somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধুনিশা-৯

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিকেলের দিকে রুমি আর মিতাকে দেখে মা হঠাৎ খুশি হয়ে উঠলেন। বললেন, 'এতদিন পর আসতে মন চাইলো?'

মিতা বললো, 'খুলনা থেকে আজই ফিরলাম! সকালের দিকে ফিরে বিকেলেই তো আপনার কাছে ছুটে এলাম!'

তারপর আবার বললো, 'আগে বলেন খালাম্মা, আপনি কেমন আছেন?'

মা হেসে বললেন, 'বুড়ো মানুষরা যেমন থাকে!'

মা রুমির দিকে ঘনঘন তাকাচ্ছিলেন। শেষটায় বললেন, 'রুমি, তুই আজ চুপচাপ কেন?

মাঝখান দিয়ে একবার এলেই তো পারতিস? গায়ে চাদর কেন, শরীর খারাপ ছিলো?'

'হ্যাঁ। ঠান্ডা লেগেছে। খালাম্মার সঙ্গে কিন্তু রাগ করেছি!'

'কেনরে মেয়ে?' বলে, তিনি রুমির কাঁধে হাত রাখলেন। 'রাগ করেছিস কেন?'

'আমার জন্য কম দোয়া করেছেন!'

মা রুমির চিবুকে হাত দিয়ে বললেন, 'দোয়া খারাপ হোক ভালো হোক, কেউ কি কম করে?'

'নয় তো কি? বেশি দোয়া করেননি বলেই তো ঢাকার চাকরিটা না হয়ে রংপুরেরটা হয়েছে!'

রুমির কথা শুনে মা কিছুটা জোরেই হেসে উঠলেন।

তারপর বললেন, 'রংপুর কিসে হলো?'

রুমি মুখ ভার করে বললো, 'কলেজে। তাই খারাপ লাগছে!'

'এটা তো আরো ভালো খবর! কত ছেলে-মেয়েকে পড়াবি! এটা তো খুশির কথারে মেয়ে!'

তারপর হাসি মুখে বললেন, 'বোকা মেয়ে, খালি হাতে কেউ এমন ভালো খবর দেয়? মিষ্টি খাওয়াবি কিন্তু!'

'তাই তো নিয়ে এলাম!' বলে চাদরের নিচ থেকে মিষ্টির প্যাকেট ধরা হাতটা বের করে আনে রুমি।

মা মিষ্টির প্যাকেট দেখে অবাক হয়ে গেলেন। 'সত্যিই মিষ্টি নিয়ে এসেছিস?'

মিঠু কথা-বার্তার শব্দ শুনে দরজায় উঁকি দিয়ে রুমিকে দেখতে পেয়েই ছুটে এলো। 'ওম্মা! রুমি আপা, কখন এলে? আমাকে ডাকলে না কেন?'

তারপর পেছন থেকে রুমির গলা জড়িয়ে ধরে বললো, 'ওটা কে?'

'ও মিতা। আমার মামাতো বোন!'

মিতার দিকে তাকিয়ে মিঠু বললো, 'আমি মিঠু!'

মিতা বললো, 'জানি!'

'কি করে জানলেন?'

অবাক হয়ে মিঠু রুমির গলা ছেড়ে দিয়ে মিতার দিকে এগিয়ে যায়। 'আগে তো আপনি আমাকে দেখেন নি! আসেনওনি!'

'এসেছিলাম। কোনো বন্ধুর বার্থ-ডে পার্টিতে গিয়েছিলে!'

রুমি বললো, 'প্রথম দেখাতেই এত কথা বলতে নেই! আমার কথা শোন!'

'তুমি পুরোনো মানুষ! কি বলবে?'

ওদের কথা শুনে মা হাসছিলেন।

রুমি বললো, 'তুই কি ভেবেছিস আমি সেই একই রুমি আছি?'

'কেমন?'

