somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি গল্পের খসড়া

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




পাঠককে জানিয়ে রাখি যে, এটি একটি দীর্ঘ পোস্ট।










মানুষের দোষ নাকি নিয়তির দোষ? আর নিয়তি বলে কি আদৌ এমন কোনো ব্যাপার আছে যাতে মানুষের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো প্রভাব পড়ে না? যে যাই বলুক না কেন, মানুষের জীবনে সবার ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটলেও কারো কারো ক্ষেত্রে তো ঘটে অবশ্যই। এই যেমন আমাদের শাহানারা খাতুনের জীবনের দিক যদি তাকাই তাহলে এমন কিছু কিছু ঘটনার মুখোমুখি হবো যার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তবুও যারা এ ব্যাপারটি স্বীকার করতে চান না তারা একে কাকতালীয় বলে এক ফুৎকারেই উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু তাতে কি আমাদের শাহানারা বেগমের অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সর্বৈব মিথ্যে হয়ে যাবে? কিন্তু যা ঘটে গেছে তা মিথ্যে হয় কী করে? এই যে ভদ্র মহিলার ডান দিকের কানটি নেই, তা কি মিথ্যে? আর কান না থাকার ব্যাপারটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে যে, কান না থাকার সঙ্গে হয় শাহানারা নিজে জড়িত নয়তো তার নিয়তি তাকে টেনে এনে ফেলেছে এমন বিপাকে। কিন্তু স্বভাবিকভাবেই একটি প্রশ্নের উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি যে, শাহানারা কেমন করে তার কান হারালেন? তার পেছন পেছন আরো প্রশ্ন এসে ভিড় করবে যে, এ ঘটনাটি ঘটলো কখন? দিনে না রাতে? কে ঘটালো? কেনই বা ঘটালো? আর যখন ঘটনাটি ঘটে শাহানারা কি প্রতিরোধের চেষ্টা করেন নাই? তিনিই বা তখন করছিলেন কি? এমন একটি বিপদের সময় আশপাশে কেউ ছিলো না, যে তাকে বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করতে পারে?

পাঠক, আমরা যদি এভাবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ দেই, তাহলে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উঠতেই থাকবে। আসতে থাকবে জিজ্ঞাসার পর জিজ্ঞাসা। তার চেয়ে বরং আমরা ঘটনার শুরুর দিকে তাকাই। কী দেখছি? সময়টা শাহানারার এলাকার ভাষায় বলে কালি হইঞ্জালা। অর্থাৎ ভোর শুরু হতে এখনও খানিকটা সময় বাকি আছে। অন্যদিকে রাত ফুরোতেও খানিকটা সময় বাকি আছে। এ সময়টাকে পাঠক কোন সময় বলে অভিহিত করবেন তা আমার জানা নেই। কাকভোর কি বলা যায়? হয়তো যায়। কিন্তু সে সময় তো কাকের ডাক শুনিনি। অবশ্য আজকাল রাত ন’টা দশটার দিকেও কোনো মাথা-গরম কাক দু’একবার কাকা করে উঠতেও শুনেছি। কাজেই কাকভোরের বিতর্কে না গিয়ে কালি হাইঞ্জালা সময়টাতেই স্থির থাকতে চেষ্টা করি।

কী ঘটেছিলো এ সময়টাতে? যদি শাহানারার ভাষ্যে শুনতে যাই, তাহলে তার আঞ্চলিক ভাষায় বলা কথাগুলো সবার বোধগম্য নাও হতে পারে। তাই আমি শুনে যা বুঝেছি তাই বলি। শাহানারা আমাকে বলেছে, না রাত না ভোর যাকে সে কালি হাইঞ্জালা বলে অভিহিত করেছে সে সময়টাতে সে ঘুমিয়েছিলো তার মায়ের সঙ্গে।

