বিজ্ঞজনেরা বলেন, যে দেশে গুণীদের মর্যাদা দেওয়া হয়না, সে দেশে গুণীদের জন্ম হয়না। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টির সকল জীবের মাঝে একমাত্র মানুষেরই আছে ন্যায় অন্যায়, ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা। মানুষ স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার অধিকারী। সকলেরই রয়েছে নিজস্ব মত প্রকাশ করার অধিকার। বলার অধিকার লেখার অধিকার। স্বাধীনতার মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি বলতে পারি বলে যা ইচ্ছা তাই বলবো, যা ইচ্ছা তাই লিখবো এর নাম স্বাধীনতা নয়। মানুষ একদিকে যেমন সামাজিক জীব তেমনি কোননা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি রয়েছে তার সমর্থন।
তাই তার কথায় বা লেখায় সে দলের প্রতি একটা নিবিড় সম্পর্কের প্রকাশ ঘটতেই পারে। এতে তাকে দোষ দেয়া যাবেনা তাই বলে অন্যের মতকে গাঁয়ের জোরে অগ্রাহ্য করবে সেটাও মেনে নেওয়া যায়না। নিজের দলের কর্মকান্ডকে সমর্থন করার পক্ষে যেমন থাকতে হবে জোরালো যুক্তি তেমনি বিপক্ষ দলের কর্মকান্ডযে অযৌক্তিক বা ভুল তাও তুলে ধরতে হবে কথায় বা লেখনির মাধ্যমে। অতিরিক্ত বা অতিরঞ্চিত কোন কিছু্ই মঙ্গল বয়ে আনতে পারেনা। অনেকের অতি উৎসাহী বা অতি ভক্তির কারণে অনেক বিশিষ্টজনদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে।
অতি সম্প্রতি কিছু নেতিবাচক ঘটনা আমাদের জাতিকে অনেক অসম্মানিত করার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের গর্ব যে আমাদের মাতৃভাষা আজ বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিয়েছে। সারা বিশ্ব আমাদের সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের মহান নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নির্দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, যুদ্ধে করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর নির্দেশে। মাত্র নয় মাসে ছিনিয়ে এনেছেন এ দেশের স্বাধীনতা। সেই সকল অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা স্মরণ করি স্বশ্রদ্ধ চিত্তে।
এই সকল মহান নেতারা অনেকেই চির বিদায় নিয়েছেন এই ধরণী থেকে। তাঁরা সকল কিছুর উর্ধ্বে। তাঁদের অসম্মান করে কথা বলা বা কটাক্ষ করায় তাঁদের কিছুই আসবে যাবেনা। বরং তাঁদের সম্মান জানাতে পারলে আমরা গর্বিত হবো। যদি তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান জানাতে নাই পারি সেটা আমাদের দীনতা, জাতির দূর্ভাগ্য। কারণ সম্মানিত জনকে সম্মান জানাতে না পারলে এদেশে সম্মানিত ব্যাক্তির জন্ম হবেনা।
আমাদের বর্তমান জীবন্ত কিংবদন্তী ড.মোহাম্মদ ইউনুস। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের একজন মানুষ নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়ে আমাদেরকে করেছে গর্বিত।নতুন করে পরিচয় করেদিয়েছেন বিশ্বে বাঙালীদের। আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এই ক্রিকেটের কল্যাণে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টাইগারদের পরাজয়ের লজ্জাকেও ছাড়িয়ে গেলো অতিউৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল জনতার আচরণ। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে টাইগারদের জয়ের পর যারা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে ছিলো তারাই করলো জুতোর মিছিল। ঢিল ছুড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাসে। দীর্ঘ পরিশ্রমে তিলে তিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিলো তা ব্যার্থ নিরাপত্তা ও বেপরোয়া দর্শকের নির্বুদ্ধিতায় একদিনেই ধুলিস্মাৎ হলো।
এত গর্ব করার মতো অর্জন আমাদের তবু কেন আমরা হীনমন্যতায় ভুগি? কেন আমরা সামান্য ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পারিনা সকলের মঙ্গল কামনা করতে? মানুষ ফেরেসতা নয়। ভুলত্রুটি নিয়েই মানুষ। কাজ যে করে তারই ভুল থাকে। কাজ না করা মানুষের ভুল নাই। সুতরাং ভুল করলেও সেই উৎকৃষ্ট যে কাজ করে। কাজ না করায় কোন গৌরব নেই। সুতরাং কাজ করা মানুষের ভুলটাকে ভুলে তাঁর ভালো করা কাজটিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলে তাঁর গৌরবে আমরা গৌরাবান্বিত হবো। যদি তাও না পারি আমাদের দীনতার জন্য তবে তাঁদের অপমান করার ধৃষ্ঠতা যেন আমাদের মাঝে উদয় নাহয় কোন দিন এই প্রত্যাশা হোক আমাদের সকলের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

