somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এদের কোন ঘরে স্হান হবে?

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"এখন শ্রীঘরে" -শিরোনামে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রথম কলামে একটা লেখা বেরিয়েছে। বিষয়টা এরকম- "ভুয়া পরিচয় দিয়ে সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে আমির হোসেন খান নামের এক যুবক এখন শ্রীঘরে। পুলিশ জানায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তার পদে চাকরি করেন-এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল শিরুয়াইল ইউনিয়নের এক মেয়েকে বিয়ে করেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ....আমির।এক পর্যায়ে তার আসল পরিচয় ফাস হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।"

শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাহসী মানুষ গুলোকে সালাম জানাই। তারা এই রক্ষনশীল সমাজ ব্যবস্হায় থেকেও বিয়ের আড়াই বছর পর এমন একটা পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন। লোকলজ্জা, অর্থনৈতিক দৈনতা কোন কিছুই তাদের দমাতে পারে নাই। কারন তারা সঠিক সিদ্ধা্ন্তটাই নিয়েছে। যে ভুল হয়েছে তা আর দ্বিতীয়বার তারা করে নাই, এই প্রতারক ভবিষ্যতে মেয়েটিকে কষ্ট দেয়া ছাড়া আর কিছুই দিবে না।

অথচ খোদ ঢাকা শহরে সম্ভ্রা্ন্ত পরিবারের অনেক উচ্চ শিক্ষীত দূদার্ন্ত সুন্দরী ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার মেয়ে আছে যারা সমাজে লোকলজ্জার ভয়ে মুখ বুজে প্রতারক স্বামীর সংসার করে চলেছেন। যাদের প্রতারিত হবার খবর কেউ জানে না, এরা নীরবে নিভৃতে যৌতুকের চাপ, শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার সয়ে চলেছেন দিনের পর দিন। তাদের কেউ কেউ তীব্র মানসিক অত্যাচারে চোখ হারিয়েছেন, কেউবা মানসিক ভারসাম্য হারাবার পথে......।

কেউ আছেন মিথ্যা ভালোবাসার ফাদে পড়ে বাবা মায়ের অমতে বিয়ে করেছেন। হয়তবা সুন্দর একটা সাজানো গোছানো সংসারের স্বপ্ন ছিলো চোখে। বেচারির স্বপ্নের প্রথম মৃত্যু ঘটে যখন জানলেন স্বামী প্রবরটির তার পাশে দাড়ানোর মত তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখে না, এতদিন যা বলেছে তা মিথ্যা। অথচ ভালবাসার মানুষটির জন্য সে দেশ বিদেশের কত পিএইচডি, ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পাঠানো প্রস্তাব নাকচ করেছিল। পরবর্তীতে চেষ্টা করেছিল স্বামীকে শিক্ষীত করতে, পারেননি।

তার স্বপ্নের দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে যখন দেখলেন বিয়ের সাত মাসের মাথায় মধ্যরাতে তার ভালবেসে বিয়ে করা মানুষটি তাকে ধরে রেখেছে এবং শ্বাশুড়ী ননদ মিলে তাকে মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। বড় অচেনা লাগে তখন মানুষটিকে, ভাবে "এই লোকটির জন্য সে সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ব করেছে, বাবা মাকে রাজী করানোর জন্য দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেছে, এমনকি ফাসি পর্যন্ত নিতে গেছে " ।

তার স্বপ্নের তৃতীয় মৃত্যু ঘটে যখন দেখলেন বছরের পর বছর ধারের নাম দিয়ে বাপের বাড়ী থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার যৌতুক আনতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তুলে দিতে হয়েছে সমস্ত স্বর্ণালন্কার।

তার স্বপ্নের চতুর্থ মৃত্যু ঘটে যখন দেখলেন তার বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল বাড়ীটি
প্রতারক স্বামী জাল দলিল করে ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেবার চেষ্টা করছে। সেই সাথে চলছে অন্য পুরুষকে জড়িয়ে সন্দেহ করা এবং মাস শেষ হলে তার অতি কষ্টে উপার্জিত বেতন কেড়ে নেয়া। স্বামী জাতের লোকটি কখনও নিজেকে বাচাতে স্ত্রীকে লেলিয়ে দিত পাওনাদারের দিকে, আর পাওনাদাররা মনের আশ মিটিয়ে মেয়েটিকে অপমান করতো।

পাষন্ড স্বামী কখনওবা স্ত্রীর সই জাল করে চেক পাওনাদারের হাতে তুলে দিয়েছে, পরবর্তীতে চেক ডিজঅর্নার হবার কারনে পাওনাদার মেয়েটির বিরুদ্বে ছয় ছয়টি কেস করেছে। যার কোন কিছুই মেয়েটি জানতো না, বেচারি এখন বিরাট অর্থ দন্ড এবং হাজতবাসের মুখে দাড়িয়ে আছে।

আজ তার খবর কে রাখে? তার ক্ষয়ে যাবার খবর কেউ রাখে না, তার স্বপ্নের অপমৃত্যুর খবর কেউ জানে না, সে যে কত চোখের পানি ফেলেছে তা কেউ দেখে না, কষ্টে তার বুকের ভিতরটা ব্যাথা করে।

তারা অন্তরে অন্তরেই নিঃশেষ হয়ে চলেছেন। এই সবই এ সমাজে ঘটে যাওয়া অতি সত্য ঘটনা, এক বিন্দুও মিথ্যে নয়।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৭
২৪টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×