বছর শেষে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হবে কি হবে না, দেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে চারদিকে হরতাল আর ধর্মঘটের উপর্যুপরি অত্যাচারে অরাজনৈতিক জনজীবন যখন প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলো, চাল-ডাল আনাজ-পাতির দাম যখন হুহু করে বাড়তে বাড়তে সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে প্রায় সেই সময়গুলোর এক শেষ বিকেলে, পশ্চিমের আকাশ যখন অস্তায়মান সূর্যের লালচে আলোকে লাজরাঙা নববধূর মত দেখাচ্ছিলো, ঠিক তখনই একটি রিকশা ভ্যানে মালপত্র বোঝাই করে সে মালপত্রের পেছনে নিজকে আড়াল করে শাহানারার পিতা আল্লারাখা মিয়া দীর্ঘদিন প্রায় চার বছর প্রবাসে থেকে যখন বাড়ি এসে উপস্থিত হয়, শাহানারা তখন হাত মুখ ধোওয়ার জন্য পুকুরের দিকে যাবে যাবে ভাবছিলো, তখনই তার চোখে পড়ে বাড়ির উঠোনে মালপত্র বোঝাই একটি রিকশা এসে থামলো।

শাহানারা রিকশা ভ্যানটির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ভাবছিলো, এমন সময় কে অতগুলো মালপত্র নিয়ে তাদের বাড়ি আসবে? কিংবা অন্য কোনো বাড়ির মানুষ কিছু সময়ের জন্য হয়তো এখানে ভ্যানটিকে দাঁড় করিয়েছে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ, এখান থেকে রিকশা ভ্যান সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার মত অতটা প্রশস্ত পথ নেই। অন্যান্যরা আরো খানিকটা দূরে থাকতেই রিকশা ভ্যান থামিয়ে কাঁধে বা মাথায় করে তাদের জিনিসপত্র বাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু অন্য বাড়ির কেউ হলে তাদের উঠোনেই কেন ভ্যান দাঁড় করাবে? উঠোনটি তাদের ব্যক্তিগত সীমানার ভেতর পড়ে বলেই এখানে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজন হলেই রিকশা বা রিকশা ভ্যান নিয়ে আসতে পারে না। ব্যাপারটি দেখে ভেতরে ভেতরে খানিকটা রাগও উঠছিলো কিশোরী শাহানারার। তখনই সে দেখতে পেলো চোখে কালো রোদ চশমা পরা একটি লোক রিকশা ভ্যানের মালপত্রের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ভেতরে ভেতরে খানিকটা বিভ্রান্তিতে ভোগে সে। লোকটি দেখতে ঠিক তার বাবার মত। কিন্তু হঠাৎ করে তার বাবা এখানে আসবে কি করে? কোন খবর না সংবাদ না, হুট করে কেউ বিদেশ থেকে দেশে চলে আসতে পারে? তাও আবার বিমান বন্দর থেকে সোজা নিজের বাড়িতে?

বিস্ময় কাটিয়ে উঠার খানিকটা আগ দিয়েই লোকটি একগাল হেসে বলে উঠেছিলো, শানু আম্মা, কেমন আছস?

পরিচিত আর প্রাণপ্রিয় কণ্ঠস্বরে শাহানারার হৃদপিণ্ড ধ্বক ধ্বক করে উঠেছিলো কয়েকবার। তারপরই আব্বা! বলে একটি চিৎকার দিয়ে সে ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো তার বাবার আল্লারাখা মিয়ার বুকে।

শাহানারা যদি জানতো যে, তার বাবার বুকে এইই তার শেষ ঠাঁই, তাহলে হয়তো সে তার বাবাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিলো, বাকিটা জীবন এভাবেই থাকতো। সেদিন যদি সে তার বাবার বুক থেকে মাথা না তুলতো, তাহলে হয়তো তাকে হতে হতো না পিতৃহীন। আহত হয়ে খোয়াতে হতো না একটি কান। মাকে পড়ে থাকতে দেখতে পেতো না পঙ্গু হয়ে বিছানায়।

