র্যাবের ক্রশফায়ারে কলেজ ছাত্র লিমনের আহত হওয়ার ঘটনায় আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে র্যাব। গত ২৩ মার্চ র্যাব বরিশাল,ঝালকাঠির জমাদ্দারহাট থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিমনকে ধরে পায়ে গুলি করে। পরে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। ঘটনার পর লিমনকে সন্ত্রাসী বলে দাবি করা হলেও সংস্থানটির মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেছেন,
"ঝালকাঠিতে র্যবের গুলিতে আহত লিমন সন্ত্রাসী নয়, এখনো পর্যন্ত লিমনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সে ঘটনার শিকার। সন্ত্রাসী ও র্যবের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় সে আহত হয়েছে। তিনি জানান ৯০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোর্শেদ জমাদ্দারকে ধরতে গেলে তার বাহিনী র্যবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। ওই সময় র্যাব পাল্টা গুলি করলে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে জানা যায় সে-ই লিমন। তাকে তাৎক্ষণিক ঝালকাঠিতে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করা হয়নি।" তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে র্যবের কেউ জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল সকালে নববর্ষের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে র্যব সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
http://www.youtube.com/watch?v=GlK4dPobOxU
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে লিমনকে কেউ গুলি করেনি। তবে তদন্তে কারো বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মোখলেছুর রহমান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় এমন কোন কাজ করছে না র্যব।
লিমন আহত হওয়ার পর র্যব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সদর দফতর থেকে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করবে র্যাব(!) সে তদন্ত কতটুকু নিরপেক্ষ হবে সে বিষয়ে
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, " ওই বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর আমার আস্থা আছে। আমি আশা করি, তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন। তাঁরা সত্য উদঘাটন করতে পারবেন"।
এদিকে লিমনের মা আদালতে মামলা দায়েরের পর ২৪ ঘন্টা পার হলেও রাজাপুর থানায় তা রেকর্ড হয়নি। গত রবিবার আদালত থেকে প্রেরিত লিমনের মায়ের অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য সন্ধ্যায় রাজাপুর থানায় পৌঁছে দেয়ার পর সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা রেকর্ড করা হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে থানা থেকে জানানো হয়। অপরদিকে লিমনের মাকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে অজ্ঞাতরা। কখনো মানবাধিকার সংস্থার লোক পরিচয় দিয়ে, কখনো নাম পরিচয় গোপন রেখে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে লিমনের ভাই সুমন জানান। লিমনের পরিবার ও নিকট আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোন ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে না র্যাব। সাক্ষীও পাচ্ছে না। তাই এলাকার টপটেরর মিজান-মোর্শেদের আত্মীয় এবং সহযোগীদের দিয়ে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এদিকে গত রবিবার রাজধানীর আশকোনা মোড়ে অবস্থিত হোটেল সেতু ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে ৭ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। রুমি সুনামগঞ্জের শাহীপুর থানার ব্রাহ্মণ গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশারের মেয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সুনামগঞ্জ থেকে রুমিকে অপহরণ করা হয়েছিল।
হোটেল সেতুর তথ্যমতে গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় ছোট বোন পরিচয়ে রাইয়ান নামে এক যুবক রুমিকে নিয়ে হোটেল সেতু ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলার ৫১ নম্বর কক্ষে ওঠে। রাতের যে কোন সময়ে শিশুটির উপর পাশবিক নির্যাতনসহ ধর্ষণ করে। পরে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাইয়ান। সকালে রাইয়ান হোটেল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা রুমিকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের পঙ্গুত্ব, র্যাবের আত্মপক্ষ সমর্থন,লিমনের পরিবারকে হুমকি এবং রুমির মৃত্যু সবকিছুই ধর্ষণ করছে মানবতাকে প্রতি মুহুর্তে প্রতি পলে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে রুখে দাড়াবার সময় এখনই
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


