somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রামের শৈশব : অভিজ্ঞতা ও গুরুত্ব

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামে ছিলাম। এই সময়ে শেখা হয়েছে অনেক কিছু। কি সাইকেল চালানো বলেন আর সাঁতার শেখা বলেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার ছেলে মেয়েদের শৈশবটাও গ্রামে কাটে এমন ব্যবস্থা করব।

বয়স তখন সবে ৬/৭, গ্রামের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে মরতে বসেছিলাম। পরদিন এক জেঠাতো ভাই জোর করে ধরে সাঁতার শেখাতে নিয়ে গেলেন। আমিতো ভয়ে পরি মরি অবস্থা। এখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যখন বন্ধুদের দেখি সাঁতার শেখার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং পুলে লাইন দিয়েছে, বুঝতে পারি আমার সাঁতার শেখাটা স্বার্থক হয়েছে।

সাইকেল শিখতে গেলে গ্রামই দরকার এটা ঠিক না। তবে অল্প বয়সে গ্রামের সেই দস্যিপনার মধ্য দিয়ে, বিকেলে আম্মুকে ফাঁকি দিয়ে সাইকেল চালানোর মধ্যে দিয়ে যে কী মজা পেতাম তা ভাষায় বুঝানো কঠিন। তাও নিজের সাইকেল না, টাকা জমিয়ে ঘন্টায় ১০ টাকা করে সাইকেল ভাড়া নিতাম।
আমার এক ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে যে কিনা আমারই বয়সী, তার সাথে একদিন তার নানু বাড়ি গিয়েছিলাম। ছোট একটা নদীর পার ধরে যেতে হয়। তার কথায় সায় দিয়ে সেদিন ওখানে এক দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া করে নদীর পাড় ধরে সাইকেল চালিয়েছিলাম। ওই বয়সে কী করে যে একটা সদ্য সাইকেল শেখা ছেলে নদীর পাড় ধরে সাইকেল চালিয়েছি তা চিন্তা করলে এখন কলজে শুকিয়ে যায়।

গ্রামের আরেকটা জিনিস মজা লাগত সেটা হল মাছ ধরা। গ্রামের পুকুর থেকে পানি ফেলে অনেক মাছ পাওয়া যেত। এত এত ধরণের মাছ একসাথে এম্নিতে কখনও দেখা যায় না। তবে আমাদের গ্রামে দেখতাম লোকেরা নিজেরা মাছ ধরত না, পেশাদার জেলেরা বিরাট বিরাট জাল এনে পুকুরে ফেলত।

আমাদের বাড়িটার পাশেই একটা জঙ্গল টাইপ জায়গা ছিল। এখনও আছে। জায়গাটা গাছ-পালা লতা-পাতায় ভর্তি। প্রথম দিকে জঙ্গলে ঢুকার মত কোন পথ ছিল না। পরে পথ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে একটা সরু রাস্তা তৈরী করা হয়, যেটা কিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সহজ রাস্তা হয়ে যায়। এই রাস্তায় সহজে আসা যাওয়া করার জন্য কত বার একা একা হেঁটেছি আর ঝোপ ঝাড়ের সামান্য নড়া চড়ায় কতইনা শিহরিত হয়েছি! সে অনুভুতি কি শহরে পাওয়া সম্ভব?

বড়দের কাছ থেকে অনেক গল্প শুনতাম সেই সময় যার বেশির ভাগই ছিল ভুতুড়ে। যেমন লাশ জিন্দা হয়েছে, জঙ্গলে কিছু একটা দেখা গেছে এই টাইপ গল্প। ঐ বয়সের একটা ছেলের এ ধরণের গল্প শুনলে অনুভুতি কি হয় বুঝতেই পারছেন। যে ছেলে সারাটা দিন দস্যিপনা করত সে ছেলেটাই রাতে একা একা এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে ভয় পেত।



আমাদের গ্রামে খেলার জন্য বাচ্চাদের একটা বিশেষ জায়গা ছিল। যা এখন পানিতে ভর্তি। বিশেষ জায়গা বলছি কারণ এটাকে আমরাই বিশেষ বানিয়ে নিয়েছি। ঐ জায়গায় একটা হিজল গাছ আছে যা কিনা কিছুটা বাঁকা। ঐ গাছের সাথে দড়ি টানিয়ে দোলনা বানিয়েছিলাম আমরা। তাই ঐ জায়গাটাতে বাচ্চারা জমে যেত। ওটা ছিল মূলত একটা কচুক্ষেত। শীতকালে কচু থাকত না, পুরা ক্ষেতটাই শুকনা থাকত বলে সমস্যা হত না। যখন কচু থাকত ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসার সময় কচুর গায়ে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠতাম। কারণ কচুর গা পেঁচিয়ে থাকত এক ধরণের সাপ। দেখতে হুবহু কচুর মতই রঙ।

৮/৯ বছর বয়সের কথা। বর্ষার দিনে ফসল কাটা ক্ষেতে কাদা জমে থাকত, ওরই মধ্যে ফুটবল নিয়ে নেমে যেতাম। ছুটির দিনে কখনও স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওই কাদা পানিতে সকাল থেকে দুপুর অবদি ফুটবল খেলতাম। মাঝে মাঝে খেলার মধ্যেই টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ত। অসাধারণ অনুভুতি। জানি না হয়ত এখন ওভাবে খেললে অত দারুন অনুভুতি হবে না। দুপুরে কাদা শরীরে যখন ঘরে ফিরতাম আম্মু বকত। মজার ব্যাপার হল, শরীর ধুয়ে গোসল করে আসার পর মনে হত হাড়ির ভাত সব শেষ করতে পারব। এতটাই ক্ষিদে লেগে যেত।



আরও কত মজাই না করতাম শৈশবে। এই যে এত এত মজার অনুভুতি, এ সব কি এখনকার শহরে বেড়ে উঠা ছেলে মেয়েরা পাচ্ছে? তারা হয়ত বইয়ে পড়ছে। আর পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু অনুভুতিগুলো তো পাওয়া সম্ভব নয়।

আমার গ্রাম তোমাকে অনেক মিস্ করি! মানুষের জীবনের সুন্দর সময়গুলো এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায় কেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×