প্রথমেই বলে নিচ্ছি আমি খানা দানা বিশেষ ভালা পাই।
আমার রস নিয়ে পাগলামিটা শেষমেষ ব্লগে এসে ঠেকল। প্রতি বছর অপেক্ষা করে থাকি আম,লিচু,ভাপা পিঠা আর খেজুর রসের জন্য। প্রথম তিনটা সহজে পাওয়া গেলেও শেষেরটা পাওয়া বড় মুশকিল। আব্বা বেচে থাকতে খোদ ঢাকা শহর থেকেই রস যোগাড় করে নিয়ে আসতেন, জানতেন তার ছোট মেয়েটা খেজুর রসের পাগল।
তিনি চলে গেছেন দুই বছর হল। এখন আর কে এই শীতের ভোরে উঠে খেজুর রসের খোজে যাবে। তাই দু বছর ধরে আর খেজুর রসের দেখা পাই না। মনটা কেমন করে খেজুর রসের জন্য। আব্বা কোথা কোথা থেকে রসিওয়ালা সুদ্ব যোগাড় করে বাসায় রস নিয়ে আসতেন। তারপর আমাদের সব ভাই বোনদের ডাক দিতেন আর বলতেন প্রান ভরে খাও। লাল রঙের এই রস বড় একটা ডিসে রাখা হোত। কিন্তু রসটা এত ঠান্ডা থাকত যে প্রথম প্রথম খেতে একটু কষ্ট হোত, ঠান্ডাটা ছেড়ে গেলে খেতে উফ দারুন !!! আমাদের খাবার পর আম্মা বাকিটা চুলায় বসিয়ে দিতেন ক্ষীর তৈরির জন্য। তারপর ধীরে ধীরে জ্বাল হতে হতে রসটা থেকে অপূর্ব সুন্দর একটা ঘ্রান বের হোত, সারা বাড়ী অদ্ভুত সুন্দর সেই সুবাসে ভাসতো। আমি ছুটে যেতাম চুলার পাশে আর চামচ দিয়ে তুলে তুলে খেতাম। আর ক্ষীরের কথা কি বলব চিনির চেয়েও বেশী মিষ্টি হোত সেই ক্ষীর। এর স্বাদ ভোলার নয়।
আমাদের দেশে এত না বেকার সমস্যা! খেজুর রস উৎপাদনের লাভজনক এই প্রকল্পটার ব্যপারে বেকার ভাই বোনেরা ভেবে দেখতে পারেন। আমি জানি আমার মত আরো অনেকেই আছেন যারা খেজুর রস খুব পছন্দ করেন। আমাদের মত এমন শহুরে রস পাগলের সংখ্যা নেহায়েত কম হবে না। আমাদেরকে টার্গেট করে উনারা এগিয়ে যেতে পারেন যদিও এটা মৌসুমি ব্যাবসা। তারাও লাভবান হল আর আমরাও তৃপ্ত হলাম।
ছুটির দিনে ভোর বেলা আমি রমনায় হাটতে যাই, সেখানে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে। দু একটা গাছে টোকাই ছেলের দল দেখি বোতল বেধে রেখেছে। যে কেউ ইচ্ছে করলে গাছ গুলো সুন্দর ভাবে কেটে রস আহরন করে জিবীকা নির্বাহ করতে পারে। শুধু ইচ্ছে শক্তিটা চাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



