এই দেশ আমার , মাটি আমার................

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে ১০ বছরের রোডম্যাপ ব্যয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২০

শেয়ারঃ
0 0 0

উন্নত যোগাযোগ তথা উন্নত জীবনযাত্রায় আইসিটির (ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বজুড়েই উল্লিখিত খাতে মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। এদিকে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ উন্নয়নে সরকারিভাবে ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় আইসিটি রোডম্যাপ বা এ্যাকশন প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব বিষয় মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রচার/সম্প্রচার হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক সেমিনারে বলা হয়েছে, বিশ্ব আইসিটি খাতে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের দেশ বিধায় সেই গতিতে এগুতে না পারলেও অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এর সম্পৃক্ততা বা ব্যবহাকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আইসিটি খাত এমন এক মাধ্যম যার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন উন্নত কার্যক্রম যেমন ব্যবসা, যোগাযোগ ইত্যাদি অত্যন্ত ভালভাবে সম্পন্ন করা যায়। বাংলাদেশে আইসিটি খাতে গণমানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা গেছে যে, চলতি ২০০৮ সালে সারা বিশ্বে এ সংক্রান্ত নতুন কার্যক্রম শুরু হয় প্রায় চার হাজার। অনেক দেশকেই এর আওতায় আনা হয়েছে যাতে করে এর পারস্পরিক বা আন্ত:দেশীয় সম্পৃক্ততা বাড়ে। এর ফলে মানুষের অংশগ্রহণ সহজ ও আধুনিক হবে। ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন টেকনোলজি সূত্রে জানা যায় ২০০৭ সালে বিশ্বে আইসিটিতে মানুষের সম্পৃক্ততা এর আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। আর ২০০৮ সালে ছাড়িয়ে যাবে ২০০৭ সালের রেকর্ড। এসব কাজ সম্পন্ন হচ্ছে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। জাতীয় আইসিটি রোডম্যাপে বিশ্বে আইটি সার্ভিস, ডিজিটাল বৈষম্য, সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য ও আইটি নিরাপত্তা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়েও ব্যাপক আলাপ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ডিজিটাল বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রাপ্তিতেও ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। গুরুত্ব অনুযায়ী এর কমবেশি ব্যবহার রয়েছে। বলা যেতে পারে আফিন্সকায় ইন্টারনেট ব্যবহার এখনো সবচেয়ে কম। তারপরেও বলা যেতে পারে, এতে আফিন্সকানদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। যেমন ২০০৫ সালে এতে সেখানকার গণমানুষের সম্পৃক্ততার হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, আর বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। আশা করা হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে এতে তাদের সম্পৃক্ততা আরো অনেক বাড়বে। কেননা তাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই আধুনিক হচ্ছে। আমেরিকা, ওশেনিয়া, ইউরোপ প্রভৃতি অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রচলন অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি ঘরেই কম্পিউটার রয়েছে। আর ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে ঘরে ঘরে। কারণ তারা দেখছে এর নানাবিধ সুবিধা রয়েছে, যা অর্থনৈতিকভাবেও অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সবচেয়ে বেশি ব্রডব্যান্ড কানেকশন রয়েছে ইউরোপের। এর পরিমাণ প্রায় ১১০ বিলিয়ন। আর সবচেয়ে কম পায় আফিন্সকা মাত্র ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন গ্রাহক। এদিকে এশিয়ায় ১২৭ মিলিয়ন, ও কেনিয়াতে ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে। তবে হাইস্পীড ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার হয় তুর্কি, চিলি ও সেনেগালে। ইন্টারনেট ও এ সম্পর্কিত সেবা নেয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।
মরক্কো ডিজিটাল বৈষম্য রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্খা গ্রহণ করেছে। দেশটিতে জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেশন এজেন্সি এর সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রজেক্টর হাতে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা গ্রামের দিকেও দৃষ্টি দিয়েছে। তারা মনে করে এর সম্পৃক্ততা বাড়াতে হলে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ জরুরি প্রয়োজন। আগামী ২০১১ সালের মধ্যে ৯ হাজার গ্রামে আইসিটি সুবিধা প্রদান করা হবে। তাতে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় দুই মিলিয়ন।
বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত রোডম্যাপে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা যাতে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া যায় সেজন্য এর বিকেন্দ্রীকরণের বিশেষ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উক্ত আইসিটি রোডম্যাপে ১০ বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। রোডম্যাপে ই-বিজনেস, ই-ডেমোক্রেসী, ই-ফাইন্যান্স, ই-সিটিজেন, ই-এসএমই, ই-হেলথ, ই-কালচার, ই-এগ্রিকালচার, ই-এডুকেশন, ই-ডিজাস্টার এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ইত্যাদির ওপরও বিশেষ জোর দেয়া হয়। এসবের সম্মিলিত অন্তর্ভুক্তি উক্ত খাতকে অনেক উন্নত ও সহজ করবে। এ সবের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, টেলিকম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট, এপ্লিকেশন্স ইত্যাদির ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য দক্ষ জনশক্তির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় এ সংক্রান্ত এক সেমিনারে।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, সম্প্রতি যে আইসিটি রোডম্যাপ হাতে নেয়া হয়েছে তা আরো অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। আমাদের আরো এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। অনেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমন স্বত:স্ফূর্তভাবে অনুভব করছেন না। হাইটেক পার্কের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। এর গতি এখনো সেই তিমিরেই। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রীতা অবশ্যই পরিহার করতে হবে। না হলে স্বপ্ন কেবল স্বপ্নেই থেকে যাবে, বাস্তবে আর রূপ নিবে না।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৪. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
প্রশাসন বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ।
৫. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৪
প্রশাসন বলেছেন: ভাই রোডম্যাপ সফল। ......................নির্বাচন সফল- ০৮।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৯৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সুস্থ মনের সকল ব্লগারদের এই ব্লগে স্বাগতম । লেখার উপর কোন বাজে মন্তব্য গ্রহনীয় নয়। আশকরি সকলেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই