আমার জন্মের আগের ঘটনা।আম্মার কাছে শোনা গল্প। আমার নানার বাড়ির ঠিক পিছন দিয়েই বয়ে গেছে হাতির ঝিল। বিখ্যাত ভাওয়াল রাজার ৩০০ বিঘা জমি নিয়েই গড়ে উঠেছিল এই হাতির ঝিল। শুনেছিলাম শীতলক্ষ্যার সাথে যুক্ত। ছোটবেলায় নানা বাড়ির ছাদে দাড়িয়ে ভরা যৌবনা হাতির ঝিলকে কত দেখেছি। বড় বড় পাল তোলা পানসি নৌকা আসত তখন। শীত কালে ছিল উল্টো ঘটনা। ঝিলের পানি সব শুকিয়ে যেত, সেখানে ধানী জমিতে বাতাস খেলা করত তখন। ছেলে মেয়ের দল ঘুড়ি উড়াতো আর হাজার রকম খেলাধুলায় মেতে উঠত।এমনি এক শীতের সকালে কেউ কেউ হাতির ঝিলের কাদা মাটিতে ধান বুনছে, কেউবা মাছ ধরছে। নানার বাড়ির গেইটে দরিদ্র মত একটি লোক এসে ডাক দেয়। তার ডাকে আম্মা এবং নানু ছুটে যান। যেয়ে দেখেন কুচকুচে কালো দেখতে কাছা মেরে লুঙ্গি পরা খালি গায়ের একজন মানুষ। সারা শরীর কাদা মাটিতে মাখা মাখি। বললেন মাগো আমি খুব গরীব মানুষ। এই ঝিলে মাছ ধরতে এসেছিলাম। কিন্তু পেলাম দুটি সাপ, এদের মাথায় মণি আছে। সারাদিন মাছ পাইনি যদি মণি দুটি আপনারা কিনে নেন তবে আমি এখনি বাড়ি চলে যাব।আজ আর মাছ মারব না।আম্মা দেখলেন যে তার হাত পেচিয়ে রেখেছে দুটি মাঝারি আকৃতির সাপ। আম্মা জিঙ্গেস করাতে বলল সে গরীব মানুষ মণি দিয়ে কি করবে, বিক্রি করে যা পাবে তাই দিয়ে বাজার করবে। সেই পাকিস্তান পিরিয়ডে ৫/১০ টাকার অনেক মূল্য ছিল। আম্মার কাছে ভাংতি ছিল না, ১০ টাকার একটি বড় নোট ছিল।অনেকটা এখনকার ৫০০ টাকার নোটের মত অবস্হা। যাইহোক নানু ৫ টাকা দিয়ে আম্মাকে মণি কিনে দিলেন।অন্য মণিটি কিনল বাড়ির এক ভাড়াটিয়া। লোকটি কিছু তুলা চাইলো। আম্মা তুলা এনে দিতেই লোকটি তুলা দিয়ে চিমটি কেটে সাপের মাথা থেকে মণি তুলে এনে দিলেন। জিনিসটা হোমিওপ্যাথির ঔষধের মত তবে রঙটা কমলাটে লাল। অনেক বছর পর্যন্ত মণিটা আম্মার কাছেই ছিল। আম্মা একটা কাচের শিশিতে ভরে রেখেছিলেন। আমি নিজেও অসংখ্য বার এই মণি দেখেছি। অনেকেই সাপের যে মণি হয় বিশ্বাস করে না। আর মণি হিরার মত জ্বল জ্বল করে এটা ঠিক না। কয়েক বছর আগে ছোট খালা মণিটি চায়, আম্মা তাকে মণি দিয়ে দেন। খালা এখন মণিটা আংটিতে লাগিয়ে ব্যবহার করছেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মণির ছবি দিব।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