আমাদের সমাজের কিছু আবর্জনা কেউ সৃষ্টি না করলেও হয়তো তারা এমনি এমনিই বেড়ে উঠতো। যারা কোনো কাজ করবে না। সমাজের বা দশের কোনো উপকারে আসবে না। দেশ যাদের নিয়ে গর্ব করার মত পুজিঁহীন এই মানুষগুলোকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেও আছে আরো কিছু নষ্টবীজ। যারা নিজেরা পচে-গলে নর্দমার কীট পর্যায়ে চলে গেছে, তারা হয়তো মনেপ্রাণেই চায় যে, পুরো সমাজটাই পচে যাক। পুরোটা দেশ হয়ে উঠুক নর্দমা। এতে তাদের সুবিধা হয়। বেঁচে থাকার একটি পথ সৃষ্টি হয়। এই গুটিকয়েক কীটের কারণে দিনদিন দুর্গন্ধে ভরে উঠছে আমাদের চারপাশ। হয়তো আমরাও দিনদিন অভ্যস্ত হয়ে উঠছি সেই দুর্গন্ধে। যে কারণে হয়তো আমাদের কোনো মনোবিকার নেই। আমাদের মত মেরুদণ্ডহীন মানুষগুলোর মনোবিকার থাকলেই বা কি। এ শ্রেণীটা প্রতিরোধ জানে না। কেবল জানে মৈথুন আর তেলাপোকার ধরনে জরা-ব্যধিকে আঁকড়ে ধরে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে।

শাহানারা সেদিন আল্লারাখা মিয়া ফিরে আসার আনন্দেই হয়তো কিছুটা আগে আগেই শুয়ে পড়েছিলো। শুয়েছিলো তার মায়ের বিছানায়। প্রতিদিন যেভাবে মায়ের পাশটিতে শুয়ে পড়ে। সেদিনও সে শুয়ে পড়েছিলো। বাতি নিভিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরই তার মা রেহনাকে ফের উঠতে দেখা যায়। সে অভ্যাস বশে জিজ্ঞেস করেছিলো, কই যাও মা?

রেহানা জানিয়েছিলো, দেইখ্যা আই তর বাবায় ঘুমাইলো কিনা। তুই এহান থাইক্যা উঠিস না কইলাম।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার মা আসেনি। অপেক্ষায় অপেক্ষায় সে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো বলতে পারবে না। হঠাৎ তার ঘুম ভেঙেছিলো বিচিত্র আর ভয়ঙ্কর শব্দে। জেগে উঠে সে দেখতে পেয়েছিলো তাদের ঘরের চাল নেই। এমন কি তার মাও পাশে উঠে বসেছে। বাইরে কেমন শোঁ শোঁ একটি শব্দ শোনা যাচ্ছে। তারপরই যেন লহমায় কিছু একটা তাকে এক ঝটকায় ঠেলে নিয়ে চলে। কিছু বুঝে উঠবার আগেই সে নিজকে আবিষ্কার করে অর্থে পানিতে পাক খাচ্ছে। চারদিকে কেবলই অন্ধকার। সে মুহূর্তে নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ তার ছিলো না। শুধু চেষ্টা ছিলো পানির নিচ থেকে মাথাটাকে উপরের দিকে ভাসিয়ে তুলতে। একবার যদি খানিকটা শ্বাস নিতে পারতো। তাহলে মরে গেলেও কোনো দুখ-তাপ হতো না। কিন্তু বুকের ভেতরটা যে বাতাসের অভাবে ফেটে যেতে চাচ্ছে। এভাবেই প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝতে যুঝতে সে বিস্মৃত হতে থাকে চারপাশ। বিস্মৃত হয় নিজকে।
বিস্মিৃতির ঘোর কাটিয়ে যখন চোখ মেলে সে তাকিয়েছিলো, তার আগেই কেটে গেছে তিনটি দিন। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে এসেছিলো তার। আর ডান কান সমেত ব্যান্ডেজ দেখতে পেলে তখনই সে জানতে পেরেছিলো যে, তার ডান কানটি কোনোভাবে কাটা পড়েছে।

এ কথা জেনে সে অবাক না হয়ে পারেনি। সে তো পানিতে ভেসে যাচ্ছিলো, কান হারালো কখন? কিভাবে হারালো কানটি? এর জবাব কেউ দিতে পারেনি তাকে। এমন কি সে নিজেও আবিষ্কার করতে পারেনি এর হেতু।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সে সরাসরি ফিরে আসে গ্রামে। আর ঝড় জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত ঘরের সামনে পায়ে ব্যান্ডেজ-প্লাস্টার করা মা রেহানাকে দেখতে পেয়ে ছুটে যায় একইভাবে। যেভাবে কদিন আগে ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো বাবা আল্লারাখা মিয়ার বুকে।



ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে, খানিকটা সরকারি সহায়তা আর খানিকটা স্থানীয় সহায়তা মিলিয়ে মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সামান্য কিছু টাকা তুলে নিয়ে ঘরদোর ঠিক করে নিয়েছিলো শাহানারা। ঘরে যা আসবাব ছিলো কিছুই ছিলো না। যেমন ছিলো না তার বাবা, তেমনি ছিলো না তার বাবার বিদেশি লাগেজ, অ্যাটাচি ব্যাগ। সে জানতেও পারেনি বিদেশ থেকে আসার সময় তার বাবা কিকি জিনিস নিয়ে এসেছিলো।

তারপর শাহানারা অনেক চেষ্টা করেছে নিয়তি বা ভাগ্য বলতে যে অদৃশ্য অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপারটি আছে তাকে জয় করতে। তার বাবা বিদেশে থাকা কালীন তাদের জমিজমা বর্গা করাতো। পানি নেমে যাওয়ার পর এবার সে নিজেই জমিতে কাজ শুরু করে দিয়েছিলো। কিন্তু তাদের গ্রামের মসজিদের ইমাম কারি মহিবুল্লা খানিকটা ধমকে বলেছিলেন, মাইয়া মানুষে জমিতে নামতে নাই। ফসল হয় না। ক্ষেতে গজব পড়ে।

স্কুল কামাই দিয়ে নিজের ক্ষেতে কাজ করতে করতে শাহানারা জবাব দিয়েছিলো, তাইলে আমার ঘরে তিনবেলা খাওন পাঠাইবেন?

কারি মহিবুল্লা বেশ অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন আর সে অবস্থাতেই শাহানারা ফের বলে উঠেছিলো, ভাতের অভাব না থাকলে আমি ক্ষেতে কাম করমু না।
পরদিন জুম্মাবারে মহিবুল্লা শরিয়তের বিচার ডেকেছিলো শাহানারার নামে।
বিচারে যেতে ভয় পায়নি সে। মাথায় ঘোমটা ছিলো না বলে, গ্রামের দু একজন মুরুব্বি অনুযোগ করলে মাথায় আঁচলটা টেনে দিয়েছিলো সে। কিন্তু ভয়ে কুকড়ে যায়নি।

মহিবুল্লা যখন বলছিলেন যে, বিয়ের লায়েক মেয়ে ক্ষেতে গিয়ে কাজ করে পুরুষের মত, যা শরিয়তের অবমাননা।

তাইলে আমারে কিডা বিয়া করবো? আপনে বিয়া করবেন হুজুর? আমরা মা মাইয়া তিনবেলা খাইতে পাইলে আর বছরে দুইডা কাপড় পাইলে অন্য কিছু চাই না।

মহিবুল্লা রেগে গিয়ে তার আদব-কায়দা আর লেখাপড়াকে কথার চাবুকে বেশ করে তুলোধুনো করেছিলো সেদিন। কিন্তু শাহানারার ক্ষেতে কাজ না করার পক্ষে কোনো সমাধান বা যুক্তি দাঁড় করাতে পারেনি। গ্রামের আরো কয়েকজন বলে উঠেছিলো যে, সে নিজের ক্ষেতে কাজ না করলে কে করে দেবে তার কাজ? আর এখন চারদিকে অভাবের সময় কে তাকে বিনা পয়সায় কাজ করে দেবে?

মহিবুল্লার কোনো ফতোয়া সেদিন কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত পর্দা রক্ষা করে যদি শাহানারা ক্ষেতে কাজ করতে পারে তাহলে তার আপত্তি নাই।
এ কথা শুনে হেসে উঠেছিলো শাহানারা। তাইলে কি বোরখা পিন্দা ক্ষেতে কাজ করমু?

শরিয়ত মানতে হইলে ধর্ম রক্ষা করতে হইলে এমনই করতে হইবো।

মহিবুল্লার কথা শেষ না হতেই সভায় গুঞ্জরণ ওঠে। কেউ কেউ বলে, বোরখা পিন্দা ক্ষেতে কাজ করে কেমনে?

যারা এই কথা মানবা না তারা জানি আমার পিছনে নমাজ না পড়ে।
মহিবুল্লার ফতোয়া শুনে কেউ তেমন একটা অবাক না হলেও সেদিনের আসর আর মাগরিবের অক্তে আগের চেয়ে অনেক কম মুসুল্লি এলো। কিন্তু এশার অক্তে মহিবুল্লা নিজেই একা একা আজান আকামত দিয়ে নামাজ পড়ে নিজের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

এভাবেই একটি গ্রামের মানুষ একটি মেয়ের অধিকারকে কেন্দ্র করে আস্তে ধীরে দুটোভাগে ভাগ হয়ে যেতে থাকলেও মহিবুল্লার তেমন কোনো জোর ছিলো না তাদের পুনরায় এক করেন। তবুও তিনি আখেরাতের ভয় দেখিয়ে, আল্লার ভয় দেখিয়ে লোকজনকে নিবৃত্ত করতে চাইলেন। কিন্তু দেখা গেল আরো মেয়েই শুধু নয়, কেউ কেউ তাদের যুবতী স্ত্রীদের নিয়ে ক্ষেতে কাজ করতে আরম্ভ করে দিলে মহিবুল্লা ফের শরিয়তের বিচার ডাকায়। কিন্তু খুব বেশি আল্লা-পাগল কিছু বয়স্ক মানুষ ছাড়া সে সভায় আর কেউ গেল না দেখে কাজের সময় ক্ষেতের পাশে এসে মহিবুল্লা ফতোয়া দিতে আরম্ভ করলে, কেউ কেউ বললো, আমরা আল্লার কাম করলে কি আল্লায় আমাগো ক্ষেত চাষ দিয়া যাইবো?
ফিরিস্তারা আইয়া কি আমাগো ক্ষেত নিড়ানি দিয়া যাইবো?

মহিবুল্লা এমন নাফরমানি কথাবার্তা শুনে আর দেরি করেননি। অভিশাপ দিতে দিতে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই যেন বলতে গেলে পুরো গ্রামে কাজের একটি জোয়ার দেখা দেয়। লেকজন মসজিদে না গেলেও কখনো কাজ করতে করতে নামাজের অক্ত হয়ে গেলে ক্ষেতের পাশেই নামাজ পড়ে। যেহেতু কারি মহিবুল্লা এসব নাফরমানিদের নিষেধ করে দিয়েছেন মসজিদে যেতে। তাই নাফরমান লোকগুলোর জন্য পুরোটা গ্রামই হয়ে উঠলো মসজিদ।

শাহনারাদের কোনো গরু ছিলো না বলে জমি চাষের জন্য অন্যের হালের অপেক্ষা করতে হয়। এমনিতেও গ্রামে খুব বেশি গরু ছিলো না। যারা নতুন করে গরু কিনতে পেরেছিলো তাদের সংখ্যাও বেশি নয় বলে হালের চাহিদা বেশি।
সে কারণে তার দরও বেশি। কিন্তু হালের জন্য যে টাকা দিতে হবে তার আরো কম টাকাতেই ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করিয়ে নেয় সে। তার মত আরো অনেকেই করিয়েছে। আর এভাবেই একজন শ্রমিক শাহানারা, একজন ছাত্রী শাহানারা এগিয়ে নিতে থাকে তার জীবন।

পাঠক, শাহানারা যদি এখানেই তার গল্প শেষ করে দিতো তাহলে হয়তো আমাকে আর বেশি কিছু লিখতে হতো না। কিন্তু শাহানারা ফের তার গল্প বলতে আরম্ভ করে দিয়েছিলো।

(প্রিয় ব্লগার, গল্প শেষ হয় নাই। বাকিটা কোনদিন দিতে পারি জানি না। কারণ নতুন পাস্ওয়ার্ড নিয়ে দু'তিনবারের বেশি লগইন করতে পারি না। ইউ আর এল ওপেন হয় না। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ হঠাৎ কোনোদিন এখানে ঢুকতে পারি।)
ঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁ
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×