সম্প্রতি সাহিত্যসেবীদের কাছে একটি সংবাদ(আমি বলবো গুজব) বেশ আনন্দের খোরাক নিয়ে এসেছে। আমরা সাধারণত পরের দোষ-ত্রুটি অসততা হীনতা আর ব্যর্থতাকেই তুলে ধরতে উৎসাহী হই বেশি। আর তা নিয়ে কবিকুল শিরোমণিদের নিয়ে বেশ মুখরোচক কাহিনী বাতাসে ছড়াচ্ছে এবং তা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়ে দুর্গন্ধও কম ছড়াচ্ছে না। ভবিষ্যতে কেউ যদি শুনতে পায় যে, ওমুক কবিতা লেখে। তাহলে নির্ঘাৎ দুষ্টু লোকেরা বলে বসবে যে, শালা কবি হয়েছে পরের বউকে ফুসলিয়ে নিজের পকেট ভারি করার জন্যে। ফষ্টিনষ্টি করার জন্যে আর সে কুকর্মের কিছু সাক্ষী-প্রমাণ জমা করে রাখবে ভবিষ্যতে সে নারীটিকে প্রতারিত করার কাজে ব্যবহারের জন্য। আরে খবিস তুই কবি হয়েছিস ভালো কথা, তোর কবিতা যদি না বিকোয় তো আর কিছু করে খেয়ে পরে বাঁচতে শেখ! কাওরান বাজারে আলুপটল বিক্রি করতে না পারলে মুটেগিরি করলেও বেশ তিনবেলার আহার্য্যর সংস্থান হয়ে যাবে। আর তোষামোদ যখন ভালোই পারিস পার্লারে গিয়ে বডি ম্যাসেজের কাজও তো ভালোই পারতিস। কেন বাপু নিজের ঠাঁট বজায় রাখতে পরের বউকে ফুঁসলিয়ে চুরিচামারীতে বাধ্য করিস?
মেয়েরা তো একটি বিড়ালের বাচ্চাকে কদিন আশে পাশে দেখলেও কদিন পর সেটির অদর্শণে মন খারাপ করে ফেলে। আর তুমি তো কবি নাম ধারী স্পর্শকাতর অনুভূতির মানুষ। তোমার তো লজ্জাবোধ কিছুটা থাকা উচিত যে, কবিদের ছ্যাঁচড়ামী মানায় না। তারা উচ্চ শ্রেণীর মানুষ। যাকে আমরা কুলীন বলে দূর থেকেই আদাব-সালাম দিতে এমন কি ভালোবাসতেও শিখেছি। তোমাদের মত লোকেরা যদি বাবর আলির মত কাজকারকারবারে সিদ্ধহস্ত হয়ে যাও তো ভবিষ্যতের যুবকরা করবে কি? যৌবনের পথ ধরেই কবিতার উম্মেষ ঘটে। সে যুবক যখন জানবে তার পূর্ববর্তী কতিপয় কবি নামধারী কৃমিকীট জোচ্চুরি আর বাটপারি করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নিয়েছিলো, তাহলে কি তারা তোমাদের থুক দেবে না?
