আমার প্রিয় পোস্ট

সব কিছুর মধ্যেই সুন্দর খুঁজে পেতে চেষ্টা করি............

মে দিবস; প্রেক্ষিত বাংলাদেশঃ

০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ৯:২৭

শেয়ারঃ
0 0 0

মে দিবস; প্রেক্ষিত বাংলাদেশঃ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত গতকাল অনেক ঘটা করে আমাদের দেশেও পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। প্রধান মন্ত্রী পল্টন ময়দানে বিশাল মহাসমাবেশে বক্তৃতা করেছেন। তিনি অনেক আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য। আজ বিরোধী দলের নেত্রীও একই যায়গায় মহা সমাবেশ করে অনেক প্রতিশ্রুতি দিবেন নিশচই। আমরা জানি-১৮৮৬ সালে যুক্তরাস্ট্রের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা কর্ম দিবসের দাবীতে আন্দোলন করেছিলেন শ্রমিকেরা। তাদের সেই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক প্রান হারান।তাদের সেই আত্মত্যাগের ফলেই যুক্তরাস্ট্রের শিল্প মালিকেরা শেষ পর্য্যন্ত শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা শ্রমের দাবী মেনে নিয়েছিলেন। তখন থেকে পুঁজিবাদী বিশ্বে এই দিনটি নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য নাহলেও সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে ঘটা করে পালন করা হয় মহান মে দিবস।যদিও এখন তা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। হয়তবা দেশে দেশে এখন শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিত সপুর্ণ ভিন্ন।

দিনে ৮ ঘন্টার বেশী কাজ নাকরার দাবি তাদের জন্যই অর্জিত হয়েছিল-যারা কলে-কারখানায়, অফিস আদালতে কাজ করতেন এবং সপ্তাহান্তে বেতন পেতেন। কিন্তু আমাদের দেশের অগনিত সাধারণ শ্রমিকের কোন অফিস-আদালত, কোন কারখানা নেই। তাদের শীত গ্রীষ্ম বর্ষা বসন্ত নেই। পরের দিনের কাজের নিশ্চয়তা নেই। তাদের উদায়স্ত পরিশ্রম করতে হয়। তাদের কর্ম ঘন্টা নেই, তাদের দিন-রাত বলে কিছু নেই।

এই যে দুঃসহ গরমে নাকাল গোটা জনপদের মানুষ; তাতে কি দাড়ানোর জো আছে সাধারন শ্রমিকের? যে শ্রমিকেরা ঠেলায় ঠেলে নিয়ে যায় নাগরিকের প্রয়োজনের পণ্য, যে নারী শ্রমিক দুধের শিশুকে তপ্ত বালুতে শুইয়ে রেখে দিনভর ইট ভাংগে সুরম্য ভবন নির্মাণের জন্য, যে শিশু শ্রমিক(মিন্তী)নিউ মার্কেট, কাওরান বাজার কিম্বা সোয়ারি ঘাটে মালিকের পণ্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানন্তর করে-এই দুঃসহ গরমে তার নিত্ত দিনের কাজের কোন নিস্তার নেই। জীবিকার তাড়নায় তাদের কোন বাধা ধরা সময়ের নিয়ম নেই, কাজকে অস্বীকার করার কিম্বা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ার কোন সুযোগ নেই। দিনান্তে যা রোজগার তাই দিয়ে টেনেটুনে চলে তাদের সংসার। একদিন রোজগার বন্ধ মানেই-একদিন পরিবারের সকলের উপোষ থাকা।

