপনার আর তার পছন্দ অপছন্দের ব্যপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ন, মিউসিক, মুভি, বই, ড্রেস, ইত্যাদি সম্পর্কের রুচিবোধ মানুষের মৌলিক রুচিবোধের প্রকাশক।
আপনাকে দেখতে হবে আপনার সঙ্গিটির লজ্জিত এবং অনুতপ্ত হওয়ার অনুভুতি কেমন। এইটা কখনই ঠিকনা যে লজ্জা শুধুমাত্র নারীর ভূষন, প্রত্যেকটা মানুষেরই নিজস্ব ব্যাক্তিত্বের কিছু রেস্ট্রিক্টেড এ্যরিয়া থাকে সেগুলো অতক্রম করে গেলে অথবা সম্ভাবনা থাকলে তার ভেতরে লজ্জা অথবা সংকোচ বোধ অনুভূত হওয়া স্বভাবিক। আপনি নিশ্চই ব্যহায়া টাইপের কাউকে গ্রহন করবেননা। ওভার কনফিডেন্ট অনেক সময় ছেলেদের নির্লজ্জ করে দেয়।
ভুল সবাই করে কিন্তু স্বিকার করে খুব কম। আপনার এমন একজনকে বেছে নিতে হবে যার ভেতরে ভুল স্বিকার করার মতন সাহস এবং স্বচ্ছতা আছে কারন কনফেশন মানেই হচ্ছে একই সাথে স্বিকারোক্তি এবং পুনরায় না করার অঙ্গীকার। সবার এমন সাহস থাকেনা।
কিছু ধরনের ছেলে আছে যাদের বলা হয় womanizer অথবা serial Dater. এদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। যদিও ASI (Asian statistics info) বলে প্রায় ৭৯% মেয়ে (যারা আদৌ সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত) এইসব ছেলেদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক, কারন যে আপনাকে প্রভাবিত করেছে সে ওই একই ম্যানার দিয়ে আপনার মতন আরো দুই-তিনটা মেয়েকে প্রভাবিত করতে পারবে।
সুতরাং, ওভার স্মার্ট, ওভার কনফিডেন্ট, ওভার হ্যান্ডসাম, ওভার ইটিসি (etc) হতে দূরে থাকুন।
রহস্যময়ী হিসেবে এদেশের মেয়েদের একটা সু/দু......নাম আছে। আসলে সকল মানুষই রহস্যময়ী। এখানে আসল ব্যপার হচ্ছে মেয়েরা সংকোচবোধের কারনে অনেক কিছু বলতে পারেনা এবং নিজেরাই একটা নির্দিষ্ট ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকে, সিদ্ধ্বান্তহীনতায় ভোগে। এই সংকোচবোধ ছেলেদের অনেক পছন্দ তাই তারা মেয়েদের রহস্যময়ী বানায় রহস্যময়ী হিসেবে দেখতে পছন্দ করে। সুতরাং ছেলেদের এই পছন্দকে প্রাধান্য দিন একটু অন্যভাবে। কখনই নিজেকে খোলা বই হিসেবে উপস্থাপন করবেননা। আপনি জানবেন আপনাকে কি করতে হবে কিন্তু তা জানাবেননা।
সম্পর্কের ব্যপারে মানষিক বন্ধনকে প্রাধান্য দিন। এদেশের অধিকাংশ মেয়েদের সমস্যা হচ্ছে তারা না জেনে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে দুই ধরনের সমস্যা হয় প্রথমত প্রতারিত হওয়ার সমস্যা, অর্থাৎ মধু খেয়ে মৌ-মাছি উধাও হয়ে যাওয়ার সম্ভাবন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাধ্যবাধকতা। অর্থাৎ শরীর নিয়ে একবার জড়িয়ে পড়লে মেয়েটির মধ্যে একধরনের ধারনা চলে আসে যে সম্পর্কিত ছেলেটি ছাড়া তার আর কোন গতি নেই। সে ক্ষেত্রে ছেলেটি ভাল হলে সম্পর্কটিকে নাকচ করেনা কিন্তু সমস্যা হয় মানষিকতায়। মানষিকতায় মিল না থাকলেও শুধুমাত্র বাধ্য-বাধকতার কারনে সম্পর্কটি ঝুলে থাকে যা পরে মারাত্বক ক্ষতির কারন হতে পারে। সুতরাং পানিতে নামলে জেনে-শুনে আধ-ঘাট বেধে নামুন নাহলে নিজেকে জলাতাঙ্ক রোগির মতন ভাবুন।
সব শেষে আপনার সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে যেটা করা উচিৎ সেটা হচ্ছে কোন তৃতীয় পক্ষের অস্তিত্ব না রাখা। তৃতীয়পক্ষ বলতে বিশেষভাবে বান্ধবীদের বোঝানো হচ্ছে। তৃতীয়পক্ষ থাকাতে কিছু সুবিধা আছে কিন্তু তা সত্বেও অসুবিধাই বেশি। ব্যাখ্যা করে আর পোষ্টের লেজ লম্বা করলাম না।
লেখাটা মৌলিক, যে কোন ধরনের আলোচনা সমালোচনার জন্য অগ্রিম শুভেচ্ছা।










সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×