মানুষের জীবনে এমন সব সময়, ক্ষন আসে যখন অনেক উপলব্দ্ধী খুব কাছে চলে আসে। এতটাই কাছে আসে যে ওটাকে আর সরানো যায়না।
আমার জীবনের বলার মত তেমন কিছু নাই তাই নিজেকে নিয়ে কখনও লেখার কিছু পাই নাই। আমার চারিদিকে যা দেখি তা ণিয়ে কখনও কখনও কবিতা আকারে লেখার চেষ্টা করি। আমি কবিতা লিখি আমার জন্য ,নিজের তুষ্টির জন্য।কবিতায় অনেক কিছু সহজে বলা যায় যা মুখে অথবা লিখে বলাটা এতটা সহজ হবেনা।
আজকে ও আমি আমার কথা বলবনা বলবো এমন এক মানুষের কথা যে আমার এযাবৎকালে দেখা সবচেয়ে ভাল এবং সৎ মানুষ।
আমার বাবা একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। ছোটকাল থেকেই আমরা খুব একটা বিলাস বহুল জীবনযাপন করি নাই। কারন আমাদের সীমিত আয়। পরেছি সরকারী স্কুলে। তা নিয়ে আমার কখনও আফসোস ছিলনা বরং গর্ব ছিল যে আমার বাবা কখনও কনো অন্যায় ভাবে আমাদের ভরন পোষন করে নাই। আমার বাবার কলিগ ,বন্ধু সবারই গাড়ী বাড়ী সব ছিল ।কিন্ত তারপরও দেখেছি তারা আমার বাবাকে সবচেয়ে সম্মান দিত।
আমার বন্ধুদের দেখেছি অনেক কিছু কিনতে ,পরতে, খেতে কিন্তু আমি এগুলো থেকে সবসময় এড়িয়ে চলতাম কারন ভাবতাম নিজের যখন হবে তখন এগুলো করব।কিন্তু তা নিয়ে আমার কখনও আফসোস ছিলনা।
কিন্ত আজ অনেক আফসোস হ্য় যখন ভাবি, আমাকে অংক করাবার সময় আমার বাবা আশা করত আমি সর্বোচ্চ নম্বর পাব কিন্ত যখন আমার গাফিলতির জন্য বাবাকে আফসোস করতে হয়।
আজ আফসোস হয় এই ভেবে, যখন আমার এইচ.এস.সি পরীক্ষার সময় বাবা আমার হলের সামনে দড়িয়ে থাকত আর আশা করত আমার ছেলে বুয়েটে পরবে। কিন্তু আমার খামখেয়ালীর জন্য আমার বাবার আশা ভংগ হয়।
নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দিয়ে আমাকে ভর্তি করান প্রাইভেট ইউনিভর্সিটি তে আশা আমার ছেলে মালটিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরী পাবে সবাইকে বলবে আমার কথা।
আফসোস হয় আমার পড়াশোনা শেষ করে দেশের নামকরা মোবাইল কোম্পানীতে চাকরী পেয়েও আমাকে তা ছাড়তে হয় নিজের উচ্চ বিলাসিতার জন্য।
আমার বাবার কোনও আশাই আমি পুর্ন করতে পারি নাই তাই এই বাবা দিবসে আমার কোনও অধিকার নাই আমার বাবাকে কিছু দেবার ।
আমার আফসোস বাবা দিবস আমার জন্য নয়।
কিন্তু এতটুকুই করতে পারি।
বাবা আমি তোমার স্বপ্ন আমার সন্তান কে দয়ে পুরন করাব। তুমি হয়ত থাকবেনা কিন্তু বিধাতা ঠিকই পৌছে দেবে তোমাকে সেই বার্তা ।
তোমার স্বপ্ন পুরন করবে আমার সন্তান।
সেইদিনই আমার বাবা দিবস হবে ।
আমার সন্তান কে উৎসর্গ করলাম তোমার স্বপ্নের কাছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