কিন্তু এই হাড়ভাংগা খাটুনির দিনমজুরেরাই নগরীর স্বাচ্ছন্দের অবিচ্ছেদ্য উপাদান।গরমের স্বস্তির উপকরণ হয়তবা তরমুজ। সেই তরমুজ পাইকারী বাজার থেকে পাড়ায় পাড়ায় বয়ে আনবে কে? কেনো, সেইসব মুটে মজুর!কিন্তু সুস্বাদু একফালি তরমুজ খেতে পায়না গবিব দিনমজুর। সুয়ারেজ লাইন নস্ট হয়েছে-মেরামত করবে কে? কেন, সেইসব মুটে মজুর!তানাহলে নাগরিক জীবনে ঘটেযাবে অনেক অনর্থ। কিন্তু মুটে মজুরের জীবনের, জীবন সংগ্রামের অবর্ণিত করুণ কাহিনী কোনদিন ভদ্রসমাজের কাছে তুলে ধরা হয়না। তাদের দুর্দশায়, অসুখ বিসুখে, তাদের অমানবিক জীবনযাপনের দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়ায়না বিত্তশালীদের কেউ।তাদের দিন বদলের সনদ নিয়ে হাজির হয় বড়বড় রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র ভোটের সময়।দেশের সব অনিয়ম "ডিজিটাললী" বেড়ে যায়, বড় লোক আরো বড় হয়, পলিটিক্যাল টাউট অসহায় মানুষকে ঠকিয়ে ডিজিটাল স্পীডে টাকার পাহাড় গড়ে। কিন্তু অভাগা দিন মজুরদের ভাগ্যের চাকা বদল হয়না "এনালগ" পদ্ধতিতেও! তাদের জীবনের চাকা বদলে দেবার জন্য না সরকার, না নাগরিক, না কোন ভিন্ন কর্তিপক্ষ আছে।শুধু মাত্র ১ মে আসলেই আমরা পত্রিকার প্রথম পাতায় তাদের লড়াইয়ের ছবি দেখি।প্রচন্ড রোদে খালি গা, ছিন্ন ভিন্ন লুংগী পরা, উত্তপ্ত পীচঢালা পথে খালি পায়ে ঠেলা ঠেলতে ব্যস্ত, রিকশার প্যাডেল মারতে ব্যস্ত তাদের প্রতিটি লোম কুপের ঘামের ফোঁটার শিল্পীত সব ছবি তোলায় ব্যস্ত আমাদের পেশাদার সাংবাদিক ফটোগ্রাফার বৃন্ধ।সেই সব ছবিগুলোও কখনো কখনো ফটোগ্রাফারের ভাগ্যের চালা খুলে দেয়; কিন্তু শ্রমজীবি মনুষগুলোর ভাগ্য অপরিবর্তনীয় থেকে যায়।

ঠেলার চাকা ঘোরে, রিকশার চাকা ঘোরে। যে শ্রমিক যানবাহনের চাকা সচল রাখে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে; কিন্তু সেইসব শ্রমজীবী মানুষের জীবনের চাকা জগদ্দল পাথরের মতো স্থির হয়ে থাকে-যা কিছুতেই সচল হয়না।
সচল হবেনা।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ৯:৫০
দূরন্ত বলেছেন: দারুন বলেছেন।প্রিয় পোস্টে যোগ হলো।
শ্রমজীবীদের ভাগ্য অন্য কেউ পরিবর্তন করতে আসবে না, যতদিন তারা নিজেরাই সেই চেষ্টা করবে।
শ্রমিকদের দাবী দা্ওয়াগুলো নিয়ে আমারও একটা পোস্ট আছে। সময় পেলে দেখেন Click This Link
শুভেচ্ছা।
০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:০৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আমি আপনার লেখার একজন নিয়মিত পাঠক। আপনার অনেক লেখার মধ্যে "স্মৃতির শহর হোয়াইটহ্যাভেন ভ্রমণ" আমার প্রিয়তে আছে। আপনি যাকিছু লিখেন তা বিস্তারিত ভাবেই লিখেন-যা আমাকে মুগ্ধ করে।আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছু জানা যায়, অনেক কিছু শেখা যায়।

শুভেচ্ছা রইল।

০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ৮:৫১

লেখক বলেছেন: থ্যাংক ইউ।

০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৪. ০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩
মিলটন বলেছেন: আসলে আমরা শ্রমিকরা সারাজীবন শ্রমিকই থাকবো কিন্তু আমাদের দাবীদাওয়া গুলো কোনদিনও পূরণ হবে না।

গুডপোষ্ট।
০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: কিন্তু শ্রমিকদের দাবীদাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মুখে বক্তৃতার ফুলঝুড়ি তুলবে। খবরের কাগজে ছবি ছাপা হবে নানান ভংগীমায়। রাজনীতিবিদদের শঃণৈ শঃণৈ উন্নতি হবে শ্রমিকদের কাধে পারা দিয়ে! খবরের কাগজে উপসম্পাদকীয় ছাপা হবে কিন্তু সংবাদ কর্মীদের কোন উন্নয়ন হবেনা।বরং সম্পাদকের পকেট ভারী হবে.........

৫. ০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
বাঙ্গাল বলেছেন: +. শুধু মে দিবসেই এসব কথা শোনা যায়...সারা বছর বলার টাইম কই?
----------------------------
জাহাজ নির্মান শিল্প,স্বাপ্নিক ডঃবারির ৭০ হাজার কোটি টাকা
০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১১:০৫

লেখক বলেছেন: তবুওতো মে দিবসে অসহায় অর্ধাহারে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে একটা দিন অন্তত মাঠ গরম এবং গলাবাজী করার সুযোগ পায় নিজ স্বার্থপুজারী রাজনীতিবিদেরা! শ্রমিকদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খাবার সুযোগ পায় বেচারারা!