আমরা তো জানি কবি র্যাঁবো পরবর্তীতে চোরাকারবারী হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও তো একধরনের ব্যবসা বলেই উচ্চ-মহলে স্বীকৃত। কিন্তু তোমরা এ কোন তরিকা বের করলে মেয়েদের ফুসলিয়ে ভুলভাল তোষামোদ করে তাদের স্বামীদের কষ্টের কামাই নিজের পকেটস্থ করার? তোমাদের কি কাজকর্ম করে খেতে এতই লজ্জা? চাকরি-বাকরি করতে গেলে তোমাদের আঁতে লাগে, মনে হয় পরের দাসত্ব করার জন্যে তোমাদের জন্ম নয়, তাহলে কি পরের সংসারের পাইন মেরে দিয়ে, একটি দম্পতির মাথা সমাজ আর তার আত্মীয়কুলের কাছে হেঁট করে দিয়ে নিজের মাথা উঁচিয়ে চলবে? তোমরা তো নিজেদের অনেক শ্রেষ্ট জীব বলে ভাবো, তোমাদের তোষামোদ যারা করতে চায় না, তোমাদের পেছনে গালি দেওয়া জুতো মারার পরও তোমাদের সামনে পানের রসে ঠোঁট লাল করে বলে ওঠে না বাহবা, বাহবা, কবি কী ছন্দ বাজালেন! তাদের মত সত্যবাদী কাঠখোট্টা মানুষগুলো হয়ে যায় আরো নিম্ন শ্রেণীর। তোমাদের আশেপাশে থাকে, ছারপোকা। তোলাপোকা। মশা। মাছি। এখন দেখতে পাচ্ছি কেবল তোমরাই কতিপয় উচ্চশ্রেণীজাত, পরের ধনে পোদ্দারী করার লোক, পরের ঘরের গাঁট কাটার কারিগর। মশা-মাছিরা তোমাদের সৌভাগ্য দেখে কেবল ঈর্ষাই করবে না আড়ালে আড়ালে হয়তো আপন ব্যর্থতার জন্যে অশ্র“ বর্ষণও কম করবে না। ধন্য তোমাদের মান-অপমান বোধ। ধন্য তোমাদের জাত-কুল-মান। ধন্য তোমরা। তোমাদের নিয়ে আমরা খুশিতে এখন পাছায় পাছায় তবলা বাজাবো।
সাধারণে যদি উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেই ক্ষান্ত দিতো তাহলেও হয়তো দুর্গন্ধটা কিছু কম ছড়াতো। কিন্তু তারা তো কটাক্ষ করবে সেই নারীদের যারা কারো বিবাহিতা স্ত্রী হয়েও তোমাদের তোষামোদে হোক আর তোমাদের কাকুতি মিনতিতেই, কখনো স্বামীর পকেট থেকে চুরি করে, কখনো বা নিজের হাতখরচ বাঁচিয়ে কখনো বা তোমাদের কুম্ভীরাশ্র“ দেখে বন্ধুর কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছে। তোমাদের কারণে কি তারা বিশ্বাসঘাতিনীর খাতায় নিজের নামটাকে তুলে দিলো না? আর তোমাদের দিকে তাকিয়ে তারা একবারও ভাবতে চাইলো না যে, তাদের ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তোমাদের কালো হাতে লেপে দেওয়া কালিতে তাদের সুন্দর মুখগুলো কুৎসিত হয়ে যাবে। সে মুখগুলোকে লুকিয়ে রাখতে কেউ বোরখার আড়াল নেবে। কেউ বা স্বামীর ঘর ছাড়বে। কেউবা মৃত্যুকেই মনে করবে উত্তম আত্মগোপন। ধিক তোমাদের। আমাদের প্রজন্মের বা তারও পরের প্রজন্মের যুবকদের কবি হওয়ার পথকে তোমাদের নোংরা বর্জ্যে পিচ্ছিল করে দিলে। তোমরা কতবড় শব্দের কারিগর, কতবড় শব্দশিল্পী আর কত শক্তিশালী শব্দের ধীবর যে, বিশেষ কতগুলো শব্দ ব্যবহার করেই পরের বউকে নিজের করায়ত্ব করে ফেলতে পারলে, আমি বিস্মিত হই। আমি ভাবতে গেলে স্তব্ধতা আমাকে আলিঙ্গণ করে আষ্টেপৃষ্ঠে। আমি নিরবতার কাছে নতজানু হই।
ওহে দুরাচার শব্দকারিগরবৃন্দ, তোমাদের আদাব-সালাম-নমস্কার। আর সে নারীদের প্রতি রইলো অসীম সমবেদনা যারা, এই ঠগদের ফাঁদে পা দিয়ে স্বৈরিণী নামের কলঙ্কতিলক ধারণ করেছেন। আর সমবেদনা সে স্বামীদের প্রতি যারা এতকাল ভালোবেসে বিশ্বাসকরে এসেছেন তাদের মাকালফলগুলোকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



