somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একান্ত স্বপ্ন কল্পনা গুলো

০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট বেলায় যে স্বপ্নটা প্রায়ই দেখতাম তা হল আমি অনেক উচু থেকে পড়ে যাচ্ছি। কখনও কোন উচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে কখনওবা কোন উচু গাছ থেকে। এই মাত্র মাটিতে পড়ে যাব, গেলাম গেলাম এক্ষুনি মাটিতে আমার শরীর ছুবে....এই অনুভূতিটা যে কি গাঢ় ছিল তা বলে বোঝাতে পারব না। জেগে উঠার পরও সেই অনুভূতির রেশ কাটতো না।

আরেকটা স্বপ্ন খুব প্রিয় ছিল আমার (যা নিয়ে বেশী ভাবতাম তাই স্বপ্ন দেখতাম) আমি মেঘের রাজ্যে ভেসে বেড়াচ্ছি, সাদা পরীর মত পোষাক পরনে। মেঘ গুলো ছুয়ে ছুয়ে চলেছি,কখনওবা ছোট পাখির মত জড়ি্য়ে ধরে আদর করছি, কখনওবা মেঘের সিংহাসনে বসে আছি অথবা মেঘের বিছানায় ঘুমিয়ে আছি। খুব শান্তি পেতাম এই স্বপ্নটা দেখলে।


আমার কিছু মজাদার স্বপ্ন ছিল, সাম্প্রতিক দেখা নাটক সিনেমা গুলো আবারও স্বপ্ন দেখতাম। যেন স্বপ্নে আবার পুরো সিনেমাটা রিওয়াইন্ড করলাম। তবে স্বপ্নে সিনেমার শেষের দিকের ঘটনা কিছুটা এলোমেলো হয়ে যেত, আসল কাহিনীর সাথে তেমন মিল থাকতো না। তখন স্বপ্নের মধ্যেই ভাবতাম এমনতো হবার কথা নয়, কেন এমন হচ্ছে। আবার দেখা যেত সিনেমার কাহিনীর মধ্যে আমার পরিচিত আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবেরা চলে এসেছে। আমি না চাইলেও এটা ঘটতো। কখনও দেখা গেল স্বপ্নে হেভী একটা পারিবারিক ঘটনা দেখছি তো মুহূর্তেই দৃশ্যপট পাল্টে সেখানে চলে আসতো ক্লাস রুম অথবা ট্রেন জার্নি, তখন কাজটা সম্পূর্ন না হওয়ায় একটা অতৃপ্তি কাজ করতো।

মন খারাপ হলে আমি কখনও কখনও কল্পনার রাজ্যে হারাই। আমার প্রিয় কল্পনায় একটা ঝকঝকে ঢালু সবুজ মাঠের শেষ প্রান্তে একটা ঝরনা বয়ে চলেছে। আমি সেই ঝরনার পাশে যেয়ে তখন বসি। তীব্র ধারায় সেই ঝরনা থেকে অবিরাম শ্বেত শুভ্র পানি ঝরে পড়ছে। আমি সেই মাঠে শুয়ে শুয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশ দেখি । কখনও কখনও সেই ঝরনার জল ছিটকে আমার মুখে এসে পড়ে। সেই শীতল জলের স্পর্শে আমার ক্লান্তি কেটে যেতে থাকে। কখনও কখনও সেই ঢালু মাঠে গড়িয়ে গড়িয়ে আমি ঝরনার খুব কাছে চলে যাই, মনের আনন্দে ঝরনার পানিতে হাত ভিজাই আর খেলা করি। খুব খুব ভাল থাকি তখন আমি।


যখন আমার খিচুরী খেতে ইচ্ছে করে আমি এই কল্পনাটা করি। আমি এই কল্পনাটার একটা নাম দিয়েছি- "খিচুরী কল্পনা"। এখানে আমি এক গভীর জঙ্গলে বাস করি। আমার ঘরটা একটা শ্যাওলা ধরা এক রুমের লাল ইটের একটা পুরনো ঘর। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। সবুজ পাতা চুইয়ে চুইয়ে জল ঝরছে আর ঝরছে, থামার কোন লক্ষনই নেই। তখন আমি খুব মজার একটা খিচুরী রান্না করলাম। এই খিচুরীর সাথে থাকবে ইলিশ মাছ ভাজা, চিংড়ি মাছ ভাজা,ডিম ভুনা, গরু আর মুরগির গোস্ত, আমের আচার মানে মজার আইটেম কিছু আর বাদ থাকবে না। খেয়ে দেয়ে তারপর আমি জানালার পাশে যেয়ে শুয়ে পড়ি। জানালায় বৃষ্টির অবিরাম ঝরে পড়া দেখতে থাকি। বৃষ্টির ছাট আমার মুখে এসে পড়ে। আহ কি সুখ!


এখন বলছি আমার বৃষ্টি ভেজা রাত নিয়ে কল্পনার কথা। খুব ঝড় বৃষ্টির রাত, থেকে থেকে দমকা হাওয়া দিচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে ঘরের পর্দা গুলো। বড় বড় গাছ গুলো এই ভেঙ্গে পড়ল বলে। বাইরে একটু পর পর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, সেই আলো প্রতিবিম্বিত হচ্ছে ঘরের ভিতর। শীতল ঘরটিতে আমি পাতলা একটা কাথা গায়ে টেনে নিয়েছি। ঝড়ো হাওয়ায় জানালার কপাট এদিক ওদিক দুলছে কখনও কখনও দড়াম শব্দ করে বাড়ি খাচ্ছে। আমি জানালার কাছটাতে শুয়ে বৃষ্টি দেখছি। বৃষ্টির ছাট আমার মুখে এসে পড়ছে। আহ কি মধুর! এই কল্পনাটার নাম দিয়েছি আমি ভুতুড়ে কল্পনা।


এটা খুব গোপন একটা স্বপ্নবিলাসী কল্পনা। একটা মেঘলা দিনে এক একাকি গহিন বন। সেই বনের গভীরে এক স্বচ্ছ টলটলে ছোট্ট পুকুর। পানি এত স্বচ্ছ যে পুকুরের তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। একটা ঝুমকো লতার গাছ ঝুকে আছে পুকুরের জলে। সেই গাছ থেকে শুভ্র ঝুমকো ফুলের ঝাড় ভাসছে জলে। পানিতে ছায়া ফেলেছে আকাশ, নীল আকাশের ফাকে দেখা যাচ্ছে মেঘের আনাগোনা। যেন ধরায় নেমে এসেছে মেঘমাল্লার সুনীল আকাশ। সেই নীল আকাশ আর শুভ্র মেঘের ছায়া পড়া জলে আমি ভেসে চলেছি।
আমার পরনে শ্বেত শুভ্র পোষাক আর দীঘল কালো চুল জলে ভেসে চলেছে, চোখ বন্ধ করে অর্ধ ভাসমান আমি শুধু ভেসে চলেছি আর চলেছি।



সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১১
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×