মিঠু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

পাশ থেকে মিতা বলে উঠলো, 'ও এখন কলেজের লেকচারার!'

'সত্যি?'

মিঠু আবার রুমির গলা জড়িয়ে ধরলো। 'কোথায়?'

'রংপুর।'

'অতদূর যাবে? তোমার খারাপ লাগবে না?'

'খারাপ তো লাগবেই!'

'তুমি না থাকলে আমার খুব খারাপ লাগবে!'

'আমারও। তবে তোর জন্যে আমার খারাপ লাগবে বেশি!'

বলতে বলতে রুমির দু'চোখ কেমন ভিজে উঠে। আদর করে মিঠুর গালে হাত ছোঁয়ায়।
মা'র খুব খারাপ লাগছিলো। আবেগের বশে কেউ কেঁদে-টেদে ফেললে তিনি নিজকেই সামলাতে পারবেন না। তাই মিঠুকে বললেন, 'মিঠু! শুধু কি কথাই বলবি? চা-টা দিবি না?'

'তাই তো! ভুলে গেছি!'

লজ্জা পেয়ে চলে যাচ্ছিলো সে।

রুমি বললো, 'মিঠু দাঁড়া!'

তারপর প্যাকেট থেকে একটা মিষ্টি নিয়ে মিঠুকে বললো, 'হা কর!'

'না না। সবাই এক সঙ্গে!'

'তাহলে তোর জন্যে আমার স্পেশাল টানটার কী অর্থ থাকলো? সকালেই তো ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছি!'

মিঠু হা করলে মিষ্টিটা মুখে দিয়ে দেয় রুমি।

মিষ্টি মুখে ছুটে বেরিয়ে গেল মিঠু।

কিছুক্ষণ পর চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে এসে টিপয়ের উপর রেখে বললো, 'যার যেমন দুধ চিনি লাগে নিও!'

রুমি বললো, 'প্যাকেটটা ভেতরে নিয়ে যা। প্লেটে করে কটা নিয়ে আয়। যা ভাই!'

মিঠু প্যাকেট নিয়ে ফিরে গিয়ে একটা মাঝারি প্লেটে করে কটা মিষ্টি নিয়ে এলে রুমি বললো, 'আপনি নিন খালাম্মা!'

'আমি তো নেবোই! তোরা আগে নে!'

তারপর মিতাকে বললেন, 'নাও তো মা!'

'আপনি আগে নিন!'

একটা মিষ্টি হাতে নিয়ে মা বললেন, 'একটাই কিন্তু! ডাক্তার নিষেধ করেছে বলে আগেই ছেড়ে দিয়েছি। তবুও তুই এনেছিস বলে...'

'দু একটায় কিছু হবে না! ডাক্তাররা কত কিছুই বলে!'

পাশ থেকে মন্তব্য করলো মিতা।

মা একটা মিষ্টি খেয়ে চিনি ছাড়া এক কাপ চা নিলেন।

তারপর চা শেষ করে উঠে বললেন, 'তোরা কথা বল, আমি আসছি!'

মা উঠে গেলে মিতা বললো, 'মিঠু কি একাই কলেজে যাও?'

'হ্যাঁ।'

'হেঁটে না রিকশায়?'

'একা বলে রিকশায় যাই!'

'কলেজ কি কাছেই?'

'হ্যাঁ। হেঁটে গেলে মিনিট পনেরো লাগে।'

'তোমার একজন সঙ্গী হলে ভালো হয় না?'

'খুব!'

'আমি হলে কেমন হবে?'

'ঠাট্টা করছেন?' বলে, গম্ভীর হয়ে গেল মিঠু।

'সত্যি বলছি! রুমি জিজ্ঞেস করো!'

মিঠু রুমির দিকে তাকিয়ে বললো, 'কি আপা, সত্যি?'