আপনার সবগুলো পোস্ট আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ি। আপনি অত্যন্ত গঠন মুলক লেখা লিখেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: থ্যাংক ইউ।

৭. ০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১১:২৯
মুহিব বলেছেন: আমাদের মেইডও কালকে কোন এক মিটিংএ গিয়েছিল।
০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪

লেখক বলেছেন: তাতো যাবেই, সমগোত্রীয় যে.........কেউ আপনার মেইড, কেউবা জনগনের মেইড!

৮. ০২ রা মে, ২০০৯ সকাল ১১:৩০
মুহিব বলেছেন: Click This Link


মাসুম ভাই কিছু জানতে চেয়েছেন। যদি মনে করেন আনসার করতে পারেন।
০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪

লেখক বলেছেন: লিংক অপেন হচ্ছেনা!

৯. ০৩ রা মে, ২০০৯ দুপুর ১:১৬
আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন: শ্রমিক দিবসের জনসভায় গদি নিয়ে কথা হয়, বাড়ি নিয়ে কথা হয়, গদি ছাড়ার হুমকি-পাল্টা হুমকি হয়। হুড়াহুড়ি হয়, শ্লোগান হয়, শব্দদুষন হয়, কেবল শ্রমিকের অধিকার আদায় হয় না, ন্যুনতম সম্মানও পায় না। এটা নিয়তি আমাদের দাদা।
০৪ ঠা মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: তাইতো আমি লিখিছি-ঠেলার চাকা ঘোরে, রিকশার চাকা ঘোরে। যে শ্রমিক যানবাহনের চাকা সচল রাখে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে; কিন্তু সেইসব শ্রমজীবী মানুষের জীবনের চাকা জগদ্দল পাথরের মতো স্থির হয়ে থাকে-যা কিছুতেই সচল হয়না।
সচল হবেনা।

১০. ০৩ রা মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৩
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন: ৮ ঘন্টা! বাংলাদেশে হয়ত সরকারী চাকুরীতে আছে, কিন্তু উজ্জ্বল ভাই আপনি কবে আট ঘন্টা ডিউটি করে অফিস থেকে বের হতে পেরেছেন মনে করতে পারেন।
সরকারী খাতের বাইরে সবারই কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। শ্রমিকেরা তো ওভারটাইম পায়, কিন্তু এনজিও সেক্টরে কি পায় আমার জানা নেই।

পোসেন্টর জন্য ধন্যবাদ।
০৪ ঠা মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: প্রাইভেট সেক্টরে আমি ব্যক্তিগত ভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ঘন্টা কাজ করি।

মন্তব্যের জন্য জন্যবাদ।

১১. ০৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন: মে দিবসের উপড় অনেক ব্লগার চমতকার সব লেখা লিখেছেন-যার সবগুলোই আমি পড়েছি। আপনার লেখায় একটা স্বকীয়তা আছে, একটা মানবিক আবেদন আছে-যা অন্য কারো লেখায় খুঁজে পাইনি।তবে ব্লগার দিগন্তের লেখাটাও খুব সুন্দর!
০৫ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: আপনি অনেক বেশী বলেছেন!

১২. ০৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন: সরি আমি দুরন্তের যায়গায় দিগন্ত লিখে ফেলেছি............।
০৫ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: জী, আপনি সঠিক বলেছে। দুরন্ত চমতকার লিখেন। আমি ওনার লেখার একজন ভক্ত।

১৩. ০৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন: অসাধারন একটি লেখা...

শ্রমিক শোষন অতীতে হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে...এ শোষন থেকে শ্রমিকরা কি কখনও পরিত্রান পাবে না...

১৪. ০৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন: অসাধারন একটি লেখা...

শ্রমিক শোষন অতীতে হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে...এ শোষন থেকে শ্রমিকরা কি কখনও পরিত্রান পাবে না...

০৬ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: না, আমাদের দেশের শ্রমিকদের কোন দিন পরিত্রান হবেনা!

১৫. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪২
পরিবর্তনবাংলা বলেছেন: দারুন লিখেছেন । জানি না কাজ হয় কিনা তবুও লিখতেই হবে চালিয়ে যান
০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনাদের প্রেরণাই আমার লেখার উতস।

 

লেখক এই পোস্টে কোন মন্তব্য গ্রহণ করবেন না

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৯৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি এক বিদেহী আত্মা! খুব ভালোলাগে ভালো ঘুম হলে। কিন্তু আমার পোড়া চোখে ঘুম নেই! ঘুম হীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই