আমার প্রিয় পোস্ট

পড়,জান,জানাও

ফেলুদার গ্যাংটকে আমি(ঢাকা-গ্যাংটক)

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৪১

শেয়ার করুন:                   Facebook

ছোটকাল থেকেই ফেলুদা ছিল আমার ফ্যন্টাসী হিরো।যখনই ফেলুদার কনো বই পড়তাম ঢুকে যেতাম তার পভুমিতে।তাই যখন পড়েছিলাম "গ্যাংটকে গন্ডগোল" তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল গ্যাংটক যাবার।
গ্যাংটক হলো ভারতের সিক্কিম প্রদেশের রাজধানী।

আমরা কয়েকজন বন্ধু কয়েকদিন পর পর ই অতিষ্ট হয়ে পরি ঢাকার এক ঘেয়েমীতে। তাই এইবার প্রস্তাবটা তুলল বাপ্পী বলল "চল গ্যাংটক যাই"
এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম। শুরু হলো আমাদের গ্যাংটক যাবার প্রস্তুতি।

খোজ নিয়ে জানলাম গ্যাংটক যেতে হলে অনুমতি লাগে ভারত সরকারের কিন্ত অনুমতি দেয়না বরং ভিসাও দিবে না গ্যাংটক যাবো শুনলে তাই ভিসা তে বললাম দার্জিলিং যাবো। ভিসা পেতে কনো অসুবিধাই হয় নাই।
টিকেট কাটলাম ২২/১২/০৭ তারিখের (রমজান ঈদের পরের দিন) সময় রাত ৮:৩০। টিকেট কাটলাম শ্যমলী পরিবহনে যাওয়া আসা ১৮০০ টাকা।

তারিখ ২২/১২/০৭ সময় ৮:৪৫

সবাই উঠলাম বাসে যার যার সিটে। আমরা ১০ জন আমি,আমার বউ ডোনা,টনি,টনির বউ,বাপ্পী,সবুজ,দীপু,সুমি,বল্টু,নিলয়।সারারাত গেল ঘুমে ঘুমে সকাল ৬:০০ পৌছালাম চেংড়াবান্দা বর্ডারে কিন্তু বর্ডার খুলবে ৯:০০ তাই বাসে ঝিমালাম ৮:০০ পর্যন্ত ।তারপর বাস থেকে নেমে নাস্তা করলাম "বুড়ির হোটেলে" পরোটা আর ডিম ভাজি।এবার লাইনে দাড়াবার পালা। লাইনে দাড়িয়ে থেকে অনেকক্ষন পর পাড় হলাম আমরা একে একে ।
এবার অপেক্ষার পালা ভারত কাস্টমস এ।প্রায় ২ ঘন্টার পর ছাড়া পেলাম ওখান থেকে।শ্যামলী কাউন্টার থেকেই ডলাড় ভেংগে রপী করলাম।
সেখান থেকে বাসে এবার রউনা হলাম উদ্দেশ্য শিলিগুরি।পরিকল্পনা ৫টার মধ্যে পৌছাতে পারলে সোজা গ্যাংটক কিন্ত "কপালের নাম গোপাল"। পৌছালাম ৬:০০ টায়।আর কি থাকটে হবে শিলিগুরি "সেন্ট্রাল প্লাজা " হোটেল আমি আর দিপু প্ল্যান করলাম সিনেমা দেখব আর আমাদের সাথে যেতে রাজী হল বাপ্পী,সুমি ,নিলয় আর আমার বউ ডোনা
হোটেলের রুমে ব্যাগ রেখে আর একটু ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে গেলাম সিনেমা দেখার উদ্দেশ্যে।পথে পেলাম পানিপুরি ভাইরে ফুসকার ভিতরে ঝাল-টক- পানি মানে ভীষন ঝাল।কিন্তু খিদে গেলনা পেলাম একটা ধাবা মানে আমাদের দেশে চাপ বিক্রি করে ঐরকম একটি ঠেলা। এরই মধ্যে বাপ্পআর দিপু বলল তোরা কা আমরা আসতেসি আমি বুঝলাম মামারা যাইব জায়গা মত মানে "বারে"।
ধাবা তে খেলাম চৌমিন আর ডিম রোল।আমাদের খাওয়া শেষ হবার ১০মিনিট পর দেখি মামারা আসতেসে ওদের হাটার স্টাইল দেখেই বুঝলাম মালটা মনে হ্য় ঝাক্কাস ছিলো আর মনে মনে নিকজে কে গালি দিতে লাগালম শালা বউ নিয়া কেউ ট্যুরে আসে ?

ঢুকলাম সিনেমা হলে মুভির নাম "ওয়েলকাম" দম ফাটানো হাসির মুভি।আর আমার এক পাশে ছিল দীপু শালা এমনিতেই মাল খাওয়া তার উপর আবার হাসির মুভি ব্যাস শালার হাসি আর থামেইনা।

মুভি শেষ হলো কিন্তু আমার আফসোস তখনও শেষ হয় নাই তাই বাকি দের হোটেলে দিয়ে আমি আর দীপু গেলাম বারে শালা সব বার বন্ধ শেষে একটা খোলা পেলাম ।ঢুকে তারাতারি অর্ডার করলা বিয়ার আর জিংক এর তিন পেগ ঝড়ের বেগে পান করার পর বের হয়ে আসলাম বার থেকে।পথে ঘটল এক বিপদ, কোথেকে এক পাগলা কুকুর দিল তাড়া কনোমতে জান হাতে নিয়ে পৌছালাম হোটেলে। খেলাম ভাত,মুরগী,ডাল আর বউয়ের ঝারী।খেয়ে দেয়ে দিলাম ঘুম।

২৪/১২/০৭ সময় ৬:০০

ভোরে ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ নিয়ে হোটেলের নীচে নেমে দেখি সবাইএকটি ৪ হুইল জীপ এ চরে রেডি গন্তব্য গ্যাংটক ।

শিলিগুরি থেকে গ্যাংটক যেতে লাগবে ৩ ঘন্টা। আর গাড়িতে নিজদের নাম ঠিক করলাম আমার নাম দিলাম জয়ন্ত চৌধুরী আর আমার বউয়ের নাম ডোনা চৌধুরী আর নিজেডের পরিচয় দিবো আমরা কলকাতা বাঙ্গালী বলে ।
রাষ্তার মাঝে আমরা নাস্তার জন্য এক হোটেলে থামলাম খেলাম মোমো এক রকমের পেয়াজু।

গ্যাংটক প্রবেশ পথ ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগলো । গাড়ী থামলো চেকপোস্টে এক সৈনিক বলল "আপকা কোয়ি আইডেনটিটয় কার্ড হেই।"
টনি উত্তড় দিল "নাহি ভাইসাব হাম সাব কলকাতটা সে আয়ে হে"


সৈনিক এবার পিছনের সীটে বল্টুর দিকে তাকিয়ে বলল "তুমহারে পাস?"
ও ঘাবরে গিয়ে বলল"বাসামে" আর সৈনিক বুঝলো "পাসমে"

সৈনিক এবার বলল "তো দিখাও"
এইবার আমরা তারাতারি বললাম পাসমে নাহি ঘারমে"

সৈনিক এবার বলে উঠল "কলকাতাসে ইয়া বাংলাদেশ সে আয়ে হো
"।
আমার তখন মাথায় বাজ মনে হল এখনই ফেরত পাঠায় দিবে ।

কিণ্তু কি মনে করে জানি ছেড়ে দিলো। হাফ ছেরে বাচলাম আর বল্টুর উপর চলল ঝারি বর্ষন।শেষে বল্টু বলতে বাধ্য হল যে,
"আমারে কেউ কিসু জিগ্গাস করলে কমু" "ম্যায় গুংগা হু"।


আমরা পৌছালাম গ্যাংটক । পাহাড়ের ঢালে গড়া স্বপ্নের শহর। পাহাড়ের উচা নিচু আকা বাকা পথ দিয়ে গাড়ী ছুটছে আমাদের হোটেল "গোল্ডেন প্যাগোডা" এর দিকে। শহরের একপাস ঘেসে আছে "হিমালয়" মনে হচ্ছে পাহাড়া দিচ্ছে গ্যাংটককে।

হোটেলে ব্যাগ রেখে ছুটলাম জীপের খোজে , যেতে হবে "সাংগু লেক"
১২০০ ফুট উপরের লেক শীতে পুরাটা বরফে ঢাকা আর গরমে পানিতে পরীপুর্ন।ওখান থেকে যাব "বাবা মন্দির।"


চলবে............................

পরের পর্ব
ফেলুদার গ্যাংটকে আমি(গ্যাংটক দর্শন)




 

 

  • ২৫ টি মন্তব্য
  • ৪১৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৪৭
comment by: ময়ুরবাহন বলেছেন: যে দেশকে আপনি এত ঘৃনা করেন শেষ পর্যন্ত সেই ভারতে বেড়াতে এলেন? আপনার প্রিয় দেশ পাকিস্তানেও যেতে পারতেন।
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য।

২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫২
comment by: ইয়।সিন কবির বলেছেন: আমি ভারত কে ঘৃনা করিনা যারা আমাদের দেশের লোক হয়ে অথবা যারা আমার দেশের অপপ্রচার চালায় তাদের ঘৃনা করি।সে যে দেশের ই হোক।
৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫৯
comment by: মুহিব বলেছেন: ইচ্ছা আছে গ্যাংটক যাবার।

চলতে থাকুক দ্রুত
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
এর পরে ছবি সহ বর্ণনা দিব প্রত্যেক জায়গার।

৪. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩
comment by: ফেলুদা বলেছেন: :)
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: গরীবের বাড়িতএ হাতীর পা।

৫. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৪
comment by: ইয়।সিন কবির বলেছেন: আরে ফেলুদা আপনে এইখানে!
৬. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮
comment by: কোবরেজ বলেছেন:
ওখান থেকে যাব "বাবা মন্দির।"
------------
সারা দিন ইসলাম ইসলাম করেন
আর মন্দির দেখার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে তা বলেন?
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১

লেখক বলেছেন: ভাই মন্দিরের ভিতরে আমি ঢুকি নাই। ঐখানে একটা মার্কেট ছিল তাই গিয়ে ছিলাম।আর ঐখান থেকে মেঘ খুব খাছে মোনে হয়।অপেক্ষায় থাকুন ছবি সহ লিখব , তখন বুঝতে পারবেন।

৭. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১
comment by: কৌশিক বলেছেন: বিনে পয়সায় গ্যাংটক ঘোরা হয়ে যাচ্ছে আপনার লেখা পড়ে। অনেক অনেক ভাল লাগলো।
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কৌশিক ভাই আরও মজার আর ভয়ং কর কিছু ঘটনা আছে ।
ধীরে ধীরে লিখব।

৮. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
comment by: মাইনুল বলেছেন: খুব ভাল লেগেছে। +++
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাইনুল ভাই

৯. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: গ্যাংটকে বেড়ানোর ইচ্ছে আছে, আপনার ভ্রমন কাহিনী পড়ে হোমোওয়ার্কটা হয়ে যাচ্ছে।
আরেটু বিস্তারিত লিখুন দয়া করে। খুব তাড়াতারি হয়ে যাচ্ছে !
১০. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: ভাল লাগলো। চালায়া যান।
পরের পর্বগুলো পরার ইচ্ছা রইলো।

ওয়েলকাম সিনেমাটা আমারও খুব ভাল লেগেছে। স্রেফ হাসতে হাসতে সিনেমা শেষ।
১১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: মন্দিরে ঢুকেননাই ভাল করছেন। আপনার ইমান খুব দুর্বল, তাই মন্দিরে ঢুকলেই ইমান চলে যাইত!

মহামানব গোআ বলেছেন দুর্র্বল ইমান নিয়ে মন্দিরে ঢুকতে নেই।
--------------হাদিস আল গোলমাল আজম!
০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: ভাই আমার ঈমান শক্ত কি নরম তা একমাত্র আল্লাহ পাক জানেন।
আমার যুক্তি হল যারা আমার সৃষ্টিকর্তা কে মানেনা, তাদের কনো বিষয়ে আমার বিবেক আমাকে যেতে বারন করে।

১২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: বাকি পর্ব তাড়াতাড়ি লিখুন ।
কোন মাসে যাওয়াটা উত্তম উপদেশ দিন ।
মিথ্যা কথা যে বলতে পারি না ।
১৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
comment by: আশিক হাসান বলেছেন: বারের পর্বটা জানা ছিলনা তবে এই অংশটুকু বাদে বাকী সব ঠিক আছে ।
১৪. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০৪
comment by: পাগলা বাবু বলেছেন: নাম ধার নেবার কোন প্রয়োজন ছিলো না । আমাদের এখানের বাচ্চারাও বলে দিতে পারবে আপনারা কলকাতার না বাংলাদেশী ।

যাই হোক আমার বাড়ির কাছ থেকে আপনারা ঘুরে গেছেন জেনে ভালো লাগলো ।

আবার আসবেন ।
মন খুলে ।
১৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৫০
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: লেখাটিতে একটু তাড়াহুড়ো দেখছি । বেড়াতে গেছেন যখন তখন লেখার মাঝেও একটু রিলাক্স ভাবটা নিয়ে আসুন , আমরা তাহলে একটু ধীরে সুস্থে সঙ্গী হতে পারি ।
১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরিফ ভাই, এর পরের পর্ব থেকে বিস্তারিত লিখব।

১৬. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: যাওয়ার জায়গা একটা বাড়ল ... লেখা সুস্বাদু হয়েছে
১৭. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:০৭
comment by: জাতক বলেছেন: খুব ভাল লাগলো পড়ে.......

 

 


পড়,জান,জানাও
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৫৯১৫