মাত্র ১১ দিনের মাথায় পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে করতে বাধ্য হলো ভারত। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে গিয়ে বিপাকে পরে ভারত। বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলতে ভারতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও গত ৯ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে ২৪/২৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় কিনতে বাধ্য হয় বাংলাদেশের ভোক্তারা।
অন্যদিকে ভারতে পেঁয়াজের দাম হ্রাস পায় দ্রুত গতিতে। যা ভারতের জন্য বৃমেরাং হয়ে দেখা দেয়। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পরপরই প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ১ হাজার রুপি থেকে হ্রাস পেয়ে ৪০০ রুপিতে নেমে আসে। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করে মহারাষ্ট্রের কৃষকরা। তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার আহ্বান জানান। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানায় সেই দেশটির সরকার। অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির নেতৃত্বে বিশেষ ক্ষমাতাপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের একটা অংশের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত পিঁয়াজের ফলন ভালো হয়নি এ অজুহাতে গত ৮ সেপ্টেম্বর পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। পরে প্রতিটনে ১৭৫ ডলার দাম বাড়িয়ে পূর্বের এলসি করা পিঁয়াজ আমদানি করতে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের অনুমতি দেয়। পূর্বের এলসি দর ছিল প্রতি টন ৩শ মার্কিন ডলার।
এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর হিলি বন্দরে আবার সরব হযে উঠেছে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। তারা আশা করছেন দু একদিনের মধ্যেই আবারও ভারতীয় পেঁয়াজের চালান ঢুকতে শুরু করবে বাংলাদেশে ফলশ্রুতিতে দামও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
ভারত সরকার এই প্রতিহিংসার মানসিকতা থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে পারস্পকির সম্পর্কের উন্নতি হবে না যা কোন দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
সামনে ঈদুল আজহা। এই ঈদে মশলার ব্যাপক চাহিদা থাকে। তাই এখন থেকেই চাহিদা মতো মশলার সরবরাহ ও মজুদসহ ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানীর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে হঠাত্ করে হটকারী সিদ্ধান্তে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশকে বেকায়দায় পড়তে না হয়। এজন্য ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার, চীন ও তুরস্ক থেকে পিঁয়াজ আমদানি করার বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের বাজার পর্যালোচনা করে পিঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া জরুরী। এক্ষেত্রে মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানীর বিষয়টিই প্রধান্য দেওয়া যেতে পারে। কেননা, পিঁয়াজ কাঁচাপণ্য হওয়ায় বেশি দূরত্বের দেশ থেকে আমদানি করলে পচে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানি করলে ভারতের মতো দাম ও সময়ের ক্ষেত্রে সমান সুবিধা পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