'তোদের কলেজে বি.এস.সিতে ভর্তি হবে।'

তাদের আলাপের মাঝখানেই দরজার বেল বেজে উঠতেই মিঠু দরজা খুলে অবাক হয়ে বললো, 'ভাইজান, তুমি?'

'কেন? অসুবিধা করলাম?'

'অফিসে আবার রাগারাগি করে এসেছো? কখনো এ সময় আসোনি তো তাই!'

'সব সময় একই নিয়ম মানতে হবে কেন?' বলে, দরজা বন্ধ করে দিয়ে মাসুদ ঘরে এসে বসে।

'তারপর,' বলে, 'প্লেট থেকে চামচের কাঁটায় একটা মিষ্টি গেঁথে মুখে পুরে রুমিকে বললো, 'এবার তোর খবর বল!'

'কোনটা বলবো? চাকরী না বিয়ে?' বলে হেসে উঠলো রুমি।

আরেকটা মিষ্টিতে চামচের কাঁটা বেঁধাতে বেঁধাতে মাসুদ বললো, 'দু’টোই বল!'

'প্রথমটা হচ্ছে তোমার চেয়ে ভালো পাত্র পাবো না। তাই বিয়েটা আপাতত বাদ। আর এতদিন চাকরির চেষ্টায় ছিলাম, চাকরি একটা পেয়ে গেছি!'

'কোথায়? কিসে?'

'রংপুর। একটা কলেজে!'

'জয়েন করছিস কবে?'

'পরশু।'

'বেশ! খুশি হলাম!'

'জ্বালাতন করতে পারবো না বলে?'

'মোটামুটি সে রকমই!'

'তা হচ্ছে না!'

তারপর মিতাকে দেখিয়ে বললো, 'একে রেখে যাচ্ছি। আমার হয়ে প্রক্সি দেবে!'

'খুব দুঃখ পেলাম!' বলে হাসলো মাসুদ।

'খুব বেশি জ্বালাতন করবে না! কবিতা লেখে তো, মনটা মোটামুটি ভালো!'

'আচ্ছা, ফোনে কি এর কথাই বলেছিলি?'

'হ্যাঁ।'

মাসুদ মিতার দিকে তাকিয়ে বললো, 'লেখাগুলো আছে?'

'এখন সঙ্গে আনিনি!'

রুমি বললো, 'পরে এক সময় দিয়ে যাবে! তুমি যোগাযোগ করবে। করবে তো?'
'মনে থাকলে!'

'মিতাই মনে করাবে!'

মিঠু চা এগিয়ে দিলে, কাপ হাতে নিয়ে মাসুদ বললো, 'চাকরি পাওয়ার মিষ্টি তো খাওয়ালি, বেতন পাওয়ারটা কবে পাবো?'

'বেতনের টাকায় মিষ্টি খেতে হলে যে, তোমাকে রংপুর যেতে হবে!'

'থাক, লাগবে না! অত খরচ করে গিয়ে পোষাবে না!'

'কষ্ট ছাড়া কি কেষ্ট মেলে?'

'শুনেছি, এখনকার কেষ্টরা নিজের গরজেই হাজির হয়!'

মা ফিরে এসে মাসুদকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন। 'মাসুদ, তুই এ সময়?'

মা'র চেহারা দেখে মাসুদ বুঝতে পারলো যে, তার এই অনির্ধারিত আগমনটাকে তিনি সহজভাবে নিতে পারছেন না। তাই সে বললো, 'ভয় পেয়ো না! অফিসে গন্ডগোল না। শরীরও খারাপ না। রুমি ফোন করে কাঁদাকাঁটি করলো বলে এলাম!'

'অ্যাই, কাঁদাকাঁটি করলাম কখন?'

'যেভাবে বলেছিস, তা এক রকম কান্নাই!'

মার মুখ থেকে আশঙ্কার ছায়া সরে যেতে থাকে। 'অনিয়ম কিছু হলে ভয়ের না হোক, দুশ্চিন্তার তো বটেই!'

(চলবে...)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×