নার্সারীতে পড়ি তখন।ঈদের ছুটি চলছে। সেই ঈদে টুকটুকে একটা লাল জামা পেয়েছি।বাড়ি থেকে স্কুল কাছেই । ইংরেজী আই অক্ষরের মত।এই মাথায় ওই মাথায় স্কুল আর বাড়ি মাঝখানে সরু একটা রাস্তা। বর্ষার দিনে প্রায়ই রাস্তাটা তলিয়ে যেত। রাস্তা লাগোয়া তাল গাছওলা একটা জোড় পুকুর ছিল। যখন পানি উঠতো মনে হোত পুরোটাই বিরাট এক পুকুর ।রাস্তার অস্তিত্ব আলাদা ভাবে বুঝা যেত না। এলাকাবাসী নিজেদের সুবিধার্থে রাস্তার উপর বাশের সাকো তৈরী করে নিত। সেই রাস্তার পাশেই ছিল এক বান্ধবীর বাড়ী।ছোটবেলায় আমি আবার খুব পাড়া বেড়ানি ছিলাম।একদিন কাঠফাটা রৌদ্রের এক ভর দুপুরবেলা, সেই লাল জামা পরে বান্ধবীর বাড়ী্ যাব বলে বাশের সাকোয় পা রেখেছি।কিছু দূর যাবার পর একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে কিভাবে যেন আমি পড়ে গেলাম।ভাবলাম পা পিছলে হয়ত পড়েছি। রোদে দাড়িয়ে জামাটা শুকালাম এবং আবারো সাকোয় উঠলাম।যথারিতী সেই নির্দিষ্ট জায়গায় এসে কোন কারন ছাড়াই আবারো পানিতে পড়ে গেলাম। এবার একটু সন্দেহ হতে লাগল।ভাবলাম তৃতীয় বার আর একবার ট্রাই করি।যদি এবারো পড়ে যাই তবে বুঝব কোন ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার আছে।যাই হোক কষ্ট করে আবারো জামা শুকিয়ে সাকোতে উঠলাম এবং ওই জায়গাতে এসে পড়ে গেলাম। কি যে ভয় পেলাম তখন, ডানে বামে না তাকিয়ে সোজা এক দৌড়ে বাসায় চলে এলাম। অদৃশ্য সেই ভুত এখনো একলা পেলে ভয় দেখায়।আর নতুন এক বিশ্বাসের জন্ম হল আমার মাঝে যে জ্বিন বলে কিছু একটা আছে।
আমার দেখা আর একটা ঘটনা বলি। আমার মেঝো খালা খুব সুন্দরী একজন মহিলা ছিলেন।হার্ট এ্যাটাকে মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই মারা যান। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি খালার জ্বিনের রোগ আছে।একদিন উনার বাসায় যেয়ে দেখি খালা শুয়ে আছেন, মাত্র ঘুম থেকে উঠেছেন। দেখি তার ফর্সা মুখে কে যেন কালি মাখিয়ে দিয়েছে। খালু বাসায় ছিলেন না।তার ছোট দুটি ছেলের কখনই সাহস হবে না মায়ের মুখে কালি মাখাবে।খালা বললেন এটা ওই জ্বিনের কান্ড। কখনও কখনও ঘুম থেকে জাগলে দেখতেন পাশে অপরিচিত কেউ শুয়ে আছে। একটু পর আবার তাকিয়ে দেখতেন নাই।এমনি আরো কত জ্বিনের কাহিনী যে আছে সময় সুযোগ পেলে বলব।আপনাদেরটাও পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




