somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কাউকে সম্মান করতে পারিনা সে আমার দীনতাঃ তাই বলে তাকে অসম্মান করি কোন অধিকারে

০৭ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিজ্ঞজনেরা বলেন, যে দেশে গুণীদের মর্যাদা দেওয়া হয়না, সে দেশে গুণীদের জন্ম হয়না। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টির সকল জীবের মাঝে একমাত্র মানুষেরই আছে ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা। মানুষ স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার অধিকারী। সকলেরই রয়েছে নিজস্ব মত প্রকাশ করার অধিকার। বলার অধিকার লেখার অধিকার। স্বাধীনতার মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি বলতে পারি বলে যা ইচ্ছা তাই বলবো, যা ইচ্ছা তাই লিখবো এর নাম স্বাধীনতা নয়। মানুষ একদিকে যেমন সামাজিক জীব তেমনি কোননা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি রয়েছে তার সমর্থন।

তাই তার কথায় বা লেখায় সে দলের প্রতি একটা নিবিড় সম্পর্কের প্রকাশ ঘটতেই পারে। এতে তাকে দোষ দেয়া যাবেনা তাই বলে অন্যের মতকে গাঁয়ের জোরে অগ্রাহ্য করবে সেটাও মেনে নেওয়া যায়না। নিজের দলের কর্মকান্ডকে সমর্থন করার পক্ষে যেমন থাকতে হবে জোরালো যুক্তি তেমনি বিপক্ষ দলের কর্মকান্ডযে অযৌক্তিক বা ভুল তাও তুলে ধরতে হবে কথায় বা লেখনির মাধ্যমে। অতিরিক্ত বা অতিরঞ্চিত কোন কিছু্ই মঙ্গল বয়ে আনতে পারেনা। অনেকের অতি উৎসাহী বা অতি ভক্তির কারণে অনেক বিশিষ্টজনদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে।

অতি সম্প্রতি কিছু নেতিবাচক ঘটনা আমাদের জাতিকে অনেক অসম্মানিত করার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের গর্ব যে আমাদের মাতৃভাষা আজ বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিয়েছে। সারা বিশ্ব আমাদের সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের মহান নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নির্দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, যুদ্ধে করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর নির্দেশে। মাত্র নয় মাসে ছিনিয়ে এনেছেন এ দেশের স্বাধীনতা। সেই সকল অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা স্মরণ করি স্বশ্রদ্ধ চিত্তে।

এই সকল মহান নেতারা অনেকেই চির বিদায় নিয়েছেন এই ধরণী থেকে। তাঁরা সকল কিছুর উর্ধ্বে। তাঁদের অসম্মান করে কথা বলা বা কটাক্ষ করায় তাঁদের কিছুই আসবে যাবেনা। বরং তাঁদের সম্মান জানাতে পারলে আমরা গর্বিত হবো। যদি তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান জানাতে নাই পারি সেটা আমাদের দীনতা, জাতির দূর্ভাগ্য। কারণ সম্মানিত জনকে সম্মান জানাতে না পারলে এদেশে সম্মানিত ব্যাক্তির জন্ম হবেনা।

আমাদের বর্তমান জীবন্ত কিংবদন্তী ড.মোহাম্মদ ইউনুস। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের একজন মানুষ নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়ে আমাদেরকে করেছে গর্বিত।নতুন করে পরিচয় করেদিয়েছেন বিশ্বে বাঙালীদের। আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এই ক্রিকেটের কল্যাণে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টাইগারদের পরাজয়ের লজ্জাকেও ছাড়িয়ে গেলো অতিউৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল জনতার আচরণ। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে টাইগারদের জয়ের পর যারা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে ছিলো তারাই করলো জুতোর মিছিল। ঢিল ছুড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাসে। দীর্ঘ পরিশ্রমে তিলে তিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিলো তা ব্যার্থ নিরাপত্তা ও বেপরোয়া দর্শকের নির্বুদ্ধিতায় একদিনেই ধুলিস্মাৎ হলো।

এত গর্ব করার মতো অর্জন আমাদের তবু কেন আমরা হীনমন্যতায় ভুগি? কেন আমরা সামান্য ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পারিনা সকলের মঙ্গল কামনা করতে? মানুষ ফেরেসতা নয়। ভুলত্রুটি নিয়েই মানুষ। কাজ যে করে তারই ভুল থাকে। কাজ না করা মানুষের ভুল নাই। সুতরাং ভুল করলেও সেই উৎকৃষ্ট যে কাজ করে। কাজ না করায় কোন গৌরব নেই। সুতরাং কাজ করা মানুষের ভুলটাকে ভুলে তাঁর ভালো করা কাজটিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলে তাঁর গৌরবে আমরা গৌরাবান্বিত হবো। যদি তাও না পারি আমাদের দীনতার জন্য তবে তাঁদের অপমান করার ধৃষ্ঠতা যেন আমাদের মাঝে উদয় নাহয় কোন দিন এই প্রত্যাশা হোক আমাদের সকলের।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১০:০৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×