ছোট বেলায় যে স্বপ্নটা প্রায়ই দেখতাম তা হল আমি অনেক উচু থেকে পড়ে যাচ্ছি। কখনও কোন উচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে কখনওবা কোন উচু গাছ থেকে। এই মাত্র মাটিতে পড়ে যাব, গেলাম গেলাম এক্ষুনি মাটিতে আমার শরীর ছুবে....এই অনুভূতিটা যে কি গাঢ় ছিল তা বলে বোঝাতে পারব না। জেগে উঠার পরও সেই অনুভূতির রেশ কাটতো না।
আরেকটা স্বপ্ন খুব প্রিয় ছিল আমার (যা নিয়ে বেশী ভাবতাম তাই স্বপ্ন দেখতাম) আমি মেঘের রাজ্যে ভেসে বেড়াচ্ছি, সাদা পরীর মত পোষাক পরনে। মেঘ গুলো ছুয়ে ছুয়ে চলেছি,কখনওবা ছোট পাখির মত জড়ি্য়ে ধরে আদর করছি, কখনওবা মেঘের সিংহাসনে বসে আছি অথবা মেঘের বিছানায় ঘুমিয়ে আছি। খুব শান্তি পেতাম এই স্বপ্নটা দেখলে।
আমার কিছু মজাদার স্বপ্ন ছিল, সাম্প্রতিক দেখা নাটক সিনেমা গুলো আবারও স্বপ্ন দেখতাম। যেন স্বপ্নে আবার পুরো সিনেমাটা রিওয়াইন্ড করলাম। তবে স্বপ্নে সিনেমার শেষের দিকের ঘটনা কিছুটা এলোমেলো হয়ে যেত, আসল কাহিনীর সাথে তেমন মিল থাকতো না। তখন স্বপ্নের মধ্যেই ভাবতাম এমনতো হবার কথা নয়, কেন এমন হচ্ছে। আবার দেখা যেত সিনেমার কাহিনীর মধ্যে আমার পরিচিত আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবেরা চলে এসেছে। আমি না চাইলেও এটা ঘটতো। কখনও দেখা গেল স্বপ্নে হেভী একটা পারিবারিক ঘটনা দেখছি তো মুহূর্তেই দৃশ্যপট পাল্টে সেখানে চলে আসতো ক্লাস রুম অথবা ট্রেন জার্নি, তখন কাজটা সম্পূর্ন না হওয়ায় একটা অতৃপ্তি কাজ করতো।
মন খারাপ হলে আমি কখনও কখনও কল্পনার রাজ্যে হারাই। আমার প্রিয় কল্পনায় একটা ঝকঝকে ঢালু সবুজ মাঠের শেষ প্রান্তে একটা ঝরনা বয়ে চলেছে। আমি সেই ঝরনার পাশে যেয়ে তখন বসি। তীব্র ধারায় সেই ঝরনা থেকে অবিরাম শ্বেত শুভ্র পানি ঝরে পড়ছে। আমি সেই মাঠে শুয়ে শুয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশ দেখি । কখনও কখনও সেই ঝরনার জল ছিটকে আমার মুখে এসে পড়ে। সেই শীতল জলের স্পর্শে আমার ক্লান্তি কেটে যেতে থাকে। কখনও কখনও সেই ঢালু মাঠে গড়িয়ে গড়িয়ে আমি ঝরনার খুব কাছে চলে যাই, মনের আনন্দে ঝরনার পানিতে হাত ভিজাই আর খেলা করি। খুব খুব ভাল থাকি তখন আমি।
যখন আমার খিচুরী খেতে ইচ্ছে করে আমি এই কল্পনাটা করি। আমি এই কল্পনাটার একটা নাম দিয়েছি- "খিচুরী কল্পনা"। এখানে আমি এক গভীর জঙ্গলে বাস করি। আমার ঘরটা একটা শ্যাওলা ধরা এক রুমের লাল ইটের একটা পুরনো ঘর। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। সবুজ পাতা চুইয়ে চুইয়ে জল ঝরছে আর ঝরছে, থামার কোন লক্ষনই নেই। তখন আমি খুব মজার একটা খিচুরী রান্না করলাম। এই খিচুরীর সাথে থাকবে ইলিশ মাছ ভাজা, চিংড়ি মাছ ভাজা,ডিম ভুনা, গরু আর মুরগির গোস্ত, আমের আচার মানে মজার আইটেম কিছু আর বাদ থাকবে না। খেয়ে দেয়ে তারপর আমি জানালার পাশে যেয়ে শুয়ে পড়ি। জানালায় বৃষ্টির অবিরাম ঝরে পড়া দেখতে থাকি। বৃষ্টির ছাট আমার মুখে এসে পড়ে। আহ কি সুখ!
এখন বলছি আমার বৃষ্টি ভেজা রাত নিয়ে কল্পনার কথা। খুব ঝড় বৃষ্টির রাত, থেকে থেকে দমকা হাওয়া দিচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে ঘরের পর্দা গুলো। বড় বড় গাছ গুলো এই ভেঙ্গে পড়ল বলে। বাইরে একটু পর পর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, সেই আলো প্রতিবিম্বিত হচ্ছে ঘরের ভিতর। শীতল ঘরটিতে আমি পাতলা একটা কাথা গায়ে টেনে নিয়েছি। ঝড়ো হাওয়ায় জানালার কপাট এদিক ওদিক দুলছে কখনও কখনও দড়াম শব্দ করে বাড়ি খাচ্ছে। আমি জানালার কাছটাতে শুয়ে বৃষ্টি দেখছি। বৃষ্টির ছাট আমার মুখে এসে পড়ছে। আহ কি মধুর! এই কল্পনাটার নাম দিয়েছি আমি ভুতুড়ে কল্পনা।
এটা খুব গোপন একটা স্বপ্নবিলাসী কল্পনা। একটা মেঘলা দিনে এক একাকি গহিন বন। সেই বনের গভীরে এক স্বচ্ছ টলটলে ছোট্ট পুকুর। পানি এত স্বচ্ছ যে পুকুরের তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। একটা ঝুমকো লতার গাছ ঝুকে আছে পুকুরের জলে। সেই গাছ থেকে শুভ্র ঝুমকো ফুলের ঝাড় ভাসছে জলে। পানিতে ছায়া ফেলেছে আকাশ, নীল আকাশের ফাকে দেখা যাচ্ছে মেঘের আনাগোনা। যেন ধরায় নেমে এসেছে মেঘমাল্লার সুনীল আকাশ। সেই নীল আকাশ আর শুভ্র মেঘের ছায়া পড়া জলে আমি ভেসে চলেছি।
আমার পরনে শ্বেত শুভ্র পোষাক আর দীঘল কালো চুল জলে ভেসে চলেছে, চোখ বন্ধ করে অর্ধ ভাসমান আমি শুধু ভেসে চলেছি আর চলেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

