গতকাল দেশের শির্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় সিঙ্গল কলামে " শেয়ারবাজার বাঁচাতে ব্যাংক তহবিল, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্র আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের" শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। নেতিবাচক এই খবরের প্রেক্ষিতে শেয়ার বাজারে নতুন করে ধ্বস নামে। বিগত ১১ মাস যাবত পুঁজিবাজারের সীমাহীন ধ্বস ঠেকাতে এবং পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে ‘বিশেষ তহবিল গঠন’ প্রক্রিয়া শুরু হয় তখনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আর বিশ্বব্যাংক বলেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে বাজার বাড়ানোর চেষ্টা এবং বিশেষ তহবিল গঠন দায় আরও বাড়াবে। এতে ব্যক্তি খাতের ঋণের পরিমাণও কমবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ‘বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল (এমএসএফ)’ নামে যে তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ।
আইএমএফ বলছে, শেয়ারবাজার এখনো অস্থিতিশীল। শেয়ারের বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। এই অবস্থায় নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাই ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী’ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারের উদ্ধারক বলে মত দিচ্ছেন। কিন্তু এটি তাঁদের সঠিক ভূমিকা নয়। ব্যাংকগুলো এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে। এই অবস্থায় তারা যদি বিনিয়োগ আরও বাড়ায়, তাহলে তা ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
আইএমএফ আরও বলেছে, ‘আমরা শুনেছি, বেশ কিছু মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আছেন, যাঁদের পুঁজিবাজার বিষয়ে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।’
বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলছে, নীতি-অনিশ্চয়তা ও এসইসি পুনর্গঠনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার শেয়ারবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় গত জুলাই মাসে বাজার বেশ চাঙা ছিল। এক মাসে সূচক ১৮ শতাংশ এবং লেনদেন ৪৭০ শতাংশ বেড়েছিল, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি।
এদিকে প্রস্তাবিত এমএসএফ সম্পর্কে আইএমএফ বলেছে, এই তহবিলের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়ে যাবে। ব্যাংক এবং মার্চেন্ট ব্যাংক উভয়কেই এই তহবিলের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’-এর ইউনিট কেনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তার বিনিয়োগ-সীমা বাড়িয়েছে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সংস্থা দুটি রঋ্ণদানকারী প্রতিষ্ঠান, কোন দাতা সংস্থা নয়। তারা ঋণ দেয় ও সুদ নেয়। তারা কেন আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করে আমাদের দেশকে বা দেশের পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলে আর তাদের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে তা আমাদের দেশের অস্থিতিশীল পুঁজিবাজরকে আরও অস্থিতিশীল করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাটি অবিবেচকের মতো সেই খবর প্রকাশ করে। কার স্বার্থে তাদের এই নীতিবহির্ভূত সংবাদ পরিবশনা ? এই নেতিবাচক খবরের কারণে আজ শেয়ার বাজারের এই ধ্বসের কারণে সে সকল ক্ষুদ্র বিনোয়োগকারী সর্বসান্ত হলেন তার দ্বায় ভার কার? আমরা এই গর্হিত কাজের জন্য প্রথম আলোর সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

