somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাসার অভিযান: অর্থনৈতিক ভাবনা :|

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগে খবরগুলো পড়ুন।

খবর ০১
নাসা এবং ইউরোপের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র ইসা মঙ্গল গ্রহে যৌথভাবে গবেষণা ও মিশন চালানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত রোববার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মঙ্গল গ্রহে যৌথ গবেষণা চালানোর অনেক দিনের প্রচেষ্টা বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
এই যৌথ গবেষণা শুরু হবে ২০১৬ সালে, ইউরোপভিত্তিক একটি মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে পাঠানোর মাধ্যমে। ২০১৮ সালে সেটি মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ গবেষণার লক্ষ্য হলো, মঙ্গল-পৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদান পৃথিবীতে নিয়ে আসা।
ওয়াশিংটনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন নর্থ আমেরিকান স্পেস এজেন্সিজের (নাসা) প্রধান প্রশাসক চার্লস বোল্ডেন ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সিজের (ইসা) মহাপরিচালক জিন জ্যাকুয়েস ডরডেইন।
মঙ্গল গ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এই যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বেশ কিছুদিন আগে। তখন প্রাথমিক আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে, কোন উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ উদ্যোগকে সফল করবে। উদ্যোগটিতে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তহবিল। কারণ, এর আগে মঙ্গল গ্রহসংক্রান্ত আরও অনেক গবেষণা কেবল তহবিলসংকটের কারণেই থমকে গেছে। ওয়াশিংটনে নাসা ও ইসার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মঙ্গল গ্রহে যৌথ গবেষণার স্বপ্ন পূরণের প্রথম পদক্ষেপ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একমত হয় যে সব ধরনের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মাধ্যমে তহবিলসংকট সহজেই কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং মঙ্গল গ্রহ নিয়ে একটি সফল গবেষণা চালানোও যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এরই মধ্যে এ অভিযানের জন্য ৮৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি তহবিল গঠন করেছে। শিগগির এই তহবিলের পরিমাণ এক বিলিয়ন ইউরোতে উত্তীর্ণ করার ব্যাপারে সম্ভব সবকিছুই করতে রাজি আছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
নাসা আগামী ২০১৬ সালের মঙ্গল গ্রহ অভিযানে একটি উৎক্ষেপণযোগ্য রকেট প্রদান করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ আছে। বিবিসি।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ১১ নভেম্বর ২০০৯

খবর ০২
২০১১ সালে নাসা ফের একটি অভিযানের জন্য তৈরী হচ্ছে৷ এই অভিযানে চাঁদের আবহাওয়া সম্বন্ধে আরও জানার চেষ্টা করা হবে ও তাঁর সঙ্গে চাঁদের মাটির প্রকৃতি সম্বন্ধেও খোঁজ নেওয়া হবে৷
নাসার অনুসারে লুনার অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ডাস্ট এনভায়রমেন্ট এক্সপ্লোর চাঁদের তল ও মাটির প্রকৃতি সম্বন্ধে বিস্তৃত খোঁজ খবর নেবে৷ নাসার থেকে জানানো হয়েছে এই অভিযান কম খরচের হবে৷
যে অন্তরিক্ষ অভিযান পাঠানো হবে তার খরচ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ডলার৷ এলএডিইই নামে অন্তরিক্ষযানটা চাঁদে পৌঁছাতে সময় নেবে চার মাস ও এক মাস ধরে এটি চাঁদের পরীক্ষা করবে৷

এবার মূল কথায় আসা যাক!
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন গ্রহে ও মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রতিটি অভিযানে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তা নিতান্তই বিলাসিতার। শুধুমাত্র উপরের দু'টি অভিযানেই নাসার খরচ বাংলাদেশী টাকায় নিচে হিসাব দেয়া হল -

অভিযান ০১
আজ ইউরোর মূল্যঃ ১ ইউরো = ৯৬.১৬৩৬ টাকা
তাহলে,
১,০০০,০০০,০০০ ইউরো = ৳ ৯৬১৬,৩৬,০০,০০০ টাকা।

অভিযান ০২
আজ মার্কিন ডলারের মূল্যঃ ১ মার্কিন ডলার = ৬৮.৪০ টাকা
তাহলে,
৮,০০,০০,০০০ মার্কিন ডলার = ৳ ৫৪৭,২০,০০,০০০ টাকা।

ভেবে দেখুন, যদি কোন কারণে নাসার এসব অভিযান সফল না হয় (যেভাবে অতীতে সফল হয়নি) তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে।

নাসার কিন্তু আয়ের পথও আছে, নমুনা দেখুন
নাসার তিনটি নভোযান আর কখনো মহাকাশে যাবে না, পাঠাবে না কোনো সংকেত কিংবা বার্তা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে বয়ে নিয়ে যাবে না কোনো সরঞ্জাম। তারা নিশ্চল হয়ে থাকবে জাদুঘর বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে ইচ্ছা করলে কোনো ব্যক্তিও কিনতে পারবে এ নভোযানগুলো। এ জন্য তাকে গুনতে হবে চার কোটি ২০ লাখ ডলার।



মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের ব্যবহূত ওই তিনটি নভোযান বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। সেগুলো ৩০ বছর ধরে মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহূত হয়েছে। ২০১০ সালে এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আগ্রহী ক্রেতাদের এগুলো কেনার জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিনটি নভোযানের জন্য যে দাম হাঁকা হয়েছে, সেই চার কোটি ২০ লাখ ডলারের মধ্যে ৬০ লাখ ডলার খরচ হবে কেবল এগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে।

তিনটি নভোযানের একটি এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের স্িনথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের জন্য বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। নাসা নির্মিত সবচেয়ে জটিল নভোযান এটি। রকেটের মতো করে মহাকাশে উড্ডয়নের পর এটি উড়োজাহাজের মতো করে পৃথিবীতে ফিরে আসত।

তথ্যসূত্রঃ
* গুগল
* হাঁসাড়া.কম
* বিনিময় হার - দৈনিক প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×